somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কন্যাযাত্রী/কাফি কামাল এর গল্প

০৮ ই মে, ২০১০ ভোর ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কন্যাযাত্রী
কাফি কামাল
গর্জনবুনিয়ার পশ্চিম ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামছে দুপুর। সদ্য নেভানো চুলোর মত ঠাণ্ডা হয়ে আসছে সূর্যের তেজ। মৃদু বাতাসে অঘ্রানের ধানকাটা মাঠের নাড়ার মত সুর ওঠেছে চ্যাপ্টামুড়ার মৌলভি বাড়িতে। বিয়ে বাড়ির দুইপক্ষের মেহমানরা তাদের সমবয়স্কদের নিয়ে আড্ডা জমিয়ে তুলেছেন। আড়ালে আবড়ালে চলঝে হাল্কা রঙ্গ রসিকতাও। না দেখা জামাই নিয়ে মনোয়ারাকে অন্দর মহলে টিপ্পিনী কাটছে বুড়ি দাদি-নানিরা। হাসিতে গড়িয়ে পড়ছে উপস্থিত তরুনীরা। তবে ভেতর বাড়ির খোশালাপ বাইরে উঠোনের পুরুষ মানুষের কানে একটা আবছা রেশ ছড়িয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। মৌলভি বাড়ির অন্দরে পুরুষ মানুষের অবাধ যাতায়াত নিষিদ্ধ। বিয়েশাদি উপলক্ষেও কোন গান বাজনা নেই। নেই তেমন হৈ হুল্লোড়ও। আছে কেবল কনের দাদা সিকান্দার মৌলভির হাঁক ডাক আর বাচ্চাদের হৈ চৈ। তারপরও বিয়ে বাড়ির কিছু স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য চ্যাপ্টামুড়ার চুঁড়া ছুঁয়ে গেছে। হাঁটাচলায় শাহেদের কানে অন্দর মহলের দু’এক টুকরো হাস্যরস অনুরণন তুলেছে। ওদিকে বরপক্ষ এটা আনেনি, ওটা আনেনি ইত্যাদি মেয়েলী অনুযোগে, হৈ হল্লায় সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
কি একটা প্রয়োজনে মনোয়ারার মাকে খুঁজতে গিয়ে পাশের বারান্দায় মনোয়ারাকে চোখে পড়ে শাহেদের। বিয়ের শাড়িতে মনোয়ারাকে পরীর মত লাগছে। তার চোখ দু’টো জলে ভেজা। কিছুক্ষন পরই তা না দেখা জামাই’র কাছে নিজেকে আজীবনের জন্য সমর্পন করতে সমূদ্র তীরবর্তী দূরের এক গ্রামে চলে যেতে হবে। গ্রামের মেয়েরা নাকি স্বর্গে যাওয়ার আগমুহুর্তেও রান্নাঘরে একটা ঢু মেরে যায়। মনোয়ারাও স্বামী বাড়ির যাওয়ার আগে বিয়েবাড়িতে ব্যস্ত মাকে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছেন। শাহেদকে দেখেই আচলে মুখ ঢাকে। শাহেদ দ্রুত বেরিয়ে যান।
ঘরভর্তি মেয়েদের চোখে জল, কন্ঠে চিরায়ত কনে বিদায়ের শোক। নামন্ত বিয়ের বরযাত্রীরা দুপুরের খাওয়ার পর্ব শেষ করে ঘরে ফেরার তাড়াহুড়ো শুরু করেছে। কয়েকজন বয়স্ক বরযাত্রী খানাপিনা সেরে ছুটেছিলেন মসজিদের উদ্দেশে আর ছেলে ছোকরারা ভীড় করছিল পাড়ার দোকানে। তারাও চ্যাপ্টামুড়ার চুড়ায় কনেবাড়ির উঠোনে ফিরে আসছে। নিরবে এটা ওটা আনা নেয়া করছেন কনের বাবা নুরুল ইসলাম মৌলভি। নুর ইসলাম মৌলভির চোখও টলমল। থেকে থেকে তিনি পাঞ্জাবীর খুট দিয়ে চোখের পানি মুছছেন। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়ে মন ভরেনি তার। এবারও মনের মত বিয়ের আয়োজন করতে পারেননি। বুড়ো পিতার হাক ডাকের কাছে বড্ড অসহায় নুরুল ইসলাম মৌলভি। তবে নাতনিকে শ্বশুর বাড়ির মুরব্বীদের হাতে হাওলা করে দিতে মনোয়ারার দাদা সিকান্দার মৌলভির তাড়ার অন্ত নেই। থেকে থেকে হাঁক দিচ্ছেন- কই রে তাড়াতাড়ি কর। কই রে তোরা কন্যা সাজাতে আর কতক্ষন লাগাবি। তাড়া কর, সূর্য যে ডুবে যায়।
বন্ধুর ছোট বোনের বিয়েতে চল্লিশ কিলোমিটার দূর লোহাগাড়া থেকে চ্যাপ্টামুড়া এসেছে শাহেদ। সমূদ্রের ঘ্রাণযুক্ত শরীরে হাজির বাঁশখালীর মোশতাকও। বিয়েবাড়িতে প্রথম পরিচয়েরই তাদের সঙ্গে আড্ডা জমিয়ে তুলেছেন কন্যার ফুফাতো ভাই মোরশেদ। আগের রাত থেকেই গল্প, আড্ডা, বিয়ে বাড়ির ছোটখাট নানা কাজে আনন্দের মধ্যেই কেটে গেছে সময়।
কনে বিদায়ের কিছুক্ষন আগে জয়নাল বন্ধুদের কন্যাযাত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেন। শাহেদ চল রাজাখালী যাই...।
চল... তা আর কে কে যাবে? শাহেদের কৌতুহলী জিজ্ঞাসা।
মোরশেদ-মোশতাকও যাবে। জয়নালের হাসিমাখা উত্তর।
চল তাহলে নতুন জায়গা দেখা হবে। সমূদ্র তীরের গ্রামে জামাইবাড়িতে নিশ্চয় খুব আনন্দ হবে।
জয়নাল তাড়া দেয়- দ্রুত রেডি হ। কিছুক্ষণের মধ্যেই মনোয়ারাকে নিয়ে বরযাত্রীরা রওনা দেবে।
জয়নালের প্রস্তাবে কন্যাযাত্রী হয়ে সমূদ্রতীরবর্তী গ্রাম রাজাখালী যেতে এক কথায় রাজী হয়ে গেল তিনজন। সঙ্গে কনে পক্ষের কয়েকজন মুরব্বীও যাচ্ছেন। পুরনো আমলের লক্কর-যক্কর মার্কা জিপে চড়ে বিকাল নাগাদ শুরু হল কন্যাযাত্রা। একটিতে দুইপক্ষের পুরুষ অন্যটিতে মেয়েদের নিয়ে হেলে দুলে চলতে শুরু করলো জিপ দু’টো। ধূলো ওড়া খোয়া ভাঙা মেঠোপথ ধরে জিপ চলতেই রাস্তার দু’পাশ থেকে গ্রাম্য বৌ-ঝিরা বেড়ার ফাঁক-ফোকর দিয়ে উঁকি দেয়। হাফ প্যান্ট পরা শিশু আর লুঙ্গির কাছা মারা বালকগুলো জিপের পেছনে পেছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ধূলো খেয়ে হাঁফিয়ে ওঠে। কন্যাযাত্রী বুড়োরা কখনো ধমক দিয়ে কখনো হাতের লাঠি দেখিয়ে শিশুদের দৌঁড় থামিয়ে দিচ্ছেন। জিপগুলো যখন আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ভেঙে বাঘগুজরা স্টেশনে পৌছে তখন আসরের নামাজ শেষ করে মুসল্লীরা বেরিয়ে আসছে।
বরযাত্রী আবদুস সালাম আপসোস করে- নামাজটা কাজা হয়ে গেল। গাড়ি একটু পরে ছাড়লে...
