somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বারী সাহেবের অস্ট্রেলিয়া দর্শন ও দু'টি কথা: 2
আজকের জনকন্ঠে মুদ্রিত একটি সংবাদ নিয়ে
[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/Adda/28712821]

এই লিঙ্কে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

উনি আজকে (http://www.dailyjanakantha.com/4p) আবারও কিছু অবান্তর কথা বলেছেন যথারীতি। অস্ট্রেলিয়ায় "বুয়া কালচার" নেই দেখে এত অবাক হবার কি হলো তা তো বুঝলাম না। দুনিয়ার উন্নত কোন দেশে "বুয়া কালচার" আছে বলে আমার জানা নেই। তাছাড়া এদেশে হাউজ মেইড বিপুল পয়সা দিলে পাওয়া যায়। কিন্তু এত বেশি টাকা খরচ হ্য় যে অতি বড়লোকেরাও তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কারের জন্য হাউজ মেইড রাখে না। তবে আরেকটা বিষয় হলো যত বড়লোকই হোক না কেন অস্ট্রলিয়ায় সবাই নিজের ঘরদোর সাফাইয়ের কাজ নিজে করতে পছন্দ করে। উইকএন্ডের একটা দিন এরা ক্লিনিঙ ও ওয়াশিঙের জন্য বরাদ্দ রাখে।

আর অডজব-ইভেনজবের সংজ্ঞা বাংলাদেশিদেরই তৈরি। এখানে শুধু নয় বিশ্বের সব উন্নত দেশেই মানুষ যা করে জীবিকা নির্বাহ করে তার জন্য সে গর্ব অনুভব করে। উনার মত দেশ-বিদেশে ঘোরা মানুষ এত সহজে টাশকি খেলেন কেন এ ব্যাপারে তা একটু কৌতুকের উদ্রেক করে বৈকি।

ট্যাক্সি ড্রাইভারের জীবন যাপনের বর্ননা দিয়ে উনি সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে ট্যাক্সি ড্রাইভারদের এখানে মাইগ্রেট করার জন্য উৎসাহিত করেছেন। এখানে ট্যাক্সি অনেকেই চালান। কিন্তু তাদের অধিকসংখ্যকের মনোকষ্টটা আমি বুঝি। হাজার হাজার ডলার খরচ করে, অমানুষিক কষ্ট করে ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা ছেলেরা যখন ট্যাক্সি চালনাকে পেশা হিসাবে নেয়, তখন তাদের দীর্ঘশ্বাসটা আমি শুনতে পাই। তাদের মানসিক টর্চারটাকে আমি উপলব্ধি করতে পারি। বারী সাহেবের মত "রাতকানা"রা (যারা চক চক করলেই সোনা হয় না - প্রবাদটা জানেন না) মনে হয় এই কষ্টে থাকা মানুষগুলোর দীর্ঘশ্বাসটা শুনতে পান না।

পরিশেষে যারা এখানে আসতে ইচ্ছুক, তারা দয়া করে উনার কথা শুনে লাফাবেন না। অস্ট্রেলীয় ইমিগ্রেশনের ওয়াবসাইট ঘেঁটে ও প্রবাসী যারা এখানে আছেন তাদের সাথে কথা বলে নিজেদের সিদ্ধান্তটা সঠিকভাবে নিবেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28712906 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28712906 2007-05-27 15:45:57
মৃত্যু সংবাদ
মৃত্যু সংবাদ বা পূর্বাভাস যে আমাকে বিচলিত করে না তার ভুরি ভুরি প্রমান আছে। আমার ছোট খালুর বাবা আমাকে খুব স্নেহ করতেন। বিদেশে আসার আগে যখন উনাদের বাসায় যাই, পাশে বসিয়ে সে কি আদর-যত্ন। ওটাই ছিল উনার সাথে আমার শেষ সাক্ষাত। বিদেশের মাটিতে খবর পাই, উনি আর নেই। কোন অনুভূতির জন্ম হয় নি তখনও। বা ধরা যাক, আমার দাদীর কথা। বুড়ো মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্হ হয়ে যাচ্ছেন। এবার দেশে ছুটি কাটিয়ে আসার পর কেউ একজন মনে করিয়ে দিয়েছিল দাদীর সাথে হ্য়ত ওটাই আমার শেষ দেখা। খুবই ইমোশনাল কথা। আমার পিতামহ জেনারেশনের মাঝে দাদীকেই সবচেয়ে বেশি কাছে পেয়েছি। এতকিছু সত্বেও এসব কথা আমার মনে বিকারের জন্ম দেয় না।

গতকাল দেশে ফোন দিয়ে শুনলাম রুশো মারা গেছে। রুশোর বাবা সেনাকর্মকর্তা। বাংলাদেশের প্রথম সারির নিউরোসার্জন। মেডিকেল কলেজে আমার বাবার জুনিয়র ছিলেন রুশোর বাবা। দেশে গিয়ে দেখা হয়েছিল ভদ্রলোকের সাথে। উনি বলছিলেন যে রুশো বিদেশে পড়তে যাবে।রুশোর সাথে এক স্কুলে বছর দু'য়েক পড়েছিলাম। ওর বাবার চাকরির সুবাদে দু'বছরের বেশি এক স্কুলে পড়া হয় নি। তবে আমাদের বাসায় যাতায়াত থাকার কারনে ওর সাথে পরিচিতি ছিল বেশ। আজকের খবরের কাগজের কল্যানে নিশ্চয়ই জানতে বাকি নেই আমি কার সম্পর্কে কথা বলছি। নিতান্ত নিরীহ গোছের ছেলে। ও যা করতে চেয়েছে, আমি হলেও হয়ত তাই করতাম। তাই বলে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা কি কোন মানুষের কাজ?

যথারীতি এই সংবাদে আমার মাঝে তেমন বিকার হয় নি। তবে মানুষ হত্যা করা কত ঘৃণ্য ও নিন্দিত কাজ প্রথমবারের মত উপলব্ধি করতে পারছি। খবরের কাগজে এসব খবর প্রতিদিন আসে। গুরুত্ব দেই না। নিজের পরিচিত কেউ এভাবে মারা গেলে তখন মনে হয় গুরুত্বটা ভালভাবে বুঝা যায়। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28712449 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28712449 2007-05-25 06:09:44
ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট
দেখা যাক ভারত ২ দিনে বাকি ১৮ উইকেট নিতে পারে কি না। (আম্মাআআ) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711770 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711770 2007-05-21 11:02:23
নোটিশ
ধর্ম মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। জোর করে মানুষকে ধর্ম গিলানো যায় না। আর ধর্ম সম্পর্কে সবারই নিজস্ব মতামত আছে। আমি বিশ্বাস করি ধর্ম সম্পর্কিত নেগেটিভ প্রশ্নাবলী যদি কারও সামনে হাজির হয়, তা নিয়ে অনুসন্ধান করাটাই স্বাভাবিক। এটাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। প্রশ্ন আছে, প্রশ্ন থাকবে, মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করবে- এটাই স্বাভাবিক। কে নাস্তিক, কে আস্তিক, কে বিধর্মী তা নিয়ে আমাদের কারও মাথাব্যাথা থাকা উচিত নয়। উপরওয়ালা যদি সত্যিই থেকে থাকেন তবে তিনি এসব মূল্যায়ন করবেন। মানুষ হিসাবে আমাদের এসব মূল্যায়ন থেকে দূরে থাকা উচিত।

যেকোন বিষয় বা বস্তুর সমালোচনা থাকবেই। তাই সমালোচনা গ্রহন করতে পারার মানসিকতা আমাদের থাকতে হবে। সমালোচনা গ্রহন করতে না পারা মানে নিজের বিশ্বাসের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা না থাকা। তাই যার নিজের বিশ্বাসের প্রতি অটুট মনোবল নেই, তার অন্যের বিশ্বাস বা কোনকিছুর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার নেই।

আমি নিজে উপরের কথাগুলো বিশ্বাস করি।কিন্তু ব্লগে বর্তমানে চলমান অস্হিতিশীলতা আমাকে আমার ধারাবাহিক চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপরে অনাগ্রহী করে তুলেছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711751 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711751 2007-05-21 07:23:03
আলাপচারিতা
ড্যারেন: হ্যাঁ, কোরিয়াতে সউলে একটা স্কুলে ইংরেজি পড়াচ্ছে। পড়াশুনাটা শেষ করল না।

ডিন: কেন? শেষ করলে তো এখানে ভালো সুযোগ পেত।

ড্যারেন: সুজি বরাবরই এরকম। কোন ডিসিশন ঠিকমত নিতে পারে না। যখন যা পায়, তা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করে।

ভিনসেন্ট: সুযোগ নেয়াটা জীবনের খেলা। কোন সুযোগ তোমার জন্য কি আনবে তা তুমি কখনও প্রেডিক্ট করতে পারবে না।

ডিন: কোরিয়াতে চাকরিটা পেল কিভাবে? বেতন-টেতন কেমন?

