ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মের একমেবাদ্্বিতীয়ম ঈশ্বর চেতনা
১১ ই জুন, ২০০৬ ভোর ৬:২৮
কেনো এই পোস্ট লিখছি, একথা জিজ্ঞেস করলে এককথায় কোনো উত্তর দিতে পারবো না। তবে ধর্মবিষয়ক মতবাদের আগের পোস্টটি লেখার পর মনে হলো আরেকটু অগ্রসর হই। ধর্মের দর্শন খুবই কঠিন একটি বিষয়। খুব কম মানুষই এই গোলকধাঁধাঁয় ঢুকতে চান। তার চেয়ে ভালো হাতের কাছে পাওয়া বাপ-দাদার ধর্মে বিশ্বাস করে প্রচলিত কিছু প্রথা মুখস্থ অনুসরণ করে যাওয়া। অবশ্য ধর্মের দর্শনের এই জটিলতাও সবার জন্য নয়। তো যারা আগ্রহী জানতে চলুন আগের লেখার শেষ অংশ থেকে শুরু করা যাক। ইসরাইলে যে মনোথিইজমের জন্ম হয় তাই পৃথিবীতে এনে দেয় একক ঈশ্বরের ধারণা। ইহুদিদের সেই একক ঈশ্বর ধারণার হিব্রু ভাষ্যই বাইবেলের অল্ড টেস্টামেন্ট (Old Testament)-এ স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু ইহুদি ধর্ম ও তাদের সমাজ চিরনত্দন ও সাংস্কৃতিক বহুইশ্বরবাদ (Polytheism) ও হেনোথিইজম ধারণা থেকে বের হয়ে আসার জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে।
হিব্রুদের ঈশ্বর মূলত: স্থানীয় এক ঈশ্বর, ইসরাইলের জাওয়েহ (কাছাকাছি এলাকায় অন্যান্য এরকম ট্রাইবাল ঈশ্বরের নাম ছিল ডাগন ও চেমশ)। কিন্তু খ্রিস্টান যুগের আগে অষ্টম, সপ্তম, ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে অনেক ধর্মীয় নেতা ইশ্বর জাওয়েহকে শুধু হিব্রুদের ঈশ্বর থেকে সমগ্র পৃথিবীর সব মানুষের ঈশ্বরের ধারণায় উত্তরণ ঘটান। এসব ধর্মীয় মহাপুরষদের মধ্যে রয়েছেন, আমোস, হোসিআ, প্রথম ঈসাই, জেরেমিয়া এবং দ্বিতীয় ঈসাই। হিব্রু ভাষার এসব নবীরা এই মতবাদটিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তারা বলেন, যদিও ঈশ্বর তাদের জাতিকে এক বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন ঈশ্বরের কথা পৃথিবীর সবাইকে জানান দিতে তবুও তিনি শুধু তাদের ঈশ্বর নন, বিদেশীদেরও ঈশ্বর। অর্থাৎ তারা এই ধারণাটি প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করেছেন যে, এরকম একজন ঈশ্বর শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট বিশ্বাসের জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন না, বরং তাকে হতে হবে সব জাতি ও জনগোষ্ঠীর।
ইহুদিদের তৈরি এই একক ঈশ্বরের ধারণাটি আরো বিশদভাবে দার্শনিক ব্যাখ্যাযুক্ত হয়ে স্থান নেয় খ্রিস্টান ধর্মে। ইহুদি-খ্রিস্টানদের এই একক ধারণার উপর নির্ভর করে পরবর্তীতে পৃথিবীতে অনেক নতুন ধর্মের জন্ম হয়েছে। তাছাড়া, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরনো অনেক স্থানীয় ধর্ম এই ধারণার দার্শনিকতাকে তাদের ধর্মচিন্তার মধ্যে গ্রহণ করে পুরনো ধর্মকে নতুন সাজ-পোশাক পরিয়েছে। তবে যেহেতু ধর্মসংক্রানত্দ এ্যাকাডেমিক আলোচনায় এই মনোথিইজমকে ইহুদি-খ্রিস্টানদের ঈশ্বরের একত্বের ধারণা বলেই আলোচনা করা হয় সেহেতু আমিও তাই করছি।