পাশে বসা আবদুল কাইয়ুম ভেংচি কাটে... আরে আমার নামাজি। সবাই নামাজ পড়েই গাড়িতে ওঠলো আর সালাম ভাই হাওয়া খেয়ে...।
কাইয়ুমের কথা শুনে সালাম প্রথমে অবিশ্বাসের সঙ্গে তাকালেও পরক্ষনেই লজ্জ্বায় চুপ মেরে গেলেন।
সুযোগ পেয়েই শাহেদ দুষ্টুমি করে... এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা করলে ২৪ খোতবা দোজকের আগুনে জ্বলতে হবে।
শাহেদের কথাটা কেড়ে নিয়েই বর ও কনেযাত্রী কয়েকজন বুড়ো ধর্মালাপ শুরু করে দিলেন। আর শাহেদ মোশতাককে চিমটি কাটলো পাশের বাড়ির একটি তরুণীকে উঁকি মারতে দেখে।
মোশতাক মৃদু হেসে বলে- ধৈর্য ধর, ধৈর্য ধর ...
বাঘগুজরা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ছোট পাকা রাস্তাটি পেকুয়ার দিকে চলে গেছে। বর্ষাকালে প্রচুর পেকের (কাদামাটি) কারণেই নাকি লোক মুখে এ নামকরণ। কিছুদিন আগেও বর্ষা কালে এ অঞ্চলের মানুষের দূর্ভোগের অন্ত ছিল না। পেকুয়া থেকে চকরিয়া যাতায়াতে জিপই ভরসা। রাত বাড়লেই পাওয়া যায় না গাড়ি। ছোটবেলা থেকেই এ ধরনের নানা কাহিনী শুনেছে শাহেদ। ফলে চারদিকের দৃশ্য অবলোকন করতে তার ভেতরে এক ধরনের আগ্রহ কাজ করছে। অন্যরা যখন নানা গল্পগুজবে মেতে ওঠেছে তখন শাহেদ আনমনে দেখছে চারদিকের প্রকৃতি। অগানের ধান কাটার পর হলুদ নাড়া মেটে হলদে আভা ছড়িয়ে দিয়েছে দিগন্তব্যাপী। পেকুয়া স্টেশন থেকে গাড়ি পশ্চিম দিকে বাঁক নিতেই বিশাল ধু ধু বিল। আঁকাবাঁকা রাস্তা পশ্চিম দিকে চলে গেছে রাজাখালী অভিমুখে। মোশতাক আর মোরশেদের নানা গল্প, ভেতরে বুড়োদের নানা মন্তব্য আর উজ্জ্বল শ্যামলা একটি তন্বী বরযাত্রীর চোখাচোখি হয়ে মাঝে মধ্যে ছেদ পড়ছে শাহেদের প্রকৃতিভোগে। জিপ দু’টো পেকুয়ার সবুজ বাজার পৌঁছাতেই ক্লান্ত সূর্য বঙ্গোপসাগরে হেলে পড়তে শুরু করে। সেমিপাকা টিনশেট কয়েকটি দোকানের এ স্থানীয় বাজার থেকে আর দুই কিলোমিটার দূরে জামাইবাড়ি। সবুজ বাজার পেরুতেই চারদিকে লবনের ধূ ধূ মাঠ। কানে ভেসে আসছে সমূদ্রের গর্জন। জামাইবাড়ি পৌছোতেই সূর্য বঙ্গোপসাগরে ডুব দেয়। নুনের মাঠ থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে পেঠানো শরীরের ঘামে ভেজা নুন চাষীরা। তাদের দেখেই মোরশেদ নুন চাষীদের উপর একটি ছোটখাট বক্তৃতা দেয়। নুনের মাঠে বিচ্ছিন্ন একেকটি বাড়ি নিয়ে রাজাখালীর গ্রামগুলো। নারকেল গাছ আর ছোট ছোট পুকুর নিয়ে প্রতিটি বাড়িই যেন মাঠের সমূদ্রে একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
শাহেদ কৌতুহলী হয়ে মোশতাকের কাছে জানতে চায়- তোমার ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা মনে আছে?
হু বলে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মোশতাকের উত্তর সে কি ভোলার মত বিষয়।
তখন এখানে কি অবস্থা হয়েছিল? শাহেদ আরও কৌতুহলী হয়...