ড্যারেন: এখানে পত্রিকায় দেখে আবেদন করেছিল। ভালোই।খারাপ না। ও কিন্তু দ. কোরিয়ায় চাকরি করে। উত্তরে নয়। দ. কোরিয়ায় স্কেল খারাপ নয়। শুনেছি এশিয়ার মাঝে জাপানের পরই দ. কোরিয়ায় লিভিং কস্ট সবচেয়ে বেশি।

(দীর্ঘশ্বাস পড়ে ড্যারেনের বুক চিরে। শুনতে পায় টেবিলে উপস্হিত সবাই)

ভিনসেন্ট: তুমি খুশি নও মনে হচ্ছে? কি ব্যাপার?

ড্যারেন: আমি আমার মেয়েকে "ডার্টি ও ফিলথি" কোরিয়াতে বসবাসের জন্য গড়ে তুলি নি।

(এ পর্যায়ে সবার দৃষ্টি পড়ে টেবিলের কোনায় বসে থাকা আমার উপর।)

ডিন (আমাকে): কি ব্যাপার? তুমি এত চুপচাপ কেন? এশিয়ার সবদেশ কিন্তু ডার্টি ও ফিলথি নয়। আমরা কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলছি না, বলছি কোরিয়া নিয়ে।

দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে পড়ে আমার বুক থেকেও। চেপে রাখি শুনতে দেই না কাউকে। এ দীর্ঘশ্বাস আমার একার। কাউকে শুনতে দিতে চাই না। জীবনে যত যাই করি না কেন আমার পরিচয় সেই ডার্টি ও ফিলথি এশিয়ান (বাংলাদেশি)। এ পরিচয় আমার জন্মগত ও জানি না কত জেনারেশন আমাকে এই পরিচয় বহন করতে হবে সাদা চামড়ার এই দেশে।

খাবারটা ঠান্ডা হয়ে আসছে। খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেই। এত ঝাপসা দেখছি কেন? চোখের কোণে জমা অশ্রুবিন্দু কি অপমানের না দুঃখের নাকি গভীর হতাশার?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711202 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28711202 2007-05-18 06:28:47
আমার ধর্মবেলা-৩ (আমার দেখা তাবলিগ) "হুজুরের পাল্লায় পড়ে তবলিগে গিয়েছি"- এ কথা যদি ঘুনাক্ষরে আমার অভিভাবকগণ জানতে পারতেন, তাহলে অভিযুক্ত হুজুর আসমান-জমিন কোথাও পলায়ন করতে পারবেন না। আমার পিতা-মাতা তাকে বেহেশত-দোযখ অবধি বন্দুক হাতে তাড়া করে হুজুরের মাথার টুপি গুলি করে উড়িয়ে দিতেন। উল্লেখ্য আমার জনৈক ঘনিষ্ঠ বন্ধু হঠাৎ মৌলভী হয়ে যাওয়ায় আমার অভিভাবকগণ তার সাথে মেলামেশা করার ব্যাপারে কিছু নিয়ম-নীতিমালা পেশ করেছিলেন। তবে তা ধোপে টিকে নি।

যাই হোক বাসায় জানালাম হোস্টেলে থাকব আর হোস্টেলের ছেলেপিলেকে জানালাম তবলিগে যাব। তাদের আরও বলে দিলাম আমার তবলিগ ডিউরেশন হবে একদিন। যদি পালাতে না পারি আর ২ দিন পরও আমার খোঁজ-খবর না মিলে তবে আমাকে যেন যেকোন মূল্যে তবলিগ নামক হাজতখানা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়। এর পিছনে একটা মূল্যবান কারণ ছিল। আমার টার্গেট ছিল একরাত থাকা, কিন্তু হুজুরকে যতবার বলি হুজুর ততবার বলেন তিনরাত না থাকলে নাকি হয় না। আমাকে উনি খালি বলেন "আসেন ভাই আমরা তিনদিনের নিয়্যাত করি"। আর আমিও নিষ্ঠার সাথে বলি "না ভাই, আপাতত ১দিন করি, বাকি ২ দিন বেঁচে থাকলে করা যাবে"।

নির্ধারিত দিনে বাদ মাগরিব রওনা হবার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত বাদ এশা রওনা হতে হলো। এখানে প্রথম মূল্যবান শিক্ষা পেলাম, তা হলো তাবলিগেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আছে। মজার ব্যাপার হলো মসজিদ থেকে রওনা দেয়ার পর সবাই দেখি এক লাইনে হাঁটে। আমি যত পাশে পাশে হাঁটার চেষ্টা করি, সবাই তত জোরে জোরে হেঁটে আমাকে পিছনে ফেলে দেয়। বাসে উঠার পর দেখি বাসের কন্ডাকটররাও মধুর ব্যবহার করা শুরু করল। ভাড়া নিয়ে কচলা-কচলি করল না। এরকম অনেক মজার অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন গন্তব্যে পৌঁছালাম, তখন দেখি মসজিদে আমাদের বাকি "সাথী"রা (এই টার্মটা তাবলিগীরা ব্যবহার করেন, কোন এক অজানা কারনে আমার খুব মজা লাগে) ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২/১ জন উঠে আমাদের খানাপিনার ব্যবস্হা করলেন। একটা জিনিস স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, তাবলিগীদের রান্নার হাতটা চমৎকার। একথা শুধু আমি নই, যতজন ইরেগুলার মানুষ তাবলীগ করেছেন, তারা সবাই একবাক্যে ব্যাপারটা স্বীকার করেছেন।

পরদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়লাম। নামাযের পর গাস্তে যাওয়া হয়। জনৈক মুসল্লি এসে বললেন যে তার গুনধর ছেলে নামায-কালাম কম করে, তাকে যেন আমরা একটু সবক দেই। এই "সবক দেয়া"র তাবলীগি টার্ম হলো "গাস্তে যাওয়া"। ফজরের নামাযের পর ভদ্রলোকের বাসায় আমরা রওনা হলাম। আমার সাথী আমার আরেক সহপাঠী। এই ব্যাটার কোডনেম ছিল "ডিস্কো হুজুর"। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ডিস্কো তাবলিগে নাম লিখালেও ওর অনেক সমস্যা ছিল। আমি নিজে হলের নেটওয়ার্কে শেয়ার দেয়া নগ্ন ও স্বল্পবসনা হলিউড সেলিব্রিটিদের ছবি ও মুভিক্লিপ দেখা অবস্হায় ব্যাটাকে হাতেনাতে ধরেছিলাম। যাই হোক আমি ও ডিস্কো গিয়ে ভদ্রলোকের উঠতিবয়সী ছেলেটাকে বেশ কিছুক্ষন মগজ ধোলাই দিলাম। আমরা না বলে ডিস্কো বলা সমুচিত হবে কারন আমি মোটামুটি দর্শকের ভূমিকা পালনা করে হাই তুলছিলাম। আর ডিস্কোর থিওরিটিক্যাল প্যাঁচাল আমার ঘুমের টনিক হিসাবে ভালোই কাজ করছিল।

"সবক দেয়া" শেষে মসজিদে এসে দেখলাম সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমি বেলা ১০টায় ঘুমানোর হেতু বুঝতে পারলাম না। তারা আমাকে জানালো যোহরের নামাযের পরে নাকি খুব ব্যস্ত শিডিউল, তাই এখন বিশ্রাম করাটাই শ্রেয়। দেখলাম ১০ মিনিটের মধ্যে মসজিদে আমি ছাড়া একটা প্রাণীও জেগে নেই। আস্তে করে ব্যাগ গুছিয়ে ঐ মুহুর্তে ভেগে আসার সিদ্ধান্ত নিই।

(পরের পর্ব---জীবন চিল্লা)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710989 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710989 2007-05-17 05:26:55
পার্কিং স্পট
আমরাও গ্যারেজে কোনরকমে ঢুকে মনের সুখে হর্ন বাজাতে লাগলাম। ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর। কিছুক্ষনের মধ্যেই পুরা কম্পাউন্ডের সবাই ব্যালকনিতে বেরিয়ে আসল। কিন্তু আসল জনের দেখা নাই। আমার মাথা গরম বন্ধুটি ততক্ষনে টো ট্রাক ডাকি ডাকি করছে। এমন সময় এক প্রতিবেশি জানালেন ঐ ব্যাটার সম্ভাব্য উপস্হিতির স্হান। সে নিজ দায়িত্বে আমাদের ঐ ফ্ল্যাটের সামনে নিয়ে গেলে আমরা চারগুন উৎসাহে দরজায় কিল-ঘুষি মারতে থাকি। শব্দ শুনে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দারা বেরিয়ে আসেন। কিন্তু এই ব্যাটার খবর নেই। ভিতরে জোর ভলিউমে গান বাজছে, কিন্তু কেউ দরজা খুলে না। তখন উপকারী প্রতিবেশীটি বললেন "ইউ গায়েজ প্রোবাবলি হ্যাভ টু ওয়েট। আই থিংক হি ইজ ডুয়িং হিজ গার্লফ্রেন্ড"। একথা শুনে আমার মাথা গরম বন্ধুর মাথা আরও গরম হয়ে গেল। সে পারলে নিজে এক হাতে গাড়ি তুলে ছুঁড়ে মারে। আমরা ওকে ধরে-বেঁধে রেখে নিচে নেমে আসি। ততক্ষনে আমাদের উপকারী প্রতিবেশীর কল্যানে উপস্হিত কারও জানতে বাকি নেই ঘটনা কি?

