আমার প্রিয় পোস্ট

একজন গীতিকবির মৃত্যু/উৎসর্গ তীরন্দাজ

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

বৈশাখের মত অনেক পার্বণে বাঙ্গালীর উৎসব প্রীতি জাগে। একুশে ফেব্রুয়ারী তেমন একটা। নান্টুর হারমোনিয়াম আর গনেশের খোলে আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো... গাইতে গাইতে আমরা শহীদ মিনারে যাই।
নান্টুর গানের পাশাপাশি একটু কবিতা লেখার বাতিকও আছে। গানের খাতায় কখন কী মনে করে নান্টু কবিতাটি লিখেছে। একুশের প্রভাত ফেরীতে যেতে আসতে যে গানগুলো হবে, তার রিহার্সেল দিতে সবাই নান্টুদের বাসায় জড়ো হয়েছে।
সবাই কী পরবে, গানের পরিক্রমা কী হবে এসব নিয়ে মহা ব্যাস্ত। গান না হলে গনেশের হাত নড়ে না। গনেশ সভার মুল বক্তব্য না শুনলেও তেমন কিছু যায় আসে না, গানের সাথে কখন তেহাই দিতে হবে, সেটা ভাল করেই জানে। আর তাই সবাই যখন কথার খৈ ফুটিয়ে, কবিতার ছন্দ ডিঙ্গিয়ে প্রভাত ফেরীর দিকে এগুচ্ছে। তখন গনেশ নান্টুর কবিতায় তাল আর সুরের জাল বুনে যাচ্ছে।
হয়তো গনেশ নতুন গানের সন্ধানে ছিল, নান্টুর খাতায় তা পেয়ে গেল।
খোলে চাটি দিয়ে সবার দৃষ্টি আর্কষণ করে, গুনগুনিয়ে নান্টুর লেখা গানটি একবার গাইল গনেশ।
মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনল সবাই। আমাদের পাড়ার প্রভাত ফেরীর গান আমরা পেয়ে গেলাম।

গলায় হারমোনিয়াম আর খোল ঝুলিয়ে একুশের ভোরে আমরা নান্টুর গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী দিলাম। গান শুনে বিটিভি-র লোকেরা ঘিরে ধরলো। নান্টু একটু নার্ভাস হয়ে গেল! গান এত ভাল হল! বিটিভির লোকেরা তা রেকর্ড করল।

সন্ধ্যায় টিভির সামনে বসে ফজলে খোদা গীতিকারের নামে নান্টুর গান দেখলাম শুনলাম কিন্তু বুঝতে পারলাম না, গীতিকারের জায়গায় নান্টুর নাম কেন এলো না!
এর পর নান্টু আর গান লিখেনি (নান্টু=ব্লগার তীরন্দাজ, ঘটনা সত্য)!

 

 

  • ২৬ টি মন্তব্য
  • ২৬৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: যাহ!!
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: তাই!
শুভ নববর্ষ।

২. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৩
comment by: হাসিব মাহমুদ বলেছেন: জায়গাটা চিনা চিনা লাগে ।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৯

লেখক বলেছেন: তবু অচেনা?

৩. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৯
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: কাহিনী কি !!
পুতলা ভাই .. আপনার বাসায় কইলাম যেকোন সময় হানা দিমু .. যাস্ট ঠিকানাটা দিয়া রাখেন । নেক্সট মান্থে ট্যুর দেবার প্ল্যান আছে জার্মানিতে ।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০

লেখক বলেছেন: অবশ্যই!
মোবাইল ০১৭৯২৩৯৫৮৪১

শুভ নববর্ষ।

৪. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৯
comment by: বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: হাসিব ভাই .. আপনেও রেডি থাকেন
৫. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১০
comment by: হাসিব মাহমুদ বলেছেন: আছি আমি, পুতুল ভাবি কিন্তুক সেইরম রান্না করে ।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১৩

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, যথেষ্ট ক্ষিধা নিয়ে আসবেন।