মোরশেদ চারদিকে ইশারা বলে বলে- এগুলো বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। চারদিকে লাশের পর লাশ... ভেসে এসেছে কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ি আর মগনামা থেকে...। আমার মেঝ ফুফুর লাশই পাইনি।
শাহেদের চোখ তখন অনুসন্ধিসু হয়ে ওঠে। যেন ঘূর্ণিতাণ্ডবের অস্তিত্ব খুঁজছে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগে নারকেল গাছগুলো খুবই উপকারি হয়। সমূদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রচুর নারকেল গাছ লাগানো উচিত। পারলে নারকেল গাছের প্রাচীর গড়ে তোলা... কি বলেন... শাহেদের দার্শনিক অভিজ্ঞান।
কথা বলতে বলতেই জিপগুলো ধুলো উড়া পথ মাড়িয়ে জামাই বাড়ির অদুরে এসে থেমে গেল। একশ’ মিটারের মত পায়ে হাঁটা পথ পেরুলেই নারকেল গাছে ঘেরা জামাই বাড়ি। জামাই বাড়ির আঙ্গিনায় ঢুকেই এক ধরনের বিদঘুটে আবহাওয়া শাহেদের নাক মুখে ঝাপটা দিয়ে গেল। পাড়া প্রতিবেশী বরের আঙ্গিনায়ও ঢুকলেন না। জিপ থেকে নেমেই যে যার বাড়িতে চলে গেলেন। বরের আত্মীয়-স্বজনরা ব্যস্ত হয়ে ওঠলেন নিজেদের নিয়েই। উঠোনে ধান শুকানোর তলুই বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হল কন্যাযাত্রী কয়েকজন বুড়োর। মেয়েরাও নিজেদের মতো করে বাড়ির ভেতরে বসার জায়গা খুঁজে নিয়েছে। তবে বাইরে দাঁড়ানো কমবয়স্কদের দিকে কারও নজর নেই। এদিকে বন্ধুদের কথা ভেবে ছোট হয়ে যাচ্ছিল জয়নাল। রাগে-অপমানে তার মুখের শিরা ফুলে ওঠেছে। ঠোঁট কামড়াতে কামড়াতে সে পায়চারি করতে শুরু করে। এ কেমন বিয়ে বাড়ি! প্রতিবেশীদের আনাগোনা নেই। আতœীয়-স্বজনের হৈ হুল্লোড় নেই। সামিয়ানা আর আলোকসজ্জ্বা নেই। শাহেদ কিছুটা অবাক হয়, এমনকি রঙিন কাগজের ফুল পর্যন্ত লাগানো হয়নি দরজার । আঙ্গিনায় নারকেল গাছে হেলান দিয়ে গল্পে মেতে ওঠা শাহেদ ও মোরশেদকে দু’টো মোড়া এনে দেয় একটি ছেলে। মনোয়ারার জামাই তখনো বাজার থেকে ঘরে ফিরেনি। দুই কিলোমিটার দুরেই রাজাখালী বাজারে তার জ্বালানী তেলের দোকান। মাছমারা ট্রলার ও ইঞ্জিন নৌকায় তেল সাপ্লাই দেয়। বিয়ের দিনেও দোকানে তেল বেচাকেনা করছে, শুনেই শাহেদের মনটা কুচকে যায়।
কন্যাযাত্রী আর আত্মীয়-স্বজনরা বরের জন্য অপেক্ষা করছে। তরজা বেড়ার ফোকর দিয়ে ঘরের ভেতর থেকে মাঝে মধ্যে মহিলাদের ফোড়নকাটা আর মুখ ঝামটার শব্দ কানে আসছে। মনোয়ারার মামা শ্বশুর কুদ্দুস মেম্বারের মধ্য বয়সী স্ত্রীর অট্টহাসির শব্দ বেশ জোরালো। এরই মধ্যে শাহেদের পরিচিত হয়ে ওঠেছে ওই হাসির শব্দ। পৃত্থুলা আকৃতির বাচাল মহিলাটি দুপুর থেকেই কথায় কথায় হাসির ধমক ছড়াচ্ছেন। নিজেই কথা তোলেন নিজেই হাসেন। অলঙ্কার সজ্জ্বিত শরীরের অহংকারী ভাঁজ খুলে কন্যাযাত্রী মহিলাদের সঙ্গে মেয়েলী ঠাট্টা মশকরা করে যাচ্ছেন। বাইরে কন্যাযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার লোক নেই। কেউ এসে জিজ্ঞেস করছে না তারা কারা। নেই কোন আদর আপ্যায়নও। বুড়োরা নিজেদের মত গল্প গুজবে মেতে ওঠলেও শাহেদদের নিঃসঙ্গটা গোছে না। শাহেদের মনে হচ্ছে, এ কোন আবোলাইন্যা (দাওয়াতহীন) মেজবানে এসে পড়েছি। এ জন্য শাহেদ অনুষ্ঠানাদিতে কম যায়। কোন অনুষ্ঠানে ওই বাড়িরই লোকজন কথার খাতির না করলে নিজেকে কেমন ছোট ছোট মনে হয়। মনে হয় অযাচিত। মোরশেদের সঙ্গে এলোমেলো গল্প লতিয়ে ওঠলেও তার ভাল লাগছে না। লোহাগাড়া-সাতকানিয়ায় যে ধরনের বিয়ে বাড়ি দেখতে অভ্যস্ত তার ছিটে ফোটাও এখানে নেই। চকরিয়া-পেকুয়া তাদের প্রতিবেশী। এ জন্য শাহেদের বিস্ময়টা একটু বেশী। বৃহত্তর চট্টগ্রামের লোকজনের মেহমানদারির সুনাম দেশজোড়া। চট্টগ্রামে বিয়ে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া, আদর-আপ্যায়নের জুড়ি মেলা ভার। লোকে বলে, গজিতে (পাতিল) চাল না থাকলেও খরচের হাত খোলা। চট্টগ্রামের লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে একটি অহংকারও আছে। তবে সমবয়স্কদের সঙ্গে আড্ডা জমিয়ে তুলতে পারলেই চট্টগ্রামের তরুনরা বর্তে যায়। খাওয়া-দাওয়ার ধার ধারে না।
