somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র: সারাহ গ্যাভ্রনের সঙ্গে আলাপ-সালাপ (উত্সর্গ: ইরতেজা)

(সামহোয়ারইনে অনেকদিন পর এসে ব্রিকলেন ছবিটির ওপর ইরতেজার লেখাটি পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর এ নিয়ে সচলায়তনে আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। তার একটা লিংক এখানে দিলাম। অনেকগুলো ছবি আপলোড করা আছে সে লেখায়। এতো ছবি আবার ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে আপলোড করার ধৈর্য নাই। আমার আগের ল্যাপটপটি মৃত্যুবরণ করায় সেগুলোর সংগ্রহও নাই আমার কাছে। চমত্কার একটা সমালোচনা পড়ার সুযোগ করে দেয়ায় এই পোস্টটি উত্সর্গ করছি ইরতেজাকে।)

সবগুলো ছবিসহ মূল পোস্টের লিংক


ছবিছাড়া সম্পূর্ণ লেখাটি:

মনিকা আলীর প্রথম উপন্যাস ব্রিকলেন শুরুতেই ব্রিটেনে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলো। বই প্রকাশ হওয়ার আগেই তাকে তুলনা করা হচ্ছিল সালমান রুশদির সাথে, তার নাম উঠে গিয়েছিলে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তরুণ ব্রিটিশ লেখকদের তালিকায়। বাংলাদেশে বাঙালিরা একজন বাঙালি বংশোদ্ভুতের ইংরেজি উপন্যাস প্রকাশ হওয়ার বিস্ময় নিয়ে চোখ যতোটা বড় করেছেন ব্রিকলেন উপন্যাস ঠিক ততোটা পড়েন নি। অন্যদিকে ব্রিকলেনের প্রবাসী বাঙালিরা (বলা যায় সিলেটিরা) উপন্যাসে সিলেট অঞ্চল থেকে আসা মানুষকে ছোট করে দেখানো হয়েছে বলে প্রতিবাদ/বয়কট এসব করেছেন। তাতেও ব্রিকলেন উপন্যাসের একটু অন্যরকম প্রচার হয়েছিলো। অনেকে এই প্রতিবাদকে ইস্ট ভার্সাস ওয়েস্ট বলেও তত্ত্ব দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

[img_assist|nid=10609|title=ব্রিকলেনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিডিয়ার নেকনজর পেয়েছে|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=240]

বল্টনে বড় হওয়া মনিকা ব্রিকলেনে কখনও আসেননি, সিলেট থেকে আসা প্রবাসীরা পূর্বলন্ডনে কীভাবে বাস করছেন তা নিজ চোখে দেখেননি - সুতরাং তার লেখার গভীরতা নিয়ে প্রতিবাদকারীদের প্রশ্ন সাধারণ বাঙালিদের কাছে গ্রহণযোগ্যই মনে হয়েছে। ব্রিটিশ সাহিত্যাঙ্গনের লোকজন এ অভিযোগকে খুব একটা আমলে নেননি। মনিকা আলীর দ্বিতীয় উপন্যাস হয়তো তার একটা উত্তর হতে পারে। আলেন্তিয় ব্লু নামে তার দ্বিতীয় উপন্যাস যেটি ২০০৬ সালে বেরিয়েছে তার কাহিনী পর্তুগালের একটি গ্রাম নিয়ে। ব্রিকলেন পড়তে আমার আগ্রহ না হওয়ার পেছনেও একটা কারণ ছিল যে এ উপন্যাসের প্রামাণ্য তথ্য আর গভীর সমাজ-মনস্তাত্বিক দিকগুলো আমার কাছে খেলো মনে হবে। লেখকের অভিজ্ঞতার অভাব উপন্যাসে বড় প্রকট হয়ে ধরা পড়ে।

[img_assist|nid=10610|title=মনিকা আলীর স্বল্প পরিচিত দ্বিতীয় উপন্যাসের প্রচ্ছদ|desc=|link=popup|align=none|width=217|height=320]

তবে যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছিলো এই উপন্যাস, [url=http://www.bookrags.com/studyguide-brick-lane/]এই উপন্যাসের স্টাডি গাইডও আছে[/url], তাতে এ থেকে একটা ফিল্ম বানানোর প্রেরণা প্রযোজকরা পেতেই পারেন। এই ভরসায় এগিয়ে এসেছিলো চ্যানেল ফোর। গত মাসের মাঝামাঝি সিনেমা হলে ব্রিকলেন মুক্তি পেয়েছে।