আমরা আরও খানিকক্ষন হর্ন বাজাই।একসময় দেখি লম্বাচুলো গাড়ির মালিক খালিগায়ে হাফপ্যান্টের চেন লাগাতে লাগাতে গাড়িতে উঠে ধুম করে স্টার্ট নিয়ে বুম করে বেরিয়ে যায়। সবাই মুচকি মুচকি হাসে। আর আমাদের রসিক প্রতিবেশী আমাদের বলে "ডোন্ট ইউ এভার পার্ক ইওর কার ইন ফ্রন্ট অ্যা গ্যারেজ বিফোর ডুয়িং ইওর গার্লফ্রেন্ড"।

আমরা হি হি করে হাসতে হাসতে বলি "আফটার দিস? আর ইউ কিডিং?" ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710105 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710105 2007-05-11 12:17:39
আমার ধর্মবেলা-২
ইউনিভার্সিটিতে কয়েক ধরনের ধার্মিক ছিল। এক গ্রুপ চার ওয়াক্ত "ঢিব মারে"---ফজরের টাইমে উঠা কঠিন, তাই চার ওয়াক্ত। এক গ্রুপ সারাদিন মসজিদে বসে থাকে----এরা ফেমাস তবলিগ জামাত, এক গ্রুপ ছিল সাপ্তাহিক---এরা জুম্মার ২ রাকাত পড়ে, এক গ্রুপ ছিল মৌসুমী---পরীক্ষার সময় নামায মিস নাই। আর সর্বশেষ গ্রুপটি ছিল সেমি নাস্তিক----এদের বক্তব্য নামায পড়ে হোস্টেলের গোসলখানা অপবিত্র করলে পাপ বেশি, তাই তারা নামায থেকে সাময়িক বিরতিতে আছে। অনেকের যুক্তি ছিল আরও সলিড। মুসলমান হয়ে জন্মালে নাকি বেহেশতে যাবেই। তাই এখন এসব নিয়ে তারা চিন্তিত না।

এর মধ্যে সারাদিন মসজিদ পার্টি বা তবলিগ জামাতের একগুরু ছিলেন আমার পাশের রুমে। তার বদৌলতে ধর্মের কোনা-চিপা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়তে লাগল। যদিও হুজুরের কাছে আমাদের প্রশ্ন ছিল জান্নাতে গেলে ছেলেরা ৭০ টা হুর পাবে, তাহলে মেয়েরা কি পাবে? বা ৭০টা হুর পেলে নিজের বউয়ের কি হবে? বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হুজুর বরাবরই পাশ কাটিয়ে চলে যেতেন।

যাই হোক, হুজুরের সাথে দীর্ঘসময় (প্রায় ২ বছর) অতিবাহিত করার পর ৭০ হুরের লোভেই হোক আর জান্নাতের লোভেই হোক, আমি তবলিগে যাওয়া মনস্হির করলাম।

(পরবর্তী পর্বে আমার দেখা তাবলিগ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710072 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28710072 2007-05-11 04:55:18
বেহুদা প্যাঁচাল (বিষয়: আমার ধর্মবেলা)
একটু বড় হতে আনন্দের আরেকটা উৎস পাওয়া গেল। তা হলো শবে বরাত ও শবে মেরাজের রাত। মসজিদে সারারাত বন্ধু-বান্ধবদের সাথে থাকার মজাই আলাদা। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এটা আমার বাসায় গ্রহনযোগ্যতা পেল না। তাই মূল নামাযের পর আব্বার সাথে চলে আসতে হত আর পরের দিন খেলার মাঠে পোলাপানের কাছে কি কি মজা হয়েছে সারারাত তার ফিরিস্তি শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হত। এভাবেই চলছিল।

এসএসসি পরীক্ষার আগে কে যেন বলেছিল কোরআনে আছে "তোমরা যখনই বিপদে পড়বে, তখন এবাদতের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে"। কথাটা আমার বেশ পছন্দ হলো। টেস্টে টিটিপি (টেনে টুনে পাস) করায় বিশাল বিপদে ছিলাম। বাসা থেকে ছিল প্রচন্ড চাপ। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া শুরু করে দিলাম। নামায পড়ার কল্যানে হোক বা নিজের চেষ্টার বদৌলতে হোক চূড়ান্ত বিপর্যয় থেকে সে যাত্রা আমি রক্ষা পেয়েছিলাম। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছিল।

এ ঘটনার পর পরই সৃষ্টিকর্তার উপর আমার ভক্তি-শ্রদ্ধা হাজারগুন বেড়ে গেল। জুম্মার নামায তো বাদ দিতামই না। উপরন্তু আরও এডিশনাল নামায পড়া শুরু করলাম। আমার এই রূপ দেখে বাসার সবাই উল্টো ধারণা পোষন করা শুরু করল। তাদের ধারণা হলো আমার পরীক্ষা খুবই খারাপ হয়েছে। যার কারণে আমার এই দশা। মনে আছে যেদিন রেজাল্ট হয় সেদিন আম্মা বার বার বলছিলেন রেজাল্ট নিয়ে যেন সরাসরি বাসায় আসি। যা হবার হবে। কেউ কিছু বলবে না। রেজাল্ট নিয়ে অন্য কোথাও যাবার প্ল্যান আমার ছিল না কোন কালেই। যদিও আমার দুই বোন বরাবরই আমাকে বলত আমার রেজাল্ট নিয়ে নাকি রিকশায় আসা যাবে না, ট্রাকে আনা লাগবে।

এসএসসির আশাতীত ভালো রেজাল্ট আমার ধর্মজীবনে বেশ পজিটিভ একটা প্রভাব ফেলে। এরপর নামাযহীন অবস্হায় জীবনে আর কোন পরীক্ষা দেই নি। তাছাড়া ধর্মবিষয়ক পড়াশুনা যতটুকু আমি করেছি তার সিংহভাগ এসএসসির পর থেকে কলেজে ক্লাস হওয়া পর্যন্ত।

মানুষ সম্ভবত রেজাল্ট ওররিয়েন্টেড প্রাণী। আমার ক্ষেত্রে কথাটি আরও বেশি খাটে। আর একারণেই আমি যেকোন কাজ চেষ্টা করে কাছাকাছি যেতে না পরলে ছেড়ে দিই। "একবার না পারিলে দেখ শতবার" আমার অভিধানে নেই। আমার অভিধানে আছে "যার হয় না একবারে, তার হয় না হাজারবারে"।

(চলতে পারে) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709896 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709896 2007-05-10 06:24:32
ঘুরে এলাম ওয়ার্নার ব্রাদারর্স মুভি ওয়ার্ল্ড
যাই হোক এবার গিয়েছিলাম মুভি ওয়ার্ল্ডে। আগেই বলে রাখি ফাজিল কিসিমের রাইড আমার একদম পছন্দ না। আমি রাইড তেমন পছন্দ করি না। বলতে দ্বিধা নেই, কিছুটা ভয়ও পাই। কারণ ২ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিমি/ঘন্টায় চলে যাওয়া ও মাথা নিচে পা উপরে করে মাটি থেকে ২০০ মিটার উপরে ঝুলিয়ে রাখার মাঝে কি মজা তা জানার আগ্রহ আমার তেমন নেই। তবে এসব জায়গায় গিয়ে রাইডে না উঠলে তেমন কিছু করার নেই। তাই দুই-একটায় উঠেছি ও বলাইবাহুল্য প্রতিবার রাইড শেষে নতুন জীবন দেয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।

রাইড ছাড়াও শ্রেকের ৪-ডি মুভিটা ভালো লেগেছে। আর মজার ছিল পুলিশ একাডেমির স্টান্ট শো। প্রফেশনাল স্টান্ট ম্যানরা মুভিতে কিভাবে স্টান্ট পারফর্ম করে তার জীবন্ত উপস্হাপন দেখতে মন্দ লাগে নি।

আর ছিল প্যারেড। প্যারেডে বিভিন্ন কার্টুন ক্যারেক্টারের নিখুঁত উপস্হিতি ছিল বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। কিছু ছবি পোস্ট করলাম। জানি না সবগুলো আপলোড করতে পারব নাকি।

ছবি গাইড:

১) পুলিশ একাডেমি স্টান্ট শো -১
২)পুলিশ একাডেমি স্টান্ট শো -২
৩)ওয়াইল্ড ওয়েস্ট ফলস - ১
৪)ওয়াইল্ড ওয়েস্ট ফলস - ২
৫) প্যারেড টাইম- শ্রেক
৬)প্যারেড টাইম- ফিওনা
৭)প্যারেড টাইম- লুনি টিউনস
৮)প্যারেড টাইম- ব্যাটম্যান
৯) রাইড- দ্য ব্যাট উয়িংস
১০) রাইড- দ্য সুপারম্যান রাইড]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709732 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709732 2007-05-09 05:18:52
বেহুদা আলোচনা (বিষয়: বিড়ি-সিগারেট)
আমার বক্তব্য ছিল যে আমি টেস্ট করার জন্য মদ খাব,নেশার জন্য না। আর আমার বন্ধুর বক্তব্য ছিল যে টেস্ট করার জন্যও হারাম জিনিস খাওয়া ঠিক না। এক-দুই কথায় আমি বলে বসি বিড়ি ফুঁকাও হারাম কারণ এটা নেশাজাত দ্রব্য। এ কথাতে আমার বন্ধুর মাথায় আগুন জ্বলে যায়। তার এক কথা সে নাকি নেশা করে সিগারেট খায় না। তাই তার সিগারেট খাওয়া হারাম না।

