somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... তুলে নাও তসলিমার নির্বাসন দন্ড রমনীর যাতনা করিতে যতন
রমনীয় পংতি নাহি কমনীয় মন!
একেতো জন্মিল নারী পুরুষ উত্তম
কেমনে শুনিল বাঁশী অরুপ রতন।
মানুষের নাম ধরি নর প্রভূ ধায়
যে মতে যেথায় যাই শুনি শুধু তাই!
নারীর কর্তব্য তায় লিংগ উপাসন
বীর্জ স্খলনে প্রভূ হয় সুখী জন।
কে কবে শুনেছে ভবে মানুষ রতন
লালন-হাসন গাইছে নারীর কীর্তণ!
ঈশ্বর করিতে সেবা স্বামী-পতি ধন
বারবনিতার বেশে রমনী সৃজন।
অবতার কয় কথা স্বর্গীয় কেতাবে
যত ধর্ম বিশ্বে আছে পয়গাম্বর রূপে!
তাহাতে মার্জিত বাঁধা সোনার শিকল
শাঁখা হাতে মাতা কয় ধন্য জীবন।
খেলিতে যাইওনা কন্যা বাটির বাহির
বালক শিখিছে বিদ্যা ধারালো অসির।
করুনার ভিক্ষা লয়ে শোন কন্যা ধন
পুরুষের অংক তলে সঁপিও জনম।
এমতে বধিতে গিয়া অমৃত বচন
তসলিমা পাইল বাঁধা ধর্মের কারন।
শক্তি দিয়া বলদেরা টানিত লাঙ্গল
শুনিয়া ভাবিল ক্ষন তসলিমা কথন।
নতুন ভাবনা শুনে বক্ষ দুরু দুরু
কহিল তসলিমা ভবে নষ্টের গুরু।
অতীব কঠোর সূত্রে ধর্ম পূন্য ধরি
দাঁড়াল মূর্খের দল পথ বন্ধ করি।
লজ্জা কিতাবে নাই নতুন বচন
ধর্ম কিবা শক্তি করে অসুরাচরণ।
এমতে হিন্দুরে মোল্লা কয় মালাউন
বঙ্গেতে বসতি নাইরে সনাতন হিন্দুর!
লুটিয়া নারীর লজ্জা রাজাকারে কয়
তসলিমা কথন কভু ধর্মমতে নয়!
নতুন ফতুয়া দিয়া ধর্ম অন্ধ জনে
তসলিমার মাথাটারে টাকা দিয়া কেনে!
দুষ্টের রক্ষক রাণী রাজ্য-রাক্ষসিনী
নাগরীক রক্ষায় মানে রাজাকার বিধি!
দুটি খূনী করে পন তসলিমা বধিতে
বাঙ্গালি মানিল ক্ষতি জল্লাদ রক্ষিতে!
তসলিমারে নির্বাসিয়া শান্তি আনে দেশে
অসুর রনেতে জয়ী বুদ্ধিবৃত্তি খুনে।
দেখিত পাইল কেহ কী ক্ষতি সাধিল?
মুক্ত চিন্তার সীমা রাজাকারে দিল!
সে পথে দুষ্টের অসি খাপ ছাড়া হল
মুক্ত চিন্তার কন্ঠ “আজাদ” বধিল!
প্রহসন কীর্তি যত দেখিয়া শুনিয়া
বাঙ্গালী অন্তঃপুরে রহিল নিদ্রিয়া!
কবিতার পান্ডুলিপি যত যেনতেন
তাহার উপরে চিন্তা প্রকাশের সম।
স্বাধীন দেশেতে জন্ম মুক্ত চিন্তার
হোক বাঁধা বাক্য গাঁথায় তসলিমা একার
পাঠক বাছিবে পুঁথি পাঠের বিচার
রাজ্যপাল-পুরোহিত তাঁরা কোন ছাড়?
দিকে দিকে পূনঃ পূনঃ উঠিছে ধিক্কার
তসলিমা লিখিছে কাব্য পাঠের অপার!
কাব্য নাট্য বিচারের উর্ধ্বে যে কথা
মত প্রকাশের পথে বাঁধা নাই হেথা।
একে একে ভিন্ন মতে কইবে যে কথা
তাঁহার নির্বাসন দন্ড শুধু তাঁর একা?
রক্ষিতে স্বাধীন চিন্তা যত ভিন্ন মত
ঘরে ঘরে জ্বালি এসো মঙ্গল প্রদীপ।
তসলিমার জন্য নয় আমাদের গীত
মন খুলে কথা কব ভয়ের অতীত।
তাহার তরেতে মিলি যত মুক্ত কন্ঠ
তুলে নাও তসলিমার নির্বাসন দন্ড।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28872632 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28872632 2008-11-22 17:08:07
খোকাবাবু (সম্পূর্ণ) মূল : আনটোয়ানী ডে সা এক্সউপেরী

"পরের মুখে ঝাল খাওয়া"

অনুবাদের ব্যপারে এমন একটা কথা পাঠক মহলে চালু আছে। বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের নিরিখে কথা ফেলে দেয়ার মত নয়।
হেরমান হেসে-র সিদ্ধার্থ পড়েছিলাম বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের অনুবাদে। জার্মান ভাষায় এর আগেই বইটি বার দু'এক পড়া ছিল। ছবিটিও পাঁচ বারের মত দেখেছি, জার্মান ভাষাতেই। তাই এর বাংলা অনুবাদটা আগ্রহ নেয়েই পড়তে থাকি। পড়ি আর মর্মাতহ হই। এমন নাম করা একটা প্রতিষ্ঠান হেরামার হেসে-র লেখার একী হাল করেছে! হয়তো এমন আরো অনুবাদ আছে, আমি কেবল একটার কথাই জানি!

আমার প্রিয় মানুষটি খুব পড়তে পছন্দ করে। ফোনে অনেক বই নিয়ে কথা হয়। এপার বাংলা ওপার বাংলার অনেক খ্যাতিমান লেখকদের লেখা নিয়ে কথা হয়। আমি গল্প শুনে চুপ করে থাকি। প্রিয়তমার ঝাড়ি খেয়ে দু'একটা বইয়ের কথা বলি। কিন্তু বাংলায় সে সব বইয়ের অনুবাদের মান সম্পর্কেও সাবধান করতে থাকি।
সে বলে "এত পন্ডিতি দেখাচ্ছো যখন, তাহলে নিজেই একটা অনুবাদ করো না কেন!" কথা ঠিক। পরের দোষ ধরা খুব সহজ কাজ। তার অনুপ্রেরনা আর আগ্রহে দ্যা লিটল প্রিন্স-এর অনুবাদ শুরু করি। কাজের ফাঁকে যে সময়টুকু পাই "খোকা বাবু" (আমার বিবেচনায় দ্যা লিটল প্রিন্স-এর বাংলা অনুবাদ) অনুবাদ করতে থাকি। হাতের লেখা অনুবাদটুকু কম্পিউটারে টাইপ করি, একে ওকে ধরে বিভিন্ন পরামর্শ চাই। অনেকে বলল একটা বাংলা অনুবাদ দেখে নিতে পারেন। কিন্তু আমি কাজটি করছি প্রিয়তমার জন্য। সে কাজ আমাকেই করতে হবে। তা ছাড়া করো অনুবাদ দেখে প্রভাবিতও হতে চাই না।
অনুবাদটার একটা প্রিন্ট আউট প্রিয়তমার হাতে দিয়ে বললাম; বই ছাপিয়ে দিতে পারলাম না, সরি।
সেটা পেয়েই তিনি খুব খুশী। আনন্দের আতিশয্যে যোগাযোগ শুরু করলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সাথে। অনেক চেষ্টার পর কর্তাব্যাক্তিদের একজনকে পাওয়া গেল। প্রয়োজনে আর্থিক দায়িত্ব নেয়ার সংকল্প নিয়েও কোন লাভ হল না। কর্তাব্যক্তি বললেন; রূপকথা আমরা প্রকাশ করি না। তাছাড়া বইটি অন্য প্রতিষ্ঠান বের করেছে।

এবার খুব আগ্রহ হল, দেখি অন্য অনুবাদগুলো কেমন হল!
খোঁজ নিয়ে আজিজে গিয়ে পেলাম ছোট্ট এক রাজকুমার। অনুবাদক রতন বাঙালী, প্রকাশনায় জাগৃতি প্রকাশনী।
একটু ইর্ষা নিয়েই বইটির পাতা উল্টাতে শুরু করলাম। যতই পাতা উল্টাই ততই মন খারাপ হতে থাকে, একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়;
"কিন্তু আমার ভয় জোরালো হাওয়ার। তুমি কি আমার চার পাশে আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করছ না?
খরার অতঙ্ক ফুলের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।- রাজকুমার মন্তব্য করল। এই ফুলটি একটা নাজুক সৃষ্টি বটে...!
ফুলটি জোরালো হাওয়ার ভয়ে আচ্ছাদন চাইছে, সেখানে রাজকুমারের মন্তব্যে খরার আতঙ্ক ফুলটির জন্য দুর্ভাগ্যজনক কেন হবে! যে কোন উদ্ভিদের জন্যেই খরা একটি ভয়ঙ্কর ব্যপার। আসলে ফুলটি খরার আশংকা করেনি, করেছে জোরালো/ঝড়ো হাওয়ার।
এভাবে অনেক অসঙ্গতির আর একটা নমুনা নবম অধ্যায়ে

"মূলবই-এর প্রথম কভারের ভেতরের চিত্র-পাখির সাহায্যে উড়ে যাওয়ার ছবিটি।"
এই বাক্যটি এখানে কম্পোজারের উদ্দেশ্যে অনুবাদকের উক্তি। এখানে কোন ছবিই যুক্ত হয়নি। ছবিটি আছে অন্য জায়গায় যেখানে থাকার কথা নয়। এভাবে এক জায়গার ছবি অন্য জায়গায় ছাপা হয়েছে। ছবি, বাক্যগঠন, শব্দচয়ন সব কিছু খুব অবহেলায় অযত্নে করা হয়েছে।

মাথা নীচু করে আজিজ ছেড়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাম বাংলা একাডেমীর দিকে। সেখান থেকে কবি আসাদ চৌধুরীর অনুবাদ "ছোট্ট রাজপুত্র" সংগ্রহ করলাম। জ্ঞ্যান পাপী কথাটা কেন চালু হল তার কারন বুঝতে পারলাম ছোট্ট রাজপুত্রের সতেরো অধ্যায়ে এসে।

ছোট্ট রাজপুত্র: "তুমি মোটেই প্রবল শক্তির অধিকারী নও, তোমার পা পর্যন্ত নেই, তুমি কোথাও যেতেও পারনা...।"
সাপ বলল, "একটা ভেড়ার পিঠে চেপে তুমি যতদূর যাবে তার চেয়ে একটু বেশী দূরেই আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারি।"
ছোট্ট রাজপুত্র-কে তিনি গাধার পিঠে নয় ভেড়ার পিঠে চড়িয়ে সম্মান করলেন! মূল বইতে ভেড়া বা গাধার কোন কথাই আসেনি। সাপ বলেছে একটা দ্রুতগামী "জাহাজ" তোমাকে যতদূর নিয়ে যেতে না পারবে, আমি তোমাকে তার চেয়ে বেশীদূর পৌঁছে দিতে পারব।

তবুও পাঠক এদেরটাই কিনবে। আমার অনুবাদ অজ্ঞাত কুলশীল হয়ে ধুলোর আচ্ছাদনে ঢাকা পরবে। পাঠক কেন এসব বই পড়ে আপ্লুত হয় না, সেটা মর্মে মর্মে টের পাচ্ছি। অনুবাদের এমন হাল দেখেই হয়তো পাঠক বুঝতে পারেন না, কেন একজন লেখকের ছবি সে দেশের টাকায় ছাপা হয়! পরের মুখে ঝাল খাওয়া, কথার সার্থকতা খুঁজে পেলাম!

