somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিপিএল কাণ্ডের পর তাঁরা তিনজন অথবা দুইজন চট্টগ্রামবিদ্বেষী ঘরের ইদুর

০১ লা মার্চ, ২০১২ বিকাল ৪:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিপিএল কাণ্ডের পর তাঁরা তিনজন
বিপিএল সেমিফাইনালে বরিশালের খেলা এবং চট্টগ্রামের বাদ পড়া নিয়ে যে কাণ্ড হলো তার দায় নিতে হবে তিনজনকে। বোর্ড সভাপতি হিসেবে আ হ ম মোস্তফা কামাল, গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান গাজী আশরাফ এবং সদস্য সচিব সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরকে। কিন্তু শেষের জন প্রথম দুজনের বিপক্ষে মারাত্মক দুটি অভিযোগ তুলে পুরো নাটকটাকে দিয়েছেন অন্য মাত্রা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী বোর্ড সভাপতি একটি নির্দিষ্ট দলের সমর্থক বলে তাদের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে চেয়েছেন! গভর্নিং কাউন্সিল প্রধান বাইলজের যে ব্যাখ্যা (যেটা আসলে সঠিক ব্যাখ্যা) দিয়েছেন সেটা একান্তই তাঁর নিজস্ব মত। বোর্ড সভাপতি এবং টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান তাঁদেরই সতীর্থের কাছে এরকম প্রশ্নবিদ্ধ হলে ক্রিকেট প্রশাসনের অস্তিত্বটা ঠিক কিভাবে থাকে সেটা একটা প্রশ্ন। তাঁদের তিনজনের সঙ্গে কথা বলে এটারই ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা।
///////////////////

সভাপতি মনে করেন সবাই বড় বেশি কথা বলে!
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের নেতা হিসেবে আছেন সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। তবে কথিত আছে অঘোষিত আরেকজন 'মাথা'ও আছেন বোর্ডে। অবশ্য গতকাল বিসিবি সভাপতির মন্তব্যে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, পুরো পরিচালনা পর্ষদই নিয়ন্ত্রণহীন। যাঁর যা খুশি বলতে পারেন। যেমনটা মঙ্গলবার সন্ধ্যার প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন বিসিবি পরিচালক এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সেক্রেটারি সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। যিনি ব্যবধানে বিসিবি সভাপতি এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যানের মন্তব্যকে বিরাট ভুল এবং বিশেষ কোনো দলের প্রতি সমর্থনপুষ্ট বলে মনে করেন।
বিসিবি সভাপতি হয়ে বিপিএলের বিশেষ কোনো দলকে সমর্থনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আ হ ম মোস্তফা কামাল। তাই বলে বিপিএল সেক্রেটারির বিষোদগার করেননি তিনি। উল্টো সোমবার রাতে বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে 'ধান ভানতে শিবের গীত' গেয়েছেন বিসিবি সভাপতি, 'বরিশালের একজন সমর্থক ফোন দিয়েছিলেন। তাঁকে সন্তুষ্ট করার জন্য বলেছি যে আমিও আপনার মতো একজন বরিশালের সমর্থক। তাঁকে বলেছি বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য এসেছে। এসব বোর্ডের তথ্য নয়। বোর্ড যা বলবে সেটাই চূড়ান্ত। বোর্ডের যদি সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে বরিশাল বাদ, তাহলে আমারও মন খারাপ। এবার যা হয় ভবিষ্যতে ভালো করার চেষ্টা করেন। এ কথায় কী মনে হয় আমি বরিশালের সমর্থক?' আলমগীর তাঁকে বরিশালের সমর্থক মোটেও মনে করেননি। বরং ওই অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি পরোক্ষে চট্টগ্রামের সেমিতে ওঠার পক্ষে যুক্তি দেওয়ার প্রেক্ষিতেই 'বোর্ড সভাপতি হয়তো কোনো দলের সমর্থন করেন বলেই...।' যে মন্তব্যের অর্থ, বোর্ড সভাপতি চট্টগ্রামের সমর্থক।