৬. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮
comment by: কৌশিক বলেছেন: তীরন্দাজের গান চুরি গেছে?
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: কৌশিক, রেডিও টিভিতে অন্ততঃ আগে এমন নিয়ম ছিল। ২৫টা গান না লিখলে তাকে গীতিকার হিসাবে অন্তর্ভক্ত করা হত না। অন্তর্ভুক্ত না হলে কারো গান প্রচার হতো না। তীরন্দাজের শুধু একটাই গান, তাই ফজলে খোদার নামে সে গান প্রচার হয়! আশা করি এখন সে নিয়ম নেই। কি অদ্ভূত নিয়ম!

৭. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৪৩
comment by: মুকুল বলেছেন: কি অদ্ভূত নিয়ম!!!!
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: সত্যিই, অবাক লাগে!
শুভ নববর্ষ।

৮. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪২
comment by: কৌশিক বলেছেন: তীরন্দাজকে ধরতে হবে গান লেখার জন্য।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪৬

লেখক বলেছেন: যে গানটির কারণে লিখলাম সেটিও তীরন্দাজ মুখস্ত গাইতে পারে, এখনো!

৯. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫২
comment by: কৌশিক বলেছেন: এরপর কবে আসতেছে খালি একটু খবর দিয়েন, জলসা বসাইয়া ফেলুমনে।
১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, যথা সময়ে জানিয়ে দেব। রবিন্দ্র সংগীত খুব মন দিয়ে গায়।

১০. ১৫ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫৯
comment by: কৌশিক বলেছেন: বেশবেশ। তাহলে কিছু গানের জন্য রিকুইজিশন দিয়ে রাখতে হবে। (আমি এখনও ভাবছি তীরন্দাজের বিষয়ে আপনার এত আগ্রহ কেন?)
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: সে অনেক কথা। সংক্ষেপে বলছি, মিউনিখে লেখালেখি বা গান বাজনা নিয়ে কথা বলা যায়, এমন লোক খুব বেশী নেই। এবং এ দু'টোর প্রতি অধমের আকুল আকর্ষণ। এর মাঝে আবার আমার তবলা বাজাতে ইচ্ছে করে আর তীরুদার রবিন্দ্র সংগীত গাইতে ইচ্ছে করে। এখন বুঝতে পারছেন কিছুটা। মানুষ হিসাবেও তীরুদা খুব মন্দ না।

অনুবাদ করে বছর খানেক "লা পেটিট" প্রকাশের আশায় বগল দাবা করে বসেছিলাম। তীরুদার পরামর্শে এখানে প্রকাশ শুরু করলাম। সে থেকে ব্লগার হয়ে গেলাম। নিজেও শেরালী নামে একটা উপন্যাস লিখতে শুরু করলাম। দেখতে দেখতে উনিশটা পর্ব হয়ে গেল। কুড়ি নম্বরটাও নিশ্চিৎ লেখা হবে।

ঢাকা বাসীর মত আমরা একটা বিশেষ জায়গায় গেলেই লাইনের লোক পাইনা। এখন অবশ্য ব্লগে আসার পরে জার্মনের অন্য শহরে থাকে এমন কয়েক জনের সাথে পরিচয় হয়েছে।

খোলামেলা ভাবে আলাপ করতে পেরে ভাল লাগছে। প্রশ্ন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

১১. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:২৯
comment by: কৌশিক বলেছেন: মিউনিখে লেখালেখি বা গানবাজনার জন্য সম্ভবত আপনি কেবল বাঙালি খুঁজে বেড়িয়েছেন। এই একটা বিষয়ে আমার কৌতুহল, সংস্কৃতিসেবীরা প্রবাসে প্রধান স্রোতধারায় সম্পৃক্ত হবার চেষ্টা করে না সম্ভবত। আপনি ভাল বলতে পারবেন।

