আমার প্রিয় পোস্ট

কবি আমি, নিজ-চণ্ডী-দাস

জলশয্যা

১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

যদি জল থেকে সত্যি উঠে আসে একটি কুমির এই জ্যোৎস্না-রাতে
আমি গিয়ে শোবো তার পাশে ঐ চিকচিক বালুচরে ;
দুজনে ঘুমাবো---বলবো : এসো তারা গুনি এক সাথে।
স্বপ্নের ভেতর ঠোঁট বাঁকিয়ে, কেলিয়ে দাঁত, হাসবো খুব মজা করে---

ভোরবেলা বালু খুঁড়ে তুলে নেবো কচ্ছপের ডিম, তার আগে দাঁত নেবো মেজে
গাছের বাকল আর দুতিনটি বাইন মাছের লেজে।

সবরি কলাগুলো তবে পেকেছে কি ?---এই প্রশ্ন নিয়ে
যত বানরের সাথে আবার বন্ধুত্ব করবো বহুদিন পর।
উড়াবো মৌমাছিদের শুধু এক তুড়ি দিয়ে
ঢুকে যাবো মধুবন্দিশালা চকচকে ঐ চাকের ভিতর।

তারপর, লাল বনমোরগের সন্ধানে সমস্ত দিন ব্যয় করে
যদি ফিরে আসি ব্যর্থতার নিভৃত বন্দরে---
যদি অহম-মুঠিতে চেপে ধরে সায়াহ্নের দীর্ঘটুটি
কালো এক নেকড়ের ক্ষিপ্র গতির পেছনে ছোটা
ছেড়ে চলে আসি আমি---অরণ্যের পথভ্রষ্ট কারাভান---
ভর সন্ধ্যাবেলা---যদি ফের চমকে উঠি
দেখে দেখে তারাবর্ণ হেঁয়ালির মাঝখানে শিমফুল ফুটে ওঠা---
তার মন ভোলাতেই যদি শুরু করি গান

হায়েনা হেসো না তবে, উল্লুক ভল্লুক হয়ে
দিয়ো না ধমক---বৃক্ষ দিয়ো পাতা, তৃণ দিয়ো লোম,
উষ্ণতা দিয়ো হে মাটি---আমার শয্যাটি যেন হয় কাঁপা---
জলের ঢেউয়ের মতো ভীষণ নরম।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: কবিতা  বিভাগে ।

 

  • ৪৮ টি মন্তব্য
  • ৩৪৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৩৮
comment by: ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ বলেছেন: ভালো লাগল। ধন্যবাদ। তবে আগে কোথায় যেন পড়েছি। কবিতা কি ব্লগে কম্পোজ করতে হয়? তাহলে তো কঠিন কাজ?
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: ছায়া' নামে একটা লিটলম্যাগে ছাপা হয়েছিলো। তারপর কিছু কারেকশান করেছি বলে ব্লগে দিলাম। ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম।

ব্লগে কম্পোজ করবার দরকার নেই। কপি-পেস্ট করে ইউনিকোডে কনভার্ট করলেই হয়। অবশ্য কনভার্ট করার পর স্কিনে একবার প্রুফ দেখে নেয়া ভালো।

২. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:৫৪
comment by: দুঃখবিলাস বলেছেন: ভালো লাগছে। ভিন্নধর্মী রূপকের ব্যবহার দেখলাম
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩৫

লেখক বলেছেন: তাই ! অনেক ধন্যবাদ।

৩. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৫২
comment by: সৈয়দ আফছার বলেছেন: পড়লাম।
কেমন আছেন আপনি।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২৫

লেখক বলেছেন: অনেক দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

আপনার কী খবর?

৪. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৫
comment by: রনি রাজশাহী বলেছেন: ভালই লিখেছেন।
১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো লাগলো।

৫. ১৪ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৭
comment by: সৈ ক ত হা বি ব বলেছেন: গালিব, ভালো লাগল বেশ। একটি গল্পের ভেতর দিয়ে শুরু অন্য এক গভীর গল্পের ভেতর ঢুকে পড়ার কাব্যক্ষমতা বেশ লাগল।
কিন্তু চতুর্থ প‌্যারা থেকে একটি সংযোগহীনতা এবং উল্লম্ফনে খানিকটা ধাক্কা খেতে হয়। যদিও শেষ প‌্যারাটিতে গিয়ে আবার ঐক্য তৈরি হয়।
আর চতুর্থ প‌্যারাটিতেই আমাদের সমসাময়িক এক কবির প্রভাব বড় তীব্র, তার শব্দ এবং কাব্যভঙ্গিসমেত।
`মধুবন্দিশালা'য় `শালা'টা কেন? বরং যদি পাঠ করি : `মধুবন্দি চকচকে ঐ চাকের ভিতর', তবে আরো সুন্দর শোনায় না কি? আরো যৌক্তিক?

আপনার কাব্যভ্রমণ দূরস্থায়ী হোক।
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: প্রথমে শুকরিয়া আদায় করি ভালো লেগেছে জেনে। তবে সংযোগহীনতা এবং উল্লম্ফন বিষয়ের অভিযোগ নিয়ে আরেকবার ভাববেন কি?
আর, যে জায়গাটিতে আপনাদের সমসাময়িক একজন কবির প্রভাবের কথা বলেছেন, সেটি তুলনাসহ উপস্থাপন করলে বুঝতে সুবিধা হতো। এমনটা হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, প্রায় অসম্ভব। তারপরও যদি তা হয়ে থাকে, বিষয়টা আপতিক হলেও, আমি শুধরে নেবো।

`শালা' শব্দটা বাদ দেবার ব্যাপারে আপনার অভিমত আমি আপাতত গ্রহণ করলাম। আরেকটু ভেবে দেখি।

