ধর্মীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-2
১২ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:৩০
মৌলবাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো
কার্টিসের মৌলবাদের সংজ্ঞা আমরা পড়েছি আগের কিসত্দিতে এবং এও জানি যে, মৌলবাদী ধারনাটির উদ্ভব হয়েছিল প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আন্দোলন থেকেই। কিন্তু যখন এক ধর্ম তার পদ্ধতিকে মহান দাবী করে আন্দোলন করা শুরুকরে তখন এর ফলে অন্য ধর্মেরা তাদের অনুসারীদের নিয়ে পরে সংকটে। আমাদের ধর্মই সেরা-এটি প্রমাণের জন্য তারাও তখন নানা উদ্যোগ-আয়োজন শুরম্ন করে। সেজন্য বার বার দেখা গেছে যে, কোনো এক ধর্মের অনুসারীরা মৌলবাদী আচরণ শুরুকরলে অন্য ধর্মরাও অনুরূপ কিছু ফেঁদে বসে। এটি হয়তো অস্তিত্বের সংকটের কারণেই।
কিন্তু বিভিন্ন ধর্মের মৌলবাদী আন্দোলনের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে। হিন্দু মৌলবাদী, মুসলিম মৌলবাদী, ইহুদি মৌলবাদী বা খৃস্টান মৌলবাদীদের মধ্যে কাজের ভঙ্গিতে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এমনকি একই ধর্মের বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যেও বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নির্দিষ্ট ধর্ম সংক্রান্ত মৌলবাদের স্বরূপ আলোচনার সময় আমরা সেগুলো একটু বিস্তারিত বুঝতে চেষ্টা করবো। তবে যার যার ধর্মের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং কোন সমাজ থেকে মৌলবাদী আন্দোলনটি শুরু হচ্ছে তার উপর এধরনের আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। কিন্তু বিভিন্ন ও বিচিত্র পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা অন্তত: তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে পারি যা সবগুলো ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী সংগঠনের মধ্যে দেখা যায়।
প্রথমত: তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব। হোক তা খ্রিস্টানের বাইবেল, ইহুদিদের তোরাহ বা মুসলিমদের কোরা'ন, বেশিরভাগ মৌলবাদীরা তাদের ধর্মগ্রন্থের বর্ণনাকে অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন এর প্রতিটি বাক্য নিভর্ুল, সত্য, এবং এই বই সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। এর কোনো বাক্য গল্প-গাঁথা বা মিথ নয়, আক্ষরিকভাবেই সত্য। যেহেতু তারা তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে সেহেতু অন্যদেরগুলোকে তারা চিহ্নিত করে জাল, ভ্রান্ত, ত্রুটিযুক্ত, ও মানুষ দ্বারা সংশোধিত এবং সে কারণে কলুষিত হিসেবে। যেহেতু তারা মনে করে এই গ্রন্থের কথাগুলো স্বয়ং ঈশ্বরের নির্দেশ সুতরাং তারা মনে করে সমাজের সর্বস্তরে এই বইয়ে বর্ণিত আইন ও নিয়ম-নীতি বাসত্দবায়িত হবে। এবং এসব আইন সময়ের সাথে, জায়গা ভেদে পাল্টানোর কোনো প্রশ্নই উঠে না কারণ তা ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের আইন।
দ্বিতয়ত: মৌলবাদীরা ধর্মগ্রন্থের আলোকে তৈরি করা তাদের ব্যাখ্যার সাথে যদি সমাজের কোনো নিয়ম-কানুন না মেলে তবে সেগুলোকে প্রচন্ডভাবে বিরোধিতা করে। বিশেষ করে মানুষ, পরিবার ও সমাজ-সংক্রান্ত যেসব নির্দেশ ধর্মগ্রন্থে আছে বলে তারা ব্যাখ্যা দেয় তার ব্যত্যয় তারা সহ্য করতে নারাজ। সভ্যতার পরবর্তী অর্জন বা উন্নত যুক্তিসঙ্গত চিনত্দা-ভাবনা ও দর্শনের বিরুদ্ধে তারা সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। নারী-পুরুষের সাম্যতা, সমকাম বা গর্ভপাতের বিরম্নদ্ধে তারা সরব। সমাজের বিভিন্ন অগ্রগতি ও প্রগতিমূলক পদক্ষেপকে তারা ব্যাখ্যা করে অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে।
তৃতীয়ত: সব মৌলবাদীরাই বিশ্বাস করে যে তাদের ধর্মের বা বিশ্বাসের একটি স্বর্ণযুগ ছিল। যখন পৃথিবীর মানুষ ঈশ্বরের আইন মেনে চলতো। আবেগ-আপ্লুত এসব মৌলবাদীরা তখন সংকল্পবদ্ধ হয় সেই স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনার। সেই সোনালী দিন পুন:প্রতিষ্ঠার। যেমন, প্রোটেস্ট্যান্টরা মনে করে চার্চ চালু হওয়ার শুরুতেই ছিল সেই স্বর্ণযুগ। অন্যদিকে মুসলিমরা মনে করে নবী মুহাম্মদের জীবনকালে অর্থাৎ সপ্তম শতাব্দীই ছিল সেই স্বর্ণযুগ।
এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আমরা সব মৌলবাদী আন্দোলনের মধ্যেই দেখতে পাই। কিন্তু মৌলবাদী সংগঠনের সংখ্যা বাড়ছে কেন? কেন বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্মের মধ্যেও মৌলবাদী বিষয়গুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
( ছবি: ধর্মগ্রন্থগুলোকে নির্ভুল দাবী করলেও বিভিন্ন বিষয়ে এতে স্ববিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। তখন মৌলবাদীরা তাদের মত করে এর ব্যাখ্যা দেন যা সাধারণ যুক্তি-বুদ্ধিতে অনেক সময় বুঝা যায় না। বাইবেলের এরকম ব্যাখ্যা না বুঝা নিয়েই এই ছবিটি। অন্য ধর্মগ্রন্থ ও মৌলবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এ কথা খাটে। )
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
শোহেইল, আপনি মৌলবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অন্য ধর্মের মৌলবাদের সাথে ইসলামের মৌলবাদকে মিশিয়ে ফেলেছেন। আপনি হয়তো জানেন বর্তমান বিজ্ঞানের জনক ছিল মুসলমানরা। খ্রিষ্টানরা যখন স্পেন দখল করল তখন তারা মুসলিম বিজ্ঞান চর্চার অনেক জিনিষই বুঝতে পারেনি.. কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক অবাক হয়ে গিয়েছিল মুসলিম বিজ্ঞানীদের অগ্রগতি দেখে। আরো একটি মজার ব্যাপার হলো মুসলমান বিজ্ঞানীদের ব্যাবহৃত মান মন্দির দেখে তারাতো বুঝতেই পারেনি এটা কি জিনিষ। পরে তারা ওগুলোকে পানশালা বানিয়েছিল।এখন আপনি কিভাবে বলবেন যে ইসলাম সভ্যতার অগ্রযাত্রার পথে বাধা স্বরূপ? অনেক বৈজ্ঞানিক থিউরির বেজমেন্ট কোরান থেকে এসেছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মের মৌলবাদকে আপনি ইসলামি মৌলবাদের সাথে মিশিয়ে ফেললে তা একধরনের অবিচার হয়ে যাবে .. তাই নয়কি?
