আমার প্রিয় পোস্ট

যা বুঝি, যা দেখি, যা শুনি এবং যা বলতে চাই

ধর্মীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-3

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৯:৫০

শেয়ার করুন:                   Facebook

মৌলবাদের উত্থানের কারণ: ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদের বিশ্বজয়

আগের দুটি লেখায় আমরা মৌলবাদের লেখা ও মৌলবাদীদের মূল তিনটি বৈশিষ্ট্যকে চিহ্নিত করেছি। এবার আমরা মৌলবাদের উত্থানের কারণকে সংক্ষেপে বুঝতে চেষ্টা করবো। স্বাভাবিক যুক্তিতেই বুঝা যায়, যখন কোনো ধর্ম তার অস্তিত্ব নিয়ে হুমকির মুখে পড়ে তখন সেই ধর্মের ভেতর থেকে ক্রোধান্ধ, গোঁড়া বিশ্বাসীদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠে বিভিন্ন মৌলবাদী দল। কিন্তু পৃথিবী ব্যাপী প্রায় সব ধর্মের ভেতর থেকেই এরকম মৌলবাদী দলের উত্থানই ঘটছে এখন। এ শুধু ইসলামী মৌলবাদী দলের সুইসাইড স্কোয়াডের উত্থান নয়, মৌলবাদী প্রবণতায় ভুগছে বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্মের মত আপাত: নিরীহ, শান্তিপ্রিয় ধর্মগুলোও। সুতরাং এটি ধরতে পারা কঠিন নয় যে আসলে 'ধর্ম' বা 'ধর্মবিশ্বাস' বিষয়টিই বর্তমান পৃথিবীতে সাধারণভাবে এক ধরনের হুমকির সম্মুখীন। কোথা থেকে সেই হুমকি এসেছে ধর্মের উপর তা খতিয়ে দেখলেই উত্তরটা পাওয়া যাবে।

পৃথিবীর বর্তমান সমাজব্যবস্থায় ধর্মকে যে অবস্থানে আমরা দেখতে পাচ্ছি তার চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে এটি ছিল এই কয়েক দশক আগে। ধর্মই একসময় ক্ষমতায় বসেছিল এবং ধর্মবেত্তারাই ছিলেন সমাজ, রাষ্ট্র ও সেই ধর্মের অনুসারীদের শাসক ও ত্রাতা। ক্রমশ: বিভিন্ন রাজবংশের ক্ষমতালোভী উত্তরাধিকারদের চাপে ও রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভাবনে ধর্ম শাসকের জায়গা ছেড়ে নেমে আসে পরামর্শক, উপদেশকের স্থানে। এই নতুন অসস্থানে ধর্মের আর উপাসনালয়ের ক্ষমতা চূড়ান্ত না হলেও বিপুল ছিল। সরকার ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মের রীতি-নীতিই প্রধান ভূমিকা পালন করতো। মোল্লা-পুরোহিত-রাবি্বদের ব্যাখ্যাকে উপেক্ষা করার মত জনসমর্থন বা ক্ষমতা রাজনৈতিক দলগুলোর তখনও হয়নি। (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, মুসলিম বা হিন্দু ধর্মীয় মতে বিবাহ নিবন্ধন ও কোর্টের কাছে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদেরকে দম্পত্তি ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে ভাবলে ধর্মের ক্ষমতার পরিবর্তনটি সহজে ধরা যাবে।) কিন্তু ধর্ম ক্রমশ: এখন ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হয়ে যাচ্ছে। সংবিধান পরিবর্তন করে এরশাদ ইসলামকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ধর্ম বানালেও রাজপথে এখনও চিকা দেখা যায়, "আমার ধর্ম আমার কাছে, রাষ্ট্রের কি বলার আছে"। অনেক ধার্মিক লোকও মেনে নিয়েছেন যে, ধর্ম ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়ই হওয়া উচিত। কিন্তু মতের এই পরিবর্তনের সাথে সমাজে ধর্মের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে তা নিয়ে তারাই উদ্্বিগ্ন যারা ধর্মের ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অনেক সুবিধা পেতেন।