তীরন্দাজের বহুপ্রতীভায় মুগ্ধ না হয়ে আসলে উপায় নেই। নেক্সট যখন গানের এমন আসর বসবে তা নিয়ে একটা পোস্ট দেবার অনুরোধ করে অগ্রীম ধন্যবাদ জানিয়ে রাখলাম।
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: কৌশিক বলেছেন: মিউনিখে লেখালেখি বা গানবাজনার জন্য সম্ভবত আপনি কেবল বাঙালি খুঁজে বেড়িয়েছেন। এই একটা বিষয়ে আমার কৌতুহল, সংস্কৃতিসেবীরা প্রবাসে প্রধান স্রোতধারায় সম্পৃক্ত হবার চেষ্টা করে না সম্ভবত। আপনি ভাল বলতে পারবেন।

জবাব: নাহ, তা কেন হবে! আমার অনেক জার্মান বন্ধুবান্ধব ও আছে। তবে বাংলা সাহিত্য বা সংগীত নিয়ে তাদের সাথে আড্ডা খুব একটা জমে না! গ্রাস বা হেসের গল্পও অনেক মজার। সে থেকেই অনুবাদের দিকে ঝুকেছিলাম।

অনেক সময় লিখতে ইচ্ছেও করে কিন্তু সময়ের টানাটানিতে মুল লেখায় সময় দেয়াই কঠিন। আর আছে ব্লগিং। তবে এখানে আমাদের জীবন যাপন নিয়ে একটা পোষ্ট দেব।

আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ।

১২. ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:১৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: কি সউন্দর কইরা সাজানো! :)
১৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০

লেখক বলেছেন: ধইন্যপাতা ভাইডি।

১৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
comment by: তীরন্দাজ বলেছেন: এইটা কি করলেন পুতুল? হাটে হাড়ি ভাইঙ্গা দিলেন। এখন আমি কই যাই!

কৌশিক, প্রবাসে মনের মতো মানুষ পাওয়া কঠিন ব্যাপার। পুতুল বা আমি, দুজনের কেউই সংস্কৃতিকে বা সাংস্কৃতিক ভাবনাকে শুধুমাত্র দেশভিত্তিক করে রাখতে চাইনা। আমরা একদিকে চারপাশে চোখ খুলে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি আনন্দিত আর উদ্দেলিত হই, অন্যদিকে ভাল একটি লোকগীতির আবেশে রাতে গভীর ঘুমোতে পারি। অনেকেকেই এখানকার সমাজের নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে ধরে রেখে বাকী ধারাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। তাদের এই সুবিধাবাদী চরিত্রের প্রকাশ কিন্তু কোন না কোন ভাবে নিজস্ব সমাজের বেলাতেও ঘটে। বিদেশ বলেই 'ঠক বাছতে গা উজাড়', সে ভয়ে অনেক সময় মনে দিক থেকে প্রত্যাখ্যান থাকলেও তাদের সাথে মাঝে মাঝে চলতে হয় আমাদের।

পুতুলকে অশেষ ধন্যবাদ!
১৪. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৮
comment by: সোনারমানুষ বলেছেন: পুতুল, আপনাকে বুঝতেই আপনার পোষ্টে ঢুকে সবকটা লেখা পড়ার চেষ্টা করছি। খুউবই ভালো লাগলো। অভিনন্দন। ++ দিলাম।
২৬ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:১৬

লেখক বলেছেন: সোনারমানুষ, ভাই আমাকে বুঝতে (সময় পেলে) শেরালী সিরিজটি একটু দেখার অনুরোধ করব।

আর বার বার এমন প্লাস না লিখলেও অসুবিধা নেই। কিছু রাজাকার ছানা আমাকে সব সময় মাইনাস দেয়।

 



 


_সন্ধ্যপ্রদীপ
"চারিদিকে শ্বাপদের পদচিন্হ
মুক্তির বারতা আর সবুজের মাঠে
কন্কাল আর অস্থি যেন আজ
সভ্যতার স্মারক ।
নর্দমার কীটে আর গন্ধে
কীইবা যায় আসে...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৩৮৩৬৭