আমার প্রিয় পোস্ট

স্মৃতিচারণ ও এলোমেলো ভাবনা। বেশিরভাগই জগাখিচুড়ি।

বেহুদা প্যাঁচাল (বিষয়: আমার ধর্মবেলা)

১০ ই মে, ২০০৭ ভোর ৬:২৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

ছোটবেলায় আমার বাসায় নামাজ-কালাম পালন করা নিয়ে তেমন বিধিমালা ছিল না। একটু একটু করে বড় হতে থাকলাম আর আস্তে আস্তে বিধিমালা আমার উপর অর্পণ হতে লাগল। শুরু হলো জুম্মার নামায দিয়ে। তখন ক্লাস ওয়ান কি টু তে পড়ি। আব্বার সাথে সাথে প্রতি শুক্রবার নামাযে যেতে হত। খুবই বিরক্ত লাগত। কারণ আব্বার অনুপস্হিতিতে শুক্রবারের ঐ এক ঘন্টা আমার জন্য ছিল দিনের সবচেয়ে আনন্দঘন সময়। তবে কিছুদিন পরে আবিষ্কার করে বসলাম আব্বার পাশাপাশি বসে লাভ নেই।কিন্তু একটু পিছনে বসলে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ফাজলামি করে ভালো টাইম পাস হয়।

একটু বড় হতে আনন্দের আরেকটা উৎস পাওয়া গেল। তা হলো শবে বরাত ও শবে মেরাজের রাত। মসজিদে সারারাত বন্ধু-বান্ধবদের সাথে থাকার মজাই আলাদা। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এটা আমার বাসায় গ্রহনযোগ্যতা পেল না। তাই মূল নামাযের পর আব্বার সাথে চলে আসতে হত আর পরের দিন খেলার মাঠে পোলাপানের কাছে কি কি মজা হয়েছে সারারাত তার ফিরিস্তি শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হত। এভাবেই চলছিল।

এসএসসি পরীক্ষার আগে কে যেন বলেছিল কোরআনে আছে "তোমরা যখনই বিপদে পড়বে, তখন এবাদতের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে"। কথাটা আমার বেশ পছন্দ হলো। টেস্টে টিটিপি (টেনে টুনে পাস) করায় বিশাল বিপদে ছিলাম। বাসা থেকে ছিল প্রচন্ড চাপ। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া শুরু করে দিলাম। নামায পড়ার কল্যানে হোক বা নিজের চেষ্টার বদৌলতে হোক চূড়ান্ত বিপর্যয় থেকে সে যাত্রা আমি রক্ষা পেয়েছিলাম। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছিল।

এ ঘটনার পর পরই সৃষ্টিকর্তার উপর আমার ভক্তি-শ্রদ্ধা হাজারগুন বেড়ে গেল। জুম্মার নামায তো বাদ দিতামই না। উপরন্তু আরও এডিশনাল নামায পড়া শুরু করলাম। আমার এই রূপ দেখে বাসার সবাই উল্টো ধারণা পোষন করা শুরু করল। তাদের ধারণা হলো আমার পরীক্ষা খুবই খারাপ হয়েছে। যার কারণে আমার এই দশা। মনে আছে যেদিন রেজাল্ট হয় সেদিন আম্মা বার বার বলছিলেন রেজাল্ট নিয়ে যেন সরাসরি বাসায় আসি। যা হবার হবে। কেউ কিছু বলবে না। রেজাল্ট নিয়ে অন্য কোথাও যাবার প্ল্যান আমার ছিল না কোন কালেই। যদিও আমার দুই বোন বরাবরই আমাকে বলত আমার রেজাল্ট নিয়ে নাকি রিকশায় আসা যাবে না, ট্রাকে আনা লাগবে।