লেখক পরিচিতি:
অনটোয়ান্ দ্যে সা এক্সউপেরী উনিশ সালের ২৯ জুন ফ্রান্সের লিয়নে জন্ম গ্রহন করেন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় সা-এক্সউপেরী চার বছর বয়সে পিতাকে হারান। উনিশ নয় সালে মাত্র ন'বছর বয়সে ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে এতিমখানায় ভর্তি হন। উনিশশো বারো সালে প্রথম বিমান যাত্রা। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর নেভাল অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। প্রস্তুতির জন্য একটা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েও পাস করতে ব্যার্থ হন। এ ব্যার্থতার সাথে যোগ হয় ছোট ভাইটির অকাল মৃত্যূর আঘাত। কয়েক বছর স্থাপত্যবিদ্যায় পড়াশুনা করেও শেষ করতে পারেননি। বাধ্যতামূলক সেনা প্রশিক্ষনের অংশ হিসাবে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে প্রকৌশলী ও পরে পাইলটে উন্নীত করেন নিজেকে।

রচনা সমগ্র:
দ্যা পাইলট -১৯২৬
সাউথ কুরিয়ার -১৯২৮
নাইট ফ্লাইট -১৯৩১
উইন্ড, সেন্ড এন্ড স্টার -১৯৩৯
লেটার অব ফ্রেন্ডশীপ -১৯৪১
ফ্লাই টু আরাস -১৯৪২
দ্যা লিটল প্রিন্স -১৯৪৩ সর্বশেষ সম্পূর্ণ রচনা
সিটি অব ডেজারট্ -অসমাপ্ত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯৪৪ সালের ৩১ জুলাই "স্যাঁ-এক্সউপেরী" শেষ বারের মত পাইলটের আসনে বসেন। এ যাত্রা থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
উনিশ'শ আটানববই সালে মাছ ধরতে গিয়ে জন-ক্লাউডে বিয়াঙ্কো নামের এক জেলে "সা এক্সউপেরী" নামাঙ্কিত হাতের ব্রেসলেটটি খুঁজে পান। জেলের কথামত ২০০৩ সালে "সা এক্সউপেরীর" বিমানটি উদ্ধার করে ২০০৪ সালে বিমান যাদুঘরে রাখা হয়।
ফরাসী জাতি ১৯৭৫ সালে আষ্টেরোইড নম্বর ২৫৭৮ কে "সা-এক্সউপেরী" এবং ২০০০ সালে লিয়ন বিমান বন্দরকে "সা এক্সউপেরী" নাম দিয়ে এই লেখককে অমর করে রাখে। অধুনালুপ্ত ফরাসী ৫০ ফ্রাঙ্কের নোটের একদিকে সা এক্সোপেরীর ছবি অন্যপিঠে তার বিমানের ছবি ছাপ ছিল।


খোকা বাবু তাঁর সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ রচনা। বইটি এ যাবৎ ১৪০টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এর মধ্যে জার্মান ভাষায় শততম অনুবাদটি বের হল দিন কয়েক আগে। আমার জানা মতে বাংলায় বইটির চারটি অনুবদ আছে। আমি বইটি জার্মান ভাষা থেকে অনুবাদ করেছি।
বই নিয়ে কিছু বলতে যাব না। শুধু এটুকু বলতে চাই; কল্প-বাস্তব আর বাস্তবের বুনন কেমন হতে পারে তা তিনি এই বইয়ে দেখিয়েছেন।

বইটি অনুবাদের সময় অনেকেই আমাকে বিভিন্ন ভাবে উৎসাহিত করেছেন। তাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

বইটা পড়তে
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28856888 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28856888 2008-10-19 16:26:34
মানুষের মত প্রকাশের পথ সহজ হোক। ধন্যবাদ সামহয়ারইন ব্লগ! বিহংগ বলেছেন: বাংলা গদ্যের অমানিশা দূর হোক । একেবারে খাশা।
ডক্টর অব মেন্টাল ডিসঅর্ডার বলেছেন: গদ্য লেখা একটা জন্মগত ব্যাপার আপনে জন্মাইসেন আপনাকে ৫
সন্ধ্যাপ্রদীপ বলেছেন: চমতকার গল্প । এমন করে পাঠককে টেনে নিয়ে যায়, চুম্বক যেনো শব্দের গাঁথুনি । মাই গড ।
রাশেদ বলেছেন: সত্যি বলতেছি আপনার লেখাগুলা আসলেই খুব ভালো। নজমুল আলবাবের পর ব্লগে আরেকজন ভাল গদ্যলেখক পেলাম।
তানভীর বলেছেন: উচচমার্গের সাহিত্য। কয়েকবার পড়ার পর মাথায় ঢুকেছে। বানান ভুলগুলি অবশ্য পীড়াদায়ক।
জুবুথুবু বলেছেন: 'কি জটিল, আর কি জাদুকরী।" সন্ধাপ্রদীপের সাথে সহমত, এরচেয়ে ভাল করে আমি হ্য়তো বলতে পারতাম না।
পরবর্তি কিস্তির অপেক্ষাতে থাকবো।
আপনিকি হেরমান হেস এর ভক্ত?
৬;কামপূরুষ বলেছেন: সম্পাদকরা লেখা পড়ে দেখে না। তেল-এ কাজ করে। আপনি যত্ন করে লিখুন। ব্লগে বা ছাপার অক্ষরে আপনার লেখার পাঠকের অভাব হবে না। জীবনের ছোটছোট দুঃখসুখকে এত যত্ন করে তুলে ধরা অনেক বড় লেখকের পক্ষেই সম্ভব।
নাজিম উদদীন বলেছেন: ও মাই গড
এক্কেবারে গাঁও-গেরামের কথা।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ফ্রান্সে বসে লালসালু লিখেছিলেন, আপনাকে দিয়ে হবে।

উপরের কথাগুলো লিখেছেন সামহয়ারইনব্লগে আমার কিছু বন্ধুরা। শেরালী-র ৫ এবং ৬ পর্ব পড়ে। আমি খোকা বাবু অনুবাদ করি আমার স্ত্রী-র জন্য। কিন্তু প্রকাশের কোন পথ পাইনি। তীরন্দাজ এখানে তখন নিয়মিত লেখক। একদিন সার্চ দিয়ে ব্লগটা খুজে পেলাম।
ছায় বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নিচি পুতুলের কি দোষ!
নিবন্দনের সময় এ কথা মনে রেখে পুতুল নিকটা পছন্দ করি। তাতে অনেকে আমাকে মেয়ে মনে করতে থাকেন। প্রতিবাদ করিনি। এতে সবচেয়ে বেশী ঋণী হয়ে আছি আহমাদ মুজতবা-র কাছে। খোকাবাবুর অনুবাদ পোষ্ট করে এত ভাল লাগে ব্লগারদের মতামতে যে, শেরালী লিখতে শুরু করি। প্রথমে গল্পের মত ছোট ছোট কয়েকটা লেখার পর, উপড়ের মন্তব্য গুলো খুব উৎসাহিত করে। চালিয়ে যেতে থাকি। মাঝখানে থেমে গিয়ে মানুষ আর রাগ ইমনের ঝারি খেয়ে আবার শুরু করি। ব্লগে প্রথম স্বাগত জানায় রাশেদ। প্রথম কথোপকথন হয় এস্কিমোর সাথে। প্রথম কাব্যালাপ রাগ ইমনের সাথে।
প্রথম ব্যান খাই তৃভূজের ব্লগে। প্রথম অভিযুক্ত হই সন্ধ্যা বাতির কাছে।
সব কিছু ছাড়িয়ে সব চেয়ে যে ব্যাপারটা খারাপ লাগে সেটা হল কর্তৃপক্ষ যখন স্বাধীনতার পক্ষের কাউকে ব্যান করেন (গালিবাজ অভিযোগ এনে)। অথচ স্বাধীনতা বিরোধীরা ইচ্ছেমত মুক্তিযোদ্ধাদের কুকুরের সাথে তুলনা করে। তার প্রতিবাদে রাশেদ আর এস্কিমোর ব্যানের পরে মনটা খুব বিগরে যায়।

তবুও সামহয়ারইনব্লগের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে কুন্ঠিত নই। এখানে না আসলে আমার লেখা পড়ার যোগ্য হয়, সেটা বুঝতামইনা কোন দিন। এত এত বন্ধুও পেতাম না। আজ ১ বছর ২ দিন হল, আমি ব্লগার। এটি আমার ৮৩তম পোস্ট। ব্লগটি ৩৪৫১২ বার দেখা হয়েছে। মন্তব্য করেছি ৩৩০৯টি, পেয়েছি ২৩৩৭টি।

হাল খাতা আরো সুন্দর হতে পারতো! ব্লগিং-এর জয় হোক। সব ব্লগারদের ধন্যবাদ। যারা আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করেছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
মানুষের মত প্রকাশের পথ সহজ হোক।










]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28835668 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28835668 2008-08-27 17:54:51
হিল্লা! চানপুইরা হানকি-ত তিন হানকি ভাত খালি হুলারা-মইচ (শুকনো কাঁচা মরিচ) দিয়াই আরুইব্বা কেরাইয়া (মাঝি) খায়। হের লগে আইজ হিদল-হুটকির বর্তা। পাঁচ হানকি ভাত খাইয়া, হানকি ধোয়া পানি-ত কুলি কইরা আরুইব্বায় হুক্কা ধরায়, টিক্কা দিয়া।

গুড়গুড়াইয়া হুক্কা টানতে টানতে আরুইব্বার নিজেকে বড় একা লাগে। মনে হয় যদি এসময়ে কেউ পাশে থাকতো! আরুইব্বার ঘর-বাড়ি এই ছইয়া ওয়ালা ডিঙ্গি। গাঙ্গের পারে বসত ছিল, আরুইব্বার কৈশোরে। মাঝি-মাল্লার কাম আরুইব্বাদের রক্তে, সেই ছোটবেলা থেকেই। রঘুনাতপুর বাজার থেকে গস্তি নাওয়ে মাল বোঝাই করে, রামচন্দপুর বাজারে পৌঁছে দিতে এক হপ্তা লেগে যেত। এমনই এক হপ্তার ক্ষেপ দিয়ে এসে পরিবারের অন্য সব সদস্যদের সাথে বাপ-দাদার ভিটে-মাটিও আর পায় না আরুইব্বা। রাইতের হোয়ারে সব গাঙ্গের পেটে গেছে। সেই থেকে আরুইব্বার বসতবাটি জলে ভাসা ডিঙ্গি।

নিজের বাড়ির উপর পারা কুইপ্পা আরুইব্বা রাত পার করে। সহায় সম্বল বলতে এই ডিঙ্গি। তো এমন নাদানের কাছে মেয়ে দেবে কোন পাষান বাপে! আরুইব্বা বিয়ের চলন, নাইওরী আনা, বেড়াতে যাওয়া এবং মালটানা এ সবই করে। কিন্তু সিনা দিয়া তুহান ঠেকাইতে পারে এমনি বুকের পাটা। তাই আগে থেকে বায়না না করলে আরুইব্বাকে পাওয়া কঠিন।

এ তল্লাটে আরুইব্বারে চেনে না এমন মানুষ খুব বেশী পাওয়া যাবে না। অনেক রুগী বা লাশও আরুইব্বার ডিঙ্গি চড়ে হাসপাতাল বা গোরস্থানে গেছে। মালের চালান চলনদারের হাতে দিয়ে, চাল আর রাব নিয়ে রান্না, তামাক কাটা-মাখা ঘাটেই করেছে। কিন্তু খাবে ঠিক বাড়ি এসে; মানে যেখানে বাড়ি ছিল।