সেটি পরিষ্কার করে বোঝানোর পর আ হ ম মোস্তফা কামাল সেই দর্শকের মতো সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের প্রতিও সমব্যথী। পরোক্ষে আ হ ম মোস্তফা কামালের তীর মিডিয়ার দিকে, 'উনি (আলম) কি বলছেন আমি জানি না। ওই দর্শক যাতে মন খারাপ না করেন, এ জন্য আমি ওইভাবে বলেছি। এখন আমাকে জড়িয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে আমাকে বিতর্কিত করার জন্য।' আশ্চর্য! পদাধিকার বলে আ হ ম মোস্তফা কামাল দায়িত্ব নিয়ে যে কোনো ইস্যুতে মন্তব্য করার অধিকার রাখেন! কিন্তু বোর্ডের 'পাওয়ার গেম'-য়ে পশ্চাদপদ বোর্ড সভাপতি নিজের মন্তব্যের পাল্টা শুনেও নীরব! একেবারে নীরব, তা বলা যাবে না। কারণ একই বিতর্ককে ঘিরে সম্পূরক প্রশ্নে বিসিবির পুরনো একটি 'ক্ষত' ধরিয়ে দিয়েছেন আ হ ম মোস্তফা কামাল, "কথা বলার বিষয়ে আমি এ পর্যন্ত ডিসিপ্লিন আনতে পারি নাই। কথা বলায় আমাদের সংযত হওয়া উচিত। আমি দেখলাম কথা না বলাদের মধ্যে বেস্ট পারসন ছিল মুশফিক, যে কথা বলত না, ইদানীং সে-ও বলা আরম্ভ করেছে। আমরা সবাই হলাম 'আবুল কালাম'। সবাই 'আবুল কালাম' হয়ে গেছি।"
'আবুল কালাম' না কি হয়েছেন বোর্ড পরিচালকরা, সেটি তাঁদের বিষয়। কিন্তু সকাল-সন্ধ্যা এটা-ওটা বলে ক্রিকেট অনুরাগীদের বিভ্রান্ত করার অধিকার কি তাঁরা রাখেন? বিসিবি সভাপতি কিংবা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যানের বক্তব্য যদি 'বেসরকারি' হয়, তাহলে প্রটোকল অনুযায়ী বিসিবি পরিচালক এবং বিপিএল কমিটির সেক্রেটারির বক্তব্য কি করে 'সরকারি' ভাষ্য হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলার আগে ক্রিকেট অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা সামান্যই।
////////////////////

নিজের বর্ণিল ব্যক্তিত্বেরই তো অমর্যাদা করলেন লিপু
ক্রীড়া প্রতিবেদক : গাজী আশরাফ হোসেন কোনো কথা বলবেন না তাঁর ওপর দিয়ে এত ঝড় বয়ে যাওয়ার পরও। বাইলজের চুলচেরা বিশ্লেষণে তিনি সঠিক পথে থাকা সত্ত্বেও।
গাজী আশরাফ হোসেন পদত্যাগও করবেন না। ক্রিকেটাঙ্গনের অপরিমেয় শ্রদ্ধার আসনে থাকার পরও। সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজেকে 'বিলিয়ে' দিয়ে সেই শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়ানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও।
তাহলে? ব্যাপারটি ব্যাখ্যার একটি উপায়ই আছে- দুঃখজনক। গাজী আশরাফ হোসেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরন্তন দুঃখগাথার আরেকটি অধ্যায় হয়ে রইলেন কেবল। বুঝিয়ে দিলেন, খেলোয়াড়-অধিনায়ক-ম্যানেজার-সংগঠক হিসেবে বর্ণিল অতীত থাকার পরও, শেষ পর্যন্ত বিপিএলের 'বলি' হতে হলো তাঁকে। ঝলমলে অতীতের বিপরীতে জাজ্বল্য বর্তমানে তিনি রয়ে গেলেন বিপিএলের গাজী আশরাফ।
বিপিএলের বাইলজ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এমন 'গ্যাঁড়াকল'-এ ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক। পরশু বিকেলে প্রেসবক্সে এসে তিনিই সাংবাদিকদের বুঝিয়ে গিয়েছিলেন কিভাবে বরিশাল বার্নার্স নয়, চিটাগাং কিংস খেলবে সেমিফাইনাল। ঘণ্টা কয়েকের ব্যবধানে পাল্টে গেল গণেশ। বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির মিটিংয়ে বাইলজের ভুল ব্যাখ্যা-অপব্যাখ্যায় বাতিল করে দেওয়া হয় গাজী আশরাফের 'রায়'। সভায় খুব করে লড়েছিলেন তিনি। একাই। কিন্তু পারেননি। বরিশাল শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে খেলায় পুরো দেশেই 'হাস্যকর' বনে যান গাজী আশরাফ। দলগুলোকে এমনকি সাংবাদিকদেরও বাইলজ পাঠের যে সবক দিয়েছিলেন, সেটি বুমেরাং হয়ে ফেরে তাঁর দিকে। বাইলজ যে তিনিই পড়েননি। অথবা পড়লেও সেটি বোঝেননি। অতএব, গাজী আশরাফের ক্রিকেটজ্ঞানও প্রশ্নবিদ্ধ!