এসএসসির আশাতীত ভালো রেজাল্ট আমার ধর্মজীবনে বেশ পজিটিভ একটা প্রভাব ফেলে। এরপর নামাযহীন অবস্হায় জীবনে আর কোন পরীক্ষা দেই নি। তাছাড়া ধর্মবিষয়ক পড়াশুনা যতটুকু আমি করেছি তার সিংহভাগ এসএসসির পর থেকে কলেজে ক্লাস হওয়া পর্যন্ত।

মানুষ সম্ভবত রেজাল্ট ওররিয়েন্টেড প্রাণী। আমার ক্ষেত্রে কথাটি আরও বেশি খাটে। আর একারণেই আমি যেকোন কাজ চেষ্টা করে কাছাকাছি যেতে না পরলে ছেড়ে দিই। "একবার না পারিলে দেখ শতবার" আমার অভিধানে নেই। আমার অভিধানে আছে "যার হয় না একবারে, তার হয় না হাজারবারে"।

(চলতে পারে)

 

 

  • ৭ টি মন্তব্য
  • ২৩৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই মে, ২০০৭ ভোর ৬:৫২
comment by: সাজেদ বলেছেন: হ্যা, মনে পড়ে গেল। আমরা বন্ধুরা মিলে আজিমপুর ছাপড়া মসজিদে (ছাপড়ার না) জুম্মার নামাজ পড়তাম, কখনো মিস করতাম না। সব সময় একদম পিছনে বসে আড্ডা মারতাম। হুজুররা হাজার ফতোয়া দিয়েও পিছনের গন্ডগোল বিরত করতে পারেনি। এখন অবশ্য খারাপ লাগছে ভেবে যে, অনেক নামাজীর বিরক্তের কারন হয়েছি। আর শবে বরাতের সারা রাত কলোনীর মাঠে, মসজিদে আড্ডা আর রুটি-হালুয়ার প্লেট সাজিয়ে বাসায় বাসায় (বিশেষ করে সুন্দরীদের বাসায়) যাওয়া। সব স্মৃতি।
২. ১০ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:২৩
comment by: এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন: আমার হয়েছিল উল্টোটা। মোটামুটি ভালই নামাজী ছিলাম। রেজাল্ট কখনোই খারাপ হোত না। কিন্তু এসএসসি হল খারাপ। ভয়টাই কেটে গেল। তারপর নামাজ পড়ে আর পরীক্ষা দেইনি। সববারই ভাল করেছি।
৩. ১০ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৪৫
comment by: শমশের আলম বলেছেন: কারো ৬০ পাইলে ভালো আর কারো ৯০ পাইলে খারাপ
৪. ১০ ই মে, ২০০৭ সকাল ৯:২০
comment by: যুঞ্চিক্ত বলেছেন: এস এম মাহবুব মুর্শেদ ভালা কৈছেন। আমারো একৈ দশা। দোজখ ছারা আমগো গতি নাই মনে হয়:)
৫. ১০ ই মে, ২০০৭ সকাল ১১:৩০
comment by: জলদস্যু বলেছেন: এস এম মাহবুব মুর্শেদ, শুরু করেন আবার। তাছাড়া গতি নাই। কারে কি বলি? আমি নিজেই গত ৫/৬ মাস নামাযমুখী হই না। এটার দ্বিতীয় পর্বে জানতে পারবেন।
৬. ১০ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:১৯
comment by: রুদ্র বলেছেন: সবার ছোট বেলাই মনে হয় এক রকম হয়...আমার সুরা শিখা হয় দাদুর কাছে...নামাজ..আববুর ঝারি খেয়ে..তবে নামাজ পড়ার সুফল ছোটো বেলা থেকেই ভোগ করছি ভাই....
৭. ১০ ই মে, ২০০৭ বিকাল ৫:২৭
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: সেকেন্ড পর্ব দরকার।

 



 


আটপৌরে বাংলাদেশি।
নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি।
চিন্তা-ভাবনায় থাকে বাংলাদেশ
পছন্দ করি রিকশায় চড়তে, আড্ডা দিতে, ঢাকার জীবনে অভ্যস্ত
অস্বস্তিতে থাকি সবসময়, অপছন্দ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৯৪৮৬