উপন্যাসটা হাতে নিলেও পুরোটা পড়ার ধৈর্য হয়নি বলে ফিল্মটা দেখার আগ্রহ ছিলো। প্রথম দিন হে-মার্কেটের সিনে-ওয়াল্র্ডে এক ঘন্টা আগে গিয়েও টিকেট পাওয়া গেলো না। বিনামূল্যে দুশো টিকেট দেয়া হয়েছিলো আর ফিল্ম শেষে ছিলো পরিচালকের সাক্ষাত্কার। বেশ লোভনীয় আয়োজন। তবু আশা করেছিলাম আমার মতো অবসরপ্রাপ্ত সিনেমারসিক কমই হয়তো আছে। কিন্তু টিকেট না পাওয়ার দলে পূর্ব-ইউরোপিয় মেয়েদের দীর্ঘ লাইন দেখে একরকম ধাক্কাই খেলাম।

ব্রিকলেন পরিচালনা করেছেন সারাহ গ্যাভ্রন। এটা তারও প্রথম ছবি পরিচালনা। অবশ্য বিবিসির জন্য একটা ফিচার সারাহ করেছেন। সোমবার বিকেলে ইলিং স্টুডিওতে ফিল্ম স্কুলের আয়োজনে ব্রিকলেন ছবির ওপর সারাহ‘র একটা ওয়ার্কশপ আছে তাই রোববারে বৃষ্টির মধ্যেও ঘর থেকে বের হয়ে ছবিটা দেখে ফেললাম।

ভেবেছিলাম হলে গোটা বিশেক লোক হবে তাই দর্শক ঢোকার সময় গুণছিলাম কিন্তু সংখ্যাটা যখন ৮০ ছাড়িয়ে গেলো তখন গোণা বাদ দিলাম। বিভিন্ন ধরনের মানুষের আলাপচারিতার যেসব অংশ বাতাসে ভেসে কানে আসছিলো তা থেকে অনেকগুলো কারণ বুঝতে পারলাম এ‌ই দর্শকপ্রিয়তার। লন্ডন এবং ইমিগ্র্যান্ট সমাজ নিয়ে সামাজিক একটা ছবি। হলিউডের বিরাট সব ধুমধাড়াক্কা ছবির মধ্যে অনেকেই নিজেকে খুঁজে পায় না। তাই এরকম ছবি দেখতে আসা। এদের অনেকে ব্রিকলেন পড়েছে। সেটাও একটা কারণ।

[img_assist|nid=10612|title=সেলাইয়ের কাজ করে নাজনীনের সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=268]

ছবি হিসেবে ব্রিকলেন বেশ ভালো মানের চলচ্চিত্র। লন্ডনের পত্রিকাগুলো সংক্ষেপে যাকে বলছে মনিকা আলীর ব্রিকলেন উপন্যাসের প্রিটিফাইড ভার্সন। একেবারে বর্তমান সময়ের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো কাহিনীটা খুবই সাদামাটা আটপৌরে প্রবাসী জীবনের। বাংলাদেশের গ্রামের মেয়ে নাজনীনের হঠাত্ বিয়ে হয়ে যায় দ্বিগুণ বয়সী প্রবাসী চানুর সাথে। পূর্ব লন্ডনের কাউন্সিলের ছো্ট্ট ফ্ল্যাটে স্ত্রী হিসেবে বন্দীজীবনে তার সবচে বড় সুখস্মৃতি হলো ফেলে আসা গ্রামের খোলা প্রান্তরে বোনের সাথে দাপিয়ে বেড়ানোর দিনের দৃশ্য। উচ্চশিক্ষিত স্বামী চানু চাকুরি হারিয়ে বেকার হয়ে যাওয়ার পর পাশের ফ্ল্যাটের এক মহিলার পরামর্শে নাজনীন সেলাই মেশিন জোগার করে শুরু করে দর্জির কাজ। সেইসূত্রে কাজ দিতে আসা যুবকের সাথে তৈরি হয় প্রেম। কিন্তু ২০০১ এর তালেবানি টুইন-টাওয়ার আক্রমণের পর সেই যুবক ঝুঁকতে থাকে ইসলামের দিকে। নাজনীনও মন ফিরায় মোটাসোটা স্বামীর দিকে। ছোট মেয়েটার প্রতিবাদ ও চেষ্টাচরিত্রে যখন নাজনীন ও দুই শিশুকে রেখেই চানু বাংলাদেশে যায় তখন মা ও মেয়েরা যেন নতুন করে তাদের জীবনের স্বাদ নেয়ার সুযোগ পায়। ব্রিটেনের প্রতি তাদের ভালোবাসাটাও শক্ত হয় এই নতুন পাওয়া স্বাধীনতার হাত ধরেই।

ব্রিকলেন ছবি নিয়ে আপত্তি করার মতো অনেক বিষয়ই আছে। বাঙালি হিসেবে প্রথমেই আমার চোখে পড়ে যায় কেন কাহিনীর অনেক জায়গায় মূল চরিত্র চানুর আচার আচরণ আসলে বাঙালির মত মনে না হয়ে ভারতীয়দের মত মনে হয়। ব্রিটিশ দর্শকদের কাছে তা মনে না হওয়ারই কথা কারণ আমাদের মত তারাও ফিলিপাইন, কোরিয়া, চীন ও জাপানের মানুষকে আলাদা করতে পারে না। ভারত, শ্র্রীলংকা, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ গুলিয়ে ফেলার কথা। পরিচালক সারাহ গ্যাভ্রনের সাথে কিছু বাংলাদেশি সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন কিন্তু তারা এসব সূক্ষ্ম বিষয়ের সমাধান জানবার মত মেধাবী নন তা আমি জানি। সুতরাং চানুর চরিত্রের অভিনেতা সতীশ যখন হাঁটে, তার ভারতীয় এ্যাক্সেন্টে ইংলিশ বলে, ভারতীয় ফিল্মি কায়দায় বোকামির অভিনয় করে তখন দর্শক হিসেবে আমার অস্বস্তি লাগে। নাজনীনের চরিত্রে তন্বিষ্ঠা চ্যাটার্জির অভিনয় সে তুলনায় মহাভালো হয়েছে। শুরুতে তার এক্সপ্রেশন এতো স্বাভাবিক ছিল যে মনে হচ্ছিল ডকুমেন্টারি দেখছি এবং এ মেয়ে গন্ডগ্রাম থেকে মাত্র লন্ডন এসে নামলো।

কিন্তু বাঙালি হওয়ার কারণে সামাজিক-সাংস্কৃতিক যেসব গভীর বিষয় আমি জানি এবং পরিচালক ধরতে পারেননি তা দিয়ে আমি ছবিটাকে বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ সারা পৃথিবীজুড়ে নানা জাতির লোকজন এই ছবি দেখবে এবং ছবিটিতে আসলে সার্বজনীন একটা গল্পকেই ধরা হয়েছে।

[img_assist|nid=10613|title=প্রথম ফিচার ফিল্মে ভালো সাড়া পাওয়ায় স্বভাবতই খুব খুশি পরিচালক সারাহ গ্যাভ্রন|desc=|link=popup|align=none|width=246|height=320]

তারচেয়ে বরং পরিচালক সারাহ গ্যাভ্রনের আলাপচারিতার অংশটুকু নিয়েই কথা চালাই। ইলিং স্টুডিও লন্ডনের আরেক প্রান্তে, একেবারে সেন্ট্রাল লাইনের শেষ স্টেশন ইলিং ব্রডওয়েতে। কাক ভেজা হয়ে ৫ নং ফ্লোরে যখন হাজির হলাম তখন দেখি ফিল্ম স্কুলের অল্প কিছু ছাত্র-ছাত্রী বাদে বাকী সবাই আমার মতো দূর-দূরান্তের যাত্রীই। সব মিলিয়ে গোটা ২৫ জন আসতে পেরেছেন এই ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে। এতে আয়োজকদের মন একটু খারাপ হলেও আমাদের ভালোই লাগছিলো। কারণ আলোচনাটা অনেক বেশি ঘরোয়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো আর তাছাড়া অতিথিদের জন্য রাখা ফ্রেঞ্চ বিয়ার, চিপস্ আর বাদামও ভাগে বেশি পড়লো।

জৌলুস থাকার মতো অবস্থা ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আর নেই।স্টুডিওর এক কোণায় চার/পাঁচটা চেয়ার বসানো যায় এমন একটা স্টেজ। ভীষণ পুরনো আসবাবপত্র। যেহেতু ওয়ার্কশপ সুতরাং হবু ফিল্মমেকারদের কথা মাথায় রেখেই পরিচালকের সাথে আলাপ শুরু করলেন উপস্থাপক। সারাহ শুরু করলেন তার ডিপ্লোমা ফিল্ম এই স্টুডিওতেই শ্যুট করেছিলেন সেই গল্প দিয়ে। তারপর নয়টার মতো শর্টফিল্ম। বিবিসিতে একটা ফিচার তারপর বড় পর্দায় এই তার প্রথম ছবি ব্রিকলেন।