আপনার আশীর্বাদসূচক `দূরস্থায়ী' শব্দটি অভিনব মনে হয়েছে। সর্বোপরি, আপনার এই মেহনতি আলোচনাটির জন্য ক্রমবর্ধমান নৈকট্য অনুভব করছি।

অনারোগ্য ব্যাধি আপনাকে গ্রাস করুক---এই প্রত্যাশায়।

বিঃ দ্রঃ লেখালেখিও নাকি একটা মেনিয়া---জলাতঙ্ক ব্যাধির মতো---পানি পানি বলে চিৎকার করবেন---তৃষ্ণা তবু মিটবে না।

৬. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:২৫
comment by: তারিক টুকু বলেছেন: ভাল লাগলো না গালিব ভাই, সত্যিই ভাল লাগলো না।


...তার আগে দাঁত নেবো মেজে
গাছের বাকল আর দুতিনটি বাইন মাছের লেজে।


বাইন মাছের লেজ দিয়ে দাঁত মেজে নেবেন, এটা অকল্পনীয়, কবিতায় খুব বাজে টেস্ট আনতে বাধ্য করে।এই ব্যাড টেস্ট সম্পর্কে বড় কবিরা অনেকবারই সতর্ক করে গেছেন।

বিনয় মজুমদারের একটা লাইন মতো আছে, তার মুল কথা হলো: মানসে যাকে কল্পনা করা যায়, তা বাস্তবে থাকা সম্ভব।

এ কথাটা সত্যি ও কার্যকরি।

এ কারণেই একটা গরুর ৫ টা শিং বা বাইন মাছের লেজ দিয়ে দাঁত মাজা এই সব বিষয় কল্পনায়ও আনা যায় না।

কবিতায় অভিনবত্ব আনার অনেক পথ আছে, অনেকভাবে চেষ্টা করা যেতে পারে।
১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:০৪

লেখক বলেছেন: আমার মনে হয়, কবিতাটির মূল সুর ধরতে গিয়ে আপনি বিপদে পড়েছেন। অনেকটা শিং মাছের পেট আঁকড়ে ধরলে যা হয়। পিছলে তো গ্যালোই, যাওয়ার সময় আবার কাঁটাও ফুঁটিয়ে গ্যালো। ওটা আশলে ধরতে হয় মাথার দিক থেকে।

বড়ো কবিরা কী বলে গেছেন, সে দোহাই পাড়াটা, অন্তত আক্রমণের ক্ষেত্রে, পুরাতন পদ্ধতি, এবং কিছুটা হাস্যকরও। সেরেনিটি বা ট্রাংকুইলিটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ওয়াজের মতো, যা তিনি জীবনানন্দ পাপীটাকে সামনে রেখে যাজকতা করেছিলেন বলে আজ তার জন্য করুণা হয়।

পাকা ধান সম্পর্কে `বিয়োবার দেরি নেই' কথাটাও না-কি ব্যাড টেস্ট তৈরি করেছিলো।

বিনয়বাবুর কথাটা ঠিক কার পক্ষে গ্যালো, বুঝলাম না।

গরুর পাঁচটা শিং কল্পনায় আনা যায় না বলে যে রায় ঘোষণা করেছেন, বাদী সে ব্যাপারে আপনাকে আধুনিক চিত্রকলা হিশেবে স্বীকৃত রবীন্দ্রনাথের কিছু ড্রইং এবং এতদসংক্রান্ত কতিপয় দেশী-বিদেশী চিত্রবিশারদের লেখা পড়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

বলেছেন, কবিতায় অভিনবত্ব আনার অনেক পথ আছে---দুএকটি পথ বাৎলে দিলে বাংলা সাহিত্য অনেক উপকৃত হতো---সেই সঙ্গে আমিও।

আমাদের কাব্যালোচনা কি একটু তারার সা-তে উঠে গেছে? যদিওবা উঠে যায়, শেষ পর্যন্ত আপনি প্রশংসার দাবিদার। আপনার সরাসরি নেগেটিভ কথা বলা আমার ভালো লেগেছে। আমরা তো এমনটাই চেয়েছি এতদিন। ও কে, ক্যারি অন টুকু। শুভেচ্ছা।

৭. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:২৯
comment by: মুজিব মেহদী বলেছেন: টেস্ট যেহেতু জনে জনে ভিন্ন, কাজেই ব্যাডটেস্ট কথাটাও লোকভেদে ভিন্ন হতে বাধ্য। অর্থাৎ বিষয়টা আপেক্ষিক। সবার কাছে সবটা ব্যাডটেস্ট আনে না।

ধরি কবিতায় কেউ লিখলেন, 'হাতি উড়ছে'। ব্যাপারটাকে অসম্ভব জ্ঞান করি, হাস্যকরও, কিন্তু ব্যাডটেস্ট বলতে আমি যা বুঝি, তা আমার মধ্যে তৈরি করতে পারে না এ বাক্য। আবার ধরি, প্রয়াত কবি কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার, মৃত্যুপূর্বেকার তাঁর স্কিৎজোফ্রেনিককালে এরকম একটি পঙক্তি রচনা করলেন (এরকম বেশ কিছু লাইন তিনি লিখেছেন 'সংঘর্ষ, আলো ও অন্ধকার'-এ। হুবহু বলতে গেলে এখন আবার সেলফ হাতড়াতে হবে), সেক্ষেত্রে আমি হাসবোও না, আবার অসম্ভবও জ্ঞান করব না। সেটা এই আমার কাছেও একটা আলাদা বিবেচনা দাবি করবে। দাঁড়াল এই যে, একজন পাঠকের বিবেচনাও একইরকম ঘটনায় স্থানকালপাত্র ভেদে ও ভিন্ন মানসাবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে। অর্থাৎ ব্যক্তির বিবেচনাটাও আপেক্ষিক।