আপনি উদাহরন দিতে গিয়ে বলেছেন "পুরুষের সম্যতা, সমকাম বা গর্ভপাতের বিরুদ্ধে তারা সরব।" তার পরপরই বলেছেন মৌলবাদিরা সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতিমুলক কাজকে অবক্ষয় হিসেবে আক্ষায়িত করেছে। এখন প্রশ্ন হলো সমকামীতা ও গর্ভপাত কে কি আপনি সমাজের অগ্রগতি ও প্রগতি মূলক কাজ হিসেবে দেখেন? যদি এটাই আপনার কাছে প্রগতি হয়ে থাকে তাহলে আর বলার কিছু থাকে না।
ধন্যবাদ।
অপ বাক বলেছেন:
উৎস গোড়া ধর্মান্ধ এবং মুক্তমনা!! ধর্মপ্রান যেই হোক না কেনো প্রপাগান্ডার উপর জিনিষ নেই।এই মাত্র ত্রিভুজ বলে এক ব্যাক্তি সাদিকের পোষ্টে হকিংকে নিয়ে একটা কথা বলে ফেললো যার ভিত্তিটা কি আমি বুঝলাম না, হকিংয়ের কোনো বই এই বালক পড়েছে বলে মনে হয় না। যাই হোক এই ভ্রান্ত তথ্য বা উদ্ধৃতি দিয়ে দেওয়া এটা যে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমান, এটাও বুঝে না এই সব তথাকথিত ধর্মপ্রাণ মানুষেরা।
শোহাইল
মৌলবাদের সমস্যাই হলো সার্বক্ষনিক আক্রান্ত হওয়ার ভ্রান্ত ভয়। ওরা সব সময়ই কোনো না কোনো রীতি দ্্বারা আক্রান্ত, এটা মানসিক সমস্যা, দার্শনিক সমস্যা নয়, ওদের দরকার সাইকোলজিক্যাল এস্যাইলাম, কোনো মুক্ত বিতর্ক নয়।
অপ বাক বলেছেন:
হুমম আমি রাগ করি নি, বিরক্ত হয়েছি, কেউ যখন কোনো তথ্যবিকৃতি করে তখন বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। যাই হোক হকিংয়ের বইয়ের নামটা বলে চ্যাপ্টার উদ্ধৃত করে বললে সুবিধা হবে আমার, আমার কাছে বইগুলো আছে সুতরাং যাচাই করতে পারবো, আর আরও একজন আছে স্টিফেন কিং, ও ভুতের বই লেখে ওর লেখা থেকে বললে আবার ধরতে পারবো না, হকিং এবং কিং 2 জন আলাদা লোক।
উৎস বলেছেন:
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ীর পেছনে লাগানো একরকম স্টীকার সচরাচর দেখা যায়ঃ God said it, I believe it, that settles it। আমার মনে হয়েছে বেশীর ভাগ মৌলবাদীদের মনের কথাই এটা, তা সে গোড়া ধর্মান্ধই হোক অথবা ছদ্মবেশী মুক্তমনা ধর্মপ্রানই হোক।
অতিথি বলেছেন:
অপবাক আপনি খুবই হাস্যকর একটা কথা বললেন... মনে হচ্ছে আপনি খুব রেগে গিয়েছেন... তর্ক করতে এসে রেগে গেলে তো হবে না... আপনার মাথা ঠান্ডা করে পরে এক সময় আসুন কথা হবে এবিষয়ে যদি বেচে থাকি। ঃ-) কিছুদিন খুব ব্যাস্ত থাকবো... কিছুদিন পরে হয়তো এবিষয়ে একটি পোষ্ট দেখতে পাবেন। ভাল থাকুন।
উৎস বলেছেন:
অপ বাক, সচরাচর এদের উদ্ধৃতি থাকে জনৈক অভিজ্ঞ হেডমাস্টারের লেখা নোট বই থেকে, ত্রিভুজ সাহেব যে দয়া করে লেখকের নাম উল্লেখ করতে পেরেছেন, তাতেই আমাদের ধন্য হওয়া উচিত। আপনি বইয়ের নাম, চ্যাপ্টার জানতে চেয়ে মহা অন্যায় করে ফেলেছেন। নিজের মন গড়া মন্তব্য প্রায়ই জনৈক বিজ্ঞানীর নামে চালিয়ে দিতে চায়, সরাসরি রেফারেন্স দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অতিথি বলেছেন:
উৎস: চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন। অপ বাক: ঠিক বলেছেন, মৌলবাদীরা তাদের ধর্ম নিয়ে আক্রান্ত হওয়ার দু:স্বপ্নে ভোগে। আর এই দু:স্বপ্নের কারণেই বাড়ছে আরো মৌলবাদীর সংখ্যা। সে প্রসঙ্গে আলোচনা হবে পরের কিস্তিতে।
ত্রিভুজ: হ্যা, আপনি ঠিকই ধরেছেন। নারী-পুরুষের সাম্যতা এবং সমকামীদের অধিকার ও অবাঞ্ছিত গর্ভ নষ্ট করার অধিকার নারীর হাতে দেয়ার সিদ্ধান্ত মানব-প্রগতির একটি উদাহরণ। একে অবক্ষয় হিসেবে বিবেচনা করে বিভিন্ন ধর্মের মৌলবাদীরা। আর মুসলিমরা কতটা মৌলবাদী। বা মুসলমানদের মধ্যে বড় বড় কী কী মৌলবাদী আন্দোলন কাজ করছে সে সম্পর্কে যখন আলোচনা হবে তখন নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারবেন 'কোরান' থেকে বিজ্ঞান এসেছে না 'তালেবান' এসেছে। ধন্যবাদ।
সাইমুম বলেছেন:
শোমচৌ দা, আপনার লেখাগুলো চিন্তা বাড়ায়। তবে আমাদের দেশের ধর্মীয় মৌলবাদ নিয়ে আপনার পারস্পেক্টিভ নিয়ে আমার দ্বিমত আছে। তার ফাঁকে একটা জিনিস জেনে নিতে চাইছি। কেন জানি আপনি এবং দীক্ষক দ্রাবিড়কে একই ব্যক্তি বলে মনে হয়। এটা আমার পর্যবেক্ষণের ভুল হতে পারে। তবে দুজনের বিশ্লেষণী টেকনিকে ফারাক থাকে না। ভুল হলে মাফ কইরা দিয়েন।যাক গে। খ্রিস্টান জগতে মৌলবাদের বিকাশ যে প্রক্রিয়ায় হয়েছে, ইসলামী দেশগুলোতে ঠিক সেভাবে হয়নি। প্রথমত, সমাজতন্ত্রের বুদ্ধিবৃত্তিক উথ্থান রোধ করতে সাম্রাজ্যবাদীরা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের দোসর রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে কমিউনিজমের মোকাবেলায় ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পাকিস্তানের মাওলানা মওদুদী, মিসরের হাসান আল বান্না, সুদানের ড. হাসান তুরাবীসহ অনেককে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। ( বিষয়টা লাদেনকে প্রথমে গড়ে তোলা ও পরে ল্যাং মারার মতো) । পরবর্তীকালে যখন সাম্রাজ্যবাদীরা এটা বুঝতে পারে যে, প্রযুক্তির বিশ্বে শ্রেণীচেতনার চেয়ে গোষ্ঠী আনুগত্য প্রবল হয়ে উঠছে। তারা এটাও বুঝে নেয় যে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে শ্রমিক শ্রেণী আসলে অতি মাত্রায় ছদ্ম-বেকারত্বে ভুগছে। আর শ্রমিক শ্রেণী যেখানে অতি মাত্রায় ছদ্ম-বেকারত্বে ভোগে, সেখানে শ্রেণী-সংগ্রামের থিউরি ভোতা হয়ে যায়। আর যেখানে শ্রেণী-সংগ্রামের থিউরি ভোতা হয়ে যায়, সমাজতন্ত্র সেখানে আদর্শিক লড়াইয়ে পেছনে পড়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ইতালির ভেসপা কোম্পানিতে এক সময় সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি শ্রমিক ছিল। কিন্তু কারখানায় রোবট ও কম্পিউটারের উদার সমাবেশ ঘটায় শ্রমিক সংখ্যা হাজারের নিচে নেমে আসে। তাছাড়া আফগানিস্তান সংকটের পর খোদ রাশিয়ায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠার পর সো -কল্ড ইসলামী মৌলবাদীরা লাদেনের মতই সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। আমেরিকাই তাদের এই অনুগ্রহভাজনদের মৌলবাদী গালি দেয়া শুরু করে।
মৌলবাদ আমাদের দেশে ধর্মীয় পর্যবেক্ষণের ফল নয়, আমেরিকার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক গালির ফল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদেশের বামপন্থীরাই সর্বপ্রথম এ গালিটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য এগিয়ে আসে। এরই ফাঁকে জামাতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে প্রাধান্য বিস্তরে তৎপর হয়ে খুনাখুনিতে লিপ্ত হয়, তাতে জনগণ এটা ভাবতে বাধ্য হয় যে, মৌলবাদীরা সত্যিই বাজে লোক এবং ইসলামের শত্রু। তবে খ্রিস্টান মৌলবাদ দিয়েই এদেশের ধর্মীয় মৌলবাদীরা প্রভাবিত হয়েছে কিনা, তা আমার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট নয়। এটা আমার ব্যর্থতাও হতে পারে। খ্রিস্টান মৌলবাদের সঙ্গে ইসলামী মৌলবাদের আধ্যাত্মিক সম্পক থাকলেও তা অতি ক্ষীণ। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, 'সেভেন পিলারস অব উইজডম'-এ আবদুল ওয়াহাব নজদী সম্পর্কে এবং ডবলিউ ডবলিউ হান্টার সাহেবের 'দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস' নামক বইতে (মূলত ইংজেদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বিদ্রোহের কারণ সংক্রান্ত রিপোর্ট) ভারতীয় উপমহাদেশের সৈয়দ আহমদ বেরেলভী সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। তবে উভয় ডকুমেন্টে এ দুই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে 'ধর্মীয় মৌলবাদী' হিসেবে দেখানো হয়নি। আমার ধারণা, গত সাড়ে তিনশো বছর ধরে মুসলমানরা যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছে (নিজেদের ভুল আর অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার কারণে) তাতে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের একটি বিভ্রান্ত দলের বিভ্রান্ত লড়াই নানা ভাবে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। বামেরাও এখন পুঁজিবাদের কথায় উঠবস করে। এতে শিক্ষিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ এককভাবে মৌলবাদীদের ওপর গিয়ে পড়ছে। আর সাম্রাজ্যবাদীরা কৌশলে আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং বিশ্বায়নের ব্যানারে শোষণটাকে বেশ পাকাপোক্ত করে নিচ্ছে।
পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ইসলামকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাখ্যার পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে ব্যাখ্যা করার মতো ইসলামী
চিন্তাবিদ সৃষ্টি না হবার আগে মুসলিম বিশ্ব থেকে 'মৌলবাদী' ভূত যাবে না। ড. আলীয়া ইজেত বেগোভিচসহ অনেক ইসলামী পন্ডিত মৌলবাদ তাড়ানোর ফর্মুলা এভাবেই দিয়েছেন। আপনার মতামত জানাবেন। আমার বক্তব্যকে মৌলবাদের পক্ষে সাফাই ভাববেন না বা ভুল বুঝবেন না। আমি এটা বোঝাতে চাইছি, মৌলবাদীরা অবশ্যই ভুল পথে আছে। কিন্তু মৌলবাদীদের মতো সাম্রাজ্যবাদীরাও যে শত্রু তা যেন আমরা ভুলে না যাই।
অতিথি বলেছেন:
সাইমুম: আপনাকে আগে বলতে হবে আপনি কাকে মৌলবাদ বলতে চাচ্ছেন, তার সংজ্ঞা কী? নতুবা বিষয়টিকে ধরা যাবে না।আগের কিস্তিতে আমি সংজ্ঞাটি উত্থাপন করেছি এবং এখানে আছে বৈশিষ্ট্য। তিনটি বৈশিষ্ট্য দিয়ে পরে আমি বড় বড় ধর্মের মৌলবাদগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। তখন দেখবেন এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আছে কিনা। তখন বুঝবেন মৌলবাদের সম্পর্ক।
আমি বলিনি খ্রিস্টান মৌলবাদ থেকে ইসলামী মৌলবাদ এসেছে। আরো বেশি বস্তুনিষ্ঠভাবে পড়তে হবে আমার লেখা। আমি বলেছি 'ফান্ডামেন্টালিজম' শব্দটির উদ্ভব হয়েছে প্রোটেস্ট্যান্টদের আন্দোলন থেকে। এটি ঐতিহাসিক সত্য। এর বহুআগে এরকম অনেক ধর্মীয় গোড়ামি ভিত্তিক সংগঠনের জন্ম হয়েছে যাদেরকে আমরা এই সংজ্ঞায় এখন মৌলবাদী বলতে পারি।
মুসলিম বীরদের নেতৃত্বে কোনো এলাকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বাধিকার আন্দোলন মৌলবাদী আন্দোলন নয়। তীতুমীর বা ফকির মজনু শাহ মৌলবাদী নন। কিন্তু মোল্লা ওমর ও ওসামা বিন লাদেন মৌলবাদী। সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য সেকথাকে প্রমাণ করে।
অতিথি বলেছেন:
সাইমুম ভাইরে, কথাটা আপনে অলরেডি কইছেন, আমি আর একবার কই । দুনিয়ার যতজায়গায় যত লোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে লইয়া নারায়ে তকবীর আল্লাহুআকবার কয় সবার পকেটেই কােন না কোন তরিকায় এস এর উপর দুইটান দেওয়া টেকা আছে । সাম্রাজ্যবাদ আর ধমর্ীয় জঙ্গীবাদ পরস্পর বিরোধী না । তাগো অবস্থান একই সমতলে ।জনগণের অবস্থান এই সমতলের বিপরীতে । কোন াবস্থাতেই জনগণ আর মৌলবাদীরা এক সমতলে অবস্থান করে না । এখন বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মত জায়গায় নাশকতা করাইতাছে , পরে আক্রমণ করার যুক্তি তৈরীর জন্যে । এই পয়েন্ট টা কিন্তু আড়াল করার চেষ্টা করে তারাই যারা টেকনিক্যালি ধমর্ীয় জঙ্গিবাদরে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে । জঙ্গি নিজে কি মনে কইরা ঠুসঠাস করে রাজনীতিতে তার গুরুত্ব কম । এইখানে আসল কথা হইলো কার টেকায় ঠুসঠাস..আর তার কি মতলব ।
সাইমুম বলেছেন:
মৌলবাদের সংজ্ঞা নিয়ে আপত্তি নাই। এটাও বলি নাই যে আপনি দাবি করেছেন,মুসলিম মৌলবাদ খ্রিস্টান মৌলবাদ এসেছে। বাংলা ভাইদের হাতে সৌদি ও আমেরিকার ভিসা দিলে ওরা শুধু
আমেরিকার ভিসা নেবে, এটাও বুঝি।
আমি শুধু এটা বোঝাতে বা আপনার মতামত চেয়েছি যে, মৌলবাদের পাশাপাশি মার্কিনী বিপদ সম্পর্কে আমরা উদাসীন থেকে যাচ্ছি কিনা? ধন্যবাদ
অতিথি বলেছেন:
সাইমুমের মৌলবাদ রুখতে গিয়ে আমরা যেন সাম্রাজ্যবাদকে ভুলে না যাই, কথাটি নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে সুমন যে প্রশ্ন তুলেছেন যে কার অর্থায়নে জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কাজকর্ম করছে, সেটি বিবেচনা করতে হবে আগে, নি:সন্দেহে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবী রাখে। কিন্তু নিজেদের ধর্মগ্রন্থকে সত্য মনে করা ও তার বাইরে আর কোনো সত্য থাকতে পারে না মনে করার সমস্যা বোধহয় সব মৌলবাদী দলেরই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আগে ভেবে দেখুন, আমরা নিজেরা কতটুকু মৌলবাদী?
অতিথি বলেছেন:
ব্লগ কান্দিতেছে...ফিরিয়া আসেন
সাধক শঙ্কু বলেছেন:
এইবার মোটামুটি একটা হাইপোথিসিস বানানো যায়। ১. একটা মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানী সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ম-ভিত্তিক ফ্যাসীবাদরে সমর্থন দিয়া যাইতাছে। পাকিস্থানের যেই মাদ্রাসার তালিবদের দিয়া তালেবান বানানো হইছে সেগুলা ফিনান্স করছে ইউনিকল।
২. আইয়ূব-জিয়া-এরশাদের মতো মদ-সূদী কারবারের লগে খিচুড়ি কইরা নারায়ে তকবীর মিশিনোর কাজে বরাবরই মুক্তচিন্তার লেখকরা অসুবিধাজনক। সুতরাং ছাগু ছাড়া কাউরে বাক-স্বাধীনতা দেওন যাইবো না। এইটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেই যুক্তিতে হিটলার ইন্টেলেকচুয়াল মারছে একই যুক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর মিলিশিয়া বাহিনি আল-বদর বুদ্ধিজীবি মারছে। প্রতি ক্ষেত্রেই আলটিমেট নিয়ন্ত্রণ ছিল জলপাই মামাগো হাতে। এইবারো তাই।
৩. বাংলা প্রাচীনকাল থিকাই বিদ্রোহ উপদ্রুত এলাকা। এই সমস্ত প্রতিরোধের কেন্দ্রে কোনদিনই আল্লাহ-ভগু-গডু-শিঙাবোঙা-উগাবুগাদের কোন ইনফ্লুয়েন্স ছিল না। রাজনীতিতে ধর্ম ঢুকাইছে রাষ্ট্র। এই বিষয়ে সবচেয়ে সফল ইংরেজ। ইংরেজের বিরুদ্ধে যতগুলা আপরাইজিং হইছে তার সবই সরাসরি উপনিবেশবিরোধী ইস্যুতে। ধর্ম এইখানে ঢুকছে এই আন্দোলনগুলারে ভান্ডা করার জন্য। পাকিস্থান হইয়াও টিকতে পারে নাই কারণ বাঙ্গালীর কালচার মারফতি-মুর্শীদী দেহতত্ত্ববাদী ঘরানার। হক্কুলু কুলু কুলু ঘরানার না। কিন্তু ঐ যে স্বাধীন মতপ্রকাশের চান্স দিলেই প্রতিবাদ করে । তাতে তো মামার অসুবিধা। ধান চাইল পাতালে পাঠানো যায় না। সুতরাং একের পর এক জলপাই নামাও, লাড়ায়ণ তকবীর গো পাট্টি বানাইয়া দাও নিজ খরচে।
এই ধারাবাহিকতাই হইছে সামহোয়ারইনব্লগে। আন্তর্জাতিকভাবে মামারা এইটারে একটা বিজ্ঞাপন হিসাবে দেখাইবো। দেখাইবো যে বাংলাদেশের লেখকরা মূলত ত্রিভুজ। পাঠকরা ভোদাইচোদা। একটু বেশী বুদ্ধি হইলে এরা সুফী হয়। কিন্তু কোন অবস্থাতেই এর উপরে না। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের আর্থিক ক্ষমতা তাগো আছে। তারা এইটা পারে। ২০০৬ এর ফেব্রুয়ারীতে মাসুদার পোস্ট ডিলিট দিয়া শুরু অমি রহমান পিয়ালরে ব্যান করা দিয়া খতম তারাবী।
ছাগুচন্দ্র! সামুব্লগ এখন তোমাগু। খুশীতে এখন জিবলা দিয়া নিজের গোয়া চাটো আর বাললুডুস বানাও।
.....................................................
এই পোস্টখান ২য়বারের মতো মুইছা দিলেন সামহোয়ারের মডুরাম। আবার দিতাছি। পুরা ব্যান না করা পর্যন্ত চলবো।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!!
কৌশিকের মন্তব্যের জবাবে কইছিলাম :
আমি কোনজায়গায় অনপেক্ষ অবস্থানের কথা কইছি বইলা মনে পড়তাছে না। সব অবস্থানেরই নিজস্ব বক্তব্য আছে। কথা হইলো সেই বক্তব্য কি এবং সেইটা কোন পক্ষে যায়।
বাংলাদেশের মাটি থিকা পরিচালিত একটা ফোরাম/ব্লগ বা সোজা কথায় মিডিয়া প্রমাণিত বাংলাদেশবিরোধীদের পেট্রোনাইজ করলে তার বিরুদ্ধমত প্রচন্ডভাবে আঘাত করবোই। ইন্টারনেট তো লেখনের জাগা। এইখানে অক্ষর সমাবেশ দিয়াই আক্রমণ হইবো। এই বিষয়ে সদ্য ব্যান খাওয়া পিয়াল ভাই এর একটা মহাবাক্য মনে পড়তাছে
" থাকলে এমনেই থাকতে হইবো নাইলে ফুট "


















আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনী কিন্তু মৌলবাদী নয়, মৌলবাদী নয় সুদানের দারফুরে যারা শোধনের নামে মানুষ খুন করছে, এমন কি এই যে এত গুপ্ত সন্ত্রাসী দল এরাও মৌলবাদী নয়, ওদের জন্য আলাদা শব্দ যাঞ্ছা করতে হবে, মৌলবাদী হবে সেই সব লোক যারা 4 খলিফার শাসন চায়, পাথর ছুড়ে হত্যার বিধান চায়, কিন্তু এগুলো যখন তালেবানরা করে তখন ওরা মৌলবাদী থাকে না, বড়ই ধন্দে আছে, মতাহির ভাই একটা উপায় বাতলান।