[img_assist|nid=10614|title=নাজনীনের চরিত্রে তন্বিষ্ঠার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন পরিচালক নিজেও|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=232]

কেন ব্রিকলেন নিয়ে ছবি? এই প্রশ্নটা কেউ একজন করলো। সারাহ খুব সাধারণ উত্তর দিলেন। কোনো একটা ছবির প্রস্তাব নিয়ে তিনি চ্যানেল ফোরে ঘুরাঘুরি করছিলেন, তখন তারা তাকে পাল্টা প্রস্তাব দিলো ব্রিকলেনের ব্যাপারে উত্সাহী কিনা। সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন তিনি। স্ক্রিপ্ট রাইটার থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। সুতরাং ইমেইল চালাচালি করে প্রথম ড্রাফট যখন হাতে পেলেন তখন তার সাথে যোগ দিলেন ভিন্ন একজন স্ক্রিপ্ট রাইটার। তারপর তারা গল্প ও স্ক্রিপ্ট নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে লাগলেন। গল্পের কোন অংশ চলচ্চিত্রে থাকবে আর কোন অংশ থাকবে না এ নিয়ে অনেক টানাহেঁচড়া হয়েছে। তবে মনিকা আলী এই পর্যায়ে তাদের সাথে ছিলেন না। তাদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দূরে ছিলেন। মনিকা শুটিং-এর শেষে এডিটিংয়ের সময় এসে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কয়েকটা খসড়া চিত্রনাট্যের পর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন শুধু নাজনীনের গল্পটাই ছবিতে থাকবে। উপন্যাসে যে নাজনীনের বোনের, তার প্রতিবেশিদের নানা উপ-গল্প আছে সেগুলো ছেঁটে ফেলা হবে স্ক্রিপ্টে। স্ক্রিপ্ট ডেভেলেপমেন্টের টাকা দিয়েছিলো চ্যানেল ফোর। সুতরাং ছবি বানানোর টাকার জন্য তারা গেলেন ফিল্ম কাউন্সিল ইউকের কাছে। ফিল্ম কাউন্সিলের টাকা পেতে হলে আবার কোনো একটা পরিবেশকের আগাম সম্মতি আনতে হয়। পরিবেশক তখন স্ক্রিপ্ট দেখে নানারকম পরামর্শ দিতে লাগলো। ফলে তখন আরেকদফা পরিবর্তন হলো স্ক্রিপ্টে।

উপন্যাসের অনেকটা জুড়ে ছিলো চিঠি। দুই দেশে থাকা দুইবোনের আলাদা আলাদা জীবন নিয়ে তাদের এই পত্রযোগাযোগ সিনেমায় কীভাবে আনা যায় তা নিয়ে পরিচালক খুব সমস্যায় ছিলেন। একবার তারা সিদ্ধান্ত নেন যে দুই দেশে দুই বোনের জীবন নিয়ে সমান্তরালভাবে ছবিটার কাহিনী এগিয়ে যাবে। কিন্তু দুই দেশে শুটিং-এর খরচ নিয়ে উদ্বিগ্নতা থাকায় এটা বাদ যায়। দীর্ঘ চিঠি পড়ে যাওয়ার বিষয়টা সিনেমায় খুবই বোরিং হবে বলে নাজনীনের চিঠি পাঠের অংশগুলোও চিত্রনাট্য থেকে বিদায় নেয়।

[img_assist|nid=10615|title=ব্রিকলেন ছবি নির্মাণের সাথে মূলত: নারী কর্মীরাই যুক্ত ছিলেন|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=240]

ব্রিকলেনের কাহিনীটাই যে শুধু একজন নারীর জীবনকে ঘিরে ছিলো তা নয়, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, ক্যামেরাওম্যান, এডিটরসহ ব্রিকলেন ছবিতে নারী কর্মী ও ক্রুর সংখ্যাই বেশি। এটা কি ইচ্ছাকৃত? এরকম একটা প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে সারাহ-কে। সারাহ বললেন চিন্তার সাযুজ্যের জন্যই নারী-প্রধান টিম তিনি চেয়েছিলেন তা ছাড়া তার মনে হয়েছে নারীর এমন দরদী গল্প নারীই ঠিকভাবে বুঝতে পারবে।

কিন্তু উপন্যাসে যে চিঠি ছিলো তা চলচ্চিত্রে বদলে কী হলো? সারাহ বললেন চিঠি ছিলো ফেলে আসা গ্রামের সাথে নাজনীনের সংযোগসূত্র। ছবিতে সে জায়গাটা নাজনীনের পারস্পেকটিভে গ্রামের ভিজ্যুয়াল দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শ্যুটিং না হয়ে ছবিটির শুটিং হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। অনেকে উজ্জ্বল রং আর বর্ণিল সিনেমাটোগ্রাফির প্রশংসা করলেন যখন তখন সারাহর চোখ-মুখও উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সাথে বেরিয়ে এলো আক্ষেপও। বললেন, ব্রিটেনে ফিল্মতো এখন কটেজ ইন্ডাস্ট্রি। ইন্ডিয়াতে এটা বিশাল ইন্ড্রাস্টি। একটা ট্রাইপড ধরতে চারজন লোক থাকে। ইন্ডিয়াতে শুটিং-এর সময়টা খুব উপভোগ করেছেন সারাহ। যদিও তার ক্রুর দলে কখনই একশ‘র বেশি লোক ছিলোনা। ব্রিটেনে যখন শ্যুট করেছেন তখন তো থাকতো ২৫-৩০ জন।

[img_assist|nid=10616|title=ছবির মূল তিন অভিনেতা-অভিনেত্রীর সাথে ডানে পরিচালক সারাহ|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=226]

সিনেমা, সিনেমা নির্মাণের নানা বিষয় নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা তিনি বললেন। বললেন কীভাবে কোথায় গিয়ে তিনি খুঁজে পেয়েছেন প্রধান চরিত্রের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। কীভাবে ব্রিকলেনের মুরুব্বিদের সাথে মিল-মিশ করে ব্রিকলেনে শুটিং করেছেন। কীভাবে প্রথম প্রিভিউর পরে ফোকাস-গ্রুপের মতামত শুনে আবার সম্পাদনা করে পশ্চিমবঙ্গে শুটিং করা অনেক অংশ ফেলে দিয়েছেন। যারা অর্থ দিয়েছে তাদের মতামত ও অগ্রাধিকারকে কীভাবে পর্দায় জায়গা করে দিয়েছেন। কতটা বিস্মিত হয়েছিলেন যখন ফ্রান্সে চলচ্চিত্র উত্সবের পর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো ফিল্ম কতটা কবিতার মতো আর কতটা ছবি আঁকার মতো।

ওয়ার্কশপে এ বিষয়গুলো নিয়েই কথা হওয়ার কথা। পরিচালকের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেরা কিছু শিখতেই সবাই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। সারাহও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছিলেন খুব আন্তরিকভাবেই।

আমারও একটা প্রশ্ন ছিলো। সেটা করলাম শেষের দিকেই। জানতে চাইলাম, ছবিটা দেখে আমার মনে হয়েছে যখন গল্পে কোনো নাটকীয়তা নেই, দর্শক কিছুটা বোর ফিল করছে, কাহিনীর কোনো মোড় বা মোচড় নেই তখন পরিচালক ভিজ্যুয়াল দিয়ে একধরনের কোলাজ সৃষ্টি করে দর্শকদের নাড়া দিতে চেয়েছেন। বিষয়টা খুবই শৈল্পিক হয়েছে এবং আমার ভালোও লেগেছে। কিন্তু আমি জানতে চাই এটা স্ক্রিপ্ট পর্যায়ে কি ছিলো? নাকি এডিটিং টেবিলে এসে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? সিদ্ধান্তটা কে নিয়েছে? পরিচালক না সম্পাদক।

[img_assist|nid=10619|title=ব্রিকলেন বলতে বাঙালি পাড়াই বুঝায় এখন|desc=|link=popup|align=none|width=320|height=221]

সারাহ মৃদু হেসে বললেন, সম্পাদকই নিয়েছে। অনেক সময় আমি মতামত দিয়েছি। তবে ডিস্ট্রিবিউটার, ফোকাস-গ্রুপ, ফাইন্যান্সার এরকম নানা পক্ষের কাছ থেকে আমরা ফিডব্যাক পেয়েছিলাম। তার ভিত্তিতে অনেক কিছু যোগ-বিয়োগ করতে হয়েছে। সিনেমায় এরকম করতে হয়। এটা একটা কোলাবোরেটিভ আর্ট মিডিয়া। শিল্প এখানে সবার সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমেই তৈরি হয়। কোনো বিশেষ একজনের চিন্তা-ভাবনা সেটা আর থাকে না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28781368 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28781368 2008-03-22 03:52:44
এই বন্যায় কি ভেসে যাবে সব?

বন্যা এমন বছর আসলো যে বছর ক্ষমতায় অপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। সরকারের অবস্থা লেজেগোবরে। বিরাট সব প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসা সরকার এখন খুঁজছে এক্সিট রুট। রেহমান সোবহান তার লেখায় এর মাঝেই দেখিয়ে দিচ্ছেন প্রস্থানের পথ।

এত দ্রুত বিদায়ের কথা কেন? শুরুর তথ্যটা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা স্বয়ং। তিনি অবশ্য দিয়েছিলেন এসওএস ম্যাসেজ। সেইভ আওয়ার সোলস। তিনি বলেছেন, এই সরকারকে বাঁচিয়ে রাখা জাতির দায়িত্ব। কিন্তু তার এই কথায় অন্য এক সত্য বের হয়ে আসে। নানা কৌশল করেও টিকে থাকতে পারছে না সরকার। কেন পারছে না?

সরকারের সদস্যরাই মনে করেন, একটা কারণ তাদের অভিজ্ঞতার অভাব। আরেকটা কারণ জনগণের সাথে যোগাযোগের অভাব। কি হাস্যকর। অভিজ্ঞতার অভাবে দারোয়ানের চাকরি পাওয়া যায় না যে দেশে সে দেশে গোটা সরকার চলছে এমন লোক দ্বারা যারা অনভিজ্ঞ।

আসল কথা হলো তারা জনবিচ্ছিন্ন। সৈনিকদের জনবিচ্ছিন্ন করেই রাখা হয়, যুদ্ধে তাদের নৃশংসতাকে প্রকট করে তোলার জন্য। তারা যখন ভুলক্রমে দেশের মাটিকে যুদ্ধের ময়দান ভেবে হামলে পড়ে তখন তারা এক ঝটকায় জনদরদী হয়ে উঠবে এমন আশা করা বৃথা।

জনদরদী হয়ে উঠেছিল এরশাদ সরকারও। ১৯৮৮ এর বন্যায়। বন্যায় হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরাতে দেয়া তার পোজ আজো তার মূল সেলিং পয়েন্ট। ব্যাকগ্রাউন্ডে "আমি যেতে যাই বাংলার মানুষের কাছে" গান।

এবছরের বন্যা একই সুযোগ এনে দিয়েছে নতুন সরকারের জন্য। বন্যায় যখন লক্ষ-লক্ষ মানুষের সহায়-সম্বল ভেসে যাবে তখন‌‌ এই সরকারের ভেসে উঠার সুযোগ। পরামর্শ দেবার জন্য এরশাদ এখনও নিজের প্রাসাদেই আছেন।

তবে বন্যা মোকাবেলায় সফলতা কিভাবে আসে সে পরামর্শে কিন্তু কাজ হবে না। তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী ক্ষয়-ক্ষতির দিক দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় বন্যা হচ্ছে ১৯৯৮। তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। খুব সফলভাবে তারা বন্যাকে মোকাবেলা করেছিল। এসব সফলতার কথা মিডিয়ায় আলোচনা হয় কম। মানুষের মনেও থাকে কম। এখান থেকে শিক্ষার কিছু নাই। শিক্ষা নিতে হবে এরশাদের কাছ থেকে।

শিক্ষা নিতে হবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে। নওয়াজ শরিফ আর বেনজির ভুট্টোর দুর্নীতি নির্মূলের আওয়াজ দিয়েই এসেছিলেন মোশাররফ। এখন তার আসন টলমলে। বেনজিরের সাথে ভাগাভাগি করে প্রেসিডেন্ট থাকতে চাচ্ছেন তিনি। আমাদের সেনাপ্রধানরা এসব কথা আরো গভীরভাবে জানেন। পাশের দেশে ষাট বছর ধরে গণতন্ত্র। তা থেকে তারা কিছুই শেখেন না। পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র তাদের নখদর্পনে। সেসব মডেল বানিয়ে বাংলাদেশেও তারা দেশোদ্ধারের মহড়া দেন মাঝে মাঝে।

এক লাল মসজিদের চেয়ে বন্যা অনেক বড় জিনিস। বন্যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জীবনকে উলট-পালট করে দিয়ে যায়। এবারের বন্যায় হাহাকার উঠবে আরো তীব্র হয়ে। দেশে অনভিজ্ঞ সরকার। তাদের মার্চপাস্ট আর যৌথবাহিনীর শুটিং প্র্যাকটিসে দরদী মানুষেরাও এখন সরকার থেকে নিরাপদ দূরত্বে। একা এই সরকার বন্যা সামলাতে পারবে বলে মনে হয় না। এখনই তারা ডাকছে সাহায্যের জন্য, ব্যক্তিকে, রাজনীতিবিদদের এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকেও।

বন্যা বড়ই ভয়ংকর। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই নড়বড়ে সরকার সেই জলে ভেসে উঠতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে কি তারা ভেসেই যাবে, এই বন্যায়? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28724333 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28724333 2007-08-05 18:29:59
বাংলাদেশ এখনঃ শাসন-সংকট ও জাতির মনোভাব - একটি গবেষণা প্রচেষ্টা
ভূমিকা:

জাতির মন কীভাবে বুঝা যায়? রাজনৈতিক দলের নেতারা মাঠের বক্তৃতায় এরকম একটা ধারণা দেন যে জাতির নাড়ির স্পন্দন তাদের আঙুলের ডগায়। এসব বক্তৃতায় যাদের আস্থা নেই তারা মনে করেন নিজের মতকেই জাতির মত হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন রাজনৈতিক নেতারা। সমাজবিজ্ঞানীরাও তত্ত্ব-উপাত্তের পরিসংখ্যান সাজিয়ে নানা মাপজোঁক করেন। তবে এর বেশিরভাগই তারা করেন ঘটনা ঘটার অনেক পরে। অর্থাত্ রোগী মারা যাওয়ার পরই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে ডাক্তারের। ভবিষ্যতের গতি-প্রকৃতি বুঝা যায় এরকম একটা সামাজিক জ্যোতিষশাস্ত্রের অভাব এক্ষেত্রে আমরা বোধ করতে পারি, যা ব্যথা সারাতে না পারলেও মলমের কাজ করতে পারতো। কিন্তু ঠাট্টার কথা বাদ দিলেও, স্বীকার করতে হয় জাতির মন বুঝতে নানা অনুমানের হাত ধরা ছাড়া উপায় নাই। যদি কোনো যাদু-পদ্ধতিতে জানতে পারতাম জাতির মনোভাব তবে কি সহজেই না আমরা বলতে পারতাম জাতি এখন কী চায়।

এক লাইনের প্রশ্ন আর তিনটা মালটিপল চয়েস দিয়ে দৈনিক পত্রিকারা হরদম অপিনিয়ন পল চালায়। কিন্তু এরকম জনমত যাচাই করে শাসনতন্ত্রের সংকটের মত বিশাল বিষয়ে জনগণের মনোভাব বুঝা প্রায় অসম্ভব। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটা অনিবার্য প্রশ্ন হলো, কী ভাবছে জাতি - বর্তমান শাসন-সংকটে? এই সাধারণ প্রশ্নটাও পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে যায়, কারণ পাল্টা একটা প্রশ্ন তোলা যায়, আদৌ কি এটা কোনো সংকট জাতির কাছে?

অনেকেই প্রায়ই ইঙ্গিত করেন যে, রাজনীতি নিয়ে জাতির কোনো মাথাব্যথা নেই। সমস্যা ও সংকটে জাতির আপাত: নিষ্ক্রিয়তায় অভিমান করে আমরা জাতিত্বেই দোষারোপ করি। জাতি হিসেবে বাঙালির বিবেক-বুদ্ধি-আবেগ-স্মৃতি গতি-প্রকৃতি নিয়ে নানারকম ঠাট্টা করে বাঙালি নিজেই। প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন বাঙালির চুয়াত্তরের বিবেক সাতাত্তরে এসে সেনাশাসনের পক্ষে তালি বাজায় । হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, বাঙালির স্মৃতিশক্তি গোল্ড ফিশের মতই খুবই ক্ষণস্থায়ী। ‘কী চাইলাম আর কী পাইলাম’- এর হিসাবে সে গড়মিল লাগায় যেকোনো সময়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গেলে তাই আগে স্মরণ করা দরকার আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

প্রেক্ষাপট:

নব্বইয়ের এরশাদ সরকারের পতনের পর নতুন করে গণতন্ত্র পাওয়া বাংলাদেশ দেখেছে তিন-তিনটি সংসদীয় গণতন্ত্রের সরকার। ক্ষমতার অদল-বদলও হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে। প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষ সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্রের পথে এই পথচলাটা আবার একটা সুবাতাস এনেছিল রাষ্ট্রের জীবনে। তবে শাসনব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়নি, নির্বাচন বা সংসদীয় কার্যক্রম ত্রুটি বা বাধামুক্ত ছিল না, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ দায়িত্বশীল ছিল না। তারপরও বোদ্ধা মহলে আশা ছিল ধীরে ধীরে দেশে গণতন্ত্র শিশু রূপ থেকে প্রাপ্তবয়স্কতা পাবে যথাসময়েই। ২০০৬ সালে সর্বশেষ ক্ষমতাবদলের সময় এসে দেশের গণতন্ত্র নতুন সংকটে পড়ে।

