আমার প্রিয় পোস্ট

স্মৃতিচারণ ও এলোমেলো ভাবনা। বেশিরভাগই জগাখিচুড়ি।

মৃত্যু সংবাদ

২৫ শে মে, ২০০৭ ভোর ৬:০৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

কোন এক অজানা কারণে আমি কারও মৃত্যুসংবাদ পেলে খুব একটা বিচলিত হই না। এর পিছনে কারন কি তা জানা নেই। আমার সমবয়সী ফুপাত বোন ক্যান্সারে মারা গিয়েছিল বছর চারেক আগে। ঢাকায় আমাদের বাসাতেই ওর চিকিৎসার সময়টা থাকত। কেমন কংকালসার হয়ে গিয়েছিল। কোন চিকিৎসাতে যে কিছু হবে না তা সে বুঝে গিয়েছিল। আসলে ক্যান্সারের শেষ স্টেজে ওর রোগটা ধরা পড়ায় বাঁচার কোন আশা ওর ছিল না। ফুপা-ফুপু বিদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওর শারীরিক দুর্বলতার কারনে ডাক্তার সেটা করতে দেন নি। ওই দীর্ঘভ্রমনের ধকল সইতে পারার মত শারীরিক শক্তি তখন ওর ছিল না। ব্যাপারটা জানতে পারার পর আমার ডাক্তার মাকে জড়িয়ে ধরে ওর সে কি কান্না! "মামী আমি কি মারা যাব? কোন চিকিৎসাই কি আমার হবে না?" ফুপা ছিলেন আমার বাবার ক্লাসমেট। ফুপা এসব কথা সহ্য করতে পারতেন না। আব্বার সামনে বাচ্চা ছেলের মত হু হু করে কাঁদতেন। বাকি সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখত। কেন জানি আমি কখনই এসব ব্যাপারে বিচলিত হতাম না।

মৃত্যু সংবাদ বা পূর্বাভাস যে আমাকে বিচলিত করে না তার ভুরি ভুরি প্রমান আছে। আমার ছোট খালুর বাবা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। বিদেশে আসার আগে যখন উনাদের বাসায় যাই, পাশে বসিয়ে সে কি আদর-যত্ন। ওটাই ছিল উনার সাথে আমার শেষ সাক্ষাত। বিদেশের মাটিতে খবর পাই, উনি আর নেই। কোন অনুভূতির জন্ম হয় নি তখনও। বা ধরা যাক, আমার দাদীর কথা। বুড়ো মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্হ হয়ে যাচ্ছেন। এবার দেশে ছুটি কাটিয়ে আসার পর কেউ একজন মনে করিয়ে দিয়েছিল দাদীর সাথে হ্য়ত ওটাই আমার শেষ দেখা। খুবই ইমোশনাল কথা। আমার পিতামহ জেনারেশনের মাঝে দাদীকেই সবচেয়ে বেশি কাছে পেয়েছি। এতকিছু সত্বেও এসব কথা আমার মনে বিকারের জন্ম দেয় না।

গতকাল দেশে ফোন দিয়ে শুনলাম রুশো মারা গেছে। রুশোর বাবা সেনাকর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রথম সারির নিউরোসার্জন। মেডিকেল কলেজে আমার বাবার জুনিয়র ছিলেন রুশোর বাবা। দেশে গিয়ে দেখা হয়েছিল ভদ্রলোকের সাথে। উনি বলছিলেন যে রুশো বিদেশে পড়তে যাবে।রুশোর সাথে এক স্কুলে বছর দু'য়েক পড়েছিলাম। ওর বাবার চাকরির সুবাদে দু'বছরের বেশি এক স্কুলে পড়া হয় নি। তবে আমাদের বাসায় যাতায়াত থাকার কারনে ওর সাথে পরিচিতি ছিল বেশ। আজকের খবরের কাগজের কল্যানে নিশ্চয়ই জানতে বাকি নেই আমি কার সম্পর্কে কথা বলছি। নিতান্ত নিরীহ গোছের ছেলে। ও যা করতে চেয়েছে, আমি হলেও হয়ত তাই করতাম। তাই বলে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা কি কোন মানুষের কাজ?

যথারীতি এই সংবাদে আমার মাঝে তেমন বিকার হয় নি। তবে মানুষ হত্যা করা কত ঘৃণ্য ও নিন্দিত কাজ প্রথমবারের মত উপলব্ধি করতে পারছি। খবরের কাগজে এসব খবর প্রতিদিন আসে। গুরুত্ব দেই না। নিজের পরিচিত কেউ এভাবে মারা গেলে তখন মনে হয় গুরুত্বটা ভালভাবে বুঝা যায়।

 

 

  • ৫ টি মন্তব্য
  • ১৭৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে মে, ২০০৭ ভোর ৬:২৫
comment by: মানবী বলেছেন: খুব দুঃখিত জলদস্যু!
২. ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ৭:২৬
comment by: মানিক বলেছেন: আমি ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আপনার মত ছিলাম। আপনি যদি মনে করেন, আপনার মানষিকতার জন্যে ভাল ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। হাসির মতই, কান্নার বহু কারনে বিকল্প নেই। অহেতুক উপদেশ মাফ করে দেবেন। ভালো থাকুন।
৩. ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ৮:৩০
comment by: বিপ্লব রহমান বলেছেন: জলদস্যু@কোনো ব্যাপার না। মৃত্যূ একটি অনিবার্য ঘটনা, এটি অবচেতনে জেনে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত আছেন--এই আর কি।
৪. ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:১০
comment by: আন্ধার রাত বলেছেন: আমাকে সব মৃত্যুই বিচলিত করে। আমি তখন ভাবি আহা মানুষটি কার না জানি কত প্রিয় ছিল। মানুষটি মরার সময় কত যে মৃত্যু যন্ত্রনা পেয়েছে তা জীবিতরা কল্পনার ধারে কাছে যেতে পারবোনা।
৫. ২৫ শে মে, ২০০৭ সকাল ১০:১৩
comment by: আন্ধার রাত বলেছেন: ....তবে কোন ঘোষখোর আর সন্ত্রাসী মারা গেলে খুব আনন্দ অনুভব করি, ভাবি যাক দেশের অন্তত একটা জন্জাল পরিষ্কার হল।

 



 


আটপৌরে বাংলাদেশি।
নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি।
চিন্তা-ভাবনায় থাকে বাংলাদেশ
পছন্দ করি রিকশায় চড়তে, আড্ডা দিতে, ঢাকার জীবনে অভ্যস্ত
অস্বস্তিতে থাকি সবসময়, অপছন্দ...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৯৪৫২