আমি যখন কৌরব ৬২ থেকে পড়ি, 'ভাষা জানে রোবটেরও বলপেন আছে', কিংবা যখন জহরসেন মজুমদারের 'বিপজ্জনক ব্রহ্ম বিদ্যালয়'-এ পড়ি 'নেংটি ইঁদুর মুখভর্তি ফেনা নিয়ে মুখভর্তি পেস্ট নিয়ে লাফ দিচ্ছে মর্চে ধরা চাঁদের দিকে' কিংবা তাঁর 'বৃষ্টি ও আগুনের মিউজিক রুম' থেকে যখন এরকম প্রশ্ন ভেসে আসতে শুনি যে, 'পেঁপেগাছের হাতের লেখা কেমন?', তখন আমার মধ্যে কোনো ব্যাডটেস্ট তৈরি হয় না। বরং আনন্দ পাই, অসচরাচর সে আনন্দ।

আবার 'বাস্তবে থাকা সম্ভব' তো বটেই, এমনকি আছেও, এরকম কল্পনাময়তামণ্ডিত ক্লিশে পঙক্তি পড়ে আমার মধ্যে মুহুর্মুহু ব্যাডটেস্ট তৈরি হয়। সুতরাং এই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে তর্ক করে কথা আর সময়ক্ষয়ই বাড়বে কেবল, সর্বজনীন কোনো মীমাংসা নিয়ে ঘরে ফেরা যাবে না বলে ধারণা করি।

'হায়েনা হেসো না তবে, উল্লুক ভল্লুক হয়ে
দিয়ো না ধমক---বৃক্ষ দিয়ো পাতা, তৃণ দিয়ো লোম,
উষ্ণতা দিয়ো হে মাটি---আমার শয্যাটি যেন হয় কাঁপা---
জলের ঢেউয়ের মতো ভীষণ নরম।'
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন: আপনার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু কে কাকে বোঝায়? তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি উদাহরণ টানার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৮. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৩:০৫
comment by: তারিক টুকু বলেছেন: ইয়া.. মানে..গালিব ভাই, এই যুগেও কবিতার ভেতরে মূলসুর!!!! আমি প্রথমত শংকিত, আমরা কি নতুন কবিতা লিখতে চাইছি, যা বহুঅর্থদ্যোতনা, মাল্টিপল হারমনির তৈরী করবো, নাকি এখনো ঐ একমাথাওয়ালা কবিতাতেই পইড়া থাকতে চাই। 'মূলসুর'--এখনকার কোনো আর্টফর্মে খুঁজলে নাকি মানুষ হাসে। আমি শুনছি, পণ্ডিতেরা নাকি বহুকাল ধরে এটা বলাবলি করতেছেন। একারণে আমি খুঁজিনি।
কেননা, আপনে লিনিয়ার এটা আমি আগে জানতাম না।

আমার আদব দেখেন, আপনাকে আমি শিং মাছও বলি নাই। নিজেই বলছেন কিন্তু আপনি, নিজেরে। আমি আপনারে ধরতে চাই নাই। ধরতে চাইছি এই কবিতাটারে। এটারেও শিংমাছ এর প্রতীকে ফেলা ঠিক হয় নাই। আসলে আমাদের পার্থক্যটা এসথেটিকসে। আপনে কবিতারে শিং মাছের প্রতীকে ভাবতে পারেন। মানে, পিছলা ও কাটাওয়ালা ভাবতে পারেন। আমি কবিতারেপিছলা ভাবি না। শিংওলা তো দুরস্থান, মাছও ভাবি না। কবিতাই ভাবি। অথবা কবিতা ভাবি না।

ভাই, আপনার সাহস আবু হাসান শাহরিয়ারকেও ছাড়াইয়া যাইবো। উনি একবার দাবি করতে বসছিলেন, নতুন জীবনানন্দ উনিই। আপনিও বহুত ঘুরিয়ে পেচিয়ে এই দাবি করলেন। করার আগে আমারে রবীন্দ্রনাথ বানাইতেও শরম লাগলো না। এতে আমার মজনু ভাই এর একটা কথা মনে পড়ে গেল: 'ব্যর্থ কবিরা নিজেদের জীবনানন্দ ভাবে।'

কইলাম ব্যাড টেস্টের কথা, আপনি নিয়ে আসলেন সেরেনিটি। আমি মজা পাইলাম।পাঠকরে গরু ছাগল মনে আপনে করতেই পারেন। কেননা, আপনে শিক্ষক মানুষ। বাস্তব জীবনে আপনাগো বেশি কথা কইতে হয়, না বনলে গরুছাগল মনে করতে হয়। আর গরুছাগল মনে না করলে,আপনার অবিদ্যা তারিফযোগ্য। কেননা, ব্যাডটেস্টের বিপরীতে যে সেরেনিটি, রবীন্দ্রনাথ এইসব নিয়ে একটা গোল পাকানোর ক্ষমতা আল্লাপাক আপনারেই দিছেন।

বিনয়বাবুর কথাটা আপনার পক্ষে যায় নাই। কারণ, যেই দেশে গাছের বাকল নাই তারাও কোনদিন বাইনমাছের ল্যাজ দিয়া দাত মাজবার কথা বলবো না। এটা শুধু আপনার পক্ষেই বলা সম্ভব। কেননা, আপনে কবিতায় নতুনত্ব আনতে চান।