গুড়গুড়িয়ে হুকু টানতে টানতে ছইয়ের ফাঁক দিয়ে বাইরের জোৎস্না দেখে আরুইব্বার মনটা কেমন করে উঠে। মনে পরে যায় অনেক দিন আগে কোন এক পরিবারের মাঝি হয়ে বেড়াতে যাবার কথা। সে রাতটাও এমনি জোছনায় প্লাবিত ছিল। তখন আরুইব্বার উঙ্কুর কাল।

প্রতিবেশী পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া:
স্বামী: হেগ গরে মেজন (মেহমান) আইছে, তুই ঠাট করি বইরইছত কিল্লাই?
স্ত্রী: আন্নে এক্কান কতা কইলেন, আঙ্গ বাইত মেজন আইছে। হেরা বেকতের মেজন। আন্নের হালান গামছা হিন্দি (পরা) মেজনের কাছে জাইয়াম?
স্বামী: ছিনাইল্যা মাগীর কতা হোন! কাহরের (শাড়ীর) তলে ছায়া (পেটিকোট) হিন্দি, সিনার উরফে তুলা বান্দি বুজি, মেজনের খেদমত করন লাগে?
স্ত্রী: আন্নে এগুন কি কন! ছায়া আর বেক জিনিস আন্নে আরে আইন্না দিছেন। আই হিন্দি দোষ কইচ্চি?
স্বামী: না, আন্নে হেগুন হিন্দি সিনা টান করি বেগানা বেডাগো দেহাইবেন, আই জুইত করি চাই থাহুম। আন্নেরে শাদি করি আই দোষ কচ্চি, আন্নে কতা বেশী কইয়েন্না। আন্নেরে আই রাইকতান্নো।

এতক্ষন ইমাম সাহেব চুপচাপ শুনে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এবার মৌনতা ভাঙ্গতেই হল। স্বামীর "আন্নেরে আই রাইকতান্নো" এ বাক্যে স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে। এখন যতদ্রুত সম্ভব স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করতে না পারলে অনাচার ঠেকানো দায়। পাড়া প্রতিবেশীর মধ্যস্থতায় শরীয়তমত এক রাতের হিল্লার ফতুয়া ,ইমাম সাহেব বয়ান করলেন।

এখন হিল্লার লোক পাবে কোথায়? অনেক খোঁজা-খুঁজির পর সবাই আরুইব্বাকে হিল্লার উত্তম সমাধান ভাবলেন।

আরুইব্বা কোন অবস্থাতেই হিল্লা হতে রাজি নয়। একটা নতুন লুঙ্গি আর জামাইর আদরে আরুইব্বার মন নরম হল। শর্ত একটাই, সকালে শরীয়ত মত তালাক দিতে হবে। যাতে স্ত্রী সুখে -শান্তিতে আগের স্বামীর ঘর করতে পারে। এ আর এমন কি! আরুইব্বা রাজি হয়ে গেল।

বিপত্তি ঘটল বাসর নিয়ে। আরুইব্বা শরীয়তমত মহিলার স্বামী। স্বামী-স্ত্রীর মত একবিছানায় রাত্রি যাপন করতে হবে। আলাদা ঘর না পেয়ে আরুইব্বার ডিঙ্গিতেই বাসর করার সিদ্ধান্ত হল; বাড়ি থেকে ক্ষানিকটা দূরে, ডিঙ্গি, আমনের ক্ষেতের আইলে পারা দিল আরুইব্বা। লাজ নম্র নব বধূর মত, ছৈ-এর ভেতর গুটিশুটি বসে আছে বউ। আরুইব্বা কি করবে বুঝতে না পেরে ফাঁপর কাটাতে নতুন লুঙ্গির সাথে উপহার পাওয়া বিড়ির প্যাকেট থেকে দিয়াশলাইয়ের সাহায়্যে একটা বিড়ি ধরায়।
কৌতূহল বসে বধুটি ছালার চট সরিয়ে আরুইব্বারে এক নজর দেখতে চায়। গলুইয়ে বসে বিড়ির ধোঁয়া ছেড়ে আরুইব্বা ছৈয়ের ভেতর উঁকি দিতে উদ্যত। আর এমন সময় জোছনার আলোয় বধূর মিষ্টি মুখটি আরুইব্বার হৃদয়ে হয়তো আজীবনের জন্য গাঁথা হয়ে যায়।

সাহস করে বউ জিগায়: আন্নেগো বাড়ি কোনায়?
আরুইব্বা কয়: উত্তুরে।
বউ: আন্নে হুইতেন্নো?
আরুইব্বা: আইরাম।
আরুইব্বার ডিঙ্গিতে তেলচিটচিটে একটা কাঁথা আর একটাই বালিশ। সে কথা ভাববার সময় আরুইব্বা পায়নি। অন্য করোও মনে হয়নি। কাঁথা বালিশ জুড়ে বউটি শুয়ে আছে। একান্তই দয়া পরবশ হয়ে বউ আরুইব্বাকে এক পাশে একটু জায়গা করে দেয়। কাঁথার খানিকটা নিজের দিকে টানতেই বউয়ের উরুর সাথে আরুইব্বার শিশ্নর ঘষা লেগে যায়। লেজে পা পড়া সাপের ফনার মত খাড়া হয়ে গেল আরুইব্বার অংগ। সেটা লুকোতে আরুইব্বা বধূর থেকে একটু দূরে সরতে চেষ্টা করে। বধূ ভাবে আহা, আমার জন্য মানুষটির কত কষ্ট হচ্ছে! যাইনা আমিই বরং একটু কাছে এগিয়ে।
আর বধূর সেই এগিয়ে আসাটাই হল আরুইব্বার কাল। জীবনে প্রথম মিলনের তৃপ্তি হজম করতে আরুইব্বা আবার বিড়ি ধরায়। বধূ ভাবে হবে বোধ হয় আরেক "হলট"!
হলটের পর হলটে রাত্রি শেষ। এক রাত্তির সংসার ভাঙ্গতেই বোধ হয় মুয়াজ্জ্বিনের আযান ধ্বনিত হয়। আরুইব্বা আর একটা বিড়ি ধরায়। সেটা দেখে বউ ভাবে অরেক হলট দেবে নাকী! জড়তা অনেকটা কমে গেছে বলেই নিজে থেকে জিজ্ঞেস করল: আরেক্কান হলট দিবেন্নি? আন্নেগো উত্তুইরা হলট গুন আর কাছে খুব মজা লাগে। আন্নে আরে ছাইড়েন্নো।
(আমাকে যারা সা.ইনে মিস করেন: তাদের প্রতি কৃকজ্ঞতা জানাতে গল্পটি এখানে দিলাম।)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28825725 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28825725 2008-07-30 19:45:27
নাচের পুতুল!/ লিখেছেন; শুভ এ তো গেল নাম বৃত্তান্ত।স্বভাবতই লেখা উচিত আমার গুনের নকশীকাঁথা। কিন্ত বিধাতার কৃপনতায় পাইনি সেই গুনের মাথা! সবগুলো ছেলে-মেয়ে কে, বাবার সারাজীবনের ইচেছ দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেয়াবে । সে ধারাবাহিকতায় আমার ও তা নিতে হল । বাবা তার সারাজীবনের ইচ্ছের মাঝে তার সারাজীবনের কামাই এর শেষ কনাটুকু ঢেলে দিল ।

নাচতে পছন্দ করতাম, তার চাইতেও বেশী পছন্দ করতাম, নাচের সাজসজ্জা গুলো । খুব আদুরে এবং ভীষণ বড়লোকের ফর্সা তুলতুলে পুতুলের মত মেয়ে গুলো সাধারনতঃ নাচের জন্য নির্বাচিত হত আমাদের পাড়ায় । কি যে সুন্দর তাদের নাচের সেই সব বাহারি পোষাক গুলো! স্কুলে কোন অনুস্ঠান হওয়ার আগে, নাম নির্বাচক কমিটির সুনিতী দি ক্লাশে ঢুকেই চেচিয়ে বলতো, কৈ রে সুবর্ণ আয় নাচবি । ভদ্র মহিলা কোন এক অজানা কারনে সবার আগে আমার নামটাই নির্বাচন করতো । তারপর রোজ বিকেলে চলতো তার মহড়া; পুতুল পুতুল চেহারার মেয়ে গুলো কে, পুতুল পুতুল চেহারার মা গুলো হাত ধরে নিয়ে আসতো, আর নাচ শেখানোর ভাইয়া মা দের হাত ধরে, মেয়ে গুলো কে নিয়ে, মেয়ে দের হাত ধরে মা দের সামনে পরম যত্নে নাঁচ শেখাতো। তুলতুলে মেয়ে গুলো, পায়ে শব্দ করে তাল রাখতে পারতো না; মা গুলো দৌড়ে এসে, মেয়ের পায়ে হাত দিয়ে, তাল ঠিক করে দেবার চেষ্টা করতো, ভাইয়াও সে হাত গুলোর ওপর হাত রেখে, তাল ঠিক করার চেষ্টা চালাত । মাঝেমাঝে তার সাথে আমাকে সহকারী হিসেবে দাড় করাতো । ফাইনাল মহড়ার আগেই ওদের নাচের যাবতীয় পোষাক-গহনা তৈরী করে ফেললো। আর আমি মার সবচেয়ে দামি শাড়িটা দেবার জন্য কেঁদে-কেঁটে মাকে রাজি করিয়ে রাখলাম। টিফিনের জমানো পয়সা গুলো দিয়ে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে চুড়ি, মালা, আলতা, ফিতা কিনলাম। পলিথিনের ব্যাগে মুড়ে, সবাই যেখান থেকে তৈরী হবে সেখানে দৌড়ে গেলাম। সবাই ব্যস্ত; পুতুলের মত মা গুলো একটু পরপর আমাকে আদুরে গলায় বলছে ''আম্মু এটা একটু দাওতো, ওটা একটু দাওতো''। আমি ছুটে ছুটে দিতে থাকলাম। সবার সাজানো শেষ। আমি কোনরকম চুড়ি, আলতা পড়ে, ছোট হাতে শাড়ি গুজতে না পেরে, কোন এক আন্টি কে ডাকবো, ওমনি ভাইয়া স্টেজে ওঠার সিরিয়ালি নাম ডাকা শুরু করলো; উত্তেজনায় আমার ছোট শরীর টা থরথর করে কাপছে; কোনভাবে শাড়িটা গুজে নাম শুনতে লাগলাম। শেষ নাম অব্দি ঠোটে লেগে থাকা হাসিটা রইলো; ভাবলাম ভূল করে হয়তো আমার নামটি ডাকেনি ! নাচের ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলাম; তিনি বললেন: আমার স্টেপ শেষের কিছুদিন ভূল ছিল; অন্য কোন সময় আমাকে নেয়া হবে! আমি ছোট মাথা কাত করে বললাম, আচ্ছা! মার পছন্দের শাড়িটা কোন একটা ঝোপের আড়ালে রেখে দিলাম। সেখানে বসে চীৎকার করে কেঁদে - কেটে ঘরে চলে এলাম। পরে শুনেছিলাম, কোন এক মেয়ের বায়নায়; তার মায়ের অনুরোধ উপেক্ষা করতে না পেরে, "নাচের" ভাইয়া আমার জায়গায়, সে মেয়েকে ঢুকিয়েছিলেন! আমি জানি সেদিনের সে স্টেপ টা ভুল ছিলনা; কিন্ত তার পরের স্টেপ টা ছিল ভুল! যখন আর কখনো নাচবো না বলে পণ করেছিলাম!!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28790326 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28790326 2008-04-23 00:42:24
শেরালী কুড়ি/মুক্তিযুদ্ধে নিহত শিশু শত্রুর সুখে রোপিত বীজের পুষ্পেরা আজ ফোটে।
এ মাটির বুকে যায়নি গাঁথা পরাধীনতার মন্ত্র,
রেখে গেল তায় তপ্ত ধরায় অমানবিকতার চিহ্ন।
মৃত্যু কোটর হয়তো গ্রেনেট অথবা একটি মাইন,
অবুঝ শিশু দেয় ফাঁদে তার সবুজ চপল পা।
পরাজয়ের গ্লানির বদলে নিস্পাপ শিশুর প্রাণ,
খুনী ধর্ষক শত্রুর মুখে আনে তৃপ্তির বান।
তিরিশ লাখের রক্তে এদের তৃষ্ণা দূর্ণিবার,
রক্ত ঝরুক রক্তে লেখা স্বাধীনতার নাম।