সমাজে ধর্মের এই ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়া বা ধর্মনিরপেক্ষতার প্রভাবটি পৃথিবীর সব দেশে এক ভাবে ঘটেনি। বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না যেয়েও বুঝা যায়, সমাজের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে ধর্ম তার সামাজিক প্রতিপত্তি হারিয়েছে। পশ্চিমা চিনত্দা-চেতনা-ধ্যান-ধারণার জনপ্রিয়তার সাথে সাথে পৃথিবীব্যাপি দেশ-জাতি-রাষ্ট্র-জনপদগুলো ধর্মনিরপেক্ষতার মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে আর ফলে ধর্মের সাথে শাসনকার্যের দূরত্ব তৈরি হয়েছে সর্বত্র। কিছু লোক জন, অতি অবশ্যই তারা অতি ধর্মপ্রিয় ধার্মিক, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রীতিনীতি থেকে সরে এসে ধর্মনিরপেক্ষতার মতবাদকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছেন। তাদের কেউ কেউ ধর্মনিরপেক্ষতাকে রুখতে ধর্মের একটি ক্রুদ্ধ রূপ আবিষ্কার করেন, যাকে চিহ্নিত করা হয় ধর্মীয় মৌলবাদ হিসেবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতাকে কেন একটি হুমকি হিসেবে নিলো বিভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসীরা। ধর্ম-নিরপেক্ষতায় তো বস্তুত: সব ধর্মকে সমান দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করা হয়। ধর্ম-নিরপেক্ষতা হয়তো অধিক যৌক্তিক ফলে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে রাষ্ট্রগুলোর কাছে বিশেষত: যে দেশের ভৌগলিক সীমানায় বাস করছে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা। কিন্তু লক্ষ করতে হবে যে রাষ্ট্রের এই দর্শন পরিবর্তনে ঐ জনপদের সর্বাধিক নাগরিকের ধর্মটি হারিয়েছে তার নীতিনির্ধারকে স্থান। কি পড়ানো হবে স্কুলের পাঠ্যক্রমে, নারীরা কী কী পেশায় যোগ দিতে পারবে, অমুক ধর্মের নারী কোন ধর্মের পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে, ইত্যাদি নানা বিষয়ে মোল্লা-পুরোহিতদের ফতোয়া দেয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলো। ফলে আরেকবার ধর্ম হয়ে পড়েছে কোণ-ঠাঁসা। (সম্প্রতি বাংলাদেশে মৌলবাদীরা ফতোয়ার মর্যাদা পুনরুদ্ধারের হুমকি দিয়েছেন।)।

ধর্মনিরপেক্ষতা তাই সব ধর্মের টার্গেট প্র্যাকটিসের ফায়ারিং রেঞ্জ। কিন্তু শুধুই ধর্মনিরপেক্ষতা? ধর্মের প্রতিপত্তি আর ক্ষমতা কমানোরর মূলে আর কী কী বিষয় কাজ করেছে বলে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে অন্ধ ধর্মাবলম্বীদের মন ও মনন? কিসের হুমকি তাদেরকে করে তুলেছে মৌলবাদী?

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ৩৪১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৩:০৪
comment by: শমিত বলেছেন: চমৎকার সাইটোপযোগী লেখা । এ রকম আরো লেখা চাই ।
২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৪:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: শোহেইল,
ধমর্ীয় মৌলবাদের চাষাবাদ ধারাবাহিকভাবে লিখছেন, ভালই লাগছে। কথা হচ্ছে লেখার শেষে কি জামাতী ফসল গোলায় উঠবে? হা হা
৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৪:০৪
comment by: অরূপ বলেছেন: শোমচৌ এর মতো লিখতে পারি না, বড় আক্ষেপ.. পড়ছি .. পড়ব!
৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: শমিত: ধন্যবাদ, উৎসাহ দেয়ার জন্য।
অরূপ: অনেক ভালো লেখেন আপনি। আর এই কথার মাধ্যমে আপনি আমাকে আরেকটি লেখার আইডিয়া দিলেন পরোক্ষে। আসছে....
আড্ডাবাজ: আমি যে কথাগুলো লিখছি, তা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু যাদের পড়ালেখার অঙ্গন ততোটা বিস্তৃত নয় তারা এগুলো জানার সুযোগ পায়নি। সেজন্য পড়ালেখায় ভালো, কম্পিউটারে মাস্টার্স কাউকে দেখা যায় সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্ম ও বিজ্ঞান সম্পর্কে উদ্ভট ও অযৌক্তিক মন্তব্য করতে। এ ধরনের লেখা পাঠ করলে পৃথিবীর সামাজিক ইতিহাসের বিষয়টির সাথে তাদের পরিচয় ঘটবে। তখন তারা আরো ভালো করে বিশ্লেষণ করতে পারবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী। (আপনারও উচিত এরকম উদারনৈতিক ভাবনাগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য সহজিয়া লেখা লেখা।)
৫. ০২ রা জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৪২
comment by: অতিথি বলেছেন: হ
৬. ২৯ শে জুলাই, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৫
comment by: সাধক শঙ্কু বলেছেন: এইবার মোটামুটি একটা হাইপোথিসিস বানানো যায়।

১. একটা মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানী সুপরিকল্পিতভাবে ধর্ম-ভিত্তিক ফ্যাসীবাদরে সমর্থন দিয়া যাইতাছে। পাকিস্থানের যেই মাদ্রাসার তালিবদের দিয়া তালেবান বানানো হইছে সেগুলা ফিনান্স করছে ইউনিকল।