অসীম ও স্ব-স্বাধীন ঈশ্বর
ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ঈশ্বর চেতনায় ঘুরে ফিরে একটি কথা আসে তাহলো ঈশ্বর অসীম, তার কোনো সীমা নেই। এই যে ঈশ্বরের অসীমতা ও সর্বব্যাপ্তিতা এই ধারণাকে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে এই মতবাদের সমর্থকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সামনে নিয়ে আসেন। সেটি হচ্ছে আমাদের বলা উচিত নয় যে ঈশ্বর আছেন কারণ এই বক্তব্যও ঈশ্বরকে সীমাবদ্ধ করে দেয়।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
আমার কিন্তু ভালো লাগছে সুমন, চমৎকার, খুবই চমৎকার বিশেস্নষণ।
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ সুমন, মহুয়ামঞ্জুরী ও তীরন্দাজ।ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিয়ে পরের লেখাটি লিখবো ভাবছি। কিন্তু যেহেতু দর্শন কঠিন বিষয় আগ্রহী পাঠকের সংখ্যা কম। আবার নিজের পরিশ্রমও বেশি করতে হয়।
এই সমস্যা আর কি?
হযবরল বলেছেন:
আমার শৈশবে ঈশ্বর বা আল্লাহ ছিলেন একজন বিশাল বপু লোক। হাফ প্যান্ট আর স্ট্রাইপ টি-শর্াট পরা। হাসি আসতে পারে শুনলে, আমার চিন্তায় ঈশ্বর আমার মতই ছিল, পোষাকে ।শুধু বপু ছিল বিশাল।
আপনার লিখার শেষ কি হবে আরনলড টয়েনবী আর দাইশাকু ইকেদা দিয়ে? মনে হয়।
আপনি কেন আমাদের ব্লগের প্রাণ ভোমরা তা আবার দেখালেন ।
অতিথি বলেছেন:
আরেকটি কথা হযবরল, এ বিষয়ে বিস্তৃত কিছু লিখতে যাবো না। ধর্ম-দর্শনের বইয়ের পাতা উলটায়নি অনেকে এসে এমন দুনিয়াছাড়া ভঙ্গিতে নাকিতর্ক জুড়ে দেয় যে ভীষণ বিরক্ত লাগে। এখন অন্তত: বলতে পারবো ঐ পোস্টটা পড়ে আসুন।
ব্লগের প্রাণভোমরা....একি বললেন হযবরল ?
অতিথি বলেছেন:
বিশাল বপুর লোক। হযবরল, বেশ মজার কথা বললেন। আসলে মানুষ ঈশ্বরকে মানুষের কায়ায়ই কল্পনা করে। এজন্য দেবতার পূজারিরা বলে মানুষ আকার কল্পনা না করে ঈশ্বরবন্দনা করতে পারে না। কবি গোলাম মোস্তফার অনুবাদে সুরা ফাতিহার উপর ভিত্তি করে একটা কবিতা আছে। আমাদের পাঠ্য বইয়ে ছিল। কবিতার লাইন হুবহু আমি মনে রাখতে পারি না। মোটামুটি চরণগুলো এরকম
অনন্ত অসীম ....বিচার দিনের স্বামী
যত গুণগান, হে চিরমহান তোমারই অন্তর্যামি
দু্যলোকে ভু্যলোকে সবারে ছাড়িয়া
তোমারই চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী
তো এই কবিতায় গোলাম মোস্তফা ঈশ্বরের চরণ কল্পনাও করেছেন।
আমি অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, তাদের মত আল্লাহ সাদা দাড়িওয়ালা কেউ হবেন...
অতিথি বলেছেন:
ইসরাইলের পূর্বেও মানব সভ্যতায় মনোথিইজম ছিলো। এবং বেশ ভালো ভাবেই ছিলো।কোন সভ্যতায় ছিলো বলছি না আপাতত। আপনি জ্ঞানী মানুষ। নিজেই খুজে বের করতে পারবেন।
আপনি তো দেখছি একটার পর একটা ভুল তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন গুরু ... কারেকশন ফ্লুইড দরকার ...