গরুর পাঁচটা শিং থাকলে থাকতেও পারে,এই কথা প্রমাণ করতে আপনি এবার রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলারে সামনে নিয়া আসছেন। তাই, আপনি শিক্ষক হইলেও আমি এবার পরামর্শ না, সরাসরি বলবো যে, আপনি রবীন্দ্রনাথ আগে ভালো কইরা বুইঝা তারপর রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ করতে আইসেন। আরেকটা কথা, একটু আগেই তো আপনার রবীন্দ্রনাথের জন্য করূনা হইলো। এখন আবার তারে সাক্ষী মানলেন! এতে কিন্তু গালিব ভাই রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে আপনার 'মূলসুর' আপনি নিজেই ধরতে পারলেন না বইলা প্রমাণিত হইলো। এতে আরও প্রমাণিত হইলো রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে আপনার কোনো দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরী হয় নাই।

কবিতার অভিনবত্ব যে আনা যায়, অনেকভাবে, আমি সেইটা আপনারে বিনীতভাবে বলতে চাইছি। আপনি যদি সেসব উদাহরণগুলা অনুধাবন না করতে পারেন, তাইলে তো কইতে হইবো আপনি পুরা বাংলা কবিতার নার্ভ ধরতে ব্যর্থ। আমি অবশ্য সেটা কইতে চাইনাই। আপনে বাধ্য করলেন।

আমাদের আলোচনা তারার সা তে উঠে নাই। এটাও আপনারে বিনীতভাবে কই, তারার সা তে একলাফে উঠা যায় না। আর একটা কথা, কোনো ফর্মেই আমারে পরামর্শ দিবেন না গালিব ভাই। আপনি শিক্ষক হইতে পারেন, কিন্তু আমি আপনার ছাত্র না। এইসব ভড়ং আমার ক্ষেত্রে পরিহার করবেন বলে আশাকরি ।যাগো সাথে পারেন, তাগোরে দ্যান, তারা সুখী ও খুশি হইবো।

নাথিং পারসোনাল গালিব ভাই। ভাল থাকেন।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬

লেখক বলেছেন: ব্লগের এই ভার্চুয়াল জগতে এসে কী ভার্চুঅসিটি অর্জন হবে জানি না, তবে এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে, খুব সহজেই এখানে শিষ্টাচারের মাত্রা অতিক্রম করা যায়।

আমি খুব অবাক হলাম দেখে, আপনি ভাষার `ফিগার অব স্পিচ' বোঝেন না। কবিতার অ্যাম্বিউগিটি কীভাবে ধরবেন! আমি আপনাকে সতর্ক করেছিলাম, আমাদের আলোচনাটা যেন তারার সা'তে উঠে না যায়। তারার সা বলতে আপনি বুঝেছেন উচ্চমার্গীয় আলোচনা। তা নয়। এটি একটি ফ্রেজ। এর মানে ঝগড়া---সহজ কথায়, তারস্বরে চিৎকার।

কবিতার মূলসুর আর মূলকথা এক নয়। কবিতা হতে পারে সুররিয়ালিস্টিক, হতে পারে অ্যাবসার্ড। অ্যাবস্ট্রাকশন তৈরিও তার টেকনিক হতে পারে। মূল সুর বলতে আমি ও-দিকটাই ইঙ্গিত করেছিলাম। `জলশয্যা' কবিতাটা শুরু হয়েছে একটা আনরিয়াল জায়গা থেকে। এর মধ্যে আক্ষরিক অর্থে রিয়েলিটি খোঁজাটা বোকামি। তাহলে আপনার প্রথমেই প্রশ্ন তোলা উচিৎ ছিলো, কুমিরের পাশে শুয়ে কীভাবে তারা গোনা যায় কিংবা দাঁত কেলিয়ে হাসা যায়? আর কেনইবা বানরের সাথে বন্ধুত্ব করার ঘোষণা দেয়া হচ্ছে? তা না করে আপনি তুললেন বাইনমাছের লেজ দিয়ে দাঁত মাজার কথা---যা না-কি কল্পনাও করা যায় না। যদি বলতেন, প্রসঙ্গটা খুব গা-ঘিনঘিনে---সেই অর্থে ব্যাড টেস্ট তৈরি করে---তবে আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতিকে আমি সম্মান দেখাতাম। কিন্তু আপনার অসংযম আপনাকে অধিকারের সীমা পেরুতে খুব সহজেই প্ররোচিত করলো। এসব উদ্ভট কাব্যপ্রয়াস ছেড়ে কবিতায় অভিনবত্ব আনার জন্য আমাকে অন্যভাবে চেষ্টা করার পরামর্শ দিলেন। কথাটা প্রীস্টের মতো শোনালো, ভ্যাটিকানের পোপের মতো।

আমি এক গরিব মাস্টার। মাস্টারি আমার পেশা বটে এবং কেবলমাত্র পেশাই। কখনো আমি একে রিচুয়াল হিশেব জাহির করি না। অথচ সেই ব্যক্তিগত পরিচয়কেই বানালেন আক্রমণের লক্ষবস্তু। কাব্যালোচনায় এই আক্রমণ এতটাই ব্যক্তিগত এবং অপ্রাসঙ্গিক যে, বক্তব্য শেষে অন্তিম ভটিমার মতো মলম-মাখানো `নাথিং পার্সোনাল' উক্তিটিকে মনে হলো শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কৌতুক।