যুদ্বোত্তর সংকটের সমাধান এত কঠিন! তা এখনো কেউ বুঝতে পারেনি। তাই যদুর চায়ের দোকানে পান প্রার্থীদের আড্ডায় দুঃশ্চিন্তার লেশ মাত্র নাই। ওহেদ আলী বয়াতীর দোতারায় যখন মুক্তি বাহিনীর বীর গাঁথা মূর্ত হয়ে উঠে, তখন শ্রোতারা হাত তালি আর হাত খরচ দুটোই অকাতরে দান করে।

ভজনের ফেরার অপেক্ষায় অতিষ্ঠ নমিতার সময়গুলো, স্বপ্নের স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ গড়তে, আগামী দিনের সৈনিকদের অক্ষর জ্ঞানদানে ব্যায় করছে। ভজন ফিরে এলে নিশ্চই খুব মুগ্ধ হবে।
পাড়ার যুবকেরা বাঁশ যোগাড় করে ছনের চালার নীচে আমাদের গ্রামের প্রথম পাঠশালার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। তার ছায়ায়, নমিতাদির মায়ায়, শেরালীর বর্ণমালা শেখার প্রয়াস চলে। জানিনা কি কারণে এক একটা বর্ণমালা আমার সামনে নতুন দিগন্তের দ্বার উম্মোচন করে দিতে লাগল!
মধুর স্বাদ ও রংয়ের মরুভূমির বালুর মত ছাতু হাতের তালুতে নিয়ে চাটতে চাটতে বাড়ী ফেরার সময় মনে হত; মায়ের কাছে যদি নমিতাদীর ছাতুর বস্তাটা থাকতো!
আকাশে মেঘের পাল, নদীতে জোয়ারের জল, বেন্না আর হিজলের থোকা থোকা ফুলের ডালি হয়তো একটি সুন্দর নবান্নের সূচনা সংগীত। মেঘের গুরু গুরু গর্জন, বাজায় তারই ঢাক।
এই বৈশাখে আমাদের মত আরো অনেকের ছনের চাল, মাথা গোজার আশ্রয় হয়ে থাকবে কিনা, সে ভাবনার আতঙ্ক দোলায় প্রকৃতির সুন্দরের দান আর অকুন্ঠ চিত্তে পান করা হয়ে উঠে না।
বৈঁচি, বেতুমের লোভে পাল বাড়ীর পরিত্যাক্ত জঙ্গলে একদল ছেলেমেয়ে অভিযানে বেড়িয়েছে। অভিযাত্রী দলের কারো কঁচি পা একটা কঠিন কিছুর দলায় হোচট খেলো। দলের বাকীরা তা আবিষ্কারের নেশায় খুঁজে পেল একটা শক্ত বল। ব্যাস খেলা শুরু হয়ে গেল। এদিক ওদিক ছুড়ে ফেলে আবার কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দ! কিন্তু বলটা কিসের তৈরী? সে প্রশ্নের উত্তর বড় কঠিন, বড় নির্মম। ছোট মাথায় এতকিছু ঢুকে না। বল নিয়ে সবাই বাড়ী এল। পুরুষরা বৈশাখের আর্শিবাদী বর্ষনের আগেই আমনের আগাছা নিড়ানীতে, ক্ষেতে। কৃষানীরা বর্ষায় ঘরে বসে রান্নার চুলো আর খড়ি সাজিয়ে রাখছে। উঠোনে অদ্ভূত বল নিয়ে, ছোটদের খেলায় মনোযোগ দেয়ার সময় কারো হাতে নেই। আঙ্গিনায় শিমের শুকনো লতা পোড়ানো হচ্ছে, হুকোর তামাক সাজায় তার ছাই দিয়ে বাতাসার মত টিক্কা হবে। তাতে একটু আগুনেই আরাম করে তামাক টানা যাবে। কে যেন বলটা সেদিকে গড়িয়ে দিল! তামাসা দেখার জন্য সবাই সেখানে জড়ো হল।
বিকট শব্দে গ্রামটা কেঁপে উঠল। যুদ্ধের বিভীষিকা এখনো শেষ হল না! সবাই এবার অকুস্থলের দিকে ছুটল। বিরাট একটা গর্ত ঋতুশ্রাবের রক্তে ক্ষানিকটা পূর্ণ। জরায়ূতে এই কিছুদিন আগে এমন রক্তেই এ শিশুরা বসবাস করতো। এখন সে রক্তেই আবার মিশে গেল। যাদের জীবিতাবস্থায় পাওয়া গেল, তাদের নৌকা বোঝাই করে বোয়ালমারী বাজারের দাতব্য চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়া হল। এদিকে রক্তে নৌকা প্রায় ডুবুডুবু। কে একজন নৌকাডুবী রহিত করতে সেওতি দিয়ে সে রক্ত গোমতীর ঘোলাজলে সেঁচে দিচ্ছে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতায় এদের রক্ত যোগ হবে?
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দাতব্য চিকিৎসালয়ে পৌঁছার আগেই অনেকের কঁচিপ্রাণ অসীমের সন্ধানে উড়াল দিয়েছে।
গোমতীর তীরে শোল মাছের সোনালী পোনার মত কঁচি দেহগুলো সারি বেঁধে বিছিয়ে রাখা হয়েছে। বৃন্ত থেকে ছেড়া, জল দিয়ে ফুলদানীতে সাজিয়ে রাখা গোলাপের মত, এখনো এদের দেহ থেকে প্রাণের খুশবো ছড়াচ্ছে।
ক্রোধ না দ্রোহ, শোক না সংশয়, অযত্ন না অবহেলায়, কার বেখেয়ালে শেরালীর বৈশাখের ভৈরবী এমন করুণ ধারায় ঝরছে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28789079 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28789079 2008-04-18 20:15:40
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই! ইটের পড়ে ইটের মাঝে মানুষ কীটের বাস হলেও মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই। অনেক গুলো দেয়াশলাইয়ের বাক্স জড়ো করে ইমারতের ভেতর মানুষ কবুতরের মত থাকে। সেখানে কবুতরের জায়গা কৈ!
শীতের সময় অপ্রয়োজনীয় আসবাব ততোধিক অব্যবহৃত বারান্দায় আশ্রয় পেয়েছে। নাগরিক সভ্যতার আলো আমাদের জীবনকে যত আলোকিত করছে, ততটা আঁধারে ঢেকে দিচ্ছে আমাদের জীবনে, প্রকৃতির প্রভাব।
এতদিন একটা খোঁপেই চলে যেত। এখন জোড়া বেঁধে এক ঘরে আর রোমান্টিক লাগছে না। বড় ঘর ঠিক হয়ে গেছে। বারান্দার জঞ্জাল ধীরে ধীরে সাফ করতে গিয়ে দেখি, ছোট্ট দুটো কবুতরের ছানা ভয়ে, শীতে জড়সড় হয়ে আছে। দেখে বউয়ের মায়া লাগে, বলে: ঠিক আছে সব কিছুতো আর একদিনে সাফ করতে পারবে না, কাজেই কবুতরের বাচ্চাগুলো থাক। অন্য ঝামেলা বিদেয় করো। আমার মনে কোন মায়া দয়া নেই। কিন্তু বউয়েল কথায় কান দেই। কাজ একটু কম করা হল, আর বউয়ের কথাও রাখা হল। এর পর প্রতিদিন বউ চায়ের সাথে খাওয়ার জন্য কেনা মুড়ি, আড়ালে আবডালে কবুতরের জন্য বারান্দায় ছিটিয়ে দেয়। আর আমাকে বলে খাওয়ার সময় পড়ে গেছে!
এদিকে নতুন ভাড়াটিয়াকে ঘর দেখাতে মালিক হাজির।
বারান্দার জঞ্জাল কিছুটা কমেছে তবুও যথেষ্ট নোংড়া। এখনো বারান্দায় দাড়িয়ে আল্পস পর্বত দেখিয়ে নতুন ভাড়াটেকে মুগ্ধ করতে বাকী! তো সে আল্পসের দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য দেখাতে গিয়ে, বারান্দায় খড়কুটো সহ কবুতরের বাচ্চা দেখে মালিকের হার্ট ফেল মারার অবস্থা! বলে কি, এখানে মানুষ থাকে কি করে! বলাই বাহুল্য নতুন ভাড়াটে কবুতর দেখে ঘর পছন্দ করেনি।
মালিককে কথা দিয়েছি কবুতরের বাচ্চা সহ সব জঞ্জাল ফেলে দেব। বাচ্চাগুলোও একটু উড়াল দিতে শিখেছে, এই সান্তনা আর বাড়ীওয়ালার ধমক, আমার ভেতরের মানুষকে শ্রেষ্ঠ করে তোলো। আমি বারান্দাটি মানুষের বসবাসের উপযোগী করি।
হয়তো কবুতরের উড়াল জানা বাচ্চাগুলো অন্য কোথাও আশ্রয় পাবে। হয়তো শ্রেষ্ঠ জীব, মানুষের পাশে নয়, হয়তো শ্রেষ্টত্ব প্রমান করতে গিয়ে কেউ ভুলে কোন জঙ্গল এখনো সভ্যতার মঙ্গলের আওতায় আনেনি।
প্রকৃতির উপর মানুষের জয়
প্রকৃতিকে করে ক্ষয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28788198 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28788198 2008-04-15 23:39:17
একজন গীতিকবির মৃত্যু/উৎসর্গ তীরন্দাজ নান্টুর গানের পাশাপাশি একটু কবিতা লেখার বাতিকও আছে। গানের খাতায় কখন কী মনে করে নান্টু কবিতাটি লিখেছে। একুশের প্রভাত ফেরীতে যেতে আসতে যে গানগুলো হবে, তার রিহার্সেল দিতে সবাই নান্টুদের বাসায় জড়ো হয়েছে।
সবাই কী পরবে, গানের পরিক্রমা কী হবে এসব নিয়ে মহা ব্যাস্ত। গান না হলে গনেশের হাত নড়ে না। গনেশ সভার মুল বক্তব্য না শুনলেও তেমন কিছু যায় আসে না, গানের সাথে কখন তেহাই দিতে হবে, সেটা ভাল করেই জানে। আর তাই সবাই যখন কথার খৈ ফুটিয়ে, কবিতার ছন্দ ডিঙ্গিয়ে প্রভাত ফেরীর দিকে এগুচ্ছে। তখন গনেশ নান্টুর কবিতায় তাল আর সুরের জাল বুনে যাচ্ছে।
হয়তো গনেশ নতুন গানের সন্ধানে ছিল, নান্টুর খাতায় তা পেয়ে গেল।
খোলে চাটি দিয়ে সবার দৃষ্টি আর্কষণ করে, গুনগুনিয়ে নান্টুর লেখা গানটি একবার গাইল গনেশ।
মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনল সবাই। আমাদের পাড়ার প্রভাত ফেরীর গান আমরা পেয়ে গেলাম।

