আমার প্রিয় পোস্ট

যা বুঝি, যা দেখি, যা শুনি এবং যা বলতে চাই

জটিল প্রশ্নের কুটিল উত্তর-3

২২ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:১৩

শেয়ারঃ
0 0 0

প্রাথমিক উদ্ভবের হৈ-হল্ল া পেরিয়ে বাঁধ ভাঙার আওয়াজে এখন স্বাভাবিক স্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই আবার ফিরে যাচ্ছে নিজ নিজ গোয়ালে। এখানে যে একটি ভাচর্ুয়াল সমাজ গড়ে উঠেছিলো ভাবনা-বিতর্ক ও রঙ্গ-রসের তা অনেকটাই আলগা হয়ে যাচ্ছে। তা যা হবে তাকে তো আর ঠেকানো যাবে না। তাই বলে আমাদের কুটিল উত্তরের প্রতিভা বিকাশ ও কূটক হওয়ার অভিলাষে ভাটা পরার কোনো কারণ দেখছি না। সুতরাং পর্ব-3। জটিল প্রশ্নের কুটিল উত্তর-3। বিদ্্বৎজনেরা নড়ে চড়ে বসেন। বাচ্চালোগ লাগাও তালিয়া।
এবারের বিষয় একেবারে মুড়ি গরম। অনেকের উৎসাহ আছে দেখেই বিষয়টা নির্বাচন করলাম। প্রশ্নটি হচ্ছে:
" মাহবুব মোর্শেদ তৈলমর্দনের বিনিময়ে কী চান?"

ব্লগারুগণ খেয়াল করবেন, কাকে তৈলমর্দন করছেন তিনি তা বলা হয়নি। কারণ তিনি ব্যাপক তৈলমর্দন চান। সুতরাং এরকম আলোচনায় তার নাম দেখলে তিনি আরো বিকট আনন্দ পাবেন। সুতরাং যতটা সম্ভব নামোচ্চারণ বাদ দিয়েই এই কুটিল উত্তর চালিয়ে যেতে হবে।
দেখা যাক এবার কূটক হিসেবে নতুন প্রতিভা পাওয়া যায় কি না। প্রোফাইলে যার কূটনামি করার অভ্যাসের কথা লেখা আছে সেই লুনা রুশদিকে এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অরূপ, মাশীদ, হাসান এরা একেবারেই মুখ খুলছে না। অন্য অনেকেই হাততালি দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মুখ থাকতে হাতে কেন?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
মাশীদ বলেছেন: আমি বাস্তব জীবনে এত বড় কূটক যে এখানে আর টাইম পাই না। সরি গুরু! আজকে মুখ খুললাম।

বিনিময়ে তিনি কিছুই চান না, শুধু ভালবাসা।
২. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
অতিথি বলেছেন: ফুল বডি মাসাজ ! ;)

সমানে সমান আরকী !
৩. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:০৩
মাশীদ বলেছেন: একেকজন একেক কারণে প্রেমে পড়ে। আমাদের আলোচ্য ব্যক্তি নাম না উচ্চারিত আরেক ব্যক্তির মারাত্মক সব স্কেচ আর দীঘল কাল কেশ দেখে এমনই প্রেমে পড়েছেন যে তার বাঁধভাঙা প্রেম তেল হয়ে ব্লগের পাতা বেয়ে বেয়ে উপচে পড়ছে। প্রেয়সীর গলার স্বর যেমন প্রেমিককে করে দিওয়ানা, অন্ধ ভালবাসা যেমন একটি কাককেও কারো কাছে বানিয়ে দিতে পারে কোকিল - তেমনি আমাদের মিয়াভাইয়ের কাছে তার প্রেয়সী (নাকি প্রেয়স?)র মুখের খুব সাধারণ ভাষাও মনে হচ্ছে যেন বাংলা সাহিত্যে এক মাইলফলক।

আর তাছাড়া এমন প্রেম সরাসরি নিবেদনই বা করবেন কিভাবে? এই ব্লগে যেখানে প্রগতিশীলদের মেরুদন্ডে বাড়ি মারার জন্য ব্যাট হাতে অনেকেই প্রস্তুত, সেখানে এমন বাঁধভাঙা 'অন্যরকম' প্রেমের আওয়াজ দেয়া শুরু করলে শেষে না সাধের প্রাণটাই চলে যায়!