শুধু তাই নয়, আমি যত বলি এটা হারাম সে তত রেগে গিয়ে তার পরিচিতি মন্ডলের যত নামাজী মানুষ বিড়ি ফুঁকে, তাদের উদাহরণ দেয়। ঘটনা যখন সিরিয়াস আকার ধারণ করে তখন আমাদের অপর রুমমেটের মধ্যাস্হতায় বিষয়টির ইতি ঘটে।

কেবল আমার বন্ধুই নয় আমি এরকম একজন হুজুরকেও চিনি যিনি ধুমপায়ী ও যার মতে ধুমপান হারাম না। এ ব্যাপারে ধর্ম আসলে কি বলে হঠাৎ জানতে ইচ্ছা হলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709598 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709598 2007-05-08 11:14:11
বারী সাহেবের অস্ট্রেলিয়া দর্শন ও দু'টি কথা
বারী সাহেব বেশ মজাদার ও ইন্ন্টারেস্টিং তথ্য দিলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত ও ভুল তথ্য উপস্হাপন করেছেন। তিনি সিডনিতে নেমে প্রথম যে জায়গাটায় গেছেন তা হলো কিংসক্রস। কিংসক্রস বিখ্যাত ড্রাগ, প্রস্টিটিউশন ও সস্তা স্ট্রিপ ক্লাবের জন্য। বারী সাহেবের মতে এখানে না গেলে নাকি অস্ট্রেলিয়ার নাইট লাইফ সম্পর্কে আইডিয়া পাওয়া যায় না। কথাটা পড়ে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি নি। নাইট লাইফের স্বাদ পেতে কিংসক্রসে যাওয়ার দরকার নেই। জর্জ স্ট্রিট ও ডার্লিং হারবারে ফ্রাইডে বা সেটারডে নাইটে গেলেই অস্ট্রেলীয় নাইট লাইফের স্বাদ পাওয়া যায়। এজন্য কিংসক্রস যাওয়ার দরকার আছে বলে মনে করি না। কিংসক্রস সম্ভবত শতবছরেরও বেশি পুরানো এলাকা। সেসময় নাবিকদের সস্তা বিনোদন দেয়ার উদ্দেশ্যেই কিংসক্রসের জন্ম।আজকাল এই এলাকাটি ড্রাগ ডিলিঙের জন্যই বিখ্যাত। ভবঘুরে (জাঙ্কি) ও উঠতিবয়সী ড্রাগ অ্যাডিক্টরা মূলত ড্রাগ সংগ্রহের জন্য এখানে আসে।

ইমিগ্রেশন নিয়ে বারী সাহেব আজকের ফিচারে অনেক ফালতু প্যাঁচাল লিখেছেন। অস্ট্রলিয়ায় পড়তে আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের আইইএলটিএসের স্কোর নাকি সাড়ে চার থাকা লাগবে। আমার জানামতে এই স্কোর সাড়ে পাঁচ না হলে হাইকমিশন ভিসা দেয় না। আইইএলটিএসের দুই লেভেলের অস্ট্রেলীয় রিকোয়্যারমেন্ট আছে। ভালো ইউনিভার্সিটিতে এ্যাডমিশনের জন্য সব ব্যান্ডে ৬ করে পেতে হয়। তবে অনেক ইউনিভার্সিটিতে সাড়ে পাঁচেও চলে। তবে কিছু কলেজে মনে হয় ৫ পেলেই অফার লেটার দিয়ে দেয়। কিন্তু হাইকমিশন সাড়ে পাঁচের কম ওভারঅল স্কোর থাকলে ভিসা দেয় না। এটা আমার জানা হিসাব তিন বছর আগের। দিনকে দিন নিয়ম কঠিন হচ্ছে। তাই আজকাল নিয়ম-কানুন এরচেয়ে কঠিন হতে পারে, কিন্তু সহজ হবার কোন চান্স নেই।

"যারা কাজ করে টিউশন ফি যোগাড় করতে চান তাদের গ্রামের দিকে থাকার চিন্তা করা উচিত। কারন সেসব এলাকায় কৃষিকাজের রোস্টার ঠিকমত মেইনটেইন করা হয় না বলে বলে সেক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের ঘটনাও নগণ্য" -- এই মর্মে বারী সাহেব যে উপদেশ দিয়েছেন তাও হাস্যকর বৈকি। আমার তিন বছর প্রবাস জীবনে কখনও শুনিনি যে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট কৃষিকাজ করছে অস্ট্রেলিয়াতে। গ্রামে থাকার যে পরামর্শ উনি দিয়েছেন, সে পরামর্শ উনাকে যে দিয়েছেন, তার বুদ্ধি সম্পর্কে সুস্হ মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্দেক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। উল্লেখ্য এখানে বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি মূল শহরগুলোতে অবস্হিত।গ্রামাঞ্চলে ইউনিভার্সিটি তো বাদ দিলাম ক্ষেত্রবিশেষে হাইস্কুলও নেই। আমার বস কান্ট্রি সাইডে শৈশব পার করা মানুষ। উনি হাইস্কুলে উঠার পর ২০০ কিমি দূরবর্তী বোর্ডিং স্কুলে হাইস্কুল পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন। কারন উনার শহরে সেসময় (১৯৯০ এর শুরুর দিকে) কোন হাইস্কুল ছিল না। ব্যাপারটি বানানো নয়। এখানে অনেক কান্ট্রি টাউনের জনসংখ্যা ২০০ বা ৩০০ জনের মত। তাই সে সব জায়গায় উচ্চশিক্ষার তেমন কোন সুযোগ নেই। উচ্চভিলাসীরা অনেকেই খুব কম বয়সে হোমটাউন ছেড়ে বড় বড় সিটিতে মুভ করে যায়।

আরও কিছু টুকিটাকি ব্যাপার আছে। লিখতে গেলে বিশাল ইতিহাস হয়ে যাবে। আশাকরি বারী সাহেব আগামী দিনগুলোতে একটু রয়ে-সয়ে লিখবেন আর ভুলতথ্য প্রদান না করে সঠিক তথ্য পাঠকদের কাছে তুলে ধরবেন।

বারী সাহেবের কলাম: [wjsK=http://www.dailyjanakantha.com/fn/tml1]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709573 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709573 2007-05-08 04:53:35
গুগল আর্থের এরর!!
আমি যেখানে কাজ করি, সেখানে বিগত সাত-আটমাস যাবত ব্যাপক কন্সট্রাকশনের কাজ হয়েছে। ফলে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বিগত প্রায় একবছর যাবত হওয়া এসব পরিবর্তন গুগল আর্থে এখনও দৃশ্যমান হয় নি।এমনকি এ সময়ের মাঝে গজিয়ে উঠা বিল্ডিঙের মত বড় বড় স্ট্রাকচারগুলোও গুগল আর্থ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি অথবা গুগল আর্থ স্যাটেলাইটের পাঠানো ছবির দৃষ্টি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া কিছু স্ট্রাকচার সম্পূর্ণ উল্টাভাবে দেখানো হয়েছে। বুঝাতে মনে হয় পারলাম না। মানে যেটা বরাবরই উত্তর-দক্ষিণমুখী, সেটাকে পূর্ব-পশ্চিমমুখী করে দেখানো হয়েছে।

স্যাটেলাইটের কর্মক্ষমতা যদি এই হয়, তাহলে এখন কারও বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয় যে লাদেন ব্যাটা কিভাবে শত শত স্যাটেলাইট ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে আছে।

আমি আমার কর্মস্হলের অন্তত ৫/৬ টা জায়গা এক পলকে বের করে দিয়ে বলতে পারি এসব জায়গার ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বুঝি না কেন গুগল এই সফটওয়্যারের জন্য নিজেদের এত সফল ও গর্বিত মনে করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709050 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709050 2007-05-04 10:04:49
বেহুদা প্যাঁচাল (বিষয়: বাংলা সিনেমা দর্শন)
রাতের খাওয়ার পর বিশাল কাফেলা নিয়ে যাত্রা শুরু হলো সিনেমা হল অভিমুখে। গ্যাং মেম্বার গনণা করে দেখা গেল সংখ্যা ২০ জন। মন্দ না। কিন্তু এতজনের যাতায়াত ব্যবস্হাও বেশ সমস্যাবহুল।বাস নিতে চায় না। কারণ ভাড়া মেরে দেয়ার ভয়। যাই হোক সে সমস্যার সমাধানও হলো।

অনেক কাহিনী করে সিনেমা হলে পৌঁছে দেখা গেল অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের আরও কিছু উৎসাহী দর্শক হাজির। তাদের মারফতে জানা গেল সেদিনের লেট নাইট শোতে চলছে মুনমুন অভিনীত "বিষে ভরা নাগিন"। কঠিন অবস্হা!! পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কিছু গ্যাং মেম্বার আমাদের কিছু পোস্টার দেখিয়ে এই সিনেমা দেখার সার্থকতা বর্ণনা করতে লাগল। পোস্টার দেখে ভিরমী খাওয়া আমার জনৈক বন্ধুর মন্তব্য ছিল "দোস্ত, এইটা তো দেখি কাঁঠালের সাথে লিচু ফ্রি!"