গলায় হারমোনিয়াম আর খোল ঝুলিয়ে একুশের ভোরে আমরা নান্টুর গান গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলী দিলাম। গান শুনে বিটিভি-র লোকেরা ঘিরে ধরলো। নান্টু একটু নার্ভাস হয়ে গেল! গান এত ভাল হল! বিটিভির লোকেরা তা রেকর্ড করল।

সন্ধ্যায় টিভির সামনে বসে ফজলে খোদা গীতিকারের নামে নান্টুর গান দেখলাম শুনলাম কিন্তু বুঝতে পারলাম না, গীতিকারের জায়গায় নান্টুর নাম কেন এলো না!
এর পর নান্টু আর গান লিখেনি (নান্টু=ব্লগার তীরন্দাজ, ঘটনা সত্য)!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28788090 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28788090 2008-04-15 17:26:16
মাটি খোর! বুইদ্দা হালায় বুড়া অইলে কি অইব! তোহমডা অন্তক যায় নাই। কি দৌড়ানীডা দিল। মাগির পুতে দুফরেও গাই দোয়ায়! দোয়াইন্না গাইয়ের (হেও ডেহার লগে উড়াউড়ি কইরা) একটা বানে (খোদার কছম) দুইডা চুমুক দিছি, কি দেই নাই। গলাডা খালি কদ্দুর ভিজছে। কেইমতে বুড়ায় দেখল! অল্ফের লাইগ্যা ফাজুনের জলি ফিঠে বিন্দে নাই। লড় পাইড়া না পাইরা ফাছুন ফেইক্যা মারছে হালায়। বেক্কল মাগির পুত! গাইয়ের বানে দুধরাজের দাঁতের কামড়। রাইতে তর বাপে দুধ খাইয়া যায়। হেরে দেহছ না! আমি খালি কদ্দুর গলাডা ভিজামু, হেইডা গায়ে লাগে!

ঘাষ নাই হালায় তাও ঘাটায় গাই বান্দে! খেড়ের পাড়ায় বইয়া হুক্কা টানে আর সব পহাড়া দেয়। গাইয়ের খাদার তলায় ফেনের লগে দুই একটা ভাতও থাহে। ফাকে হের চোক্ষের আড়ালে হেইডা খাওয়নের সুযোগও নাই। বুড়ি আগে ভাতের ফেন দিত। কিন্তুক অহন গাইয়ের ঘাষ নাই, ফেন গাইয়েরে খাওয়ায়।

মাঝি বাড়ীর মিষ্টি আলুর ক্ষেতে ফলনের কোন লক্ষন নেই বলে, রক্ষার চেষ্টাও কেউ করছে না। সেখানে মাটি খুড়তে খুড়তে ঘেচু সাইজের দু'একটা মিষ্টি আলুর সন্ধান করছে চেরাইগ্যা। ভাপা পিঠার মত ঝুড়ঝুড়ে মাটি। খালে পানি থাকলে সেচ দেয়ার চেষ্টা করা যেত। বৈশাখের আগে বৃষ্টির আশা সবাই ছেড়ে দিয়েছে। জৈনপুরী পীরের মেঘের নামাজ, পাড়ার ছেলেমেয়েদের মেঘ খেইল কোন কাজেই লাগেনি। বেহুদা বোনা বীজ গুলো নষ্ট হল। অঙ্কুর শুকিয়ে খড়ের কুটোর মত ধুষর মলিন।

না ভাগ্য মন্দ। চেরাইগ্যার আগেও অনেকে মাটি খুড়ে মিষ্টি আলুর সন্ধান করেছে। সেই সকালে মায়ের রেখে যাওয়া কাঁচা গোল আলু এতক্ষন পেটে থাকে! আবার রাতে কাজ করে ফেরার সময় হয়তো কাপড়ের ভাজে কিছু লুকিয়ে নিয়ে আসবে। সে আশায় এখন পেটের জ্বালা মিটছে না!

তামাসা দেখার মত অদ্ভূত কলে মাটি খোরা দেখছে চেরাইগ্যা। কোরিয়ান কম্পানী গ্যাস লাইন করছে। এই লাইনে গ্যাস শহরে যাবে, তবেই সাবেগো চুলা জ্বলবে! সুযোগ বুঝে এক ফাকে তাবুর পেছন টা দেখে এল। তাতে মনটা আরো বিগড়ে গেল!

খানকী-মাগীর পুতেরা কুত্তা খায়! কুত্তার মত হাড্ডিও চাইট্যা খাইছে। একটা হাড্ডিত ও কদ্দুর মশলার গন্ধ নাই। গোশ তো দূরের কথা!

গর্তের তলার মাটি গুলো আঠাল। সদ্য চুলা থেকে নামানো ভাপা পিঠার মত! একটু গরমও। ঐ তো ভাপ উঠছে!

বিনি পয়সায় বিলানো বাতাসার মত! খোদাইয়া তাগারীতে ডানে বামে ফেলে দিচ্ছে! চেরাইগ্যার আর তর সয়না।

যেই হালায় মোন্দরে হেই হালায় বইয়া থাহুক। আমি এমন সুযোগ আর পামুনা।
মুঠো ভর্তি মাটি হাতে নিয়ে, দলা পাঁকিয়ে মুখের ভেতর চালান করে দেয় চেরাইগ্যা। কেমন মজা করে চিটা গুড়ের মত চিবিয়ে গিলে ফেললো। আবার আর একটা দলা পাঁকাতে মাটি হাতে নিয়েছে!

বাঙ্গালী কন্টেকটার তা দেখে চেঁচিয়ে উঠল; মাটি খোর!

চেরাইগ্যা আবার পালানোর পথ দেখে, আর ভাবে;

মাগির পুতেরা আমারে মাডি ও খাইতে দিবি না!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28787930 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28787930 2008-04-15 02:55:12
শেরালী উনিশ: তাদের স্মৃতির চরণে শেরালী আঠারো

ভৈরবী রাগের আলাপের মত, যার শুরুটা হামিং দিয়ে শুরু হয়, এমন নিবিষ্ট নিবেদনে অভিষ্ট দেবতার নাম ভজন করলে, সারা মিলতেই হবে! ভ-জ-ন এই একটি শব্দেই পুরোটা গান অনেকক্ষণ ধরে চলছে। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের স্নিগ্ধ আলো হাজার তারার বাতিকে ম্লান করে দেয়নি। সাতমৌজার বিলে চন্দ্রমুখী পদ্মরা রুপোর কৌটোয় স্মৃতির মোম হয়ে কার স্মরণের সায়রে ভাসছে!

সোনার বাংলা যাত্রা পালার রিহার্সেলে এতদিন গ্রামটা মুখর ছিল। বিজয়ী বীর মুক্তি যোদ্ধারা অনেকদিন রিহার্সেল দিয়ে যাত্রাপালার শেষ অভিনয়টুকু শেষ করে দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়েছে। বেশীর ভাগ মুক্তি যোদ্ধাই ছাত্র। তাই লেখাপড়ায় ফিরেগেছে।
মুক্তির আনন্দে স্বাধীন বাঙ্গালী যুদ্বোত্তর সংকট মোকাবেলায় যথেষ্ট মনোযোগী। সংসয়াকুল গৃহবধুরা বাটনা বাটার শিল পাটায় জলভর্তি কাসার বদনা, কাঁদায় লেপে, বদনার কান্দা ধরে উঁচু করে দেখেছে, শিলপাটা বদনার সাথে উঠে আসে। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান হবেন। উক্ত পরিক্ষায় তা প্রমান হয়ে গেছে।
পাল বাড়ি স্বাধীনতার আগেই পুড়োটা খালি পরে থাকত। সে বাড়ীর সবাই খুব শিক্ষিত এবং সে কারণে ভাল চাকরীর সুবাদে শহরেই থাকে। গান্ধী পন্ডিত আনন্দের সাথে গ্রামের প্রাউমারী স্কুলের জায়গা করে দিলেন নিজ বাড়ীতে। গ্রামের লোকের অনুরোধে প্রথমিক দেখাশনার দায়ীত্বও নিলেন।
যখন সবাই নমিতাকে স্কুলের শিক্ষিকার দায়ীত্ব নিতে বললেন, তখন গান্ধী পন্ডিত একটু অন্যমনস্ক হলেন। বললেন; আমি নমিতাকে আপনাদের কথা জানাব।গান্ধী পন্ডিত নমস্কার করে উঠে গেলেন।

নমিতা দুইছেলে বিরেশ্বর আর অসীমকে নিয়ে বাবার পিড়াপিড়িতে স্বামী ভজনকে সাথে না নিয়েই আত্মীয়ের কাছে কোলকাতায় চলে যান। সেটা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আগের কথা। গান্ধী পন্ডিত কোলকাতায় যান ঘর-বাড়ী তালা দিয়ে মার্চের মাঝামাঝি। ভজন গান্ধী পন্ডিতের সাথে দেখা করে, নমিতার জন্য হাত খরচের জন্য কিছু টাকার সাথে একটা চিরকুটও দিয়েছিল।

মিতা,
ভালবাসা নিও। দেশটা নিরাপদ করতে না পেরে, তোমাদের নিরাপদে রাখতে, শরনার্থী করে কোলকাতায়, পরবাসী করলাম। ওরা আমাদের আত্মীয়, কিন্তু আমরা বিপদে পড়ে ওদের আশ্রয় প্রার্থী। ওদের আমন্ত্রন রক্ষার্থে সেখানে যাচ্ছি না, কথাটা মনে রেখ। তা ছাড়া কতদিন থাকতে হবে তাও জানিনা। কাজেই জেঠামশাইয়ের বাড়ীতেই উঠ। খুব প্রয়োজন না হলে কার কোন প্রকার সাহায্য, সহানুভূতি গ্রহন করো না।

আমার কেন জানি মনে হয় এবার একটা ওলট পালট হবেই। কে জানে হয়তো বিরেশ্বর আর অসীমকে নিয়ে তুমি বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা অনুযায়ী মুক্ত-স্বাধীন সোনার বাংলায় ফিরে আসবে। আমাদের সন্তানদের স্বাধীন দেশে মানুষ করতে হলে, আমাকে এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

ডাকাত দুটোকে দিন কয়েক একা সামলাও। সময় হলে আমি নিজে তোমাদের আনতে কোলকাতায় যাব। জেঠামশায়কে নমস্কার দিও।


তোমার কার্তিক

১৭ই মার্চ ১৯৭১

নমিতার কাছে ভজনের লেখা আর কোন চিঠি নেই। কেন যে নমিতা রাগ করে এ চিঠি ছেড়েনি! একটা কোন ভালবাসার ছিটে ফোঁটাও এ চিরকুটে নেই। ইচ্ছে করেই রেখে দিয়েছিল। দেখা হলে ভজনকে খোটা দেবে। বঙ্গবন্ধু তোমার শ্বশুর? তার ডাকে বউকে দুটো ভালবাসার কথা বলতে ভুলে গেলে!