অপ বাক বলেছেন:
ইসরাইলের পূর্বে বলতে কি বুঝবো?ইব্রাহিমের একত্ববাদি ধারনার প্রচলন? এই পঞ্চায়েত ধাঁচের ইশ্বরের শাসনব্যাবস্থা?
এটা একটা সাধারন ধারনার অগ্রসর অংশ- বিভিন্ন দেবতাদের কার্যক্রম সমন্বয় এবং একজন মূল ইশ্বরের ধারনা আসার পর ধর্মে একজন ইশ্বরের অধীনে বাকি সব দেবতারা কাজ করছে এমন ধারনাটা মানুষের চেতনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা।
কিন্তু বিমূর্ত ইশ্বরের ধারনাটা একেবারে নতুন।
একজন ইশ্বর এবং বাকি সব দেবতারা বাতিল, ইশ্বর নিজের কর্মি বাহীনি তৈরি করেছে তাদের ফেরেশতাকুল বলা হয়, এই ধারনা অনেক পরের। এইখানে মৌলিক পার্থক্য কম কিন্তু এই পার্থক্যগুলো সময়ের এবং সভ্যতার অগ্রগতির পরিচায়ক।
ইহুদি এবং খ্রিস্টান ধর্মের ইশ্বরের সাথে মুসলিমদের ইশ্বরের মিল কম যদিও ইসলাম দাবি করে তারা এদের উত্তরসূরি। হিন্দুদের ধারনার একত্ববাদের সাথে আবার আরব উপদ্্ব ীপের একত্ববাদের ধারনা মিলবে না। ইরানের একত্ববাদি ধর্মের সাথে যেমন মিলে না সেই ধারনা।
নিয়মতান্ত্রিক শাসনব্যাবস্থার চেতনা যত পরিস্কার হয়েছে মানুষের নির্মিত ইশ্বরের কর্মদক্ষতা এবং প্রশাসন ব্যাবস্থা তত উন্নত হয়েছে।
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ, সাদিক ও অপ বাক।সাদিক, আমার জানামতে ইসরাইলের পূর্বে মনোথিইজমের কিঞ্চিত প্রচলন হয়েছিল মিশরে। পার্সিয়ানদের ইশ্বর আবিষ্কার এর পরের। অন্যান্য কিছু কিছুধর্মেযাকে আমরা বলতে পারি ট্রাইবাল গডের ধারণা ছিল। ইসরাইলিদের গডও প্রথমে শুধু তাদের ঈশ্বর ছিল। কিন্তু সারা পৃথিবীর জন্য একক ঈশ্বরের ধারণার জন্ম ইসরাইলেই। না জ্ঞানত: আমি কোনো ভুল তথ্য দিচ্ছি না। কারণ আমি তো ফিলসফি অব রিলিজিয়নের বই-পুস্তকের সাহায্য নিয়েই লিখছি। এর কিছুই আমার আবিষ্কার নয়। যদি আপনার কাছে ভিন্ন তথ্য থাকে তবে এই ফ্রেইমওয়ার্কের সাথে মিলে কিনা দেখুন। নতুবা আপনার রেফারেনস সহ তথ্য দিন, আমি মিলিয়ে দেখবো। ..আর হা, হা, হা, আমি জ্ঞানী নই, তবে জ্ঞানের প্রতি আমার আগ্রহ আছে, আর জ্ঞান থেকে আমি মুখ ফিরিয়ে থাকি না, এটুকু বলতে পারেন...
