আমার প্রিয় পোস্ট

স্মৃতিচারণ ও এলোমেলো ভাবনা। বেশিরভাগই জগাখিচুড়ি।

আমার ধর্মবেলা-২

১১ ই মে, ২০০৭ ভোর ৪:৫৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

আমি ইউনিভার্সিটিতে উঠে ধর্মের আরেক রূপ দেখলাম।আসলে একজন মানুষের সাথে দিনে ২/১ ঘন্টা উঠা-বসা করে তার সম্পর্কে আইডিয়া পাওয়া যায় না। ভালো আইডিয়ার জন্য তার সাথে দিনের ৬/৭ ঘন্টা অন্তত থাকা লাগে। আমার কলেজের খুব কাছের সহপাঠীরা যখন আমার রুমমেট হয়ে গেল, তখন এদের সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টে গেল। একেকজন দেখি একেক রকম মোল্লা।ধর্ম সম্পর্কে বিশাল তাদের জ্ঞান। অবশ্য বলতে বাধা নেই, জ্ঞানের মাঝে অনেক গলদ আছে, কিন্তু ধরিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। আমাদের দেশের মানুষের ধর্ম ও রাজনীতির ব্যাপারে নিজস্ব মতামত আছে। কোন এক অজানা কারণে এ দুটি বিষয় নিয়ে তারা খুবই স্পর্শকাতর ও মনে করে "নিজে যা বুঝি/জানি তাই সই, আর সব শালা গাধা। কিছু জানে না"। যাই হোক অনেক মূল্যবান ফতোয়া তখন অনেক কাছের মানুষের কাছে শুনেছি। কোনটা শুনে হেসেছি, কোনটা উড়িয়ে দিয়েছি, কোনটা গ্রহন করেছি আবার কোনটা শুনে মনে হয়েছে এরা ধর্ম সম্পর্কে কতকিছুই না জানে। নিজেকে ক্ষেত্রবিশেষে খুব ক্ষুদ্র মনে হত।

ইউনিভার্সিটিতে কয়েক ধরনের ধার্মিক ছিল। এক গ্রুপ চার ওয়াক্ত "ঢিব মারে"---ফজরের টাইমে উঠা কঠিন, তাই চার ওয়াক্ত। এক গ্রুপ সারাদিন মসজিদে বসে থাকে----এরা ফেমাস তবলিগ জামাত, এক গ্রুপ ছিল সাপ্তাহিক---এরা জুম্মার ২ রাকাত পড়ে, এক গ্রুপ ছিল মৌসুমী---পরীক্ষার সময় নামায মিস নাই। আর সর্বশেষ গ্রুপটি ছিল সেমি নাস্তিক----এদের বক্তব্য নামায পড়ে হোস্টেলের গোসলখানা অপবিত্র করলে পাপ বেশি, তাই তারা নামায থেকে সাময়িক বিরতিতে আছে। অনেকের যুক্তি ছিল আরও সলিড। মুসলমান হয়ে জন্মালে নাকি বেহেশতে যাবেই। তাই এখন এসব নিয়ে তারা চিন্তিত না।

এর মধ্যে সারাদিন মসজিদ পার্টি বা তবলিগ জামাতের একগুরু ছিলেন আমার পাশের রুমে। তার বদৌলতে ধর্মের কোনা-চিপা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়তে লাগল। যদিও হুজুরের কাছে আমাদের প্রশ্ন ছিল জান্নাতে গেলে ছেলেরা ৭০ টা হুর পাবে, তাহলে মেয়েরা কি পাবে? বা ৭০টা হুর পেলে নিজের বউয়ের কি হবে? বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হুজুর বরাবরই পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন।

যাই হোক, হুজুরের সাথে দীর্ঘসময় (প্রায় ২ বছর) অতিবাহিত করার পর ৭০ হুরের লোভেই হোক আর জান্নাতের লোভেই হোক, আমি তবলিগে যাওয়া মনস্হির করলাম।

(পরবর্তী পর্বে আমার দেখা তাবলিগ)