যে কারণে আপনি আমাকে বেশি কথা বলার দায়ে অভিযুক্ত করলেন---আমি হতাশ হলাম---সে প্রসঙ্গের ভেতরে আপনি ঢুকতেই পারেন নি বলে। আমার ধারণা `প্রশান্তি' নিয়ে রবীন্দ্র-জীবনানন্দ বিতর্কটা আপনি জানেন না। তাই খোলাশা করেই বলছি। জীবনানন্দ তার প্রথম বয়সের কিছু কবিতা রবীন্দ্রনাথের কাছে পাঠিয়েছিলেন তার মতামতের জন্য। সেসব পড়ে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিলেন, `বড় জাতের রচনার মধ্যে একটা শান্তি আছে যেখানে তার ব্যাঘাত ঘটে সেখানে স্থায়িত্ব সম্বন্ধে সন্দেহ জন্মে।' এই বক্তব্যের সমস্যা দুটি :
১. বড়ো জাতের রচনার দোহাই দিয়ে আশলে প্রাক-নির্ধারিত মাইন্ডসেট নিয়ে কবিতা বিচার করা হয়েছে।
২. নবীন কবিকে সমালোচনা করার সবচে অশালীন উপায় হলো, তাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বুঝিয়ে দেয়া যে, বড়ো জাতের রচনার সঙ্গে সে ততটা পরিচিত নয়।
জীবনানন্দ এর জবাবে দান্তের কবিতা বা মোজার্টের সুরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ এ বিতর্কে আর জড়ান নি। সেটা কী করেইবা সম্ভব, যেখানে তার গীতবিতানের পয়লা গানেই আছে : শান্তি কোথায় মোর তরে হায় বিশ্বভুবনমাঝে/ অশান্তি যে আঘাত করে তাই তো বীণা বাজে।

আমার দুর্ভাগ্য যে, এই বিতর্কের প্রাসঙ্গিকতা ধরতে পারেন নি আপনি।
বরং উল্টো নিজেকে বরীন্দ্রনাথ ও আমাকে জীবনানন্দের জায়গায় বসিয়েছেন। সবশেষে যুক্তির অবরোহী পদ্ধতিতে আমাকে ব্যর্থ কবি বলতেও ছাড়েন নি।

আমি আগেই বলেছি, আপনি বাক্যালঙ্কার বোঝেন না। বুঝলে আমাকে বা আমার কবিতাকে শিং মাছ বলতেন না। আর আদব কিংবা এসথেটিকসের কথা কীইবা বলবো। আপনার ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচিত হবে যদি পাঠকের সামনে মিতুল দত্তের কবিতার একটা লিংক তুলে দেয়া যায়---যেখানে কবিতার মহাপ্রাণতা সম্পর্কে আমার একটি উক্তির প্রেক্ষিতে আপনি আলোচনায় কই মাছের আমদানি করেছেন। যে কোনো তর্কের সময়ই, আমি লক্ষ করেছি, আপনি অশ্লীলতার অবতারণা করেন। কাজেই আপনার রুচি ও চরিত্রলক্ষণ অনুযায়ী আমি শিং মাছের উপমাটি হাজির করেছিলাম।

রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলার ব্যাপারটাও আপনি আশলে বুঝতে পারেন নাই। মানুষের অবচেতনের যে রূপ তিনি ধরতে চেয়েছেন বিভিন্ন জন্তুর অবয়বে---ঐ জান্তব প্রকাশের সঙ্গে বাস্তব জগতের কোনো বস্তু বা প্রাণীর সাদৃশ্য নেই। আর ঐ সাদৃশ্য কেউ খুঁজতেও যায় না।

আরেকটা কথা, রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা মানেই তার মূল সুর ধরতে ব্যর্থ হওয়া নয়। আপনাদের মতো আধেক দীক্ষিতজনের কারণেই মহৎ প্রতিভাবানরা একটা কাল্টে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে কি হয় নি---এ প্রশ্ন তোলার আপনি কে? বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ভালো বুঝতেন দুজন লোক---১. ড. হায়াৎ মামুদ, ২. ড. সেলিম আল দীন। একজন পাণ্ডিত্যের মেধা দিয়ে, অন্যজন সৃজনশীলতার দৃষ্টি দিয়ে। আমার দৃষ্টিভঙ্গির যা পরিচয় দেবার, আমি তাদেরই দিয়ে এসেছি।

এ তো সেদিনের কথা, যখন আমি রবীন্দ্রনাথের উপর ক্লাস নিচ্ছি ছেলেমেয়েদের, তখন আপনি নিচ্ছেন ছন্দের পাঠ মাসুদ খানের কাছে। তারপরও এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, রবীন্দ্রনাথের `জনগণমন অধিনায়ক' গানটির ছন্দ-বিশ্লেষণ আপনি আজও করতে পারবেন না। আর গীতবিতানের ভূমিকাগানের ব্যাখ্যাও আপনার সাধ্যাতীত।

বাংলা কবিতার নার্ভ আমি ধরতে পেরেছি কি পারি নি---এ কথা তার মুখে মানায় না, যার দৌড় উৎপলকুমার বসু আর মজনু শাহ পর্যন্ত। সত্যি বলতে কি, আপনি আওয়াজ দিয়ে বা গলা খাঁকারি দিয়ে যেসব কথা বলতে চান কবিতা-তত্ত্ব আকারে, তা শেষ পর্যন্ত মজনু শাহর হাঁচি ও কাশির অনুবাদ ছাড়া আর কিছু? আপনি কি জানেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই আপনাকে মজনু শাহর ছানা বলে?