অপ বাক, হ্যা অবশ্যই এসব ধারণা পুষ্ঠ হয়েছে মানুষের অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রসরতার সাথে। ঈশ্বরের মাহাত্ম্য বর্ণনায় মোল্লা-পুরোহিতরা এখন বায়োটেকনলজির ব্যাখ্যাও জুড়ে দেয়। যা হয়তো 5 বছর আগেও ছিল না।
আরব উপদ্্বীপের সাথে হিন্দুস্থানের ঈশ্বরের ধারণার মিল নেই সত্যি আবার এও সত্যি পরবর্তীকালে ধর্মগুলো কাছাকাছি আসার পরবর্তী প্রজন্মের ধর্মবেত্তারা অন্য ধর্মের আলোকে আলোকিত হয়ে নিজ ধর্মের ঈশ্বরকে নতুন ব্যাখ্যাও দিয়েছে। আমি অবশ্য বিভিন্ন ধর্মের ধারণার মধ্যে মিলের বিষয়টুকুতে আলো ফেলতে বেশি উৎসাহী। অমিলে নয়। তাতে মানুষের প্রাগসরতার ধারাবাহিকতা বুঝতে সুবিধা হয়।
তবে আমার অবাক লাগে ভাবতে, আদমের সন্তানেরা এত দ্রুত পৃথিবীর এত প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়ে এত ধর্মে বিভক্ত হয়ে গেলো কিভাবে, তার ব্যাখ্যা কিভাবে দেয় আদম-তত্ত্বের অনুসারীরা।
অতিথি বলেছেন:
অপবাক : বিমূর্ত ইশ্বরের ধারনাটি একেবারেই নতুন - আপনার এই কথাটি সত্য নয়। উপনিষদ, যাকে বেদের ইন্টারপ্রেটেশন হিসেবে দেখা হয় সেখানে বিমূর্ত একেশ্বরের ধারনা এসেছে আজ থেকে অনেক অনেক বছর আগে। এমনকি ইসরাইলী একেশ্বরবাদ যে ওলড টেস্টামেন্টকে ঘিরে তার জন্ম 500 থেকে 200 খ্রিষ্টপূর্বে।
স্কলারদের হিসেবে বেদের রচনাকাল ছিলো: 1500 থেকে 500 খ্রিস্টপূর্ব।
উপনিষদের 400 খ্রিস্টপূর্ব।
উদারহন হিসেবে এরকম একটি বিমূর্ত ইশ্বরের ধারনা দিতে পারি উপনিষদ থেকেই:
In the highest golden sheath is Brahman,
stainless, without parts;
Pure is it, the light of lights.
This is what the knowers of the Self know.
The sun shines not there,
nor the moon and stars,
these lightnings shine not,
where then could this fire be?
His shining illumines all this world.
Brahman, verily, is this Deathless.
অতিথি বলেছেন:
দু:খিত সাদিক, আপনার কথা ও যুক্তি আমি মানতে পারছি না। একক ব্যক্তি ঈশ্বরের ধারণা বা মনোথিইজম ইসরাইলের আগে পৃথিবীর অন্য কোথাও ছিল এমন প্রমাণ কোনো 'রিলিজিয়ন' সংক্রান্ত পাঠ্যপুস্তকে আমি দেখিনি। আপনি প্রশ্ন তোলার পর নতুন করে খুঁজেও পেলাম না। এবিষয়ে আলোচনা তেমন নেই তবে স্বাভাবিক পাঠ থেকেই বুঝি তেমন হওয়ারও কথা নয়।
আপনি ভারতের সনাতনী হিন্দু ধর্মের উদাহরণ টেনেছেন। হিন্দু মূলত: একক কোনো ধর্মই নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে বিবর্তিত হয়েছে এটি। তাদের একক কোনো ধর্মগ্রন্থও নেই। বেদ, গীতা, রামায়ণ কোনোটাকে বাদ দিলে ঐ ধর্মের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। খুব সরাসরি করে বললে হিন্দু ধর্মকে বহু ঈশ্বরের ধর্মই বলতে হয়। হিন্দু ধর্মের গ্রন্থগুলোও ওহির মাধ্যমে দৈবলোক থেকে এসেছে এমন দাবীও তারা কখনও করেনি।