শাহেদ সমূদ্রতীরের মানুষ সাহসী ও উদার হয়। এখণ মনে হচ্ছে, তাদের মধ্যে হিংস্রতা আর অসামাজিকতাও আছে। শাহেদের এটাও মনে হয়, সে কি ভুল বিচার করছে? একটি বাড়ির লোকজনের আচরণে পুরো এলাকার চরিত্র বিচার করা কি ঠিক? তবে শাহেদ বুঝতে পারে, কোন কারণে গ্রামের মধ্যে বরের বাড়িটি একঘরে। অর্থশালীও।
উঠোনে একটি চেয়ারে বসে পায়ের ওপর পা তুলে জামাই’র ছোট ভাই কবির চার ব্যান্ডের রেডিও নিয়ে বসেছে। রেডিওর স্টেশন ঘোরাতে ঘোরাতে সে খুব রসিয়ে রসিয়ে বিদেশের গল্প শুরু করে। আর তা হা করে গিলছে কয়েকজন বুড়ো লোক। দেখে মনে হচ্ছে কোন প্রবাসী দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরেছে আর সবাই তাকে ঘিরে সাত সমূদ্র তের নদীর গল্প শুনছে। তার আচার-আচরণ দেখে মনে মনে বিরক্ত হচ্ছিলো তরুণ কন্যাযাত্রীরা। কবির গল্প করছে ছিটগ্রস্তদের প্রলাপের মত। কোন সুস্থ সামাজিক লোক বিয়ের দিন মেহমানদের এভাবে তার প্রজার মত করে বসিয়ে নিজে হাতল ছাড়া চেয়ারে জমিদারের মত বসে নিজের গল্প শোনায় না। সেখানে কার গল্প কে শোনে, কে কার চেয়ে কম। লোকটা পাগল নাকি! শাহেদ মনে মনে অশিক্ষিত গেয়ো বলে কষে গাল দিল।
অপেক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। জামাই’র কোন দেখা নেই। কন্যাযাত্রীদের একই প্রশ্ন কখন আসবে বর। বর এলেই সম্পন্ন হবে আকদ্। কন্যাযাত্রীদের বেশীরভাগই আগে জামাইকে দেখেনি। মনোয়ারার দুর সম্পর্কের এক দুলাভাইয়ের ঘটকালিতে বিয়ে ঠিকফর্দ হয়েছে। সে মনোয়ারার দাদাকে বর ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে নানা ধরনের বাড়িয়ে বলে বিয়েটা ঠিক করে। মনোয়ারার দাদার কারণে কেউ আগ বাড়িয়ে রাজাখালী গিয়ে জামাই বা তার ঘরবাড়ি দেখে যেতে পারেনি। বুড়োর এক কথা- বাজারে তেলের দোকান আছে, এক দুনের নুনের মাঠ আছে, দেখতে শুনতেও মন্দ নয়। তাই কারও দেখতে যাওয়ার দরকার নেই। বেশী খোঁজ নিতে গেলেই দুষ্ট লোকরা ত্রুটি বের করে। এখন বরের বাড়ি পৌছেই মন খারাপ হয়ে গেছে মনোয়ারার বড় ভাই জয়নালের। রাত যত বাড়ছে ততই হাফিয়ে ওঠছে কন্যাযাত্রীরা। বুড়োরাও হাক দিচ্ছে- কই গো আমাদের নাতজামাই কই।
শাহেদ আর মোরশেদ ওশখুস করছে। মোশতাক তাকিয়ে আছে জয়নালের বেদনার্ত চেহেরার দিকে। তাদের কিছুই ভাল লাগছে না। সামূদ্রিক হাওয়া ক্ষুধা তৃষ্ণা দুটোই উস্কে দিচ্ছে। তৃষ্ণায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে শাহেদের। এতক্ষণ একটির পর একটি সিগারেট টানতে টানতে তার কলজে পর্যন্ত যেন শুকিয়ে গেছে। শাহেদ ইশারায় একজন বয়সী লোকের কাছে খাবার পানি চাইলেন। লোকটি দ্রুত ওঠে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন খালি হাতে। কানে কানে বললেন, ভেতরে মেয়েদের দিকে তিনি যেতে পারেননি। এবার মোশতাক বাড়ির ভেতরে ঢোকে। কিছুক্ষণ পর সেও বেরিয়ে আসে খালি হাতে। কানে কানে বলে, কেমন বাড়ি রে বাপ। চারবার বলার পরও কেউ এক গ্লাস পানি দিল না।
এবার জয়নাল কবিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে- কি তালত একটু পানিও খাওয়াবেন না না?
কবির একজনকে ভেতরে পাঠিয়ে বললো- একটু অপেক্ষা করেন।
লোকটি বেরিয়ে এসেই জানালেন- শরবতের ব্যবস্থা হচ্ছে। এখনই দেয়া হবে।
তারপর সময় গড়িয়ে আধঘন্টা পেরিয়ে যায়, পানি আর আসে না। শাহেদ মনে মনে বলে, কি রে বাবা এখানকার মানুষ কি পানিও খায় না। আশপাশে নলকুপও দেখা যাচ্ছে না। মোরশেদ পেছন থেকে চিমটি কাটে শাহেদের। দুইজন বাড়ির উত্তর দিকের পুকুরে যায়। নারকেল গাছ দিয়ে বানানো ঘাটে বসে তৃষ্ণা মিটিয়ে পানি খায়। হাত মুখ ধোয়। মোরশেদ বলে ওঠে, পানিতো দেখি ডাবের চেয়ে মিষ্টি। তারপর দু’জনই হেসে ওঠে।
শাহেদ খেয়াল করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিয়েবাড়ি নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। লোকজন নানা টিপ্পনী কাটছে। গল্পচ্ছলে শাহেদ পাশের বাড়ির মধ্যবয়সী একজনের কাছে জানতে চাইলেন- কি বড় ভাই আপনাদের দেশে কি বিয়েবাড়িতে হৈ হুল্লোড় হয় না?
লোকটি মৃদু ভেংচি কাটে। ওই বাড়িতে হৈ হুল্লোড়, নাউযুবিল্লাহ।
কথাটি শুনেই মোরশেদের মুখটি কালো হয়ে গেল। হাজার হলেও মামাতো বোনের শ্বশুর বাড়ি। শাহেদ আর এগুতে পারে না। মনে হয়, অচেনা এ লোকটি তাদের গালে কষে থাপ্পড় দিয়েছে। আসলেই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ আসেনি বিয়ে বাড়িতে। অল্প কয়েকঘর প্রতিবেশী আর আত্মীয়-স্বজনরাই এঘর ওঘর করছে। শাহেদ ও মোরশেদ হাঁটতে হাঁটতে পাড়ার উত্তর দিকের একটি গাছের নীচে এসে দাঁড়াল। পকেটের সিগারেটও ফুরিয়ে গেছে। আশপাশে কোন দোকানও নেই। যার কাছেই জিজ্ঞেস করে গাল দেয়ার মত করে উত্তর দেয়- রাজাখালী যান।
দুই কিলোমিটার দূরেই রাজাখালী। দুই কিলোমিটার পথ বেশী নয়। মন ভাল থাকলেও শত কিলোমিটারও নস্যি। বিয়ে বাড়ির গোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে তারা নিজেদের নিয়ে আলাপে মেতে ওঠে। কিছুক্ষণ পর মোশতাকও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। বলে, তোদের খুঁজতে খুঁজতে এদিকে চলে এলাম।
মোশতাক স্বগোক্তি করে- ভালই হল, ওই যে আমার মামির বোনের বাড়ি। চল সেখানে যাই। এমন পানসে বিয়ে বাড়ির চেয়ে দূরসম্পর্কের আত্মীয় বাড়ি অনেক আনন্দের।
শাহেদ সায় দেয়- চল।
মোশতাকের মামীর বোনের বাড়ির উঠোনে ঢুকতেই চোখে পড়ে তলুই বিছিয়ে খোশগল্প করছে নুনের মাঠ ফেরত কয়েকজন যুবক। তাদের দেখেই একজন হাক দেয়- আপনারা কারা? মোশতাক নাম বলতেই বাড়ির মেঝ ছেলে সালাম রীতিমতো লাফিয়ে ওঠে বসলেন। আরে মোশতাক তুই! অন্যরাও ওঠে বসলেন। বাড়ির ভেতর থেকে দুইটি হাতল ভাঙ্গা চেয়ার আর মোড়া এনে তাদের বসে। বিয়ে বাড়ির কথা শুনতেই সালাম হেসে ওঠে। ওই তৈল্যা বলদের বিয়েতে এসেছিস। শাহেদ খেয়াল করে আবারও মোরশেদের মুখটা কালো হয়ে গেল। কথা বলতে বলতেই শরবত আর বিস্কুট নিয়ে এলো বাচ্চা একটি মেয়ে। মেঘ না চাইতেই জল, কি ব্যাপার। শুরু হয়ে গেল আড্ডা। নুনের মাঠ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, কলেজ থেকে জনপ্রতিনিধি... হাজারো কথা। এরই মধ্যে তাসের প্যাকেট জোগাড় করে ফেলেছে মোশতাক। তাকে একটি ধন্যবাদ দিয়েই শুরু হল টুয়েন্টি নাইন।
রাত তখন সাড়ে ১০টা। খেলা জমে ওঠলেও মোরশেদের পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে রাগে। এতক্ষণেও বিয়ে বাড়ির কেউ তাদের খোঁজও নেয়নি। শালা তৈল্যা বলদ। বিয়ের দিন দোকানদারি করে শ্বশুর বাড়ির লোকজনরে দেখাচ্ছে। দেখ আমি কত বড় দোকানদার- শাললা। মনে মনে গাল পাড়ে আর আস্তে করে মোশতাককে চিমটি কাটে। চিমটি খেয়েই তাড়া দেয় মোশতাক। চল বিয়ে বাড়ি যাই। জামাই এসেছে কিনা দেখি। মোশতাকের কথায় সালামসহ ওই বাড়ির লোকজন ভেটো দেয়। কতদিন পর এদিকে এসেছো, রাতে এখানেই থাকো। সালাম ঘরের মেয়েদের তাড়া দেয়- কই তাড়াতাড়ি ভাত রেডি কর।
এ বাড়ির লোকজনের আতিথেয়তায় শাহেদ মুগ্ধ। তবে হঠাৎ কোন বাড়িতে এসেই ভাত খেতে বসে যাওয়া ভদ্রোচিত কাজ নয়। ফলে ভেতরে আগ্রহ থাকলেও বাইরে তাড়া দেখায় তারা।
সালাম তাদের বিয়ে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিলেও বিয়ে বাড়িতে ঢুকে না। শাহেদের অনুরোধও বিনীতভাবে এড়িয়ে যায়। এদিকে বিয়ে বাড়িতে তখনো জামাইর কোন খোঁজ নেই। মুরব্বীদের কেউ কেউ উঠোনে বসেই ঘুমে নাক ডাকতে শুরু করেছেন। অন্যরা বিরক্ত মুখে অপেক্ষা করছেন। তাদের সঙ্গে আসা নঈম ভেতরে গিয়ে একটি চক্কর কেটে এসে মন্তব্য করলেন, কি মুখরা একেকটি বুড়ি। মনোয়ারা চোখের জলে একাকার। মেয়েগুলো নানা রকম খোটা দেয়া শুরু করেছে। কুদ্দুস মেম্বারের বউটা, একটি দজ্জাল। সারা শরীরে অলংকার পরে বাড়ি জুড়ে পায়চারী করছে আর তুচ্ছ তাচিছল্য করছে। শুনে আবারও মোরশেদের মুখটা কালো হয়ে গেল। তবে শাহেদ অবাক হয় না। বিকালে জিপে বসেই তো মহিলাটি নানা মন্তব্য করছিল। আর সন্ধ্যা থেকেই তার যে ভাবগতিক তাতে এসব অস্বাভাবিক মন হয় না। মনোয়ারার জন্য তার খুব মায়া হয়। মেয়েটিকে সারাজীবনই এ খোটাখুটির যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে। মেয়েরা কি এ জন্যই জন্মায়? শাহেদের বোনের কথা মনে পড়ে।
জামাই’র ছোট মামা এসে খুবই অনান্তরিক স্বরে হাঁক দেয়- অঁনরা হাত্তুন হাত্তুন ভুখ লাইগ্যে আইয়ুন (আপনাদের কার কার খিদে লেগেছে, আসেন।) অপমানে শাহেদের মুখ লাল হয়ে গেল। এ কোন ভুতের রাজ্য রে বাপ। শুনেই পিত্তি জ্বলে গেলে মোরশেদের। অস্ফুষ্ট স্বর বেরিয়ে এল গলা দিয়ে- শালা! আমরা কুকুর নাকি, শালা বানচোত।
রাজাখালী থেকে চল্লিশ কিলোমিটার দুরেই শাহেদদের বাড়ি। অথচ সেখানে এত অনান্তরিক কণ্ঠে তাচ্ছিল্য করে ডাকলে কুকুরও খেতে বসবে না। জয়নাল আর মোশতাক জানে শাহেদের এলাকায় বিয়ে বাড়িতে মেহমানদের কি ধরনের আদর আপ্যায়ন মেহমানদারী করা হয়। বন্ধুদের চেহেরার দিকে চেয়ে অপমানে ফুলতে শুরু করেছে জয়নাল।
তারা কেউ খাবার জন্য ভেতরে যাচ্ছে না দেখে একটি বয়স্ক মানুষ আবারও হাঁক দেয়, কই খেতে আসেন।
এতক্ষণ চুপচাপ থাকলেও এবার গলা চড়িয়ে ডাক দেয়- তালতো ভাইকে। কি মিয়া আমরা আপনাদের বাড়িতে কি কামলা এসেছি নাকি? আমাদের মেহমানদের কোন আপ্যায়ন তো করলেন না উল্টো এত রাতে জানতে চাচ্ছেন খিদের কথা।
জয়নালের কণ্ঠে ঝগড়া আর অপমানের কান্নার সুর যুগপৎ উপছে পড়ছে। জামাই’র ছোটভাই কবির সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই রেডিও হাতে চলে গেলেন ভেতরের দিকে।
কয়েকজন বুড়ো খাবার পর্ব সেরেই জামাইর খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কন্যাযাত্রী আবুল কিছুটা শ্লেষ জড়িয়ে বলেন, জামাইতো লাখ টাকার ব্যবসায়ী। টাকাগুনতেই নাকি আঙুল ব্যথা হয়ে যায়।
আরেকজন টিপ্পিনী কাটে, জামাইর মুখে নাকি বসন্তের দাগ আছে। বেচারা হয়তো লজ্জায় দেরি করছে। বুড়ো লোকগুলো এভাবে গ্রাম্য ঠাট্টা মশকরায় মেতে ওঠেন।
কন্যাযাত্রী বুড়োদের মুখ ঝামটা দিয়ে কুদ্দুস মেম্বারের বউ বলে ওঠে, লোকের মত ফকির না। অন্যের কাছে চেয়ে চিন্তে খায় না। জামাইর মুখ থেকে নুরের জ্যোতি বেরুয়।
শাহেদের এসব মেয়েলী প্যাচাল ভাল লাগে না। তবে দুপুর থেকেই সারাপথে কুদ্দুস মেম্বারের উজ্জ্বল শ্যামলা উচ্ছল মেয়েটিকে দেখে তার ভেতরে অন্যরকম একটি অনূভূতি জন্মেছে। মনোয়ারার শ্বশুর বাড়ির উঠোনে পোষাক পাল্টানো ওই মেয়েটিকে একঝলক দেখে তার মনে হয়েছিল আজ কি পূর্ণিমা তিথি। মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে পারলে সময়টা ভাল কাটতো। তবে এখন তার মায়ের কথা শুনে চোখে মুখে মরিচের জ্বালা অনুভব করে। ‘জামাই আসছে না, জামাই কই, কখন আসবে’ সবাই একে অন্যকে প্রশ্ন করছে আর প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। মেয়ে পক্ষের লোক হলেই যত জ্বালা। মনের বিরক্তিও প্রকাশ করা যায় না।
উঠোনে অপেক্ষারত কন্যাযাত্রীদের গুঞ্জণে হঠাৎ জল ঢেলে দিলেন, কুদ্দুস মেম্বারের বউ। বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে ঘোষনা দিলেন, সবাই এবার আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারেন। বর-কন্যা কবুল বলেছে। মানে? একযোগে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন সবার। সবার প্রশ্নের নিরব উত্তর হিসেবে তার পেছনে পেছনে হাসিমুখে বেরিয়ে আসে একজন বয়স্ক মৌলভি। বোবা একটি মুহুর্ত কাটানোর পর বুড়ো কন্যাযাত্রীরা আলহামদুলিল্লাহ পড়লেন। এবার নিশ্চয় জামাই ধনকে দেখা যাবে। আবার সবার মধ্যে জামাই দেখার কৌতুহল চারা দিয়ে ওঠল। দুলাভাই কই, নাতজামাই কই? বুড়োরা আবারও জানতে চাইলেন। শাহেদ আর মোরশেদ ভেবে পায় না, বিষয়টি কি? সে সন্ধ্যা থেকে কন্যাযাত্রীরা অপেক্ষা করছে। নেই আদর আপ্যায়ন, নেই জামাইর দেখা। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে গোপনে বিয়ে পড়লেন, কাউকে ডাকলেনও না; বিষয়টি কি? তারা চরম অপমানবোধ করে। বোন জামাই’র এ আচরণ দেখে জয়নালের চোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
মোরশেদ হঠাৎ বলে ওঠে, চলো শাহেদ।
কোথায়?
নানা বাড়িতে...
কিভাবে?
আমরা পূর্বদিকে হাঁটতে শুরু করলে সকাল নাগাদ নানাবাড়ির এলাকায় পৌঁছে যাবো। পারবেন হাঁটতে?
শাহেদের মনে হচ্ছিল সে কোন ভুল জায়গায় এসেছে। তাই তার অনিবার্য উত্তর, হ্যাঁ।
কন্যাযাত্রীদের জটলা থেকে ইশারায় মোশতাককে ডাকলেন মোরশেদ। সে কাছে আসতেই মোরশেদ ফিসফিসিয়ে বলে, তুমি জয়নালের সঙ্গে থাকো আমরা চললাম। কোথায় যাচ্ছি সেটা জিজ্ঞেস না করেই বোকার মত ঘাড় নাড়লেনমোশতাক। জামাইবাড়ির উঠোন থেকে বেরিয়ে তারা উত্তর দিকে হাঁটতে শুরু করে। আকাশে পূর্ণিমার সুগোল চাঁদ আলো বিলাচ্ছে। চাঁদের আলোয় ধূলো ওড়া পথে পা বাড়িয়েই তাদের মনে হল কোন কনসেনট্রেশন ক্যাম্প থেকে তারা পালিয়ে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে তাদের চলার গতি বাড়ে। পেঠের ক্ষুধা-তৃষ্ণা উবে যায়।
প্রথমে শাহেদই মুখ খোলে। মোরশেদ আমরা যে চলে এলাম বিষয়টি কেমন হল?
মোরশেদের সংক্ষিপ্ত উত্তর- ভাল। ওরা আমাদের খুঁজবেও না।
যে বাড়িতে সন্ধ্যা থেকে এক গ্লাস পানি খেতে দেয়নি তারা আবার আমাদের খুঁজবে।
নিজের এ অতিসামাজিক মনোভাবের জন্য শাহেদের হাসি পায়। কোথাও গেলে তার সবসময় মনে হয় কে কি মনে করছে, কি ভাবছে ইত্যাদি। তবে জয়নালের জন্য তার সত্যি সত্যিই খারাপ লাগে। বেচারা কন্যার ভাই হয়ে যেন বড় অপরাধ করে ফেলেছে। পদে পদে বন্ধুদের কাছে মুখ ছোট আর তালুই বাড়িতে তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হচ্ছে তাকে।
ধীরে ধীরে তাদের পথ কমলেও কথা বাড়তে থাকে। তবে দূরত্ব অজনা থাকায় তারা কতটুকু এগুলো তা ঠার করতে পারে না। তাদের পূর্ণিমা রাতের নানা গল্প ডালপালা ছড়াতে থাকে। পথের দুই পাশের বিচ্ছিন্ন বাড়িগুলোকে আকাশের নিচে বিস্তির্ণ মাঠে এক একটি স্তুপের মত মনে হয়।
হাঁটতে হাঁটতেই তাদের সামনে হঠাৎ মুর্তিমান অজগর। সমূদ্র নালাটিকে শাহেদের বিশাল বিস্তির্ণ বিলে ছুটে চলা অজগরের মত মনে হয়। পায়ে জুতো, সামনে খাল। গ্রামের ছেলে শাহেদ ও মোরশেদের খাল পেরুনোর বিস্তর অভিজ্ঞতা। তারপরও তারা এক মুহুর্ত থমকে দাঁড়ায়। এরপর মোরশেদ দ্রুত প্যান্ট তুলে খালে নেমে পড়ে। তবে কয়েক কদম এগুতেই গভীর কাদায় তার পা দেবে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে শাহেদ তাকে টেনে তুলে। কাদামাখা পায়ে রাস্তায় ওঠেই তারা হঠাৎ হাসিতে গড়িয়ে পড়ে। তারপর দক্ষিণমুখী হাঁটা শুরু করে।
শার্টপ্যান্ট ইন করা মোরশেদকে হাতে জুতো নিয়ে হাঁটতে দেখে শাহেদের বেশ মজা লাগে। গভীররাত, দেখার কেউ। প্রায় আধা কিলোমিটার হাঁটার পর দূর থেকে রাস্তার পাশে একটি বাড়ির উঠোনে কুপি বাতি জ্বলতে দেখা যায়। কাছে গিয়েই মোরশেদ আঞ্চলিক স্বরে জানতে চায়, ওবা বারিত কেউ আছন নি? (বাড়িতে কি কেউ আছেন)। সঙ্গে সঙ্গেই উঠোনের এক কোন থেকে সাড়া আসে। একটি বুড়ো লোক জানতে চায়, কে রে?
আঁরা পত্থুয়্যা মানুশ (আমরা পথিক)...। সহজ সরল গ্রাম্য মানুষের সঙ্গে সহজ উত্তর দেয়াই ভাল। চাতুর্যপূর্ণ উত্তর আবার কোন বিপদ নিয়ে আসে।
বুড়োটি এবার ছেলেকে হাঁক দেয়, দেখতো বশির কারা কি চায়।
এবার বশির নামের পয়ত্রিশোর্ধবয়সী লোকটি তাদের কাছে এসে কিছুটা অবাক হয়।
আপনারা কারা? কোথায় যাবেন?
আমরা আমাদের বাড়ি বারবাকিয়া, রাজাখালী বেড়াতে গিয়েছিলাম।
এতরাতে কোথায় যাবেন?
জরুরি বাড়ি ফিরতে হচ্ছে, একটু খালের পুলটি দেখিয়ে দেবেন?
বশির দক্ষিণদিকে আঙুল উচিয়ে বলেন, সামনে হাঁটতে থাকেন।
বশিরদের বাড়ির উঠোনের পুকুর থেকে পায়ের কাদা ধুয়ে নেয় মোরশেদ।
বাঁশের সাকো পার হয়ে তারা খাল পার হয়। এবার নদীর ওপার দিয়ে যতপথ হেঁটেছিল ঠিক ততপথ উল্টো উত্তর দিকে হাঁটে। পূর্বপাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে পশ্চিম পাড়ে ফেলে আসা বিয়ে বাড়ির কথা মনে হচ্ছিল শাহেদের বারবার। খালপাড়ের পথে বাঁশবন, শো শো শব্দ। কোন পথে যাবে সেটা নিয়ে দুইজনের দ্বিধাদ্বন্ধ।
আবার পূর্ব দিকে হাঁটা। প্রথম পাড়াটি অতিক্রমের সময় বাড়ির লোকজনের গলা শোনা যাচ্ছিল। একটি শিশুর কান্না আর তার মায়ের আদর কানে আসে। রাস্তার পাশে মসজিদের নলকুপ থেকে পানি খায়। কিছুক্ষণ বেঞ্চিতে বসে বিশ্রাম নেয়। পাড়ার আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে তারা আবার হাঁটা শুরু করে। কিছুদুর উত্তর দিকে হাঁটার পর তারা মাঠের মধ্যখান ধরে পূর্বদিকে চলে যাওয়া একটি বড় আলপথে নেমে পড়েন। কিছুদূর যাওয়ার পর দ্বিতীয় পাড়াটি শুরু হয়। আবারও ধান কাটা ধুধু মাঠ। মাঝে মাঝে কিছু জমিতে এখনও পাকা ধান কাটা হয়নি। শুক্লাপক্ষের কোমল আলোতে আবছা কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ছে আবিরের মত। চাঁদটুকু যেন অভিজাত গৃহিনীর মত গলে গলে পড়ছে সম্ভ্রমে। সারিবদ্ধ নাড়ার ডগাগুলো উর্ধ্বমুখী হয়ে সাজিয়ে তুলেছে বিস্তির্ণ মাঠ। সৃষ্টি করেছে এক অপূর্ব ব্যাঞ্জনা। আর আঁকাবাঁকা আলগুলো যে সহমর্মীতায় পরস্পর হাত ধরাধরি করে নিশ্চুপ শুয়ে আছে। পূর্ণিমার হলুদ আলোয় ধানকাটা মাঠের অপূর্ণ দৃশ্য তাদের মাথা ধরিয়ে দেয়। তাদের ডানপাশের একটি বাড়ির আঙ্গিনায় হঠাৎ কয়েকটি পাটি সশব্দে ডানা ঝাপড়ে ডাল পরিবর্তণ করলো। শাহেদ গান ধরে....।
ধুধু মাঠে হঠাৎ দু’টো টর্চের তীব্র আলো তাদের চোখ ধাধিয়ে দেয়। মুহুর্তেই দু’জনের শিরদাঁড়া বেয়ে একটি ভয়ের স্রোত নেমে যায়। বিস্ময়াবিভূত হয়ে তারা থমকে দাঁড়ায়। দূর থেকে কড়া প্রশ্ন আসে- এ কে রে?