কিন্তু আজকাল অভিমানের জায়গাটা অশংকায় ভরে গেছে। কেন যেন আর জোর পাচ্ছে না। সব মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে এল। শুধু ভজনের কথাই কেউ বলতে পারে না।

বলার মত এক ফকিরের সন্ধান পেয়ে, তার পড়াপানি আউশের ক্ষেতে ছিটিয়ে স্বপন কোমর পানিতে নেমে ভজনের নাম ধরে ডাকছে। সে ডাক ভৈরবীর ভজনের মত নিশিথ রাতে গাঁয়ের লোকের কানে বাজছে। যদি ভজন বেঁচে থাকে তবে সারা দেবে। ভজনের সারা না পেয়ে সবাই ভাবে হয়তো ফকিরের কোন নিয়ম ভুলে গেছে। আগামী পূর্ণিমায় আবার ডাকার আগে, ফকিরের নিয়মগুলো আর একবার ভাল করে জেনে আসবে স্বপন।
অনেক সময় ভাবে; জৈষ্ঠের জলের মিলনকামী মাছের মত জোয়ারের জলে ভেসে বিজয়ীর বেশে ভজন যদি আজই আসে, আর দেখে; মঙ্গল সুত্র আর লাল সূর্য্যের মত সিঁদুরের টিপ নমিতার কপালে জলজল করে জ্বলছে না। তাহলে নমিতা লজ্জায় মরে যাবে।

তাই, আজো সিঁদুরের টিপ, অস্তরাগের রক্তলাল সূর্য্য হয়ে, আগামীর প্রতীক্ষায় নমিতার ললাটকে বাংলার রক্তিম আকাশ করে রেখেছে।
(নমিতাদির মত, আজো যিনি সিঁদুর পড়া ছাড়েননি, বা স্মৃতির মিনারে যেসব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রীরা আজো শ্রর্ধঘ্য সাজিয়ে রাখেন, সে সব শহীদের স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে আমার ছোট্ট নিবেদন।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28786759 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28786759 2008-04-11 05:19:46
আমরা সবাই ঈশ্বর! পৃথিবীর কোন সংকট
আমাদের স্পর্ষ করে না।

ক্ষূর্ধত মানুষের হাহাকার দেখে যাই অবলিলায়
ঈশ্বরের অপার কল্যান,
মানুষের হৃদয়ে কতটুকু বিদ্যমান!

মানুষের সর্বনাশা জমানোর নেশা,
আমাদের বিচলিত করে না এতটুকু!
আমরা আমাদের পাপ গুলো ক্ষমা করে দেই,
ঐশ্বরিক ক্ষমতায়।

ঈশ্বরের নামে শপথ করে যে শয়তান,
তার সাথে করি শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান,
ঈশ্বরের অসীম মমতায়!

আমরা সবাই ঈশ্বর
আমাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28786755 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28786755 2008-04-11 04:27:23
বাঁধ ভেঙ্গে দাও আমি খুব সাবধানে লিখি। কতবার ভাবি বানান ঠিক হলতো! অবাস্তব কিছু লিখলাম নাতো! লোকে পড়ে কী ভাববে! এমন অনেক সংসয়ের পেছনে আসল কথাটা লুকিয়ে রাখি। একটু আস্বস্ত হই যখন ভাবি, আমার লেখা সবাই পড়ছে নাতো। অত ভাববার কি আছে!
আমি অনেক কিছু বুঝিও না। সা.ইএ বাঁধ ভেঙ্গেছে! অথচ আমি শুনিনি! কোন আওয়াজ আমার কানে আসেনি। অথচ সবাই তা জানে। কেমন বোকা আমি! কবে যেন কোন রাজাকার বন্দ হল, মুক্তিযোদ্ধাদের কুকুর বলে। ওয়ামী না কি নাম যেন ব্লগারটির, স্বাধীনতা দিবসের আড্ডায় দেখি দেশ গড়ার সপথ নিচ্ছে সে! এমন একটা সুখবর! আমি অবাক হই। বেশ ভাল লাগে। তাহলে রাজাকার গালি আর দিতে হবে না। বাঁধ ভেঙ্গে গেছে! এখন রাজাকারদের সাথে আমার কোন বিরোধ থাকা ঠিক নয়! হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ রেখে চল দেশকে এগিয়ে নিই। আমি বোকারমত চুপ করে থাকি। পা চালাতে পারি না! অনেক সময় ভাবি ঠিকইতো! রাহেলার বিচার চেয়ে কোন পোষ্টে অপ্রাসংঙ্গিক ভাবে "জনৈক নারী" পোষ্টের লেখককে কি যেন বলেছিল! আমি তার অপ্রাসুঙ্গিক মন্তব্যে ক্ষুব্দ হয়ে তাকে কুয়ার ব্যাঙ বলে অন্যায় করেছি। পরে তিনি আমার পোষ্ট নির্বাচিত দেখে খুব অভিমান করেছেন! তাদের সাথে, হাত হাত ধরে, কাংধে কাঁধ রেখে, বাঁধ ভেঙ্গে, আমি কেন ব্লগানোর মত, দেশকে এগিয়ে নেয়ার শপথ করতে পারিনা!

আমি গরুর জাবুর কাটার মত এখনো পুরানো কাসুন্দি ঘাটি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ হোক। এসব সেকেলে কথা ভাবি। আমি তাদের স্বাধীনতার আড্ডায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার সপথে সামিল হতে পারি না!

আওয়ামী লীগের নূর হোসেনে-র কথা মনে পড়ে! গনতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক, বুকে পিঠে এমন অসম্ভব কথা লিখেইতো ছেলেটা গুলি খেল। আমিতো সেদিন ভদ্র ভাবে পোষাক পড়ে (খালি গায়ে কোন শ্লোগান না লিখে) তার আসেপাসেই কোন মিছিলে ছিলাম। আমাকে লক্ষ্যকরে পুলিশ গুলি ছোড়েনি। আমার ভদ্র বেশ, সে দিন আমাকে রক্ষ্য করেছে। নূর হোসেন বোকার মত যা সম্ভব নয় তাই চেয়েছে! এরশাদ-কে জনগন গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দিছে। হাসিনা তারে নিয়া গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন করছে। তার জানা দরকার ছিল; গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শেখ পরিবার আজীবন আওয়ামী লীগের (কি যেন শব্দটা) চেয়ার পার্সণ থাকবে। যেমন থাকবে বি এন পি তে জিয়ার পরিবার। খালেদা জিয়ার পরে তারেক জিয়া কামরুজ্জামানের পুত্র ওয়ামী কিম্বা ত্রিবুজরে নিয়া গনতান্ত্রিক ভাবে জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠন করবে। গনতন্ত্র আমাদের এভাবেই বুঝতে হবে!

যারা বুঝে, তারা খুব বাস্তববাদী। আমিই বাস্তববাদী হতে পারলাম না! একটা শিশুর সাহায্যে ব্লগারদের মনবতায় আমি অভিভূত! আরো বেশী অভিভূত হয়ে বলি; আমরা সব গুলো শিশুর জন্য এমন ব্যাকুল হয়ে একটা পদ্ধতি খুঁজি। কিন্তু ব্লগাররা ব্লগর ব্লগর করে না! কারণ তারা বাস্তবে তা করার মত কোন অবস্থার আভাষ পায়না! কার পোষ্টে যেন "কথার কথা" পড়লাম। প্রতিভাবান শিশু তাকে সাহায্য করার আহববান। আমি বোকারমত বলি। এমন একটা পদ্ধতি খোঁজ; যাতে সব শিশু তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। বাস্তববাদীরা জানে সেটা করার আলো এখনো ফোটেনি। আমি খালি বোকার মত ব্লগর ব্লগর করি।

রাহেলার বিচারের জন্য পিটিশনে সই করি। পোষ্ট পড়ে জানলাম; মামলার নথিপত্র গায়েব। আমি এমন একটা প্রতিজ্ঞার কথা বলি; যাতে রাহেলার বিচারের জন্য কোন মানব বন্ধন প্রয়োজন না হয়। কিন্তু বাস্তববাদীরা জানে সেটা সম্ভব নয়। আমি শুধু বোকারমত ব্লগর ব্লগর করি।

বাঁধ ভাঙ্গার সময় এসেছে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28783112 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28783112 2008-03-28 07:47:46
পুতুলের প্রশ্ন? যারা নতুন এসেছেন ব্লগে তাদের হয়তো মনে আছে এখনো! কি করে একাউন্টটি চালু করা যায়?
দয়া করে জানাবেন কেউ?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28781325 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28781325 2008-03-21 23:58:27
শেরালী আঠারো-"ভুইলনা মন তাহাদের" উৎসর্গ-পৃথিবীর সব অবাঞ্চিত শিশুদের শেরালী সতেরো


সকালে নাস্তা দিতে এসে কয়েদীটা খুব মায়াভরা চোখে তাকাল। যত খারাপ লোকই হোক মৃত্যুর পর সবাই তাকে ভাল বলে! আমার অবস্থাটা অনেকটা সেরকমই। দাড়ি-গোঁফ কামাইনা অনেকদিন হল। এ অবস্থায় টুপি পরে তবলীগে ঢুকে গেলে, আমাকে আর কেউ খুনী বলে কল্পনাও করতে পারবে না। বেশ-ভূষা এমনি জিনিস, মানুষকে অন্ততঃ বাহ্যিক ভাবে আমূল পরিবর্তন করে ফেলে!
আমাকে যমটুপি পরানো হচ্ছে, দুধ-কলা মাখানো দড়িতে ঝুলানো হবে। আমি ভয়ে লাইলাহা ইল্লালাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়তে পড়তে কাপড় নষ্ট করে ফেলব। এসব ভাবতেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়!

গ্রামের হিন্দুরা ধীরে ধীরে নিজের বাড়ী-ঘরে ফিরে আসছে। যাদের সহায়সম্পত্তি উদ্ধার করা গেল, তারা তা ফেরৎ পেলেন। কিন্তু বেশীর ভাগ হিন্দু এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, বিশেষ করে বাসস্থানের ব্যাবস্থাটি শূন্য থেকে শুরু করতে হল। কারণ; রাজাকার আর পাক হানাদাররা বেশীর ভাগ ঘর-বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছিল। জীবন নিয়ে যেখানে সংশয়, সেখানে আমনের পরিচর্যার মত বাহুল্য কেউ করেনি। তাই অনেক জমিতে ফসলতো দূরের কথা, আবাদই হয়নি। স্বাধীনতার নব ঘন আনন্দের হিল্লোলে অনেক পরিবারই যোগদিতে পারছে না। হিন্দুদের প্রায় প্রতি ঘরে প্রতি রাতে স্বজন হারানোর বিলাপ। বেশীর ভাগ হিন্দু কোন না কোন ছোট খাট ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ে থাকত। সেক্ষেত্রে প্রায় সবগুলো পরিবার ব্যাবসার সাথে সাথে কর্তাটিকে হারিয়ে, এখন দিশেহারা। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকই এখনো ঘরে ফেরেনি। তাদের মায়ের আশা সময়ের সাথে সংকীর্ণ হয়ে উঠে।
সেই ঘর পালানো দামাল ছেলেদের মায়েরা রাতবিরাতে কান্নার সুরে ডাকে; খোকা শূন্য এ বুকে আয় ফিরে আয়। ওরে অবুঝ তোর জ্বালায় নয়, তোর বিরহে তোকে বকি। লাউয়ের মাঁচায় মৌচাক ঝুলছে, কিচ্ছু বলবনা, পেরে পুরোটা তুই একাই খাবি। তালের শাঁস অনেক জমিয়েছি। শিমের বিঁচি, খেজুরের রস সবটুকুই পাবি। দোহারীর মত পাশ থেকে কিশোরী বোনটি বলে, ভাইয়া মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা নিয়ে গেছিস বলে কিচ্ছু বলবনা। তুই এলে আমার মুরগীর ডিম আর কেউ পাবে না। দুঃখের রাগিণীর মুদ্ধ শ্রোতাদের মত গ্রামের মানুষগুলো তাদের কান্না শুনে ক্ষনিকের জন্য স্তব্দ হয়ে থাকে। রাগিণীর মুগ্ধতায় মূর্ছিত শ্রোতাদের স্বতঃস্ফূর্ত করতালিতে ঘর পালানো ছেলেদের শোক ধীরে ধীরে স্মৃতির আড়ালে আশ্রয় নিতে থাকে।