২. আইয়ূব-জিয়া-এরশাদের মতো মদ-সূদী কারবারের লগে খিচুড়ি কইরা নারায়ে তকবীর মিশিনোর কাজে বরাবরই মুক্তচিন্তার লেখকরা অসুবিধাজনক। সুতরাং ছাগু ছাড়া কাউরে বাক-স্বাধীনতা দেওন যাইবো না। এইটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেই যুক্তিতে হিটলার ইন্টেলেকচুয়াল মারছে একই যুক্তিতে জামায়াতে ইসলামীর মিলিশিয়া বাহিনি আল-বদর বুদ্ধিজীবি মারছে। প্রতি ক্ষেত্রেই আলটিমেট নিয়ন্ত্রণ ছিল জলপাই মামাগো হাতে। এইবারো তাই।

৩. বাংলা প্রাচীনকাল থিকাই বিদ্রোহ উপদ্রুত এলাকা। এই সমস্ত প্রতিরোধের কেন্দ্রে কোনদিনই আল্লাহ-ভগু-গডু-শিঙাবোঙা-উগাবুগাদের কোন ইনফ্লুয়েন্স ছিল না। রাজনীতিতে ধর্ম ঢুকাইছে রাষ্ট্র। এই বিষয়ে সবচেয়ে সফল ইংরেজ। ইংরেজের বিরুদ্ধে যতগুলা আপরাইজিং হইছে তার সবই সরাসরি উপনিবেশবিরোধী ইস্যুতে। ধর্ম এইখানে ঢুকছে এই আন্দোলনগুলারে ভান্ডা করার জন্য। পাকিস্থান হইয়াও টিকতে পারে নাই কারণ বাঙ্গালীর কালচার মারফতি-মুর্শীদী দেহতত্ত্ববাদী ঘরানার। হক্কুলু কুলু কুলু ঘরানার না। কিন্তু ঐ যে স্বাধীন মতপ্রকাশের চান্স দিলেই প্রতিবাদ করে । তাতে তো মামার অসুবিধা। ধান চাইল পাতালে পাঠানো যায় না। সুতরাং একের পর এক জলপাই নামাও, লাড়ায়ণ তকবীর গো পাট্টি বানাইয়া দাও নিজ খরচে।

এই ধারাবাহিকতাই হইছে সামহোয়ারইনব্লগে। আন্তর্জাতিকভাবে মামারা এইটারে একটা বিজ্ঞাপন হিসাবে দেখাইবো। দেখাইবো যে বাংলাদেশের লেখকরা মূলত ত্রিভুজ। পাঠকরা ভোদাইচোদা। একটু বেশী বুদ্ধি হইলে এরা সুফী হয়। কিন্তু কোন অবস্থাতেই এর উপরে না। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের আর্থিক ক্ষমতা তাগো আছে। তারা এইটা পারে। ২০০৬ এর ফেব্রুয়ারীতে মাসুদার পোস্ট ডিলিট দিয়া শুরু অমি রহমান পিয়ালরে ব্যান করা দিয়া খতম তারাবী।

ছাগুচন্দ্র! সামুব্লগ এখন তোমাগু। খুশীতে এখন জিবলা দিয়া নিজের গোয়া চাটো আর বাললুডুস বানাও।

.....................................................

এই পোস্টখান ২য়বারের মতো মুইছা দিলেন সামহোয়ারের মডুরাম। আবার দিতাছি। পুরা ব্যান না করা পর্যন্ত চলবো।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ!!




কৌশিকের মন্তব্যের জবাবে কইছিলাম :

আমি কোনজায়গায় অনপেক্ষ অবস্থানের কথা কইছি বইলা মনে পড়তাছে না। সব অবস্থানেরই নিজস্ব বক্তব্য আছে। কথা হইলো সেই বক্তব্য কি এবং সেইটা কোন পক্ষে যায়।

বাংলাদেশের মাটি থিকা পরিচালিত একটা ফোরাম/ব্লগ বা সোজা কথায় মিডিয়া প্রমাণিত বাংলাদেশবিরোধীদের পেট্রোনাইজ করলে তার বিরুদ্ধমত প্রচন্ডভাবে আঘাত করবোই। ইন্টারনেট তো লেখনের জাগা। এইখানে অক্ষর সমাবেশ দিয়াই আক্রমণ হইবো। এই বিষয়ে সদ্য ব্যান খাওয়া পিয়াল ভাই এর একটা মহাবাক্য মনে পড়তাছে

" থাকলে এমনেই থাকতে হইবো নাইলে ফুট "

 



 


মানুষের অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা আমার রক্তে ও মননে। মানুষ ও মানুষের নিরন্তর সংগ্রাম ছাড়া আর কোনো ইতিহাস আমি জানি না। আজন্ম...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৯৪৫০