আমরা পথের মানুষ...
এদিকে আয়... কড়া ডাক।
তারা ধীরে ধীরে আলোর উৎসে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দেয়। তখনো তাদের দৃষ্টি স্বাভাবিক হয়নি। ষণ্ডা প্রকৃতির একজন চোখ রাঙিয়ে তাদের প্রশ্ন করে- তোমরা কারা?
কোথায় যাবে?
বারবাকিয়া শিলখালী...
আরেকজন বলে উঠে- শালাদের আগে বেঁধে ফেল।
প্রথম লোকটি বলে- দরকার নেই।
এরই মধ্যে তাদের কয়েকজন শাহেদ ও মোরশেদকে ঘিরে ফেলে। তারা মাপলার ও মুখোশে মুখ ঢাকা এসব লোকের চেহেরা দেখতে পায় না। তবে বুঝতে বাকি নেই লোকগুলো ডাকাত। একজনের হাতে একটি দোনলা বন্দুক দেখা যায়। তাদের মুখ থেকে কোন কথা সরে না। থ হয়ে পড়া শাহেদদের প্রতি নতুন প্রশ্ন- এতরাতে কোথা থেকে আসছো ?
রাজাখালী থেকে।
এতরাত কেন?
পাশ থেকে আরেকজন তাড়া দেয়- টাইম নেই। শালাদের বেঁধে ফেলে রেখে চল যাই।
মোরশেদ ষণ্ডামার্কা লোকটিকে অনুনয়ের সুরে বলে- কাল আমাদের পরীক্ষা।
মোরশেদ বানিয়ে রাখা গল্প শুরু করে- আমরা একটি বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম। হৈ হুল্লোড়ে দেরি হয়ে গেছে। পরে গাড়ি মিস করে অনন্যোপায় হয়ে হেঁটেই বাড়ি ফিরছি। আগামীকাল দুপুরে আমাদের পরীক্ষা আছে। সকাল সকাল চট্টগ্রাম শহরে ফিরতে না পারলে পরীক্ষা দিতে পারব না।
কোথায় পড়েন? এবার কণ্ঠ কিছুটা নরম...
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে...
এতক্ষন নিরব ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা শাহেদকে ডেকে প্রশ্ন করে- এ তোমার বাড়ি কই?
লোহাগাড়া...
শার্ট-প্যান্ট পরা দুইজন তরুণকে দেখে ডাকাতরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। একের জনের একেক মত। ষন্ডামার্কা লোকটি একমুহুর্ত কি যেন ভাবলেন। এদিকে তার সঙ্গীদের ঘন ঘন তাড়া আসছে। এবার লোকটি তাদের ইশারায় মাঠের কোনাকুনি পথ দেখিয়ে দিয়ে বলেন- ওদিকে চুপচাপ হাঁটতে থাকেন। কোন শব্দ করলে গুলি করব। বুঝছেন...। মোরশেদ একটি ঢোক গিলে বলে- জ্বি।
ডাকাতরা তাদের ভুল পথে ফসল তোলা মাঠের দিকে চলে যেতে বলে। ডাকাতদের ইশারা করা পথে তারা মাঠের কোনাকুনি হাঁটতে শুরু করে। ভয়ে একটি বারের জন্যও পেছনে তাকায় না। শাহেদের মনে হয়- এই বুঝি একটি গুলি তাকে ভেদ করে ছুটে গেল। ভয়ে জমে যাওয়া পাথরের মত ভারী পায়ে হাঁটা পথ যেন হাজার মাইলের ফুরোবেই না। একটি নাড়ার ডগা শাহেদের জুতার পাশ দিয়ে পায়ে বিদ্ধ হয়। আহ্ শব্দে শাহেদ বেদনা প্রকাশ করতেই শাহেদ মৃৃদু স্বরে তাড়া দেয়। আরেকটু জোরে...। শাহেদ ভাবে সুযোগ পেয়ে সদ্য কাটা ধানের নাড়াগুলোও যেন প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে ওঠেছে।
কোনাকুনি মাঠ ধরে প্রায় আধাকিলোমিটার সামনে যেতেই বিচ্ছিন্ন কয়েকটি বাড়ি চোখে পড়ে। বাড়িগুলো পার হতে না হতেই পেছন দিক থেকে গুলির শব্দ আসে। হৈ চৈ ও চিৎকারের শব্দ আসে। দ্বিতীয় গুলির শব্দের সঙ্গে সঙ্গেই পাড়ার কুকুরগুলো একযোগে ডেকে ওঠে। তারা আবারও থমকে দাঁড়ায়। বেকুবের মত কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকে। অজানা আশংকা তাদের গ্রাস করতে চায়। আবার অতিসন্তর্পনে হাঁটা ধরে। তারা এতই সন্তর্পনে বিড়ালের পায়ে হাঁটে যে, যেন তাদের পায়ের শব্দে পাড়ার লোকের ঘুম ভেঙে যাবে। গ্রামবাসী জেগে ওঠে তাদের ডাকাত সন্দেহ করে পিঠিয়ে হাড্ডি ভেঙে দেবে।
কতদূর এলাম... শাহেদ জানতে চায়।
মনে হয় টৈঠংয়ের কাছাকাছি... মোরশেদের নির্লিপ্ত উত্তর।
আর কতদূর...
মাইল দশেক হবে হয়তো..
আকস্মাৎ আলের উপর দিয়ে নাড়ায় শব্দ তুলে কি একটি যেন শো শো শব্দ করে ছুটে গেল। শাহেদের বুকের ভেতর ভয়ের শিহরণ জাগে। আস্তে মোরশেদ... কি যেন ছুটে গেল।
সাপ হয়তো...
ওরে বাপরে... সাপ! শাহেদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। কণ্ঠে স্পষ্ট ভয়ের রেশ।
ভয় পেয়েছেন?
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই ওই সাপ খোপ।
দুইজন আছি ভয় করবেন না।
অন্য ভয় নয়, তবে সাপের কথা আলাদা। এবার মোরশেদ হো হো করে হেসে ওঠে। এখন আর ভয়ের কারণ নেই। পেছনের ডাকাতদল অনেক দূরে ফেলে এসেছি। ....
( কৈফিয়ত: প্রিয় পাঠক, পুরো গল্পটি এ পোস্টে ধরেনি। আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে বাকিটা আলাদা করে পোস্ট করব। নতুবা এভাবেই উহ্য থাকবে-কাফি কামাল)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১০ রাত ২:৪৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×