নাথিং পার্সোনাল, টুকু। ভালো থাকবেন।

৯. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
comment by: মাজুল হাসান বলেছেন: কে কার করে ভড়ং দিতে চেষ্টা করতাছে? বুঝতে পারতাছি না।

তবে কবিতায় বেড-টেস্ট বলে কিছু আছে কীনা সেটাতেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকা উচি ৎ বলে মনে করি। আর অসম্ভব উদ্ভট হইলেই যে তা বেড-টেস্ট তা বলা যায় না। আবার গুড-টেস্ট দিয়া মনে দাগ কাটতে না পারলে তো সেইটা পানতা ভাত।

যাক, সুস্থ আলোচনা জারি থাক। অধমেরা কিছু উপকৃত হই।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: আপনার বেড-টেস্ট কথাটা কিন্তু অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমরা সেদিকেও যেতে চাই না।

১০. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১২:১১
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: আলোচানাটা আর কবিতা নিয়ে থাকে নাই। ব্যক্তি পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এই আলোচনা পুরাপুরি অকামের। এইখানেতো যার যার পন্ডিতি জাহির হচ্ছে দেখি। দেখে খারাপ লাগলো।

আলোচনাটা ঠান্ডা মাথায় অন্য রকমও হতে পারতো। যাহোক, সকলেই সুখী হোক।
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: আলোচনার গতি-প্রকৃতি নির্ভর করে, কে কীভাবে তর্কের উত্থাপন করছে, তার উপর। মন্তব্যকারী যদি অ্যাগ্রসিভ হন, আর তার ইল-এটিচুড যদি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তবে প্রথমে ঐ এটিচুড মোকাবেলা করাটাই কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।

আনলার্ন পদ্ধতিতে কবিতা লেখা যায়, কিন্তু পাণ্ডিত্য ছাড়া তর্ক কীভাবে সম্ভব মৃদুল! তারপরও আমি ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তত আছি।

১১. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:৩২
comment by: প্রবর রিপন বলেছেন: হাউ মাউ খাউ কবিদের রক্ত খাঁউ!!!
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনার ছবিটা কিন্তু বেশ রক্তাভ।
আপনার সঙ্গে অনেক দিন দেখা নেই। ভালো আছেন?

১২. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ ভোর ৪:০৬
comment by: তারিক টুকু বলেছেন: মৃদুল,

গালিব ভাই আমাকে যেমন ব্যক্তি আক্রমণ করেন নাই,আমিও করি নাই। আমি উনার কবিতা ভাল লাগে নাই বইলা মতামত দিছি, উনি এর উত্তরে আমার মতামত খন্ডাইতে চাইছেন আমি আবার সেই মতামত খন্ডাইতে চাইছি। তর্কের খাতিরে উনি যেমন তর্ক দিয়া আক্রমন করার অধিকার রাখেন, আমিও রাখি। উনি শিক্ষক মানুষ দেইখা মনের ভুলে হইলেও উপদেশ দিয়া ফালান(যেটা আমার মা ও করতেন) , আমি বলছি আমি উনার ছাত্র না। শিক্ষকগো এটা একটা কমন ভড়ং, তাই ছাড়তে বলছি। আর একটা কথা, পণ্ডিতি জাহির হয় নাই দেইখাই আমরা প্রত্যেকেই একজনের মতামত তার কথা দিয়াই খন্ডাই ,মানে,উনি কি লিখছেন তার উপর ভিত্তি কইরা, কোন পন্ডিতে কী কইছে তার উপর ভিত্তি কইরা না। আর পন্ডিতি জাহির হইলেও হায় হায় করার কোন কারণ নাই,কেননা, এটা কবির বিতর্ক, কবিয়াল গো না। তাই এটা অকামেরও না। কবিগো কোন তর্কই অকামের না।

আলোচনা ঠান্ডা মাথায়ই হইছে, এই আলোচনা চলাকালীন সময়, আমি একটা চাকরিজনিত কারণে শনিবার পাঠশালার অনুষ্ঠানে আসতে পারবো না বইলা উনারে মেইল করছি। গরম মাথায় হইলে আমি যাবো কী যাবো না, এটা উনারে জানাইতে যাইতাম না।

আমি একটা জিনিস কইতে পারি, গালিব ভাই এর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বা ভালবাসায় এই তর্কের কোন প্রভাব পড়বো না। যেটা তোর ক্ষেত্রেও হয় নাই।

যাক, তুইও সুখী হ ভাই, আগামীতে আরো সময় নিয়া ভাইবা মন্তব্য কর; এমন কামনাই করি।
১৩. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৭
comment by: বিপন্ন বিস্ময় বলেছেন: কবিদের প্রতি কবিদের শ্রদ্ধা বাড়ুক,
ঐদিকে কমে যাক সমুদ্রের জল।
উপরে ভালো ব্যবহার ভেতরে ভেতরে খল,
তাই বাইন মাছের ল্যান্জা দিয়া দাঁত মাজি চল..

দেশ জাতি ও বাংলা সাহিত্যের প্রুফ রিডার সাব,আপনের কবিতানিঁখুত বানানপ্রুফ হওয়া সত্বেও ভালো লাগেনাই।কবিতার বিষয়ে আমি আসলেই নিরপেক্ষতা রাইখা চলি,আজাইড়া কথা পাড়ি না।
তারিক টুকুর সাহসী আলোচনা ও আপনের অকারণ পান্ডিত্য ভালোই লাগতাছিলো...

শুনেন বাংলা সাহিত্যকে আপনের পায়ের সামনের পদানত সৈনিক ভাইবেন না যেন.....
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২

লেখক বলেছেন: আপনার সত্বেও বানানটা কিন্তু ভুল।
`কবিতার বিষয়ে আমি আসলেই নিরপেক্ষতা রাইখা চলি, আজাইড়া কথা পাড়ি না'---এই কথা বলে আপনি নিজেই আপনার ভাব-গাম্ভীর্যের উপর থুতু ছিটালেন। কারণ : আমি কত বড় কহে নকল হীরাটি,/ তাই তো সন্দেহ করি নহ ঠিক খাঁটি।

তারিক টুকুর সাহসী আলোচনা আমারও ভালো লেগেছে। সেই সঙ্গে আপনার বাখোয়াজি।

সাহিত্যকে আমি কারুরই পায়ের সামনে পদানত সৈনিক ভাবি না। এমনটা আপনার কেন মনে হলো?

