somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন থেকে নেয়া (3)

২৯ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাঁচ
.........................
পার্টি ভালো লাগে না কামালের।এদের সংস্কৃতিটা বড্ড আলাদা। পার্টি মানেই গলা পর্যন্ত মদ খেয়ে পাঁড় মাতাল হওয়া ও মেয়েদের সাথে নাচানাচি করা। কামাল কোনটাই পারে না। বছরের পর বছর গড়ে ওঠা বাংলাদেশি সত্ত্বাটা চট করে বিসর্জন দেয়া যায় না। দেশে বন্ধু-বান্ধবদের মদ খেতে দেখলেও কামালের এসব জিনিসের প্রতি কখনই কোন আকর্ষন ছিল না। তাই আজকে জ্যাকের জন্মদিনের বারবি কিউ পার্টিতে একখানা স্টেক, একটা সসেজ রোল, কিছু সালাদ ও কোকাকোলার ক্যান নিয়ে লনের এক কোনায় বসে নিজের অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা ভাবছিল কামাল। ও সাধারনত এ ধরনের পার্টিতে আসতে চায় না। কিন্তু ডেভিডের বাড়াবাড়ির জন্য আজ আসতে হয়েছে। কামাল ভালোমতই জানে ডেভিড কেন ওকে নিয়ে এসেছে। ডেভিড জানে কামাল মদ খায় না। তাই পার্টি শেষে কামাল ওকে ড্রপ করে দিতে পারবে বাসায়। সবাই ধান্ধাবাজ, মনে মনে ভাবছিল কামাল।

কামালের কাছে এগিয়ে আসে জেনিফার, ডেভিডের গার্লফ্রেন্ড ও সহকর্মী।

জেনিফার: হাই কামাল। কেমন আছ?
কামাল: এই তো ভাল। তুমি কেমন আছ?
জেনিফার: মন্দ না। একা এখানে বসে আছ যে?
কামাল: এমনি। ডিনার করছি। তাছাড়া আমি ড্রিংকার নই। তাই নিরিবিলিতে বসে ছিলাম। ডেভিড কোথায়?
জেনিফার: আছে আশেপাশে কোথাও মনে হয়।
কামাল: তুমি এখানে কেন?
জেনিফার: না তোমাকে একা থাকতে দেখে আসলাম।
কামাল: কিছু বলবে?

একটু ইতস্তত করে জেনিফার।

জেনিফার: হ্যাঁ, একটা কথা বলার ছিল।
কামাল: বলে ফেল। আমার কান খোলা।
জেনিফার: না...মানে সুসানকে তো তুমি চেন?
কামাল: কোন সুসান? কাস্টমার সার্ভিসের?
জেনিফার: হ্যাঁ
কামাল: কি ব্যাপার বলত? কি হয়েছে?
জেনিফার: দেখ কামাল সুসান তোমাকে পছন্দ করে। ও বেশকিছুদিন ধরে আমাকে বলছিল তোমাকে ব্যাপারটা বলতে। কিন্তু আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না। তোমার কালচার আলাদা। তাছাড়া তোমার নিজেরও মতামত আছে। তাই...।
কামাল: হুমমম.......।
জেনিফার: দেখ, সুসান খুব ভালো মেয়ে। দেখতেও সুন্দর। আমার স্কুলের বন্ধু। আমি খুব ...........

জেনিফারকে থামিয়ে দিয়ে কামাল বলে "জেনিফার , আমি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে চাই না। পরে তোমাকে জানাব। "
জেনিফার: ওহ...।

জেনিফার উঠে দাঁড়িয়ে বলল "দেখ চিন্তা করে। এখনই কিছু বলার দরকার নেই।" জেনিফার মেয়েদের জটলাটার দিকে এগিয়ে যায়। কামাল একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়। সে ভালমতই জানে সুসান ওই জটলা থেকে ওকে দেখছে। স্টেকটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। ডাস্টবিনে প্লাস্টিকের প্লেটটা ফেলে দিয়ে সামনের টেবিলে রাখা খাবারের স্তুপের দিকে এগিয়ে যায় কামাল। ফ্রি খাবার খেতে কার না ভালো লাগে?

ছয়
...................................

জাকিরের খুব অসহ্য লাগছে। মিলি মাঝে মাঝে অবুঝ হয়ে যায়। আর মেয়েটা তখন কিছই বুঝতে চায় না। আজকে মিলি আসাদকে বলবে জাকির ও তার সম্পর্কের কথা। এজন্য মিলি জাকিরকে ডেকে এনেছে সন্ধ্যাবেলায়। আজ কাজের জন্য বাইরে যায়নি আসাদ। কিছুক্ষনের মাঝেই ফেরত আসার কথা। জাকির খুব অস্বস্তিতে আছে। মিলি তাকে একপ্রকার ধোঁকা দিয়েই নিয়ে এসেছে। মিলি যে আজকেই একথা আসাদকে জানাবে তা জাকির জানত না। অন্যান্য দিনের মত ফোন পেয়ে সে ভেবেছিল আসাদ হয়ত আজকে রাতে আসবে না , তাই তাড়াহুড়া করে সে চলে এসেছে। এজন্য অবশ্য নিজেকেও সে আংশিক দায়ী মনে করছে কারন সে নিজেও তখন মিলিকে জিজ্ঞাসা করে নি কেন এই জরুরী তলব।

জাকির: দেখ, মিলি আমার চলে যাওয়া উচিৎ। এটা তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার।
মিলি: কেন? নিজের দায়িত্ব এড়াতে চাইছ?
জাকির: না। তা কেন? কিন্তু ব্যাপারটা ভেবে দেখ। তোমরা দু'জন মন খারাপ করবে, আর আমি মাঝে কাবাবে হাড্ডি হয়ে থাকব।
মিলি: কাবাবে হাড্ডি হবে কেন? তুমিও তো বিষয়টির জন্য দায়ী।
জাকির: এটা তুমি কি বলছ ? আমি দায়ী হব কেন?
মিলি: না এখন তো বলবেই। পুরুষ মানুষ সব এক। কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না।
জাকির: এতে দায়িত্ব নেয়ার কোন ব্যাপার জড়িত নয়। ব্যাপারটা মীমাংসার। তোমার ও আসাদের মাঝে সমঝোতার। আমি কি করব?
মিলি: চুপ করে বসে থাক। ঝামেলা ফুরালে কি আমি থাকব ভেবেছ? এক কাপড়ে মেয়েকে নিয়ে তোমার বাসায় চলে যাব।
জাকির: দেখ মিলি পাগলামি করবে না। আমার বাসায় আরেকটা ব্যাচেলর ছেলে থাকে। ওখানে তুমি কিভাবে থাকবে?
মিলি: কেন স্বামী-স্ত্রীর জন্য কি আলাদা ঘর লাগে?
জাকির: এটা সেই বিষয় নয়।আর তাছাড়া আমরা স্বামী-স্ত্রীও নই। মানুষজন কি বলবে বল?
মিলি: এখন তো মানুষজনের কথা বলবেই। এতদিন মানুষজনের ব্যাপারটা কোথায় ছিল?

ফোঁপাতে থাকে মিলি। জাকির কি বলবে বুঝতে পারে না।ড্রাইভওয়েতে গাড়ি থামার শব্দ। জাকিরের বুক কাঁপতে থাকে। সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে গেলে যে ভীষন সাহসের দরকার হয়, এটা জাকির বুঝতে পারে ।জাকির মিলির দিকে তাকিয়ে দেখে মিলি আর ফোঁপাচ্ছে না। অদ্ভূত এক দৃষ্টিতে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। জাকির মিলির সাহসের কিছুটা নিজের মাঝে আনার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু কেন জানি বুকের কাঁপুনিটা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

গাড়ির দরজা বন্ধ হবার শব্দ পায় জাকির। পায়ের আওয়াজটা আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। চোখের কোনা দিয়ে মিলি দেখতে পায় জাকির কেমন জানি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×