এই যে এত কিছু হয়ে গেল, এর পরও তিনি নীরব। নিজের ভুল স্বীকার করে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে পারেননি। সেই সাহস দেখাতে পারেননি খেলোয়াড়-অধিনায়ক-ম্যানেজার হিসেবে একদার অকুতোভয় এই চরিত্র। পারতেন পদ ছেড়ে দিতে। অতীতে তো তেমনটি করার দৃষ্টান্ত আছে গাজী আশরাফের। ১৯৯৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসের পর কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন স্বেচ্ছায়। এবারও যদি তাঁকে 'হাস্যকর' বানানোর প্রতিবাদে বিপিএল গভর্নি কাউন্সিল চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিতেন, তাহলেও টুর্নামেন্ট চলত ঠিকই। কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতে পারতেন গাজী আশরাফ। সবার সামনে প্রমাণ করতে পারতেন, যেনতেনভাবে পদ আঁকড়ে থাকার চেয়ে অনেক উচ্চে তাঁর অবস্থান।
চিটাগাং কিংসকে যেভাবে সেমিফাইনাল খেলা থেকে বঞ্চিত করা হলো, সেটি হয়তো তাঁকে পোড়াবে বেশি করে। কারণ এখন যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, এখন যতই তাঁকে 'বলির পাঁঠা' বানানো হোক- সত্যটা তিনি ভালোই জানেন। ততটুকু ক্রিকেটজ্ঞান নিশ্চয়ই আছে তাঁর। আর বাইলজ? টেকনিক্যাল কমিটির ওই রাতের সভায় উপস্থিত সূত্র নিশ্চিত করেছে, সেটি নিয়ে অরুণ লালের উদ্ধৃতি। 'এটি ভুল বাইলজ, নিয়মকানুন ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে'- স্পষ্ট করেই বলেছেন ভারতের এ সাবেক ক্রিকেটার। তো বাইলজ যদি ভুল হয়, তাহলে তো টুর্নামেন্টের অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ। এ-ও জানা গেছে যে শেষ পর্যন্ত বাইলজ দিয়ে কোনো গতি না হওয়ায় আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব কথা মিডিয়ায় খোলাখুলি বলতে পারতেন গাজী আশরাফ। বলছেন না। চারপাশে কাদের নিয়ে বিসিবিতে তাঁকে দিন কাটাতে হয়, কিভাবে, কোন ইশারায়, কাদের অঙ্গুলি হেলনে রাত-দিন সব এলোমেলো হয়ে যায়- সেটি প্রকাশে ভয়ডরহীন হতে পারতেন তিনি। হলেন না। বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার-অধিনায়ক-ম্যানেজার হয়ে রইলেন বিসিবি অফিসে নানা ধান্ধায় ঘোরাঘুরি করা আর দশটা সংগঠকের মতোই। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হওয়া সূত্রে সংগঠক গাজী আশরাফ হোসেনের 'এপিটাফ'-এ লেখা থাকল কেবল এটিই।
/////////////////////
নিজের কথায় অটল আলমগীর
ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর কথা গায়ে মাখছেন না বিসিবি প্রেসিডেন্ট আ হ ম মোস্তফা কামাল। বরং যেন খানিকটা সহানুভূতিই ঝরল তাঁর কণ্ঠে, 'আলমের কথা এখন ধরা যাবে না। ও খুব চাপে আছে। ১৮ ঘণ্টাই তো পরিশ্রম করে যাচ্ছে।'
আর গাজী আশরাফ তো কিছু বলবেনই না। নীরবতা যে সব সময় হীরণ্ময় নয়, সেটি হয়তো ভুলে বসে আসেন তিনি। তাঁর এই নীরবতার অনুবাদ হচ্ছে, অনুমোদন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যা বলে গেলেন টুর্নামেন্ট সচিব, সেটিই সত্য!