১৪. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৪২
comment by: বিপন্ন বিস্ময় বলেছেন: যাকে তুমি কোলবালিশ ভেবে করছো আমোদ,
সেই একদিন তোমাকে করবে খুন...
বাস্তবে হয়তো নয়,
তবুও ভেতরে ভেতরে ঝরে যাবে বিপন্ন বিস্ময়...
যার আমোদ নেই কোনো।
তোমারই ধ্বসের পূর্বকালীন সময়ে জড়িয়ে ধরবে তোমাকেই,
ঠিক যেমনটি তুমি জড়িয়ে ধরে রাখো তোমার ব্যাক্তিগত প্রমোদ,বালিশ!!
১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫

লেখক বলেছেন: ভালো বলেছেন। তবে এখানেও আপনার `ধ্বসের' বানানটি ভুল।

১৫. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:০৮
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: @টুকু,

তীর দেখি সব তোর দিকে যায়, নাকি নিজের দিকে নিস! সে এক বিস্ময়!

তোর গালিবের কবিতা ভালো নাই লাগতে পারে। না লাগার কারণ বলেছিস-- ''ব্যাড টেস্ট'' -- সে কাজের কথা। আমি ভেবেছিলাম তোরা মানে তুই আর গালিব ভাই এই নিয়ে ভালো কথা, কামের কথা বলবি। কিন্তু আমাকে আবারও বলতে হচ্ছে কামরে কথা হয নাই। কিছু অবান্তর আলাপ করলি তোরা। তবে যে প্রসঙ্গ তুই তুলেছিলি ভেবেছিলাম কিছু কাজের কথা হবে। তা হয় নাই, হয় নাই। আর না বুঝে কথা বলার মত কথা আমার নেই। এমন কথা আমার কোনদিনই ছিলো না।

তুই কি ''ব্যাড টেস্ট'' সম্পর্কে পরবর্তীতে কথা বলেছিস ঠিকঠাক। বলিসনি। কথা যা বলেছিস তা হলো কথার কূটচাল। যা বলা যায়, বলা যেতে পারে। শুধু তুই না , গালিব ভাইও একই পথে গেলো। গালিব ভাইয়ের কবিতা ভালো কি মন্দ তা পাঠকের অনুভব বুঝতে পেরেছে, সে বিষয়ে সন্দেহ পোষণ আমি করছি না। আমি চাচ্ছিলাম '' ব্যাড টেস্টে''র আরও কিছু বিস্তারণ। তা কিন্ত করতে পারলি না তোরা। এইটা ভেবে দেখিস।

তুই যখন কবিতা আলোচনা করবি তখন আমি তোর ব্যক্তিজীবন জানতে চাই না। এবং চাই না। কবিতার আলোচনায় তার কোন ভূমিকা আদৌ আছে কিনা জানি না। তবে থাকতে পারে যদি তুই বলিস। ফলে এই আলোচনা করতে বসে তুই কোথায় কাকে কোন মেইলের উত্তর দিলি বা কোথায় চাকরি খুঁজলি তা জানাটা জরুরী নয়। আমি আলোচনাটা চেয়েছি। আমাদের জীবন চাইনি। হয়তো এভাবে তুই ভাবিস না। যাহোক। পাঠক হিসাবে ক্ষমাহীনতার পক্ষে থাকাই সবলতা।



১৬. ১৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১০:৪০
comment by: তারিক টুকু বলেছেন: @মৃদুল,

তুই বুদ্ধিমান প্রাণী। ভালোই।

আমি কারও জীবন নিয়ে কথা বলিনি। যতটুকু প্রসঙ্গক্রমে দরকার,ততটুকুই বলেছি। উনার সাথে আমার সম্পর্কটা যে আমার পক্ষ থেকে ঠিক আছে, সেটা বোঝাতেই বলেছি।

ব্যাডটেস্ট নিয়ে আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম। পরে কেন হয়নি, এই থ্রেডগুলো(আলোচনাসহ) যেই পড়বে, সে-ই বুঝতে পারবে। লক্ষ্য করেছি, তুই যে কোনো কিছুকে 'অবান্তর', 'অকামের' বলে ঠাস ঠাস বলে দিতে পারিস। তুই পাঠক হিশেবে ক্ষমাহীন, আমি পাঠক হিশেবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে চাই, আমার অনেক কিছু শিখে ওঠা বাকি। যাক,সে কথা।

এই আর কি!
১৭. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩১
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: @টুকু,
দোস্ত ভালোই কইছো, ''বুদ্ধিমান প্রাণী। ''


হাঃ হাঃ।

১৮. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
comment by: মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: আমার কাছে কবিতাটা খারাপ লাগে নাই।

তারিক টুকুর `ব্যাড টেস্ট' বিষয়ক আলোচনাটা কবিতা কে কেন্দ্র করে আলোচিত হোক। কাকে, কী কী কারণে ব্যাড টেষ্ট আমরা বলবো সে বিষয়গুলার খোলাশা হলে ভাল হয়।

মুজিব মেহদীর আলোচনা ও মতামতের সাথে সহমত পোষণ করছি।

আলোচনা চলুক...
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:১৪

লেখক বলেছেন: এই মুহূর্তে হঠাৎ একটা কথা মনে পড়লো। ভুলে যাবার আগে বলে রাখি। মনসামঙ্গলে রাজা শালবাহনের দেশে যাবার পথে চাঁদসদাগর কিংবা শ্রীমন্তের কমলে কামিনী দর্শনের যে ঘটনাটা আছে, সেটাকে আমার মনে হয়, রূপকার্থে, কবির মনের কোণে চকিত দৃশ্যের উন্মোচন, যা হয়তো ঐ মুহূর্তের পর আর কাউকেই দেখানো সম্ভব নয়। যতই চেষ্টা করা হোক, সমস্তই মিথ্যা এবং প্রতারণা বলেই প্রমাণিত হবে।

অর্থাৎ বলতে চাইছি, কবিতা লিখে উঠবার পর, কবি তার যে ব্যাখ্যা দাঁড় করান, সেটা হয়তো সম্পূর্ণ সত্যি নয়। কারণ তিনি তখন আর যাই করুন, সেই সিচুয়েশনে ফিরে যেতে পারেন না। কবিতার ভেতরে যেটা বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিলো, পরে সেটা পাগলামো হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু তারপরও সেই পাগলামোর একটা ব্যাখ্যা থাকা সম্ভব।

আপনার কী মনে হয়?

