মোবাইলে ছবি এবং তারপর.......
১৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ৯:৩৩
একটি ভিন্ন অথচ দরকারী প্রসঙ্গে অল্প কিছু কথা বলব, আমাদের সমাজ এখন ছবির সমাজ। প্রায় সবার কাছেই ক্যামেরা এবং পকেটে পকেটে মোবাইল ক্যামেরা রয়েছে, প্রতি নিয়ত আমরা ছবি তুলছি। নিজেদের ছবি, প্রিয়জনদের ছবি বা ভালোবাসার ছবি। দূর্বল বা অসতর্ক অনেক মূহুর্তের অনেক ছবি আমরা মোবাইলে তুলে ফেলি। সেইসব অসতর্ক ছবি কোন ভাবে অসৎ কারো হাতে পড়লে খুবই বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশেষত মেয়েদের জন্য। এক্ষেত্রে কিছু জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে,
** ছবি ডিলিট করে দিলেই সেটি মুছে যায় না, খুব সহজেই আপনার ডিলিট করা ছবি ডাটা রিকভারি সফটওয়ার দিয়ে ফিরিয়ে আনা যায়। একেবারে মুছে ফেলতে হলে কার্ড বা মেমরি অন্তত ফরম্যাট করে ফেলা ভালো।
** আপনার ফোন বা ক্যামেরা সারাতে দেবার সময় বা বিক্রি করে ফেললে মেমরী কার্ডটি না দেওয়াই উচিত। দিলেও ফরম্যাট করে দিন।
** ফোন মেমরীতে ছবি না তুলে মেমরী কার্ডে ছবি তুলে রাখাটা কিছুটা নিরাপদ।
** কোন অবস্থাতেই স্পর্শকাতর ছবি ইমেইল, MMS করবেন না। প্রাপক ছাড়াও অনেকে ছবিটি দেখতে পারবে ( সার্ভারের কারনে )
** মোবাইলে স্পর্শকাতর ছবি না তোলাই নিরাপদ, এরকম একটি মোবাইল ছিনতাই হয়ে টেলিভিশনের এক তারকা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।
** প্রিয় মানুষটির মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হয়ে কখনই কোন স্পর্শকাতর ছবি তুলবেন না। নানান কারনে, এমনকি প্রিয় মানুষটির অনিচ্ছা সত্বেও আপনার ছবিটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
** Web Cam এ অসর্তক থাকবেন না।
আশা করি আপনারা ছবির ব্যাপারে সাবধান হবেন এবং আমার সাম্প্রতিক রোগীনির মত এক মুহুর্তের ভুলে একটি ছবি তুলে ভয়াবহ দুঃশ্চিন্তায় থেকে অবশেষে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া থেকে বেচে থাকবেন।
পাঠকরা এই প্রসঙ্গে আরো কোন টিপস থাকলে জানান প্লিজ। ছবির তোলার সাবধানতার বিষয়গুলি দয়া করে আপনার প্রিয়জনদের জানিয়ে সচেতন করুন।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
স্বপ্নকথক বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। এমন কোন ছবি পিছিতে না রাখাই উত্তম।
অবয়ব বলেছেন:
বেশ ভাল বিষয় সামনে এনেছেন।বিশেষ করে ওই ছিনতাইয়ের মত ব্যাপার আমার এক পরিচিত লোকের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। তার বউএর সাথে ভিডিও ও ছবি ছিল মোবাইলে। ছিনকাইকারীরা শুধু মোবাইল নিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, পরে ওই ছবি নিয়ে ব্লাক মেইলের চেষ্টাও চালিয়েছিল।
কম্পিউটার সারাতে দিলে, অথবা মেমোরী কার্ডে গান, ভিডিও, রিং টোন যারা ঢুকাতে যায়, তাদের ক্ষেত্রেও এভাবে ছড়ায়।
শুধু স্পর্শকাতর ছবি নয়, সাধারণ ছবিও সবাই দেখতে পারে যেমনঃ ফেসবুক, হাইফাইভ এমন জায়গায় উন্মুক্ত দেয়া উচিত না। কারণ এসব ছবিও কেউ বাজেভাবে সম্পাদনা করে সম্মানহানীর চেষ্টা করতে পারে। কাজেই Account এর প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ে ভাল ভাবে জেনে এসব প্রোফাইল সেট করা উচিত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
সাইফুর বলেছেন:
কিছুটা সাবধানতা প্রয়োজন
খালেদ সময় বলেছেন:
খুব ভালো একটি লেখা দিয়ে সবাইকে কিছু বেখেয়ালি বিষয় খেয়াল করে দেবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার লেখাটি পড়ার পড় আজকের আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত এমনি একটি সংবাদের কিছু তথ্য পাঠকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেয়াটা দায়িত্ব মনে হলো। সংবাদের শিরোনামটি ছিলো এমন মোবাইল পর্ণোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।সাপ্তাহিক-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিশোর-কিশোরীরাই মূলত পর্নো ছবির প্রধান ক্রেতা। শুধু পর্নো ছবি দেখাই নয়, অজান্তে এসব কিশোর-কিশোরী পর্নো ছবির কুশিলবও হয়ে যাচ্ছে। এর পেছনেও রয়েছে সিন্ডিকেট। দেশ ও দেশের বাইরে বসে এই সিন্ডিকেট কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মিডিয়াতে নায়িকা বানানোর একধরনের পুরনো ফাঁদ। এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে হয়ে যাচ্ছেন পর্নো ছবির নায়িকা। এর পরিণতিতে অনেকের ভাগ্যে জুটছে পতিতার জীবন।
বাড়ছে ধর্ষণসহ নানাধরনের সামাজিক অপরাধ। এই অপরাধ কেবল কঠোর কোনো আইন দ্বারা রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। ধর্ষকরা ধর্ষণ করার সময় ভিডিও করছে। তারপরে ছেড়ে দিচ্ছে বাজারে। তারপর ক্রমেই বিষয়টি ব্যাপকতা পেতে থাকে। অনেক স্কুলপড়-য়া ছেলেমেয়েরাও শখের বসে নিজেদের নগ্ন দৃশ্য নিজেরা ধারণ করে। বন্ধুদের হাতে ঘুরে তা চলে আসে জনসমাজে। গোপন ক্যামেরায় গোপন দৃশ্য ধারণ করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। এই অবস্থায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে মোবাইল ক্যামেরা। মোবাইল ক্যামেরা এখন খুবই সহজলভ্য। তিন-চার হাজার টাকা দামের মোবাইল সেট দিয়েও এখন ছবি তোলা এবং ভিডিও করা যায়।
রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজায় মোবাইল পর্নো ছবির সর্ববৃহদ মার্কেট গড়ে উঠেছে। এখানকার ৯৫টি মোবাইল ফোনের দোকানের মধ্যে অধিকাংশ দোকানেই পর্নো ছবি আপলোড করা হয়। এই দোকানগুলোতে মোবাইল সেট বিক্রির পাশাপাশি পর্নো ছবি আপলোডের ব্যবসাও হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। দেশি-বিদেশি দুই ধরনের পর্নো ছবিই আপলোড করা হয় এখানে। বিদেশি পর্নো ছবি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা হয়। আর দেশি পর্নো ছবি বাইরে থেকে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন দোকানিরা।
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। চমৎকার মন্তব্য।
আরেফিন জিটি বলেছেন:
চমৎকার পোস্ট।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