কিন্তু এসব যদি হবে, তাহলে আর বাংলাদেশ ক্রিকেট কাঠামো ঠিক থাকে কী করে! সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের কথায় যে অর্থহীন হয়ে যায় সব। বিপিএল নিয়ে বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং বিসিবি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য তাঁদের 'ব্যক্তিগত মত' হলে অফিশিয়াল আর কী! আনুষ্ঠানিকভাবে এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় পদটি বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যানের, আর বিসিবি প্রেসিডেন্ট তো বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই সবচেয়ে বড় নিয়ন্তা। সেই তাঁদের কথাই এমন খেলো!
সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের কথায় যুক্তি আছে। আগের দিন মিডিয়ায় বলা বক্তব্যে এখনো অটল তিনি, 'আমার কথা যদি ভুল হতো, তাহলে কিন্তু সেমিফাইনালে চিটাগাং কিংসই খেলত। তা তো হয়নি। এ কারণেই আমি বলেছি যে, ওনাদের কথাগুলো ছিল ব্যক্তিগত মত।' আগের দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আলমগীর খণ্ডন করেছিলেন এই দুই ঊর্ধ্বতনের বক্তব্যকে। গাজী আশরাফ প্রেসবক্সে এসে জানিয়ে গিয়েছিলেন, বাইলজ অনুযায়ী চিটাগাং কিংস খেলবে সেমিফাইনালে। রাত সাড়ে ১২টায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি প্রচারিত টক শোতে মোস্তফা কামালও বলেছিলেন অভিন্ন কথা। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর রাতের আঁধারে বাইলজের গোঁজামিল ব্যাখ্যা দিয়ে বরিশাল বার্নার্সকে তুলে দেওয়া হয় সেমিতে। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে চিটাগাং কিংস। আর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তোপের মুখে পড়া আলমগীর ওই 'ব্যক্তিগত মত' তত্ত্বে প্রমাণ করতে চান তাঁদের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা। কিন্তু বিসিবি প্রেসিডেন্ট ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মত যদি ব্যক্তিগত হয়, তাহলে আর ক্রিকেট প্রশাসনের কাঠামোর 'চেইন অব কমান্ড' থাকে কোথায়!
ধেয়ে আসা সমালোচনার বিষাক্ত তীরগুলো পরশু থেকেই সামলাতে হচ্ছে আলমগীরকে। হঠাৎই যেন বিপিএলের মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠলেন তিনি। চট্টগ্রামের এই সংগঠক টেকনিক্যাল কমিটিতে থাকার পরও কিভাবে চট্টগ্রামের প্রতি 'অন্যায়' করা হলো, এ নিয়েও কম সমালোচনা সইতে হচ্ছে না তাঁকে। তবে বিপিএলের সেক্রেটারি হিসেবে নিজেকে আঞ্চলিকতার গণ্ডির বাইরেই রাখছেন তিনি, 'চট্টগ্রাম এভাবে বাদ পড়ায় আমারও খারাপ লেগেছে। কিন্তু আইন যদি বলে তারা বাদ, তাহলে আর কী করা?' সেই বাইলজের আইনকে আশ্রয় করেই দেশে প্রচলিত আইনের দ্বারস্থ হয়েছে চিটাগাং কিংস। ব্যাপারটিকে আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করবে বিপিএল কর্তৃপক্ষ। তবে এসব ঝামেলার পরও বিপিএল শেষ করতে পারার তৃপ্তি আলমগীরের, 'আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল টুর্নামেন্টটি শেষ করা। সেটি করতে পেরেছি। হ্যাঁ, কিছু ঝামেলা তো হয়েছেই। সেগুলো হয়তো এড়ানো যেত। কিন্তু প্রথম আসরে এসব নানা সমস্যা হয়ই। দেখবেন, পরেরবার সমস্যা অনেক কমে যাবে।'
কিন্তু বিসিবি প্রেসিডেন্ট ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যানকে হাস্যাষ্পদ বানিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যাখ্যা আর পাওয়া যাবে না!