নব জাতকের চিৎকারে মায়ের প্রসব বেদনা আনন্দে পরিনত হয়। হয়তো সদ্য স্বাধীন এই দেশে শহীদের বিসর্জণ অনেকটা সে ভাবেই আমাদের মুক্তির আনন্দে পরিণত হয়েছে। মৃত্যু, ধ্বংস, ধষর্ন, সব যুদ্ধের এইতো উপকরণ। না ফোটা বোমার মত যুদ্ধের কত প্রশ্ন অমিমাংসীত থেকে যায়! অনেক প্রশ্ন যুদ্ধের পরে নতুন করে জাগে।
হয়তঃ এমন একটা প্রশ্নের জন্ম দিতে শেরালীর মায়ের প্রসব বেদনা শুরু হল। কেবা পিতা কেবা জন্ম দাতা তার খোঁজ কে জানে! অথচ জীবনের স্পন্দনে পৃথিবীর পথে পা রাখতে ব্যাকুল শিশুটি আঁকুপাঁকু করে। ঐ জন্মের পেছনে লজ্জার কী আছে শিশু কি তা জানে! পৃথিবীকে তার অস্তিত্ব জানাতে সেও মুষ্টিবদ্ধ হাতে অধীকারের দাবীতে চীৎকার করে। মা ব্যাকুল হন। বেশী লোক জানাজানি না হলেই বাঁচি।
দিন কয়েকের মধ্যেই প্রথমে পাড়ায় পরে গ্রামে আরো পরে গ্রাম ছেড়ে এসব শিশুদের খবর পৌঁছে যায় মাদার তেরেসার উদ্ধার কর্মীদের কানে। সে সব শিশুদের, যারা এখনো বেঁচে আছে, তাদের অনাথ আশ্রমে নিয়ে যেতে, আসেন মাদার তেরেসার সেবিকারা।
কে বলবে এই শিশুটি কারো পাপের ফসল! আমাদের এক রকম করুনা করেই ছনের চালা দু'টো এখনো আশ্রয় দিচ্ছে। এই অন্ধকার আশ্রয়টুকু আলো করে রেখেছে "মায়া"। আমার খুব মায়া হচ্ছিল নবজাতিকার জন্য। তাই তার নাম দিয়ে ফেললাম মায়া। নিশ্বাসের বাতাস ছাড়া তাকে আর কিছুই আমরা দেইনি। মায়ের স্তন্য পাওয়ার অধিকার টুকু অনেক সময় ক্ষুধার কারণে রক্ষিত হয়নি।
তবু আজ বিদায়ের দিনে শেষবারের মত মায়ের স্তন্য পান করে যখন অচেনা আশ্রয়ের খোঁজে অপরিচিতের কোলে উঠল মায়া, তখন আমাদের কান্না দেখে ঘাবড়ে গেল সেবিকা ভদ্র মহিলা। মায়ের আঁচলটুকু অথৈ জলে ভাসা অনাথ শিশু কিছুতেই ছাড়তে চাইল না। আমারও মেজাজ গেল বিগড়ে। বললাম: শেরালীর বোন, ভাইয়ের কাছেই থাকবে।
চলবে.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28780190 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28780190 2008-03-18 14:17:42
পুতুলের "শুভ" সংবাদ! এদিকে ব্লগার "তীরন্দাজ" প্রতিদিন ব্লগিং-এর গল্প করে!
একদিন দিলাম সার্চ গুগল-এ, খাপের খাপ মিল্লা গেল সামহয়ারইনব্লগ.নেট! কি জানি কেন, নামের অপশানে, অনেকটা নিজের নাম নিজে নির্বাচনের স্বাধীনতার কারণে (?) মাথায় "পুতুল" চলে এলো! হয়তো আমার অনেক ইচ্ছের কাছে আমি এখনো পুতুল বলে! যদি তখন জানতাম ব্লগবাসী আমায় এত ভালবাসবে আর এই ব্লগে পুতুল এত আদরে থাকবে তাহলে হয়তো, আর একবার ভেবে দেখতাম, নাম নির্বাচন কালে।
অনেকের কাছে অনেক সময় ইচ্ছে করেই লৌঙ্গিক পরিচয় পুতুলের পেছনে আড়াল করেছি। এই সুযোগে তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

তো শুভকে উৎসর্গ করা "খোকাবাবু" ব্লগেই প্রকাশ করি। অনেকেই পছন্দ করেন খোকাবাবু। বানান খুব ভুল হয়। সেটা ভেবে শুভ একদিন কয়, দাড়াও আমি এসে নেই, সব বানান ঠিক করে দেব। ভেবে দেখলাম কথা ঠিক।
অনেক দুঃখ বহু বিরহের অবসান ঘটিয়ে তাকে মিউনিখ বন্দরে সম্বর্ধনা জানালাম, একটি টকটকে লাল গোলাপ দিয়ে।
কাছাকাছি ব্লগ পরিবারের "ভক্কডা" আর "হাসিব"কে পাওয়া গেল। বেবী সিটিং ভক্কডাকে আটকে দিল। তীরন্দাজ ঘরের মানুষ মিউনিখেই থাকেন, তাকে সময়মত পাওয়া গেল। আর দু'একজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বধূ বরণ আনন্দেই হল।
ইতিমধ্যে অনেকেই আমাদের নতুন জীবনকে শুভ কামনার শুভেচ্ছায় পুস্পিত করেছেন। তাদেরকে কৃতজ্ঞ চিত্তে ধন্যবাদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28779924 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28779924 2008-03-17 17:29:59
সকল শহীদ স্বরণে করজোড়ে ক্ষমা চাই (পুন প্রকাশ; আমি নতুন ছিলাম বলে লেখাটি প্রথম পাতায় আসেনি, তাই এখন প্রথম পাতায়... হে আমার জাতীর সর্ব শ্রেষ্ঠ বীর পুরুষগন। আমাদের ক্ষমা করুণ। আমরা আপনাদের যোগ্য উত্তরসূরী হতে পারিনি। আপনাদের বীরত্ব নিয়ে গর্ব করি অহংকার করি। কিন্তু আপনাদের মত নির্বীক চিত্ত আমরা পাইনি। আপনারা বাঙ্গালির মুক্তির জন্য জীবন দান করেছেন। আমরা প্রান পন করি হাসিনা, খালেদা, এরশাদের জন্য। কজেই আমরা আপনাদের বীরত্বের মর্যাদা রাখতে পারিনি।
তার কারণ অনেক:
ক্ষমা করবেন, আমি জানি আমার কথা শুনে আপনাদের রাগ হচ্ছে। কিন্তু বলতে তো হবেই, সে সংবাদ যত কলংকেরই হউক। আপনাদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলায় জাতীয় পতাকা পোড়ানো হয়। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়। আপনাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন, বাংলায় শহীদ মাতাকে দেশদ্রহী করা হয়। ইতিহাস বিকৃতি তো একটা সামান্য ব্যাপার মাত্র।
হ্যাঁ, ব্যাপার খুলেই বলছি।
আপনারাতো প্রায় সবাই বাংলাকে শত্রু মুক্ত দেখে যেতে পারেন নি। আপনাদের দেয়া উপহার স্বাধীনতা আমরা কিছুদিন উপভোগ ও করেছি। যদিও সে সময়ও চোরের উপদ্রব ছিল। তাইতো জাতিরপিতা দুঃখ করে বলেছিলেন: মানুষ হল সারে সাতকোটি কম্বল এসেছে আট কোটি তবে আমার কম্বলটা গেল কৈ?
স্বধীন বাংলায় প্রথম নির্বাচন: আ: লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর নজীরবিহীন জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও অতি উৎসাহী কিছু ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতা কর্মিরা নিতান্তই দুর্বল জাসদ, যারা হয়ত একটি কি দুটি আসন পেত কিনা সন্দেহ, তাদের প্রচার, মিটিং, মিছিল জোড় করে পন্ড করে দেয়। এজন্য কেউ কেউ পুরস্কৃত ও হয়। এভাবে এক প্রকার স্বৈরচারী মনোভাব আঃ লীগ প্রশ্রয় দেয়। যার উদাহরণ আঃ লীগে এখনো পাওয়া যায়। দেশে বিরোধী দল নেই বললেই চলে। জাতি
বঙ্গবন্ধুর আদেশ শীরধার্য মনে করা সত্বেও তিনি বাকশাল করেন। ছোট দল গুলির মত প্রকাশের অধিকার তারা পায়না। শুরু হয় গোপন দলাদলির, যা আজও চলছে। এদের অনেকেই আপনাদের সহ যোদ্ধা। মত প্রকাশের পথ না পেয়ে এরা বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।
এই সুযোগে আপনাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধে হেরে যাওয়া হায়েনার দল আবার সংগঠিত হয়। এবং জাতির পিতাকে প্রয় স্বপরিবারে হত্যা করে।
এই অবস্থায় জাসদ সেই হায়েনাদের মোকাবেলায় নিজেদের যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করে। এবং প্রতিরোধ করে। তাদের সবচেয়ে বড় ভুল; তারা ভূল লোককে বিশ্বাস করে তার হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়। আপনারা শুনে অবাক হবেন! তিনি জিয়াউর রহমান। তখন কেউ ধারনা করেনি যে আপনাদের মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলাকে গো আযমের হেরেম বানাবে।
অবাক হবেননা। এটাই সত্যি। মেজর জিয়া খুব বেশী সময় নেন নি। অতি অল্প সময়েই আপনাদের বীরউত্তম কর্নেল তাহেরকে দাফনের ব্যাবস্থা করেন। জাসদ আঃ লীগ দিয়ে কিমা বানিয়ে গো আযমকে আপনাদের স্বাধীন বাংলায় আমন্ত্রন করেন।
এক সময় তাকেও নর বলি হতে হয়। গো আযম বাংলার মসনদে নতুন পুতুল, এরশাদকে সাজান। এসব আর কি বলব: আপনাদের ধৈর্য্যচুতি ঘটছে? কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা হাসিনা এরশাদ স্বৌরাচারীর সাথে প্রহসনের নির্বাচনে নামে। গো আযম গোফে তেল মাখছে আর ভাবছে; এই হাসিনা আমাকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
এদিকে দেশের মানুষ অন্য বশ্রের অভাবে দিশে হারা। আন্দোলনের নামে হরতাল দিয়ে সোনার বাংলা শ্মশান করে ফেলেছে। জনগনের বারটা বেজে গেছে। সেদিকে বঙ্গকন্যার খেয়াল নেই।
এই সুযোগের অপেক্ষায়ই ছিল গো আযমরা। খালেদাকে মঞ্চে রেখে শহীদ মাতাকে দেশদ্রহী বানায়। অলংকারের সখ মেটাতে খালেদা খাজাঞ্চীখানা সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে খালি করছে। বাইতুল মালের বদৌলতে গো আযমদের টাকার অভাব নাই। জনগনের চিন্তা তো আর তাদের করার কথা নয়।
এখন আমরা যারা আপনাদের বীরত্বে গর্বিত, কিছু বলতে পারি না। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির তালিকা বানায় গো আযম আর খালেদা জিয়া। এই তো দিন কয়েক হল, এক ছেলে কি এক ছবি আঁকছে, সে জন্য তার ফাঁসী চায়। চাইবে বা না কেন! ইসলামে জীব-জন্তুর ছবি আঁকা হারাম।
আমাদের ক্ষমা করবেন, গো আযমদের কাছে আমরা হেরে গেছি। স্বাধিন বাংলায় এখন শুধু গো আযম স্বাধীন। সোনার বাংলা এখন মোল্লাদের হেরেম। আপনাদের বীরত্ব ক্ষমায়ও শ্রেষ্ঠ। আমাদের ক্ষমা করুণ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28777354 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28777354 2008-03-08 04:23:27
শেরালী সতেরো-স্বাধীনতা তুমি শেরালী ষোল

