(1) প্রথমে আসা যাক, কিভাবে তাদের সংগ্রহ করা হত। একটা অংশকে ছল-চাতুরি করে নেয়া হত। জাহাজের ক্যাপ্টেনরা কখনও কখনও নিগ্রোদের জাহাজে আমন্ত্রণ জানাত ও তারপর তাদের আর ফিরে যেতে দিত না। কিন্তু এরচেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক কে জোরপূর্বক সংগ্রহ করা হত। খ্রিস্টানরা সাগরপাড়ে নামার পর পরই যত সম্ভব পুরুষ,মহিলা, বাচ্চাদের ধরে ফেলত ও আমেরিকায় পাচার করে দিত।1551 সালের দিকে ইংরেজরা ব্যবসা শুরু করে গিনিতে সোনা ও হাতির দাঁতের বিনিময়ে, পরবতর্ীতে তারা মানুষের বিনিময়ে ব্যবসা করা চালু করে। 1556 সালে স্যার জন হকিন্স দু'টো জাহাজ নিয়ে কেপ ভার্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ও সেখানে পৌঁছে 80 জনকে সমুদ্্রতীরে পাঠিয়ে দেন দাস ধরে আনার জন্য এই বলে যে "তাদের শহর পুড়িয়ে দাও ও মানুষদের ধরে আন।" কিন্তু টারার প্রবল বাধার সম্মুখীন হয় ও তাদের 7 জন মারা যায়, কিন্তু তারা 10 জন নিগ্রোকে ধরতে সক্ষম হয়। তাই তারা অন্যত্র যাত্রা করে , যখন পযর্াপ্ত দাস সংগৃহীত হয়, তখন তারা ওয়েস্টইন্ডিজে গিয়ে দাসদের বিক্রি করে।
(2) কিছুকাল পরে ইউরোপিয়ানরা আরও সহজ উপায় বের করে দাস সংগ্রহের জন্য। তারা বিভিন্ন গোত্রকে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উদ্্বুদ্ধ করত এবং যুদ্ধ শেষে বন্দীদেরবিক্রি করে দিতে উৎসাহ দিত।কিন্তু তখন পর্যন্ত কদাচিত যুদ্ধ হত ও পরিবেশটা বেশ শান্তিপূর্ণ ছিল।কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা নিগ্রোদের মদ ও লোভ নামক দুইটি জিনিস শিখিয়েছিল, যার ফলে তাদেরকে ভাড়া করে অন্যজনকে বিক্রি করাটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।এমনকি রাজারাও নিজেদের প্রজাদের বিক্রি করতে পিছুপা হত না। তাছাড়া কিছুসংখ্যক আদিবাসী ছিল যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের মানুষকে দাসত্বের শৃংখলে বন্দী করতে দ্্বিধাবোধ করত না।তারা রাতের অন্ধকারে লোকালয় থেকে একটু দূরের ঘরবাড়ি ঘেরাও করে মানুষ সংগ্রহ করত।এছাড়া অনেকসময় প্রতিবেশীরা ছোট বাচ্চাদের অপহরণ করত, বা রাস্তা, জঙ্গল বা ক্ষেতে কর্মরত মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসা হত।"
দাসব্যবসা নিষিদ্ধের 200 বছর পূর্তি হলো এবছর। 1807 সালে ইংরেজরা এই ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করে।কিন্তু পতর্ুগীজ ও স্প্যানিশরা এরপর আরও 50 বছর এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। বেদনাদায়ক এই ব্যবসাকে বর্ণবাদের হোতা হিসাবে অনেকে চিহি্নত করেন। 200বছর পূর্বে নিষিদ্ধ হলেও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ আজও পশ্চিমা দাসত্বের শৃংখল থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারে নি।
উপরের অংশটুকু অনুবাদ করেছি GBLvb থেকে। আগ্রহ ও সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। 1997 সালের স্টিভেন স্পিলবার্গের নির্মিত "Amistad" চলচিত্রটি দাসব্যবসার অনেক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