যাই হোক শো শুরু হলো। দেখলাম হলে উপস্হিত সবার উদ্দেশ্য বিপথগামী হলেও জাতীয় সংগীতের প্রতি কেউ অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করল না। বলে রাখা ভাল হলের উপস্হিত দর্শকদের বেশিরভাগ মানুষই আমাদের গ্যাং মেম্বার। তাই উপস্হিত নবীন দর্শকদের মাঝে বয়স্করা একটু অস্বস্তিবোধ করছিলেন। যেমন আমার পাশে বসা চাচার মন্তব্য "আইজকা দেখি সব পোলাপান আইছে। এগোর মধ্যে সিনেমা দেখা যাইবো না"। চাচার কথা ভুল ছিল না। সুড়সুড়িমার্কা দৃশ্য এলেই শুরু হয়ে যাচ্ছিল গ্যাংমেম্বারদের হল ফাটানি সিটি, চিৎকার ও হাত তালি। অবস্হা দেখে আর আমার পাশে বসা চাচা মন্তব্য করেন "কোলবালিশ তো দেখা যায়। এইডা কি অবস্হা"। চাচার মন্তব্য শুনে গ্যাংমেম্বাররা অন্ধকারে উত্তর দেয় "কোলবালিশ না দেখতে চাইলে চাচা লেট নাইটের শোতে আইছেন কেন? বাড়িতে চাচীর কাছে যান।" বলাইবাহুল্য উঠতি বয়সের পোলাপানের সাথে চাচা তর্ক করেন না। তাই মন্তব্য চুপচাপ হজম করেন।

সিনেমা শেষ হয় সময় মত। হল থেকে বেরিয়ে আমরা গ্যাংমেম্বাররা হেঁড়ে গলায় "বিষে ভরা নাগিনের" বিষে ভরা গান "সখী তোর অঙ্গ যেন বরিশালের আমড়া, আটি তার মিঠা যেমন, মিঠা তেমন চামড়া" গাইতে গাইতে বাস স্টেশনে আসি। কিন্তু কোন বাসওয়ালা আমাদের নিতে রাজি হয় না। এর মাঝে একগ্রুপ বেঈমানী করে ট্রাক থামিয়ে ট্রাক মারফত ইউনিভার্সিটিতে চলে গেল। অবশেষে রীতিমত রাস্তা বন্ধ করে বাস থামিয়ে ভাংচুরের ভয় দেখিয়ে বাস ড্রাইভারকে রাজি করানো হলো। বলার অপেক্ষা রাখে না বাস ড্রাইভার আদৌ ভাড়া পেয়েছিল নাকি তাতে আমার আজও সন্দেহ আছে।

তবে রাত-বিরাতে গ্যাংমেম্বার পরিবেষ্ঠিত অবস্হায় এইরকম মাস্তি করার স্মৃতি খুব একটা নেই আমার জীবনে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709038 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28709038 2007-05-04 05:39:10
একটি ভার্চুয়াল (নট মানবিক) আবেদন
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ এক্স পি
ব্রাউজার: আই ই ৭.০

বিশেষ তথ্য: ব্রাউজারের এনকোডিং অপশনে ইউনিকোড ইউ টি-৮ সেট করা আছে।

সুহৃদয় ব্লগারগণকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

কয়েকদিন আগে জনৈক ব্লগারের বংশী ফন্ট সম্পর্কিত একটি পোস্টের আবির্ভাব ব্লগে ঘটেছিল। কিন্ত্ু অকৃতজ্ঞতাবশত ব্লগারের নাম ও টপিকের নাম মনে রাখতে না পারায় আবেদনকারী লজ্জিত।

সহযোগীতার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ সবাইকে। আপনাদের সহযোগীতাই ব্লগারকে নতুন জীবন প্রদানে সক্ষম হবে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708830 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708830 2007-05-03 10:50:28
বেহুদা প্যাঁচাল (বিষয়: মাধ্যাকর্ষণ শক্তি)
ছোটবেলায় বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম নিউটন সাহেবের মাথায় আপেল কেন গাছ থেকে নিচে পড়ে এই সামান্য প্রশ্ন থেকে মাধ্যাকর্ষন শক্তির থিওরী খুলে গিয়েছিল। তখন এই কাহিনী পড়তাম আর মনে মনে ভাবতাম কত বড় গাধা আপেল গাছ থেকে নিচে পড়ে ব্যাপারটা বুঝে না। আর মনে মনে ভাবতাম আর হাসতাম এই ভেবে যে আপেল গাছ থেকে মাটিতে না পড়ে হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে। কিছুতেই বুঝতাম না এই ঘটনার সাথে মাধ্যাকর্ষন শক্তির সম্পর্ক আসলে কি?

একদিন এই প্রশ্নটি স্যারকে করে বসলাম। আমার জিজ্ঞাসা ছিল, "স্যার আপেল তো গাছ থেকে মাটিতেই পড়বে। এতে এত টেনশনের কি আছে?" সোবহান স্যার খুবই সজ্জন লোক ছিলেন, তবে আমার এহেন কর্মে বিরক্ত হয়ে উনি ডাস্টারের দু'ঘা আমার পশ্চাৎদ্দেশে লাগিয়ে দিতে কালবিলম্ব করেন নি। বলাইবাহুল্য এই ঘা হজম করে আর দ্বিতীয়বার প্রশ্নটি কোন শিক্ষককে আমি দীর্ঘদিন করিনি।

পৃথিবী গোল। এস.এস.সি. তে এসে এই মাধ্যাকর্ষন শক্তি আবার আমার মাথায় ভর করল। ততদিনে জ্ঞান-বুদ্ধি কিঞ্চিত বেড়েছে। তাই মাধ্যাকর্ষন সূত্রের জটিল সব সমীকরণ দেখে আমার জ্ঞান-পিপাসা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আমার তখন চিন্তা হয় আর যাই হোক আপেল পড়া দেখে এই সমীকরণ কোন সুস্হ মস্তিষ্কের মানুষের মাথায় আসতে পারে না। যেই ভাবা সেই কাজ। ছাবেদ স্যার ছিলেন অতি রাগী মানুষ। ওল্ড ক্লাস টেনের এক বড় ভাইয়ের চুলের মুঠি ধরে দেয়ালে বাড়ি দিয়ে উনি কিছুদিন আগে মাথা ফাটিয়েছেন। তাও সাহস করে বলি "স্যার এইটা কমপ্লিট চাপা। এই আপেল পড়া দেখে এই সব হিসাব মানুষের মাথায় আসে না।" স্যার বিজ্ঞান বইটা নিয়ে আমার পাশে এসে ঘাড় ধরে মাথা নিচু করে পিঠের উপর দমাস দমাস করে বিজ্ঞান বইয়ের বাড়ি মারতে মাড়তে বলতে লাগলেন "একেই বলে গ আকারে ধা"।

আজও মাঝে মাঝে চিন্তা করি গাছ থেকে আপেল পড়ার সাথে দাঁতভাঙ্গা সব কঠিন সমীকরণের সম্পর্ক কোথায়? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708816 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708816 2007-05-03 08:25:51
বেহুদা প্যাঁচাল (বিষয়: রিয়েল এস্টেট)
লিজ রিনিউয়াল লেটারে দেখি উল্লেখ লিজের মেয়াদ ৬ মাস। দিলাম ফোন রিয়েল এস্টেটকে। ব্যাটারা ঘাগু মাল। আমাকে বলে ৬ মাসের বেশি লিজ রিনিউ করা যাবে না। আমি মনে মনে বলি মামা ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি। আমিও বললাম ঠিক আছে, দরকার নেই, আমি বাসা খোঁজা শুরু করলাম। দু'দিন বাদেই দেখি রিয়েল এস্টেটের কর্মরত ন্যাথান নাদান বাচ্চার মত ফোন দিয়ে বলছে ১২ মাসের লিজে রাজি। আমি এই ব্যাটাকে দেখতে পারি না। মহা ফাঁপরবাজ পাবলিক। খালি খুঁত বের করে আর ভেজাল করে। আগে আমার সাথে ডিল করত ভ্যালেরি নামের একটা মেয়ে। আহা! দেখতে বড়ই সুন্দরী ছিল। আমার সিডনিবাসী বন্ধুও এই মেয়ের সৌন্দর্য্যের প্রশংসা করে গেছে। একদিন ফোন করে আমার বন্ধুপ্রবর জানতে পারল ভ্যালেরি আমার বাসায় ইন্সপেকশন নামক যন্ত্রণাদায়ক একটা কাজ করছে ও আমি সেখানে সশরীরে উপস্হিত আছি। ব্যাপারটা জানা মাত্রই তার আদিরসাত্নক আক্রমন "শালা সুন্দরী মাইয়্যা নিয়ে বাসায় ফুর্তি কর, আবার বড় বড় কথা কও।" আমি আড়চোখে ভ্যালেরিকে দেখি ও মুঠোফোনে বাংলায় তার শারিরীক সৌন্দর্য্যের বয়ান দিয়ে যাই বন্ধুপ্রবরকে।