স্বাধীনতা তুমি


বর্ষার জল খুব তাড়াহুড়ো করে পালিয়ে যাচ্ছে। আর বেড়ে চলেছে মুক্তিফৌজের হামলা! রাজাকার আর পাকবাহিনীর রাতের ঘুম হারাম। কবর খুঁড়ে তার চারিদিকে বালির বস্তা রেখে, লোহার টুপি পরে, বাহিরের দিকে বন্দুক তাক করে সারারাত কার ভয়ে জেগে থাকে ওরা! পালদের পাকা দালান ছাড়া বাদবাকি ঘরগুলো, রাজাকাররা নিজেদের বাড়ি নিয়ে গেছে। দুর্গের মত দালানটাই এখন পাহারার বস্তু।
মা যেন দিন দিন বদলে যাচ্ছে! মাঝে মাঝে বমি করে! শোক, লাজ, ভয় অহর্নিশি সঙ্গী বলেই বোধ হয়, অপ্রয়োজনীয় আবর্জনার মত শরীরের স্বাভাবিক কৌমার্য ঢেকে দেয়। অনাকাংখিত আগাছায় শরীর ভারী হয়।
একদিন হঠাৎ মায়ের বমির মত, আকাশ থেকে পড়ে ঠাডা। পাল বাড়ির উঠোনে পুকুরের মত বিরাট একটা গর্ত হয়ে গেল। খান সাহেবেরা পাগলের মত, মুখের কাছে কী একটা বাক্স এনে কথা বলছে। ভোরের স্নিগ্ধতা কাটিয়ে সূর্য খরতাপের পৌরুষে দীপ্ত হচ্ছে। গুলির মালা গলায় আর রাইফেল কাঁধে ঝুলিয়ে, রাজাকারদের হাতে ক্যাম্পের দায়িত্ব দিয়ে, পাকবাহিনী পলায়ন করছে! রাজাকার ভাইয়েরা রাজ বেশ রেখে, লুঙ্গি-গেঞ্জি পরে, পাকবাহিনীর একটু পরেই, গা ঢাকা দিলেন।
খোলায় মায়ের খই ভাজার মত, গুলির শব্দ। নতুন দিনের তোপধ্বনিতে কান জ্বালাপালা। কৌতূহলী শেরালী সবকিছু দেখতে চায়! মায়ের বাহুবন্ধন থেকে মুক্তির উপায় নেই।
গর্তে লুকিয়ে থাকা কালসাপের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে, বেয়নেট লাগানো রাইফেল তাক করে ঘিরে রেখেছে, বিজয়ী বীর মুক্তিসেনা, আমাদের আশ্রয় নেওয়া বালির বস্তাবেষ্টিত, কবরটি। সাহসী মানুষটি মায়ের জবুথুবু অবস্থা আবিস্কার করে একটু অস্বস্তিই বোধ করল! দীপ্তকন্ঠে বললেন: তোমার ভয় নেই মা।
এতদিন মা এই কান্না কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন! শাশুড়ি ননদিনীর জ্বালায় অতিষ্ট বধু ভাইয়ের দেখা পেয়ে যেন, সব ব্যথার পূজা আগে সেরে নিচ্ছে! পালদের বাড়িতে পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র আর গোলাবারুদ পাহারা দিতে তিনজন মুক্তিসেনা রয়ে গেল। অনেকদিনের, ঘর বোলানো সুরের সাধকদের, সবকিছু, সাধনার তীব্রতায় মলিন। আপাতত তাদের পেটপূজার আয়োজনে, মায়ের অঞ্জলি নিবেদনের শাঁখাহীন হাত দুটি ব্যস্ত।

চলবে...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28775723 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28775723 2008-03-02 16:07:23
শেরালী ষোল-শহীদ পট (সকল শহীদ স্বরণে) শেরালী পনেরো

শহীদ পট
ভরা যৌবন পেরিয়ে বর্ষা এখন বিজ্ঞ গৃহিণী। ধীরে ধীরে আর সব রমনীয় ভাটার অমোঘ টানে ভেসে যাবে। সঞ্চিত অবিজ্ঞতার মত ঘন হচ্ছে জল। প্রসুত মাছের পোনারা আগামী বরষায় প্রজনেনর লোভে বেড়ে উঠছে। আমনের গলা ফুলেছে। সাবধানী চাষী দু"একটা ধানের গলা ছিড়ে আগমনী ফসল কল্পনা করে নিচ্ছে। বৃষ্টির উপদ্রব আর নেই। প্রকৃতি এখন কত শান্ত!
অশান্ত শুধু পাক হানাদার আর রাজাকরদের মন। মুক্তি ফৌজের হামলা এখন যখন তখন যেখানে সেখানে ঘটতে পারে। এত ভয় নিয়ে মানুষ শান্ত থাকে কি করে! অশান্তির কারনেই অতিরিক্ত সতর্কতা। খুব বেশী সতর্ক থাকতে গেলেই ভুলও খুব বেশী হয়। অতর্কিত আক্রমনে প্রতিদিনই পাক বাহিনী বা দু"একজন রাজাকার মারা যাচ্ছে।
এমন সাফল্যে অতিউৎসাহী হয়েই নজরুল এই ভুলটা করে বসল। পিতার খূনী লোকমান রাজাকার আর পাক হানাদারদের আক্রমন করল। সাথী যোদ্ধারা মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু নজরুলের বুকের আগুন তাতে আরো জ্বলে উঠল। তাকে নেভাবে কে? পিস্তলের সব গুলি শেষ হলে, গ্রেনটটা ছুড়ে দিল। তাতে শত্রুর সব বুংকার ধংশ হয়নি। অথচ নজরুলের হাতে আর কোন অশ্র অবশিষ্ট নেই। বুকের উপর রাইফেল তাককরে নজরুলের হাত বেধে ফেলল লোকমান রাজাকার। কমান্ডারের ইশারায় নজরুলকে মারা হলনা। বোয়ালমারী বাজারের কেম্পে নিয়ে আসা হল। রাজাকার নজরুলের সব পরিচয় প্রভু পাক বাহিনীর কাছে প্রকাশ করল।
নজরুলের মামা হুদা সাহেব মুসলীম লীগের এম পি প্রার্থী ছিলেন। তাকে খবর দেয়া হল। সারা রাত পাক হানাদার আর রাজাকারদের অকথ্য নির্যাতনে নজরুলের শরীর নব্জু। কিন্তু চোখ দুটি যেন তারার মত জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। রাতের মধ্যেই দূরদূরান্তের গ্রামের মানুষেরা এখবর পেয়ে গেছে। ভোর থেকেই দলে দলে মানুষ নজরুলকে একবার চোখের দেখা দেখতে বাজারটা জনসমুদ্রে পরিনত করে ফেলেছে। মানুষের ঢল থামাতে হানাদাররা অনেক ফাঁক আওয়াজ করে ব্যার্থ হয়েছে। পাক হানাদার আর রাজাকার বেষ্টনী করে নজরুলকে ঘিরে রেখেছে। নজরুলের হাত পেছনে বাঁধা, চোখ বাঁধা হল। কোন বিয়গান্তক গ্রীক নাটকের মঞ্চ। তার চারিদিকে উৎকীর্ণ উত্তেজিত দর্শকের উপছেপড়া ভীর।

মামা পাক কমান্ডারকে করজোরে অনুনয় করে বললেন: ছোর দেও উস্কো। ইয়ে মেরা বহিন কা বেটা।
মে পাকিস্তান কা শান্তি কমিটিমে হু। মেরা বাত মানলিজিয়ে। এয়ে মেরা বেটা যেছে। ছোর দেও ইসকো।
মজার খেলা পেয়ে পাক কমান্ডার মজা করেই বলেন:
লেকিন ইয়ে মুক্তি ফৌজ হে। হাম লোক আপকা বহিনকা বেটাকো, মেরা বহিনকা বেটা মান্তা হো। এতনা পেয়ারছে ইনকু সিনামে মিলাতুহু। লেকিন স্রেফ এক বাত ইনকু বাতানা হে? মুক্তি ফৌজ ছোরকে ইয়ে হামার সাথ দেনা হে। হামলোক ইনকো কেপ্টেন বানায়েগী।

আহত বাঘের হুংকার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে: হাত পা চোখ বাঁধা। মুখ তো বাঁধা নয়! ড্রাগনের মুখের অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত মুখ থেকে বেরিয়ে আসে; আমার মায়ের, আমার বোনের ধষর্ক; আমার ভায়ের, আমার পিতার ঘাতক; শুনে রাখ: তোদের অত্যচার, অন্যায়ের প্রতিকার করতে নজরুলরা অশ্র হাতে নিয়েছে। তোদের বিষ দাঁত ভেঙ্গেই তবে ক্ষান্ত হব। ক'জন নজরুলকে তোরা স্তব্দ করবি! ঐ চেয়ে দেখ স্বাধীন বাংলার পতাকা হাতে বিদ্রহী জনতা ধেয়ে আসছে। এখনো সময় আছে প্রাণে বাঁচতে চাইলে, পালা। স্বাধীন বাংলার জয় পতাকা উড়ল বলে। জয় বাংলা।
জনতার মুখে তা ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে দিগন্তে ছড়িয়ে গেল। নবদিগন্তের ঘোষনার এই প্রতীক্ষায়ই যেন জড়ো হওয়া মানুষ গুলো প্রত্যাশা করছিল! তাদের তৃপ্ত প্রতি ধ্বনিতে হায়েনার দল দিশেহারা হয়ে গেল।
সদ্য জল মুক্ত স্কুলের খেলার মাঠে, ডিনামাইট পিঠে বেঁধে, নজরুলকে শোয়ানো হল। কি বির বিক্রমে নজরুল, স্বাধীনতা নামক ঈশ্বরের বেদীতে, বাংলার মানুষের মুক্তির অর্ঘ হয়ে রইল! কাপুরুষ ঘাতকের দল, নিরাপদ দূরত্বে দ্বাড়িয়ে বারুদে অগ্নি সংযোগ করে, নজরুলের মুক্ত নিঃশ্বাস চীরতরে স্তব্ধ করে দিতে। কিন্তু তারা জানেনা; নজরুলের রক্তে রঞ্ছিত এই বাংলা, স্বাধীনতার পত্রে-পুষ্পে, ফুলে-ফলে স্বসোভীত হয়ে, লাল-সবুজের চাদর হয়ে, এ জাতীর গায়ে মায়া হয়ে, চীরদিন অম্লান হয়ে, রয়ে যাবে! একটি মাত্র নজরুলের বুক থেকে বিস্ফারিত ডিনামাইট, পৃথিবীতে স্বাধীন বাংলার তোপধ্বনি করল। সুজলা-সুফলা সোনার বাংলাকে উর্বর করতে, বাতাসে ভেসে, নজরুলের আত্মা বাংলার আকাশে মিশে গেল।
আজো তারা পলাশ হয়ে, কুষ্ণচূড়া হয়ে, শাপলা হয়ে বাংলায় ফোঁটে। দোয়োল, শালিক বলাকা হয়ে বাংলার আকাশে উড়ে।

চলবে...।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28775314 http://www.somewhereinblog.net/blog/dollblog/28775314 2008-03-01 06:02:36
পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ!