ধর্মীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-1
১০ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৩:১৬
কাকে বলে মৌলবাদ?
মৌলবাদ মানে হচ্ছে নিজের কাছে যে ধর্মগ্রন্থ পবিত্র তার মূল শাব্দিক অর্থকে সরাসরি অনুসরণ করা। অন্যভাবে বলতে গেলে, মৌলবাদীরা ভাবেন তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের কথাগুলোই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। তারা ঘটনার অন্য কোনোরকম ব্যাখ্যা শুনতে নারাজ। হোক তা ইতিহাস, হোক তা বিজ্ঞান, হোক তা মিথ। ধর্মগ্রন্থে যেভাবে বলা আছে, সেভাবেই এটি সত্য। এসবের অন্য কোনোরকম ব্যাখ্যা করা যাবে না। ধার্মিকদের মধ্যে কিঞ্চিত পাশ্চাত্য পড়ালেখায় যারা নাম লিখিয়েছেন তারা বুঝতে পারেন সরাসরি এসব শাব্দিক অর্থ বললে অনেকেই মুখ টিপে হাসেন। তারা তখন একটি ঘুরিয়ে অর্থ করেন এসব ধর্মকথার। একটু ভাব সমপ্রসারণের আশ্রয় নেন। এবং তাদের এই অতি উদার দিল খোলা ভাব সমপ্রসারণের কারণে তাদের ভাবেন নৌকা গাছের পাতায় পাতায় চলে। মৌলবাদীরা সেদিক থেকে বলা যায় কম ভন্ড। তারা মূল নিয়েই আছেন। শালিস যাই হোক, তালগাছ আমার।
মৌলবাদী বিষয়টি বোধহয় গালিই হয়ে গেছে এখন। আর মুসলিমরাই ইদানীং এই বিশেষণে বেশি অভিষিক্ত হচ্ছেন। এতে অনেকে ভারতে পারেন মৌলবাদের সাথে ইসলাম ধর্মটাই বোধহয় সংযুক্ত। আসলে বিষয়টি মোটেই তা নয়। বরং ইসলামী মৌলবাদীরা বিষয়টির ধারণা পেয়েছে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের কাছ থেকেই। আবিষ্কার, উদ্ভাবনে আমরা খুব একটা মাথা খাটাই না। মৌলবাদ আবিষ্কারের একটা চরম সুযোগ ছিল আমাদের কিন্তু ক্রেডিটটা নাসারারা নিয়ে গেছে। খটমটে পরিভাষা দেখে বুঝা যাচ্ছে মৌলবাদ শব্দটি আমরা অনুবাদ করে তৈরি করেছি। মূল শব্দটি ফান্ডামেন্টালিজম। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে প্রোটেস্ট্যান্টরা আমেরিকাতে একটি আন্দোলন শুরম্ন করে। সেই আন্দোলন থেকে এই ফান্ডামেন্টালিজম শব্দের উৎপত্তি।
বিংশ শতাব্দীর শুরম্নতে আমেরিকাতে যখন ক্ষমতাসীনরা খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন আধুনিক ব্যাখ্যা দেয়া শুরম্ন করে তখন এই প্রতিবাদ শুরম্ন হয়। প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মাবলম্বীরা এর প্রতিবাদ জানাতে বারোটি লিফলেটের একটি সিরিজ বের করে। যার শিরোনাম ছিল ফান্ডামেন্টালস্ অব ফেইথ। এই শিরোনাম থেকেই জন্ম ফান্ডামেন্টালিজমের। শব্দটি আবিষ্কারের কৃতিত্ব অবশ্য আমেরিকার সাংবাদিক কার্টিস লি লজের। তো কী বলা হয়েছিল সেসব লিফলেটে? প্রোটেস্ট্যান্টদের বক্তব্য ছিল, সব খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদেরকে কিছু মূল নিয়মনীতিতে বিশ্বাস করতে হবে। যেগুলো কিছুতেই বদলানো যাবে না। এই মূল বা মৌল বিষয়গুলো হলো: ধর্মগ্রন্থ বাইবেল হচ্ছে নিভর্ুল, এতে কোনো ভুল নেই; মানুষ হচ্ছে পাপাচারী, পাপ কর্মের মধ্যে সে ডুবে আছে; যীশু খ্রিস্টের জন্ম হয়েছে কুমারীর গর্ভে; মৃতু্যর মধ্য দিয়েই মানুষ মুক্তি পায়। কার্টিস এ থেকে মৌলবাদীদের একটি সংজ্ঞা তৈরি করেন। তার সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা খ্রিস্টান ধর্ম বিশ্বাসের মূল বিষয়গুলো আঁকড়ে বসে আছে এবং তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ পর্যনত্দ করতে প্রস্তুত, তারাই মৌলবাদী।
1980 এর পরে মৌলবাদ অভিধাটি অন্যান্য ধর্মের আন্দোলনগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে শুরম্ন হয়। খ্রিস্টানদের সূত্রে পাওয়া মৌলবাদ শব্দ ও ধারণা তখন অন্যান্য ধর্মের গোড়াদেরকে চিহ্নিত করতেও ব্যবহৃত হতে থাকে। এরকম যেসব ধর্মীয় আন্দোলন বা বাহিনী আছে তারা সবাই পবিত্র ধর্মগ্রন্থের শাব্দিক অর্থকেই বড় করে দেখেন না। কিন্তু শব্দটি যখন ব্যবহার শুরম্ন হয়ে গেছে তখন এদের সবার উপর এই শব্দটি প্রয়োগ করেই যাচ্ছেন সুধীসমাজ। তবে বিভিন্ন ধর্মের এসব আন্দোলনকারীদের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে বেশ মিল রয়েছে। এই মিলটুকুকেই এখন চিহ্নিত করা হয় মৌলবাদ হিসেবে এবং যারা এসব বাসত্দবায়ন করতে চান তাদেরকে বলা হয় মৌলবাদী।
এখন প্রশ্ন হলো, মৌলবাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
উৎস বলেছেন:
চমৎকার লিখেছেন শোমচৌ। বিশেষ করে বর্ণচোরা মৌলবাদীদের নিয়ে মন্তব্য তুলনাহীন। এরা প্রায়ই আজগুবি তত্ত্ব নিয়ে ধর্মের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে বসে। কৌশলী প্রতারক আর কি অথবা তাবিজ বিক্রেতা - নৌকা চালায় গাছের পাতায়। শ ুধু ধর্মীয় না, এ জাতীয় বামপন্থী মৌলবাদীও আছে (এফ এম দ্্রঃ)।
অতিথি বলেছেন:
আরো আছে উৎস। এতো প্রথম পর্ব। এরপর বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার।
অতিথি বলেছেন:
সবাই পড়ে ফেলেন। কারণ পরবর্তী কিস্তি লেখা শুরু করছি।
অতিথি বলেছেন:
আবার প্রমাণ হলো, ধর্ম বিষয়ক লেখা, যেটি শুধু জানার জন্য, কোনো উস্কানি নেই, তা কেউ পড়ে না। এক উৎসের মন্তব্য দেখে কি তাই বুঝা যায় না।
অপ বাক বলেছেন:
হা হা হা হা ব্যায়ামবিষয়ক লেখাগুলোতেও কোনো মন্তব্য নেই এটার অর্থ কি তবে বাঙালি সাস্থ্য সচেতন নয়??
লাল মিয়া বলেছেন:
2য় কিস্তি কই? নাকি আপনে মেন সানা ইন করপোরেসানো লাইনে গেলেন গা..
অতিথি বলেছেন:
বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার মানুষের চুলকানী হলো সবসময় ইসলামকে বাশ দেয়া নিয়ে... যেখানে বাশ দেবার সুযোগ পাওয়া যাবে না ওখানে তাদের মুক্তচিন্তা কাজ করে না... আপনি কেন উস্কানীমূলক কিছু লিখলেন না মৌলবাদ নিয়ে এটা নিয়ে হয়তো সবাই দুঃখ পেয়েছে.. প্লিজ কিছু উস্কানীমূলক বক্তব্য ও রাখবেন নেক্সট টাইম ;-)পরবর্তি লেখাটার জন্য অপেক্ষা করছি... আপাতত মনে হয় কিছু বলা ঠিক হবে না লিখাটা নিয়ে...
অতিথি বলেছেন:
এস.এম.সি. ফিরেন !
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
এইবার মোটামুটি একটা হাইপোথিসিস বানানো যায়। ১. একটা মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানী সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ম-ভিত্তিক ফ্যাসীবাদরে সমর্থন দিয়া যাইতাছে। পাকিস্থানের যেই মাদ্রাসার তালিবদের দিয়া তালেবান বানানো হইছে সেগুলা ফিনান্স করছে ইউনিকল।
২. আইয়ূব-জিয়া-এরশাদের মতো মদ-সূদী কারবারের লগে খিচুড়ি কইরা নারায়ে তকবীর মিশিনোর কাজে বরাবরই মুক্তচিন্তার লেখকরা অসুবিধাজনক। সুতরাং ছাগু ছাড়া কাউরে বাক-স্বাধীনতা দেওন যাইবো না। এইটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেই যুক্তিতে হিটলার ইন্টেলেকচুয়াল মারছে একই যুক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর মিলিশিয়া বাহিনি আল-বদর বুদ্ধিজীবি মারছে। প্রতি ক্ষেত্রেই আলটিমেট নিয়ন্ত্রণ ছিল জলপাই মামাগো হাতে। এইবারো তাই।
৩. বাংলা প্রাচীনকাল থিকাই বিদ্রোহ উপদ্রুত এলাকা। এই সমস্ত প্রতিরোধের কেন্দ্রে কোনদিনই আল্লাহ-ভগু-গডু-শিঙাবোঙা-উগাবুগাদের কোন ইনফ্লুয়েন্স ছিল না। রাজনীতিতে ধর্ম ঢুকাইছে রাষ্ট্র। এই বিষয়ে সবচেয়ে সফল ইংরেজ। ইংরেজের বিরুদ্ধে যতগুলা আপরাইজিং হইছে তার সবই সরাসরি উপনিবেশবিরোধী ইস্যুতে। ধর্ম এইখানে ঢুকছে এই আন্দোলনগুলারে ভান্ডা করার জন্য। পাকিস্থান হইয়াও টিকতে পারে নাই কারণ বাঙ্গালীর কালচার মারফতি-মুর্শীদী দেহতত্ত্ববাদী ঘরানার। হক্কুলু কুলু কুলু ঘরানার না। কিন্তু ঐ যে স্বাধীন মতপ্রকাশের চান্স দিলেই প্রতিবাদ করে । তাতে তো মামার অসুবিধা। ধান চাইল পাতালে পাঠানো যায় না। সুতরাং একের পর এক জলপাই নামাও, লাড়ায়ণ তকবীর গো পাট্টি বানাইয়া দাও নিজ খরচে।
এই ধারাবাহিকতাই হইছে সামহোয়ারইনব্লগে। আন্তর্জাতিকভাবে মামারা এইটারে একটা বিজ্ঞাপন হিসাবে দেখাইবো। দেখাইবো যে বাংলাদেশের লেখকরা মূলত ত্রিভুজ। পাঠকরা ভোদাইচোদা। একটু বেশী বুদ্ধি হইলে এরা সুফী হয়। কিন্তু কোন অবস্থাতেই এর উপরে না। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের আর্থিক ক্ষমতা তাগো আছে। তারা এইটা পারে। ২০০৬ এর ফেব্রুয়ারীতে মাসুদার পোস্ট ডিলিট দিয়া শুরু অমি রহমান পিয়ালরে ব্যান করা দিয়া খতম তারাবী।
ছাগুচন্দ্র! সামুব্লগ এখন তোমাগু। খুশীতে এখন জিবলা দিয়া নিজের গোয়া চাটো আর বাললুডুস বানাও।
.....................................................
এই পোস্টখান ২য়বারের মতো মুইছা দিলেন সামহোয়ারের মডুরাম। আবার দিতাছি। পুরা ব্যান না করা পর্যন্ত চলবো।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!!
কৌশিকের মন্তব্যের জবাবে কইছিলাম :
আমি কোনজায়গায় অনপেক্ষ অবস্থানের কথা কইছি বইলা মনে পড়তাছে না। সব অবস্থানেরই নিজস্ব বক্তব্য আছে। কথা হইলো সেই বক্তব্য কি এবং সেইটা কোন পক্ষে যায়।
বাংলাদেশের মাটি থিকা পরিচালিত একটা ফোরাম/ব্লগ বা সোজা কথায় মিডিয়া প্রমাণিত বাংলাদেশবিরোধীদের পেট্রোনাইজ করলে তার বিরুদ্ধমত প্রচন্ডভাবে আঘাত করবোই। ইন্টারনেট তো লেখনের জাগা। এইখানে অক্ষর সমাবেশ দিয়াই আক্রমণ হইবো। এই বিষয়ে সদ্য ব্যান খাওয়া পিয়াল ভাই এর একটা মহাবাক্য মনে পড়তাছে
" থাকলে এমনেই থাকতে হইবো নাইলে ফুট "

