এই সুন্দরীর চলে যাওয়ার পর থেকেই আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। ন্যাথান হারামজাদা নানা সময়ে নানা অভিযোগ করে আমাকে ত্যক্ত-বিরক্ত করে। ব্যাপারটি আমার সিডনিবাসী বন্ধুও জানে। সে ভদ্রলোক সবকিছুতেই চুলকানিসুলভ মন্তব্য করবে, তাই আমার বিপদের কথা শুনে তার ভারডিক্ট "দোস্ত ন্যাথান শালা মনে হয় পুফতা (সমকামী)। তুই কিন্তু ওর থেকে বাঁইচা চলিস।"

আমিও ন্যাথানের হাত থেকে বেঁচে চলি। সেদিন লিজ রিনিউয়াল জমা দিতে রিয়েল এস্টেটে গেলাম। দেখি রিসেপশনে আরেক সুন্দরী বসে। মনে মনে ভাবি এই হুর-পরী বাদ দিয়ে ন্যাথান শালা নরকের কীট কেন আমার ঘাড়ে চেপে বসেছে?

রিয়েল এস্টেটের মেয়ে এজেন্টগুলো অস্বাভাবিকরকম সুন্দরী হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এয়ার হোস্টেজদের চেয়েও সুন্দরী। কারণ কি কে জানে? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708696 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708696 2007-05-02 12:31:58
গ্লোবাল ওয়ার্নিং!!
এখানে উল্লেখ্য যে, পূর্ববর্তী গবেষণা থেকে ধারণা করা হয়েছিল যে ২০৫০ থেকে ২১০০ সালের মাঝে আর্কটিকের বরফ গলে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই হিসাব থেকে জানা গেছে সম্পূর্ণ বরফ গলে যেতে ২০২০ থেকে ২০৭০ সালই যথেষ্ঠ সময়। আর সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কথা হলো বরফ গলে যাওয়ার হার প্রতি বছর বেড়ে চলেছে।

আর্কটিক আমাদের জলবায়ুর উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এর উপস্হিতির কারণে পৃথিবীতে আসা সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে ফিরে যায়। এভাবে পৃথিবীর জলবায়ুর উপর আর্কটিক প্রভাব রেখে চলছে। এই বিশাল বরফ খন্ডের অনুপস্হিতিতে পানি ও স্হলভাগ সূর্যের তাপ শোষণ করবে। ফলাফল: পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি।

শুধু বাংলাদেশই নয়, পৃথিবীর সমস্ত দেশেই আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে বিগত কয়েক বছরে। তাই অনাগত বিপদসঙ্কুল দিনগুলোতে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখা মানবজাতির জন্য হবে এক বিশাল চ্যালেন্ঞ্জ।

সূত্র: [wjsK=http://nsidc.org/news/press/20070430_StroeveGRL.html ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708664 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708664 2007-05-02 06:48:36
ইংরেজি শিক্ষার আসর
আমি কখনই ম্যাডামের ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারতাম না। ক্লান্ত দৃষ্টি খালি চলে যেত বাইরে। অলস দুপুরের ক্লান্ত প্রকৃতি বা গোলাপের ঝাড় বা মাঠের কোনায় মেশিন দিয়ে মালির ঘাসকাটা দেখতে ভালো লাগত। ক্লাস কোথায় যাচ্ছে মনে থাকত না।

ধরা পড়তাম প্রায়ই। ম্যাডাম রেগে ফায়ার হয়ে যেতেন। বার বার জিজ্ঞাসা করতেন বাইরে কি দেখছি? আরে মুসিবত যত বলি কিছু না, উনি তত টেম্পার লুজ করেন। বিরক্ত হয়ে এক পর্যায়ে বলতে হত, শামসু ভাইয়ের ঘাস কাটা দেখছিলাম। আর সাথে সাথে শুরু হয়ে যেত ম্যাডামের খ্যাঁচ-খ্যাঁচানি। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যেত মাঝে মাঝে। প্রথম প্রথম উনি আমাদের সাথে বেশ প্রহসন করতেন। জিজ্ঞাসা করতেন এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কিভাবে করা যায়। আমরা চুপ থাকতাম আর উনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠতেন। এরকম ফ্যালাসি তৈরি করে একসময় বলতেন "এট লিস্ট ইউ ক্যান সে স্যরি ফর হোয়াট ইউ হ্যাভ ডান"।

এটাই ছিল আমাদের দরকার। এরপর থেকে কিছু হলেই আমরা সবার আগে বলে উঠতাম "স্যরি ম্যাডাম"। ম্যাডাম চুপ হয়ে যেতেন। বেশ মজাতেই ছিলাম কিছুদিন। এরপর স্যরি বললেই ম্যাডাম খেঁকিয়ে উঠা শুরু করতেন।বলতেন "স্যরি ডাজ নট কভার এভরিথিং"। বড়ই যন্ত্রণায় কেটেছে কলেজের বাকি দিনগুলো।

তবে একটা লাভ হয়েছিল আমার ম্যাডামের ক্লাসে একই প্যাঁচাল বার বার শুনতে শুনতে অনেক কবিতার লাইন মুখস্হ হয়ে গিয়েছিল, তাই পরীক্ষার খাতায় বমি করতে তেমন সমস্যা হত না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708579 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708579 2007-05-01 11:54:46
ভাষার বিবর্তন
কিছু মজার ব্যাপার পরে লক্ষ্য করেছি, যেমন বগুড়ায় মামা শব্দটি বেশ সম্মানজনক উপাধি। অন্যান্য জায়গায় যে অর্থে "দোস্ত" শব্দটি ব্যবহার করা হয়, একই সমার্থক হিসাবে "মামা" শব্দটি ব্যবহৃত হয় বগুড়ায়। "ক্যাংকা আছু মামা?" মানে "কেমন আছিস দোস্ত?" তেমনি ক্রিয়ার শেষে উ কার যোগ করাটা বগুড়ার মানুষের আভিজাত্য বলে মনে করি। যেমন- গেছু, খাছু, নিছু (গিয়েছিস, খেয়েছিস, নিয়েছিস)। ভালোই লাগত। এমনকি শিক্ষকরাও ক্লাসে আঞ্চলিক টানে কথা বলতেন। তাই বেশি সময় লাগেনি ভাষাটা রপ্ত করতে।

১৯৯৬ সালে যখন ঢাকায় আসি, তখন আমি পুরোদস্তুর বগুড়ার টানে কথা বলি। তাই নতুন স্কুলের সহপাঠীরা দারুণ মজা পেয়ে গেল। বেশ বিব্রতকর পরিস্হিতি। পরবর্তীতে প্রায় ৬ মাস লেগে গিয়েছিল ঢাকার আঞ্চলিক টানে অভ্যস্ত হতে। নানারকম শর্ট স্ল্যাংগুলো ভালই লাগত ও এখনও লাগে-

জম্পেশ
ছিল্লা লবন লাগায় দিমু
জোস
ঝাক্কাস
ঝাকানাকা
কঠিন
জটিল
খাইছি তোরে
কু কু
আবার জিগায় (এটা আজকাল হয়ে গেছে আবার জিগস)
বাপের গায়ে জ্বর (এটা সেদিন এক নাটকে শুনলাম)

আরও অনেক কিছু। চ-বর্গীয় শব্দগুলোর তো ভান্ডার এত সমৃদ্ধ যে লিখতে গেলে ডিকশনারি লেখা হয়ে যাবে। স্কুলে পড়ার সময় শিক্ষকদের চ-বর্গীয় গালি দেওয়ার জন্য পোলাপান কতরকম টার্ম যে বের করেছিল, তার কোন সীমারেখা নেই। ক্লাসের মধ্যে পিছন এসব নামে ডাকা হতো স্যারদের। উনারা বুঝতে পারতেন না। কিন্তু ক্লাসের বাকিদের মাঝে হাসির রোল পড়ে যেত।

বহুরকম স্ল্যাং। সব মনে রাখা সম্ভব না। তাছাড়া কালক্রমে অনেকগুলো ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে, তেমন ব্যবহার করা হয় না আজকাল। হয়ত বাজারে নতুন সংলাপও এসেছে। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় শুনতে পারি না বা ব্যবহার করি না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708564 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708564 2007-05-01 06:54:14
গ্লেন ম্যাকগ্রার সেরা একাদশ
"(১) মাইকেল আথারটন (ইংল্যান্ড): আমি তাকে শ্রদ্ধা করি ও আমাদের সময়ের একজন সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি, যদিও আমি ও কর্টলে এ্যাম্ব্রোসের খুব ভালো রেকর্ড আছে তার বিরুদ্ধে কারন এক্সট্রা বাউন্সে আথারটন কখনই স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করতেন না।