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ৪৭৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১১ ই মে, ২০০৭ ভোর ৪:৫৮
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: মেয়েরা ৭০টা গেলমান পাবে।(আমার কথা না,আর আমি ধর্ম মানি,যদিও তাবলীগি না,জামাতিও না)
২. ১১ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:২০
comment by: চোর বলেছেন: ধুম মজার লিখা।
৩. ১১ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৪৯
comment by: জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ চোর।
৪. ১৩ ই মে, ২০০৭ রাত ৯:২৩
comment by: নুরুল আলম মাসুদ বলেছেন: চমৎকার! সত্যি ভালো হয়েছে
৫. ১৭ ই মে, ২০০৭ ভোর ৬:২৪
comment by: কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন: ক্লাস নাইনে পড়ার সময় ধর্ম ক্লাসে একবার হুরের কথাটা আসছিলো ... তখন মেয়েদের পচানোর জন্যে এক পোলা প্রশ্ন করল, স্যার, বেহেশতে কি মেয়েরাও ৭০টা কইরা জামাই পাবে? (হুর মানে বউ, স্যার এমন একটা ধারণা দিছিলো, বিয়া ছাড়াই লাগালাগি হবে এইটা মনে হয় বলতে লজ্জা পাইতেছিলেন) ... মাইয়াগুলি লাল হয়া গেল ... স্যার চিন্তাভাবনা কইরা বললেন, না তা হবে না, তবে তার জামাইয়ের ৭০টা হুরের চেয়েও তার মর্যাদা বেশি হবে ...

আমরা পোলারা হতাশ (মাইয়াদের পচানো গেল না) ... ওমা দেখি মাইয়ারাও হতাশ ... ছেলেদের সমান হওয়া গেল না ... মনে মনে কইলাম, বাইচ্চা গেছ ... ৭০ টার লগে ডেইলি করতে হইলে আর সোজা হইয়া খাড়ানো লাগত না :-)

ফারহান মিয়া, মাইয়ারা ৭০টা কইরা "জামাই" পাইব এই তথ্যের সোর্স কি?
৬. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৩২
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: কিংকর্তব্য,তোমার যা সোর্স আমারো তাই,কোন হুজুরের লেখা বা কথা,যাচাই করার চেষ্টা করি নাই,হুর বা গেলমানের লোভে তো ধর্ম মানি নাই,নিজের ইচ্ছায় মানছি,কাজেই গেলমান নিয়া মাথাব্যথা নাই।
৭. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৩৮
comment by: কেমিকেল আলী বলেছেন: বেহেস্ত মানেই হুর, আর হুর!!!!!! আর কিছু না!!!!

লেখককে ধন্যবাদ, সুন্দর লেখার জন্য।
৮. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৪৭
comment by: আতরাফ রহমান বলেছেন: আমার ধর্মবেলা, আমার ইরানবেলা ... তসলিমার মেয়েবেলা এত ভালো লেগেছিল আপনাদের যে ঐ নামটাই আঠা হয়ে আছে?
৯. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:৪৯
comment by: আতরাফ রহমান বলেছেন: আমি আগ্রহী জানতে দাউদ সাহেবের বৌ যখন ওনার সামনেই ৭০টা গেলমানের সাথে দিনভর যৌনসঙ্গম করবে উনি কি সেটা মেনে নিতে পারবেন?
১০. ১৭ ই মে, ২০০৭ সকাল ৮:০৫
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: আতরাফ,আপনে ভাই আসলেই আতরাফ,ধর্মের সব ছাইড়া হুর আর গেলমানের দিকেই নজর পড়লো,আর কিসু কি মাথায় ঢুকেনা? আপনের মত পাবলিক এইখানে ফাজলামি করতে আসেন করেন,আমারে ছাড়ান দেন,ফালতু লোকের লগে ফালতু কথায় আমি নাই।

 



 


আটপৌরে বাংলাদেশি।
নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি।
চিন্তা-ভাবনায় থাকে বাংলাদেশ
পছন্দ করি রিকশায় চড়তে, আড্ডা দিতে, ঢাকার জীবনে অভ্যস্ত
অস্বস্তিতে থাকি সবসময়, অপছন্দ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৯৪৮৪