/////////////////
ফাইনালের আগে সারা দিন
টালমাটাল বিপিএল
ক্রীড়া প্রতিবেদক : সময়ের অনুপুঙ্খ হিসাবে মঙ্গলবার রাত ২টা ১৯ মিনিটে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার খবরটা আনুষ্ঠানিকভাবে জেনেছিল চিটাগাং কিংস। এর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর, গতকাল দুপুর ২টা ১২ মিনিটে হাইকোর্টের উদ্দেশে ছুটতে দেখা গেছে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনকে। যদিও চট্টগ্রামের আবেদনে সাড়া দিয়ে সন্ধ্যার ফাইনালের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেনি আদালত! তাদের স্থগিতাদেশের দাবি সকালে খারিজ করে দিয়ে ১৫ মার্চ অভিযুক্ত সাতজনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর উচ্চ আদালতে রিট করলেও ফাইনালের ওপর স্থগিতাদেশের আবেদনটি 'উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ' করে দেওয়া হয়েছে। আর তাই ফাইনাল আয়োজনে বাধা থাকেনি। আবহাওয়া পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে বিপিএল ফাইনালও উড়িয়ে দেয়নি ঝড়ো বৃষ্টি। তবে সেমিফাইনাল 'গোঁজামিল', চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে 'জুয়ার আসর' বলে দেওয়া কিংবা আয়োজনের অব্যবস্থাপনা দেখে মুশফিকুর রহিমের সত্যভাষণে গতকালও টালমাটাল ছিল বিপিএল।
চতুর্থ সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ নিয়ে অভাবিত বিতর্কের তৃতীয় দিনের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। আগের দিন তাঁর চিটাগাং কিংসকে সেমিফাইনালে তুলে দেওয়াকে যে ভাষায় ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন গভর্নিং কাউন্সিলের সেক্রেটারি সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, প্রকারান্তরে তা অপমানসূচকই। অব্যবস্থাপনার দায় তো আছেই। সঙ্গে সে অপমানের জ্বালায় না পদত্যাগ যদি করে বসেন বিপিএল চেয়ারম্যান! দুপুর ১২টার দিকে সে সংশয়ের অবসান। স্টেডিয়ামে ঢুকেই সোজা ফাইনালের উইকেটের ওপর গাজী আশরাফ। মাঠকর্মীদের সঙ্গে আলাপের পর অবশ্য জমকালো বিপিএল অফিসে যাননি তিনি। গিয়ে বসেন বিসিবির সহ-সভাপতি আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববির অনানুষ্ঠানিক কিন্তু 'নির্ধারিত' চেয়ারে। মজার ব্যাপার হলো, বোর্ড রাজনীতির শিকার না হলে বিপিএল কমিটির চেয়ারম্যান হতেন ববিই।
তো, সে চেয়ারে বসে বিপিএল ফাইনালকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন গাজী আশরাফ। মনের মেঘ আড়াল করে আলমগীরের করা মন্তব্যের পাল্টা দিতে আপাতত অস্বীকৃতিই জানিয়েছেন তিনি, 'খেলা চলছে। খেলা শেষ হোক।' বিপিএল শেষ হওয়ার পর এর প্রধান কী জবাব দেবেন, তা সময়ই বলবে। গাজী আশরাফের তাৎক্ষণিক ব্যস্ততাজুড়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, 'সন্ধ্যায় নাকি ঝড়ো বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। গতরাতেও তো বৃষ্টি হয়েছে।' এদিকে টেলিফোনে উচ্চ আদালত নতুন কোনো নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না, আর টিকিটের জন্য নিরন্তর অনুরোধের ফোন তো আছেই। সব মিলিয়ে বিপিএল বিতর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে উৎসাহ দেখাননি গাজী আশরাফ।