(২) সনাথ জয়াসুরিয়া (শ্রীলংকা): অনেকের ভাল রেকর্ড থাকতে পারে কিন্তু জয়াসুরিয়ার মত ভয়ঙ্কর খুব কমই ছিল। একজন ব্যক্তির জন্য এটা একটা বিশাল প্রাপ্য যখন কেউ বলে সে খেলাটা বদলে দিয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে জয়াসুরিয়ার খেলা ইনিংসগুলো দেখে ওয়ান ডেতে ইনিংস শুরু করার ধারণা বদলে যায়। গ্রেট ন্যাচারাল ট্যালেন্ট।

(৩)ব্রায়ান লারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): আমি মনে করি যখন সে সেরা সময়ে ছিল, তখন সে ছিল শচীন তেন্ডুলকারের কিছুটা আগে। সে ছিল ন্যাচারাল গিফটেড খেলোয়াড় যার সামর্থ্যের অভাব ছিল না। স্পিনের বিরুদ্ধে সে ছিল নিজেই নিজের তুলনা। কোন স্পিনার তার বিরুদ্ধে বল করে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করত না, এমনকি মুরালিধরনও বলেছে তার বিপক্ষে বল করাটা সবচেয়ে কঠিন কাজ।

(৪) শচীন তেন্ডুলকার (ভারত) : লারার চেয়ে অনেক টেকনিক্যালি সঠিক ছিল ও নিজের দিনে যেকোন আক্রমনকে ধ্বংস করার ক্ষমতা তার ছিল। কিন্তু সম্ভবত লারার মত অতখানি ন্যাচারাল ট্যালেন্ট ছিল না, কিন্তু কার আছে?

বিলিয়ন ভারতীয় ক্রিকেট ফ্যানদের আশা বহন করার মত মানসিকভাবে শক্তিশালী ছিল যখনই সে ব্যাট করেছে।

(৫) অরবিন্দ ডি সিলভা (শ্রীলংকা): সে যখন নিজের দেশের মাটিতে শুরু করত, তখন মনে হত কখনই তাকে আউট করতে পারব না। একটা কঠিন সময়ে শ্রীলংকার জন্য একটা সম্পদ ছিল সে, যখন আজকের মত তাদের ট্যালেন্ট ও অভিজ্ঞতা ছিল না।

(৬) এন্ড্রু ফ্লিনটফ (ইংল্যান্ড): জ্যাক ক্যালিস, শন পোলক ও ক্রিস কেয়ার্নসের চেয়ে তাকে আমি অল-রাউন্ডার হিসাবে ভাল বলব কারন তার আমাদের বিপক্ষে ২০০৫ সালের এ্যাশেজ সিরিজে তার হিরোয়িক পারর্ফমেন্স। ধারাবাহিকভাবে ১৪৫ কিমি/ঘন্টা বেগে বল উভয়দিকে সুইং করানো লম্বা স্পেলে ছিল পেস বোলিঙের সেরা উদাহরন।

(৭) কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা) : টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ৪০ এর অধিক অ্যাভারেজ ও কিপার হিসাবে চমৎকার পারফরমেন্স তার মুরালিধরনের সাথে। মুরালি দলে থাকলে সাঙ্গাকারাকে কিপার হিসাবে নিতে হবে। সে একজন আন্ডার-রেটেড খেলোয়াড় যার রয়েছে অসাধারণ রেকর্ড। তাই দক্ষিন আফ্রিকার মার্ক বাউচারকে ছাড়িয়ে সাঙ্গাকারাই সেরা উইকেট কিপার।

(৮) কার্টলে এম্ব্রোস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ): তার উচ্চতা দিয়ে সে দারুন বাউন্স পেতে সক্ষম ছিল ও সে ছিল একজন বোলার যার সবসময় একটা এক্সট্রা গিয়ার থাকত। তার কখনই খারাপ দিন বলে কিছু ছিল না ও প্রতিপক্ষের সাথে সে সবসময় দূরত্ব বজায় রাখত, আমাকে সহ।

(৯) ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান): বল হাতে সে একজন চ্যাম্পিয়ন। সে বল দুই ষিকেই সুইং করাতে পারত ও যেভাবে সে বল হাতে ক্রিজের দিকে এগিয়ে আসত, তা তাকে স্মরনীয় করে রেখেছে। প্রতিপক্ষ বোঝার আগেই সে হয়ে উঠত তাদের ত্রাস। সে ছিল আসাধারণ।

(১০) এ্যালান ডোনাল্ড (দ. আফ্রিকা): তার ছিল চমৎকার পেস ও দ. আফ্রিকার পক্ষে সুন্দর রেকর্ড। আমি সব সময়ই তার পাশেই ছিলাম ও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের রেকর্ড ছিল একই রকম।

(১১) মুথিয়া মুরালিধরন (শ্রীলংকা): তার অসাধারন স্ট্যাটিকসের জন্য তাকে আমার একাদশে অন্তর্ভুক্তি। কিন্তু আরও অনেক স্পিনারকে আমি শ্রদ্ধা করি- সাকলাইন মুশতাক, অনিল কুম্বলে ও ড্যান ভেট্টরি তাদের মাঝে অন্যতম।"

সূত্র: ফক্সস্পোর্টস, ২৯শে এপ্রিল,২০০৭।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708445 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708445 2007-04-30 08:26:45
শিরোনামহীন
তাছাড়া আমার ব্যক্তিগত ব্লগের বেশিরভাগ কমেন্টই হাওয়া হয়ে গেছে। নোটিশবোড দেখি বিশাল এক ইংরেজি রচনা লিখে মাফ চেয়েছেন। আমি কখনই ২০০ শব্দের বেশি ইংরেজি রচনা লিখি নাই বিধায় সুবিশাল রচনাটি পড়ে শেষ করতে পারি নাই। তবে বিপুল সংখ্যক ব্লগার ঐ রচনাটি পড়েছেন ও নিজেরাও মন্তব্য করার সময় আরও শ'দুয়েক শব্দ লিখেছেন।

কতৃপক্ষ যতই প্যাচাল পাড়েন না কেন, ডেভেলপার নামের কলঙ্ক হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। তা নাহলে ব্যবহারকারীদের এরকম গিনিপিগ বানানোর মত লজ্জাজনক ব্যাপার পৃথিবীর আই টি ইতিহাসে তেমন একটি নেই। আমার ধারণা বাগ একটাও টেস্ট না করে এভাবে রিলিজ দেওয়াটা বিল গেটসের উইন্ডোজের পর সামহোয়্যার কতৃপক্ষের বেটা রিলিজ দ্বিতীয় উদাহরন। মানুষকে একটা জিনিসে আভ্যস্ত করে পরবতীতে তার এরূপ সুবিধা নেয়ার নজির মনে হয় খুব একটা নেই।

যাই হোক, মানুষ হিসাবে বাংলাদেশিরা যে খুব একটা খারাপ নয়, তার এটা একটা দৃষ্টান্ত । আমরা ব্যতীত যে কেউ এরূপ পরিস্হিতিতে এই সাইট বাতিল লিস্টে ফেলে দিত।

পুনশ্চ ঃ বানানের ব্যাপক বিভ্রান্তির জন্য কতৃপক্ষ দায়ী থাকবেন। টাইপ করলে ইনভ্যালিড ক্যারেক্টার দেখায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708075 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28708075 2007-04-27 04:37:07
আমার বন্ধু চিকু
চিকুর নাম 'চিকু' হবার আর কোন কারন নেই। ওর টিঙ-টিঙে, শীর্ণকায় গড়নই ছিল এর কারন। এত হাল্কা-পাতলা ছিল যে ওর বুকের হাড় একটা আরেকটার সাথে লেগে থাকত (এখন কি অবসহা জানি না)। স্কুলে ওর আরও দু'টো নাম প্রচারের চেষ্টা হয়েছিল- টিকটিকি ও আসমানী (জসীমউদ্দিনের কবিতা অনুসারে)। তবে চিকু নামটাই শেষ পর্যন্ত সহায়ী হয়।

ঘটনা এক
......................
টিফিন পিরিয়ডে বিপুল উৎসাহে ফুটবল খেলা হচ্ছে। চিকু যথারীতি দুধ-ভাত। গোলকিপারের এ্যাসিসটেন্ট হিসাবে ওকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে 'ব্যাগি' পজিশনে। আমাদের 'মাজলম্যান' জাহেদ চিকুর বিপরীত দলে খেলছিল। হঠাৎ মাঝমাঠ থেকে জাহেদ একটা বল ক্লিয়ার করার জন্য দারুন একটা কিক নেয়। চিকু তার দিকে ধেয়ে আসা উড়ন্ত বল দেখে উলটা ঘুরে দৌড় দেয়। কিন্তু বিধিবাম। ঐ বল ঠিকই পলায়নরত চিকুর মাথায় পিছন থেকে আঘাত করে। ফলাফল: চিকু মাটিতে চিৎপটাং। আজব ব্যাপার হলো সে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়েছিল ও কোন সাড়াশব্দ করছিল না। আমরা সবাই গিয়ে ধাককা-ধাককি করাতে সে উঠে বসে বলে, "জাহেদ্দা রে আমি আইজকা মাইরা ভতর্া বানাব।" জাহেদ বাদে আমরা সবাই ফ্যাক ফ্যাক করে হাসি আর জাহেদ হাঁপ ছেড়ে বলে "দোস্ত, যা ডরাইছিলাম, আমি তো ভাবছি শালা মনে হয় বাঁইচা নাই আর আমি মাডর্ার কেসে ফাঁইসা গেছি "।