১৯. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
comment by: যীশূ বলেছেন: অদ্ভুদ অসাধারণ।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:১৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

২০. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
comment by: যীশূ বলেছেন: খাইতে ভালো হইছে! :) (টেস্ট প্রসঙ্গে)
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:১৭

লেখক বলেছেন: তবে খাওয়াটা আরও একটু রিদমিক হতে পারতো।

২১. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩০
comment by: সুতরাং বলেছেন: কবিতাটি ৩ বার পড়েছি। গুড টেস্ট-ব্যাড টেস্ট বুঝি না। ভালো লাগলে কই, ভালো লাগছে; আর খারাপ লাগলে কই ভালো লাগেনি।
আপনার কবিতাটি কিন্তু খুবই ভালো লেগেছে।
২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:২২

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যে একটা দমবন্ধ অবস্থা থেকে খানিকটা রিলিফ পাওয়া গ্যালো। এখন অবশ্য, কবিতাটি বারবার পড়ার পর, আমার মনে হচ্ছে, ভালো হতো এটাকে কিছুটা টানটান অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারলে।

২২. ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৬
comment by: সুতরাং বলেছেন: যথেষ্ট টানটান আছে বলেই মনে হয়। বাকিটা আপনার ইচ্ছে।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, শাওন। এবার কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগুতে পারবো।

২৩. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৩
comment by: আন্দালীব বলেছেন: আলোচনাসমেত লেখাটি পড়ার পরেও আমার কিন্তু যথেষ্ট ইম্প্রেসিভ লেখা মনে হয়েছে।

গালিব যেই পরিপার্শ্বটি তৈরী করেছেন কবিতার আবহ বিচারে 'এ্যাপ্ট' মনে হয়েছে।

শুধুমাত্র, বাইন মাছের লেজ দিয়ে দাঁত মাজবার মতো নির্দিষ্ট কয়েনেজ দিয়ে গোটা কবিতা নিয়ে সদর্থক বা নঞর্থক কমেন্ট করা কতোটা সম্ভব তা ভাবছি।

গালিব, আরো লেখা আসুক...ভালো আছেন তো?
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য অনেক ধন্যবাদ।....
মাঝে মাঝে দেখা হলে কিন্তু ভালই হয়।

২৪. ২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:০০
comment by: বিপন্ন বিস্ময় বলেছেন: কি কই আর কি উত্তর পাই!

আজিজ মার্কেটে থাইকা কাদাছোড়াছুরিতে ভালোই হাত পাকাইছেন।এইডাও মনে হয় সাহিত্য চর্চার আরেকটা অংশ,কি কন? যা দেখলাম হেইডা কৈলে আবার পিত্তি জ্বইলা জাইতেছে।কবিতা লেকবেন আর পাবলিকের খারাপ লাগছে এইডা সো্যযো হয় না...তা ইলে আর কতা কইয়া কাম কি।

যাই,হোক আর কিছু কৈতাম চাইনা।আফনের প্রুফ রিডার জীবনের সাফল্য কামনা করি।চুপ মারলাম।

বালা,থাকবাইন।
২৪ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:২৪

লেখক বলেছেন: শ্রী শ্রী ছদ্মনাম চমকেষু,

আমার কবিতা পাবলিকের ভালো লাগছে না, ব্যাপারটা হয়তো কষ্টকর, কিন্তু সহনীয়। কিন্তু পাবলিক যখন আমার লেখা ছেড়ে আমাকেই গালমন্দ করে, সেটা উত্ত্যক্ত হবার মতো বিষয়ই বটে। তাও অভিযোগ যখন আসে হাওয়া থেকে, আর গায়ে ঢিল ছোড়ে অন্ধকার থেকে, তখন কার সাথে কীভাবে লড়াই করবো!

আপনার করণীয় এবং পালনীয় সম্পর্কিত নির্দেশ/সুপারিশমালা :

১. যেহেতু আপনি নিক ব্যবহার করছেন, সেহেতু আপনি অশালীন বাক্যালাপ করতে পারেন না। সেটা কাপুরুষতা। ছ্যাঁচড়ামোও বটে। অনেকটা ভিড়ের আড়ালে মেয়েদের গায়ে হাত দেবার মতো।
২. আমার সম্পর্কে আপনার অভিযোগ বা আক্রমণ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। ঠিক কোন ভূমিকার জন্য আমি মিডিয়ার তৈলবাজ, দালাল, শিল্পসাহিত্যের ঠিকাদার---তা স্পষ্ট করতে হবে।

আপনার আক্রমণ ও গালিগালাজের অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থাকবেন।

২৫. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:০৪
comment by: নম্রতা বলেছেন: জলশয্যয় ভেসে ভেসে বেড়ালাম এতকাল। সাধ মেটেনি আজও!

কবিকে অনেক শুভেচ্ছা !
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকেও এবং নিমন্ত্রণ জলশয্যায় বারম্বার...

২৬. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৩৮
comment by: হাসিব বলেছেন: হ
১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৩৬

লেখক বলেছেন: ও

 



 


কবি আমি, নিজ-চণ্ডী-দাস
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫২০৫