একক ঈশ্বরের বিশ্বব্যাপী জয়জয়কারে যখন হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দেয় তখন তাদের ধর্মবেত্তারা এই নতুন ব্যাখ্যাটা সামনে আনেন যে ঈশ্বর মূলত: এক আর তার রয়েছে অনেক রূপ। এই ব্যাখ্যা দেয়ার পরও হিন্দু ধর্ম মনোথিইস্ট ধর্মে পরিণত হয় না। কারণ তাদের মূল ধর্মবিশ্বাস, দেব-দেবীর ধারণা মনোথিইজমের উপরে প্রতিষ্ঠিত নয়। ব্যক্তিসত্ত্বার ঈশ্বর ধারণা না হিন্দু ধর্মে আছে না আছে বৌদ্ধ ধর্মে। তারা কখনই মনে করেনি ধর্মের জন্য, ধর্মবিশ্বাসের জন্য ব্যক্তি-ঈশ্বরের প্রয়োজন আছে।
অতিথি বলেছেন:
আপনার যুক্তিতেই আপনার যুক্তি ভেদ করি:হিন্দু মূলত: একক কোন ধর্মই নয় - আমি বলতে পারি ইসলাম মূলত: একক কোন ধর্মই নয়।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়েছে বলেছেন আপনি হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে। আমি যদি বলি ইসলামের কুরআনও ওলড টেস্টামেন্ট এবং নিউ টেস্টামেন্ট থেকে অনুপ্রাণিত। তাহলে ইসলামও একক ধর্ম নয়। ওলড টেস্টামেন্ট ও নিউ টেস্টামেন্টের ধারাবাহিকতা।
ওহি ব্যাপারটা কি এটা নিয়ে অর্থোডক্স ক্যাম্পে বিতর্ক আছে। নন অর্থডক্স স্কুলেতো আরো। অনেক স্কুল অফ থটে যেটা ওহি সেটা আত্নার অনুপ্রেরণাই বোঝায়। এর চারদিক ঘিরে অলৌকিকতা তুলে নিলে বোঝা যাবে একজন কবি যে অনুপ্রেরণা নিয়ে লিখে থাকে, ধর্মের ওহি তার থেকে খুব দূরে নয়।
নবী মুহাম্মদ (সালাম) নিজেও বলেছেন যে তার কাছে ওহী আধা জাগরন আধা ঘুমন্ত অবস্থায় অনুপ্রেরণার মাধ্যমে আসে। এমনও বলা হয়েছে যে বিশ্বাসীর স্বপ্নের অনুপ্রোরনা নবুয়্যতের 40 ভাগের একভাগ। সুতরাং ওহী দৈব ইত্যাদি ব্যাখ্যা এখানে দুর্বল। সব কিছু দৈব। আপনি লিখতে পারছেন এটাও দৈব শক্তিতে। একজন মৃত ব্যক্তিরও হাত থাকে কিন্তু তার আত্না থাকে না বলে সে লিখতে পারে। ঐ আত্না দৈব শক্তিতে অনুপ্রাণিত। সুতরাং ওহী ব্যাপারটা বোঝা খুব সহজ না, জেনারেলাইজেশন অবুঝদের বুঝ দিতে ব্যবহার করলেও মূল বিশ্লেষনে গেলে একটু গভীরে বুঝতে পারাটাই কাম্য।
ওটা দিয়ে কিছু প্রমান হয় না।
হিন্দু ধর্ম প্রথম থেকেই একেশ্বরবাদী ; কিন্তু ঈশ্বরের বিভিন্ন রূপকে তারা বিভিন্ন ভাবে প্রকাশিত করে যা মানুষের ইন্টেলেকচুয়াল লেভেলের সীমাবদ্ধতাকেই প্রকাশ করে, একটা সময়ে অদৃশ্য স্রষ্টার চাইতে সেই স্রষ্টার দৃশ্য ফর্ম বা রূপ ও মেনিফেস্টেশন বেশি সুবিধাজনক ছিলো ঈশ্বরের বন্দনায়। এ কারনেই আফ্রিকার অনুন্নত উপজাতিরা এখনও বট বা পাহাড়কে স্রস্টার রূপ বলে পূজা করে। কারন তাদের কাছে অদৃশ্য, অল এনকম্প্যাসিং গডের ধারনা গ্রহন করা অসম্ভবই প্রায়। এ জন্য ইন্টেলেকচুয়াল ডেভলপমেন্ট প্রয়োজন।