একটু দূরের রুমেই তখন উপস্থিত বোর্ড সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। টিভিতে যাঁর মন্তব্যকে প্রকারান্তরে একজন সমর্থকের প্রত্যাশা বলে মনে করেন আলমগীর। একজন সভাপতি নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক হতে পারেন না বলেও বিপিএল সচিবের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি থেকে শতহস্ত দূরত্ব বজায় রেখেছেন বোর্ড সভাপতিও, 'আমরা সবাই সব কথা বলতে পারি। কারণ আমরা তো কারো চাকরি করি না। আলম যা ইচ্ছে তাই বলতে পারেন, কারণ তিনি প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন। ওনার কোনো কথা ধরা যাবে না। কারণ উনি এখন প্রেসারে আছেন।' প্রবল কাজের চাপেই এমন মন্তব্য করেছেন আলমগীর। সে চাপের কারণেই তাঁর মন্তব্যকে 'ক্ষমাসুলভ' দৃষ্টিতেই দেখছেন বিসিবি প্রধান। তবে এটা নিশ্চিত যে বোর্ডের ভাষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানছেন না খোদ বোর্ড পরিচালকরাই। সেখানে মুশফিক তো শুধু চুক্তির শর্তানুযায়ী বেতন না পাওয়ার হতাশাই ব্যক্ত করেছিলেন। বারবার প্রতিপক্ষ বদলানোর প্রভাব যে ম্যাচ পরিকল্পনায় ফেলে, সেটি কে না জানে? কিন্তু ক্রিকেটারদের সত্যভাষণে সমস্যা আছে। তাই মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে মুশফিকুর রহিমের 'সত্যভাষণ' পরবর্তী বোর্ড সভার আলোচনায় থাকবে নিশ্চিতভাবেই। তবে সে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মুশফিকের অধিনায়কত্ব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আরো অনিশ্চিত ক্রিকেটারদের প্রাপ্য বুঝে পাওয়া। আইপিএল কিংবা বিগ ব্যাশ-য়ে এ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ড। বিপিএল যাত্রাও শুরু করেছিল একই আদলে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিই হয়নি বিসিবির! স্রেফ মুখের কথায় খেলোয়াড়দের পাওনা বুঝিয়ে দিবে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা, এর নিশ্চয়তা কি? এদিকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, চিটাগং কিংস তো টুর্নামেন্টটাকেই 'জুয়ার আসর' বলে দিয়েছে। যার বিরোধিতা করে ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার ঘোষণা দিয়েছেন আ হ ম মোস্তফা কামাল, 'এ রকম হলে ভবিষ্যতে আমাদের অন্যভাবে ভাবতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিও নিতে হবে যাচাই-বাছাই করে। ক্রিকেট বোর্ডেরও দায়িত্ব ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ক্রিকেটে কতটা অবদান, সেটা দেখা। অতীত দেখা দরকার ছিল আমার। ক্রিকেট বোর্ডকে আমি অবহিত করব, ক্রিকেটের সঙ্গে যে বা যারা সম্পৃক্ত হতে চায়, তাদের যেন দেখেশুনে নেওয়া হয়। তারা যদি কোর্টে নিয়ে যায়, তাহলে ক্রিকেট বোর্ডও তো তাদের নিজেদের মতো করে চিন্তা করতে পারে।'
ক্রিকেটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রেতার ক্রিকেট সংশ্লিষ্টতা কিংবা অতীত যাচাই-বাছাইয়ের ওপর আজ যিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় বেসরকারি একটি ব্যাংকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে নিজ দলের অন্দরমহলে বিস্তর সমালোচিত হয়েছিলেন সেই বোর্ড সভাপতিই। আসলে ক্রিকেটে টাকাটাই সব। আর বিপিএলের মতো আসর মানে তো একটু নাচ, অনেকগুলো গ্যালারির মুখ এবং বৈধ-অবৈধ উপায়ে উপার্জনের ফাঁকে এক-আধটু ক্রিকেট।
এমন আবহে আর যা-ই হোক, ক্রিকেট উন্নতির সম্ভাবনা খুঁজতে যাওয়া বৃথা। একদা সুপার-ডুপার হিট বেদের মেয়ে জোৎস্নার কথা মনে আছে?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×