কিন্তু ভালবাসা কি চেপে রাখা যায়? গত সপ্তাহে Brokeback Mountain দেখে উনি ঠিক করেছেন এটা চেপে রাখা যায় না। যেভাবেই হোক প্রকাশ করতেই হবে।

তাই এই 'তেল' পদ্ধতি। এতে যেমন একাধারে সবাই জানছে তিনি দুনিয়ার কোন মজনুর থেকেই কম নন, অন্যদিকে একই সাথে যেন ভালবাসার মানুষটার মনটাও খুবসে পটে যায়। ফাউ হিসেবে 'আমি বাংলা সাহিত্যের একাল-সেকাল নিয়ে ব্লগ লিখি' এমন মুডও মারা যায়।
৪. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১:০৩
অরূপ বলেছেন: আরে ধূর! আসল ঘটনা অন্য!!
কুবুদ্ধিজীবির শ্যাষ ছবি কয়ডা মনে আছে নি? মিয়া ভাই ওইগুলার মডেল ছিলেন। বিষয়ডা চাপাই ছিল। কিনতুক কুবুদ্ধিজীবির হঠাৎ খিয়ান্তী খাওনের শখ হইল! পকেট ফাকা। শ্যাষে হালায় মিয়া ভাইরে কইল, পয়সা দে নাইলে গোমর ফাক করুম।
মিয়া ভাই দরিদ্র মানুষ। ইজ্জত বাচাইতে ভাবলেন তেল দেই। যদি কাম হয়.. পুওর মিয়া ভাই...
৫. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ২:০৩
হিমু বলেছেন: শোমচৌ, আমাদের কুটিলোত্তর-2 এর রুস্তম কে হলো বললেন না?
৬. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ২:০৩
হিমু বলেছেন: মাহবুব মোর্শেদ তৈলনের বিনিময়ে কোন কিছু প্রত্যাশা করেন না। তেল তিনি এমনিএমনিই দ্যান। কেউ তেল পেয়ে সুখী, উনি তেল দিয়ে খুশি। এই নিঃস্বার্থ গান্ধীবাদী যীশুপন্থী তৈলনও কিন্তু শহুরেবাংলাসাহিত্যআন্দোলনের অনেক কার্যক্রমের একটি। তাই কোন প্রাপ্তির আশায় নয়, আন্দোলনের কোন এক পালের গোদার নাজুক জায়গায় তেল ডলার এই মিষ্টি মহৎ কাজটি মোর্শেদ করছেন ভলান্টু হিসেবে। সাধু সাধু!
৭. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
অতিথি বলেছেন: হিমু ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পোস্টে দেখুন। ..................নেক্সট!!!
৮. ২২ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ৮:০৩
অতিথি বলেছেন: কলু মর্ষেদের এই তৈলমর্দনকে আমরা দেখতে পারি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে। হয়তো পরে তিনি সুদসহ এই তৈল ও মর্দন ফেরত চাইবেন। যেহেতু তিনি মর্দিতের কাছ থেকে দোরাকাউয়া-পাতিকাউয়া সম্পর্কের লিখিত স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন, তাই এ অনুমান হয়তো ভুল হবে না যে তাঁকে সানন্দেই সেই সুদ ও আসল ফিরিয়ে দেয়া হবে। ধন্যবাদ।
৯. ২৩ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ২:০৩
অতিথি বলেছেন: বাকীরা কই! বাঙালির বদনাম করে ফেলবেন দেখছি। পরনিন্দাতে অন্তত: আমাদেরকে মেডেল রাখতে দেন। কুটিল উত্তর দিয়ে অতীতের সম্মান বজায় রাখুন। জলদি জলদি।
১০. ২৩ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:০৩
হিমু বলেছেন: যাঁকে তেল দেয়া হলো, উনি তো মুড়ি খাচ্ছেন। তেল ছাড়া কি মুড়ি জমে বলেন? তাই তো ভাড়া করে সস্তায় তেলবাজ নিয়ে আসতে হলো ওঁকে! এর একটু মর্দন না করলে মুড়িতে তেলও লাগে না। তাই তৈলমর্দন। এই মুড়িমাখা ছাড়া মোর্শেদ্দা আর কিছু চান বলে তো মনে হয় না!
১১. ২৩ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ১২:০৩
অতিথি বলেছেন: কুটিলতায় বাঙালির সুনাম কিন্তু প্রায় গেল। তাড়াতাড়ি বাকীরা উত্তর দেন।
১২. ২৩ শে মার্চ, ২০০৬ দুপুর ২:০৩
অতিথি বলেছেন: সবাই খালি সেকেন্ডারী কারণ নিয়ে রাণিং-এ আছে। আসলে কেউই মিউ মিউ করতে থাকা থলির বিড়ালটা বের করতে চাচ্ছেন না। তো আর কি করা, এই মহৎ কাজটা আমাকেই করতে হলো আরকি!

আসলে মাহবুব মোর্শেদ ছোট বেলায় ভীষন ঢেমনা টাইপের ছেলে ছিলেন। গোদা মতো একটা ছেলে তাকে ব্যাঙ্গ করে "মোর্শেদা" বলে ক্ষেপাতো। আর এনিয়ে মাহবুব মোর্শেদ মুখ ফুলিয়ে "ঢউপ্পা" হয়ে বসে থাকতো!