বৌদ্ধধর্ম হিন্দু ধর্মের বিবর্তন। যীশুর যেমন নতুন কোন ধর্ম প্রবর্তন করার ইচ্ছা ছিলো না, কেবল মাত্র ইহুদী ধর্মের সংস্কারের ডাক দিয়েছিলেন; ঠিক তেমন হিন্দু বুদ্ধাও কোন নতুন ধর্মের সৃষ্টি করতে চান নি। ব্যক্তি পুজারী অতি আগ্রহী অনুসারীদের কাজ সেটা।
এ কারনেই হিন্দু ধর্মে বুদ্ধা একজন অবতার যেটার (ইসরায়েলী ধর্মের ভাষায়) অর্থ করলে নবী বা পথ প্রদর্শকই হয়।
অতিথি বলেছেন:
অনেকদিন পর পেছনে এসে সাদিকের উপরের মন্তব্যটি পড়লাম। ধন্যবাদ।দুয়েকটি বিষয়ে আমার ধারণা ভিন্নরকম তবে অনেক বিষয়ে এক্ষেত্রে সাদিকের সাথে আমার জানার মিল আছে।
যেমন, ওহি বিষয়টার ব্যাখ্যা। যদিও গোঁড়া ধার্মিকরা এভাবে কখনও ব্যাখ্যা করতে রাজি হবেন না।
যীশু নতুন কোনো ধর্ম প্রচার করতে চাননি, এই তথ্যের সাথে একমত।
ব্রহ্মার ধারণা থাকা সত্ত্বেও হিন্দুধর্মকে প্রথম থেকেই একেশ্বরবাদী মানতে আমার দ্্বিধা আছে। সরাসরি হিন্দু ধর্মের ওপর কোনো বই আমি পড়িনি। বিতর্কগুলো দেখতে হবে। ধর্মের তুলনামূলক আলোচনার যেসব বই পড়েছি তাতে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত আলোচনা কম থাকে। সুতরাং হিন্দু ধর্ম ও একেশ্বরবাদিতা নিয়ে পরে একসময় আলোচনা করা যাবে। হাতের কাছে যথার্থ বই পেয়ে নিই।
অতিথি বলেছেন:
ধন্যবাদ। ভালো লাগলো অনেকদিন পর মন্তব্যটিতে মন্তব্য করার জন্য।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিংগাপুরে ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রেট গ্র্যান্ড নেফিউ পড়ান ভারতীয় দর্শন ও ধর্ম। শরদিন্দুনাথ ঠাকুর ভদ্রলোকের নাম। ওনার ইন্ট্রোডাকশন টু ইন্ডিয়ান ফিলোসফির ক্লাসে বসে বেদান্ত বিষয়ে কিছু জানা হয়েছে। হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের ধারনা বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে যেটা উপনিষদের ভিতরে বিদ্যমান। (যেহেতু সনাতন ধর্ম হিসেবে এটি একক কোন ব্যক্তি চিন্তা, চেতনা ও অনুপ্রেরনা নয়; সেহেতু বিষয়টা খুব স্বাভাবিক)।
http://tinyurl.com/fznpb
এই লিংকে হিন্দুধর্মের সারাংশটা (একেশ্বরবাদীতার) চমৎকার তুলে ধরেছেন ইয়ান মার্টেল তার "লাইফ অফ পাই" উপন্যাসে।
[গাঢ়]বিষয়টা নিয়ে স্কলারলি কোনো পেপার তৈরী করলে আওয়াজ দিয়েন। [/গাঢ়] আমার যতদূর ধারনা আপনি ধর্ম নিয়ে কাজ করছেন আপনার পিএইচডি বা পোস্ট ডকে, নয় কি?


















আপনার মুল্যবান ও লেখাটি ভাল লেগেছে।