ঘটনা দুই
.............................
চিকু আর আমাদের মাহমুদ ক্লাসের মাঝে পাশাপাশি বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এমন সময় একসিডেন্টালি স্যারের কাছে মাহমুদ ধরা পড়ে গেল। আজহার স্যার খুবই রাগী মানুষ। দেখতে পেয়েই স্কেল নিয়ে ছুেট এলেন মাহমুেেদর কাছে ও সপাসপ স্কেলের বাড়ি দিতে লাগলেন মাহমুদের পিঠে। স্যার একেকটা বাড়ি দেন মাহমুদের পিঠে আর চিকু প্রতিবার বাড়ির সাথে সাথে কেঁপে কেঁপে উঠে। এই দৃশ্য দেখে ব্যাটা মাহমুদ ফিক ফিক করে হাসে আর স্যার আরও তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠেন। পুরা ঘটনা দেখে আমরা বাকি ক্লাস আরও জোরে জোরে হাসি।

ঘটনা আড়াই
............................
আজহার স্যার বিজ্ঞান পড়াতেন আমাদের। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার 15-20 টা পয়েন্ট ধরা মাত্র গড় গড় করে বলতে না পারলে বেতের বাড়ি খাওয়া লাগত। কিন্তু স্যার নিজে ছিলেন বিশ্ব নোংরা, এজন্য তার কোডনেম ছিল "নোংরুস্যার"। সবচেয়ে বাজে যে অভ্যাসটা ছিল উনার তা হলো ঘন ঘন ডান হাত দিয়ে নাক ঝেড়ে প্যান্টে মুছতেন ঐ হাত। খুবই বিদঘুটে একটা ব্যাপার। তবে নাক ঝাড়তে ঝাড়তে উত্তেজিত হয়ে পড়লে তো কথাই নেই। আমাদের ফরিদকে এমন অবসহায় উত্তেজিত হয়ে স্যার একবার কানমলা দিয়েছিলেন। কানমলার পর ফরিদের কানে লেগেছিল স্যারের নাকের ময়লা। শরীর গুলানো, গা ঘিন ঘিন করা ভয়াবহ ব্যাপার। যাই হোক, চিকু একবার এই প্যাঁচে পড়ে গেল। স্যার উত্তেজিত হয়ে ওর কানমলা দিতে গেলে, চিকু চেঁচাতে থাকে "স্যার মারলে মারেন কিন্তু ওই হাতে আমাকে ধরবেন না"। আমরা সারা ক্লাস বেচারার করুণ অবসহা দেখে হাসি আর চিকু চিৎকার করতে থাকে। আর আজহার স্যার? চিকুর কান মলে বলতে থাকেন "আরেকবার আমার নামে বাজে কথা বললে তোর মাথা আমি ছিঁড়ে ফেলব।"

ক্লাস শেষে আমরা সবাই চিকু কে ক্ষ্যাপাতে থাকি বাংলা সিনেমার নায়িকাদের মত "আমার যৌবন পাবি কিন্তু ঐ হাতে আমার কান ধরতে পারবি না শয়তান"। আর চিকু বেচারা রাগে ফুঁসতে থাকে।

পরিশিষ্ট
............................
চিকুর সাথে শেষবার দেখা 1997 সালে। 10বছর কেটে গেছে এরপর । দেখা পাই নি। শুনেছিলাম প্রাইভেট এক মেডিকেলে চিকু ডাক্তারি পড়ত। আশাকরি আমার বন্ধু ডা. চিকু ভালোই আছে। তবে ওই স্বাসহ্য নিয়ে কিভাবে ডাক্তারি করে দেখতে মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু জানি না কোথায় আছে চিকু। ভবিষ্যতে কখনও দেখা হলে অবশ্যই সবাইকে জানাব ও লিখব এই লেখার 2য় পর্ব।

(আগামী পর্ব আসতে পারে ভবিষ্যতে। তবে কবে জানি না।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704978 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704978 2007-04-05 01:09:02
কতর্ৃপক্ষ সমীপে
আমার করা পোস্টে কেউ মন্তব্য করলে।

আমি অপশনটিতে টিক দিয়েছি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমি যখন অন্য পোস্টে কমেন্ট করি তখন নোটিফিকেশন আসে। আমার করা পোস্টে কেউ মন্তব্য করলে নোটিফিকেশন আসে না। ঘটনা কি?

আমি জানি না কতর্ৃপক্ষ ব্যাপারটা জানেন কি না? জানলে দয়া করে একটা ব্যবসহা নিন। <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704958 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704958 2007-04-04 19:39:47
দাসব্যবসা (1) প্রথমে আসা যাক, কিভাবে তাদের সংগ্রহ করা হত। একটা অংশকে ছল-চাতুরি করে নেয়া হত। জাহাজের ক্যাপ্টেনরা কখনও কখনও নিগ্রোদের জাহাজে আমন্ত্রণ জানাত ও তারপর তাদের আর ফিরে যেতে দিত না। কিন্তু এরচেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক কে জোরপূর্বক সংগ্রহ করা হত। খ্রিস্টানরা সাগরপাড়ে নামার পর পরই যত সম্ভব পুরুষ,মহিলা, বাচ্চাদের ধরে ফেলত ও আমেরিকায় পাচার করে দিত।1551 সালের দিকে ইংরেজরা ব্যবসা শুরু করে গিনিতে সোনা ও হাতির দাঁতের বিনিময়ে, পরবতর্ীতে তারা মানুষের বিনিময়ে ব্যবসা করা চালু করে। 1556 সালে স্যার জন হকিন্স দু'টো জাহাজ নিয়ে কেপ ভার্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন ও সেখানে পৌঁছে 80 জনকে সমুদ্্রতীরে পাঠিয়ে দেন দাস ধরে আনার জন্য এই বলে যে "তাদের শহর পুড়িয়ে দাও ও মানুষদের ধরে আন।" কিন্তু টারার প্রবল বাধার সম্মুখীন হয় ও তাদের 7 জন মারা যায়, কিন্তু তারা 10 জন নিগ্রোকে ধরতে সক্ষম হয়। তাই তারা অন্যত্র যাত্রা করে , যখন পযর্াপ্ত দাস সংগৃহীত হয়, তখন তারা ওয়েস্টইন্ডিজে গিয়ে দাসদের বিক্রি করে।

(2) কিছুকাল পরে ইউরোপিয়ানরা আরও সহজ উপায় বের করে দাস সংগ্রহের জন্য। তারা বিভিন্ন গোত্রকে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উদ্্বুদ্ধ করত এবং যুদ্ধ শেষে বন্দীদেরবিক্রি করে দিতে উৎসাহ দিত।কিন্তু তখন পর্যন্ত কদাচিত যুদ্ধ হত ও পরিবেশটা বেশ শান্তিপূর্ণ ছিল।কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা নিগ্রোদের মদ ও লোভ নামক দুইটি জিনিস শিখিয়েছিল, যার ফলে তাদেরকে ভাড়া করে অন্যজনকে বিক্রি করাটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল।এমনকি রাজারাও নিজেদের প্রজাদের বিক্রি করতে পিছুপা হত না। তাছাড়া কিছুসংখ্যক আদিবাসী ছিল যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের মানুষকে দাসত্বের শৃংখলে বন্দী করতে দ্্বিধাবোধ করত না।তারা রাতের অন্ধকারে লোকালয় থেকে একটু দূরের ঘরবাড়ি ঘেরাও করে মানুষ সংগ্রহ করত।এছাড়া অনেকসময় প্রতিবেশীরা ছোট বাচ্চাদের অপহরণ করত, বা রাস্তা, জঙ্গল বা ক্ষেতে কর্মরত মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসা হত।"

দাসব্যবসা নিষিদ্ধের 200 বছর পূর্তি হলো এবছর। 1807 সালে ইংরেজরা এই ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষনা করে।কিন্তু পতর্ুগীজ ও স্প্যানিশরা এরপর আরও 50 বছর এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। বেদনাদায়ক এই ব্যবসাকে বর্ণবাদের হোতা হিসাবে অনেকে চিহি্নত করেন। 200বছর পূর্বে নিষিদ্ধ হলেও তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ আজও পশ্চিমা দাসত্বের শৃংখল থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারে নি।

উপরের অংশটুকু অনুবাদ করেছি GBLvb থেকে। আগ্রহ ও সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। 1997 সালের স্টিভেন স্পিলবার্গের নির্মিত "Amistad" চলচিত্রটি দাসব্যবসার অনেক অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে। আগ্রহীরা দেখতে পারেন। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704826 http://www.somewhereinblog.net/blog/dukhi_bangaliblog/28704826 2007-04-03 21:03:54
নানাবাড়ি