তো একদিন কেমন জানি নেতিয়ে পড়া, ম্যানম্যান করা, মেইরা স্বভাবের পোলারে নিয়ে একদিন ওনার খালা পাশের বাড়ির টেলুর মামার কাছে নিয়ে গেলো। টেলুর মামা আবার শহরে থাকে, আর হাত দেখা বিজনেস করে। ছেলের উপরে কোন বদ-জ্বীণের আসর হয়েছে কিনা তাই দেখার জন্যে মাহবুব মোর্শেদের খালার এহেন পদক্ষেপ।

হাত দেখেতো টেলুর মামা যা বল্লো তাতে সহজ সরল খালা আনন্দে নয় খানা হয়ে হেলো। "আপনাদের সংসারে কখনোই তেলের অভাব হবে না। এই ছেলে দেশের বাত্তি উজ্জ্বল করবে। যদি ঠিক ঠাক মতো চালিয়ে যেতে পারে তাহলে একদিন বাংলাদেশও ওপেক-এর সদস্যপদ লাভ করবে এই ছেলের কল্যানে"।

আজ হতে বহুদিন আগের কথা হলেও মাহবুব মোর্শেদ এখনো টেলুর মামার সেই বিখ্যাত ভবিষ্যৎ বানীটি ভুলেন নি, বাংলাদেশ এখনো ওপেক-এর সদস্য হতে পারেনি ঠিকই, কিন্ত সেই পথে জোড় কদমে রীতিমতো লৌড়ের উপরই আছেন। ওনার নীতি হলো, "হাত কচলো, তৈল উৎপাদন করো..."। জীবনে এতো কচলানোই কচলেছেন যে তৈল উৎপাদন না হলেও, দেশ তেলের জোয়ারে না ভাসলেও, হাতের রেখা ঠিকই মিলিয়ে গেছে মাহবুব মোর্শেদের। তবে ওনার উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কটু কথা বলবেন না যেন জনাব, দেশকে খাঁটি "পাম ওয়েলে" (পাম্পিং থেকে উৎপাদিত ভার্চুয়াল অয়েল) ভাসিয়ে দেবার নিমিত্তেই তিনি তৈল-মর্দন শুরু করেছিলেন বলে ফসিল পাওয়া গেছে।
১৩. ২৩ শে মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:০৩
কালপুরুষ বলেছেন: ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে লাঠি খেলা হতো। লাঠিয়ালরা খেলা শুরুর আগে লাঠিতে আচ্ছা মত তেল মাখাতো (শুদ্ধভাবে তৈল মর্দন), এতে নাকি লাঠি পাকাপোক্ত হয়। টেকসই হয়, সহজে ভাঙ্গে না।লাঠি খেলা শেষে বিজয়ী লাঠিয়াল মর্দ(পুরুষ) তো পুরষ্কার পেতই সাথে সবচাইতে ভাল তৈল মর্দিত লাঠিটির মর্দকেও একটা পুরষ্কার দেয়া হতো। আসলে পুরষ্কার লাঠি পেলেও গর্ব তার মর্দের (মালিকের) হতো।
কুস্তিগীর পালোয়ানরাও গায়ে তৈল মর্দন করতো । এতে গা চকচকেতো হতোই সাথে পিছলে বেরিয়ে যাবার একটা সুবিধা ছিল। মাছের অাঁশ থাকলে ছাই লাগে কিন্তু পিছলা মর্দকে মানে তৈলমর্দিত মানুষ ধরতে কি লাগে তা জানিনা।
গোছলের আগে কানে সরিষার তেল দেয়ার প্রচলন ছিল। সেটা মর্দনের পর্যায়ে পরে না। মেশিনে তেল দেয়া হতো মেশিন সচল রাখার জন্য। গাড়ীতে তেল ঢালে গাড়ী চলার জন্য। কড়াইয়ে তেল দেয় রান্নার জন্য। তেলে মাথায় তেল দেয় ক্ষেত্র বিশেষে সুবিধা আদায়ের জন্য। এসিড আসার পর আর কেরোসিনের দাম বাড়ার পর গায়ে তেল ঢালে কম। যৌতুকের লোভে তাও ঢালে। তেলের এত ব্যবহার থাকতে কেউ তৈল ব্যবহার করতেই পারে। আপত্তিটা মর্দনে। মর্দনের বিকল্প কি সেটাই আমাদের ভাববার বিষয়। মর্দে মর্দে যদি লাঠিবাজি হতে পারে করমর্দন (কর দ্্বারা মর্দন তৈল সহকারে) আপত্তির বিষয় হওয়া উচিৎ না। তবে কোন বিশেষ ব্যক্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির কোন বিশেষ স্থানে জনসমক্ষে তৈল বা অন্য কোন কিছুমর্দন অশোভনীয়। তাই মর্দনের পূর্বে পদর্ানশীলতা আবশ্যক। অন্যের নজরে পড়া নিন্দনীয় না হলেও দৃষ্টিকটু। তবে প্রশংসা অন্য জিনিষ। সেটাতে কারও আপত্তি নেই। আশা করি সবাই বুঝেছেন।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৪১৮৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
মানুষের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা আমার রক্তে ও মননে। মানুষ ও মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম ছাড়া আর কোনো ইতিহাস আমি জানি না। আজন্ম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