কোনো দলীয় সরকারকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন আয়োজন করতে দিলে সে নির্বাচন অবাধ হয় না, এই ধারণা জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার ১৯৯০ এর প্রতিরোধেই। সংবিধান সংশোধন করে তাই এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা। কিন্তু বিরোধী দল দাবী তুলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারা-উপধারার নানা ফাঁকফোকর খুঁজে বের করে চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার নতুন কৌশল তৈরি করেছে। বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানানোর পরিকল্পনা, নির্বাচন কমিশনার পদে বিতর্কিত লোক নিয়োগ, প্রশাসনকে নিজের পক্ষের লোক দিয়ে সাজানো, ইত্যাদি যুক্তি দেখায় বিরোধী দল তাদের দাবীর পক্ষে। কিন্তু বিরোধী দলের এসব দাবীকে অগ্রাহ্য করে সরকারী দল তাদের পরিকল্পনা বহাল রাখে। এরই এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি একইসাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানও হয়ে যান। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির এই পদগ্রহণকে সাংবিধানিক ক্যু হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরিস্থিতি মেনে নেন। কিন্তু যখন বাকী উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ না করে রাষ্ট্রপতি তার দলের সমর্থনে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন তখন চারজন নির্দলীয় উপদেষ্টার পদত্যাগের মাধ্যমে বিরোধীদলের দাবীর বাস্তবতাই প্রতিধ্বনিত হয়। নতুন নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এটা সামাল দিলেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি ঘটে না।

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও অন্যান্য দাবীপূরণ না হওয়ায় নির্বাচনের প্রার্থিতাপত্র প্রত্যাহার করে নেয় বিরোধীজোটের রাজনীতিকরা। নির্বাচন হওয়াটা তখন ছিল একটা প্রহসন মঞ্চস্থ হওয়া মাত্র। সংবিধান ও শাসন-সংকটের এই টানাপোড়েনের মাঝে রাষ্ট্রপতিকে তার মূলপদে ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় আবির্ভূত হয় দশ সদস্যের একটি সরকার। সংবিধান-অসমর্থিত হলেও একেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলেই চিহ্নিত করা হয়। নানা সূ্ত্রের দাবী ও বাস্তব উদাহরণ এটাই প্রমাণ করে যে, নতুন এই সরকারের শক্তির খুঁটি হচ্ছে সেনাবাহিনী।

দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে মৌলিক অধিকার স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়। মিডিয়া সেই খড়গে পড়লেও একদিনের মাথায় তারা দেনদরবার করে শর্তসাপেক্ষে নিজেদের প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সুযোগ পান। মিডিয়ার একটা অংশের প্রাথমিক সমর্থনও পায় এই সরকার। কিছু দলছুট রাজনৈতিক নেতা, এনজিও হর্তাকর্তা এবং কিছু অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (বুদ্ধিজীবি বা সুশীল সমাজের ব্যানারে) বর্তমান সরকারের ক্ষমতাগ্রহণকে জায়েজ বলে ঘোষণা দেন। রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও অর্থহীন নির্বাচন থেকে দেশ রক্ষা পাওয়ায় সাধারণ নাগরিকও স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন।

কিন্তু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের দিকে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না নতুন সরকারের মধ্যে। জাতীয় সরকার গঠনের একটা গুজব শোনা যায়। নোবেল পাওয়া এনজিও কর্তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়, কিন্তু সে দল যথার্থ জনসমর্থন পাবে না এরকম আশংকায় আঁতুড় ঘরেই মৃত্যুবরণ করে। বিকল্প রাজনৈতিক দল তৈরির ধারণার পর বা পাশাপাশি শোনা যায় মাইনাস-টু তত্ত্ব। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রধানকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কারের একটা ধারণা হঠাত্ দল ও দলের বাইরে প্রবলভাবে আলোচিত হতে থাকে। এদিকে দুর্নীতির দায়ে প্রধানত: রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আটক ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনা ঘটতে থাকে। রাজনীতির ছাতার নীচে বিভিন্ন নেতাদের দুর্নীতির বয়ান দেখে সাধারণভাবে দেশবাসী আতংকিতই হয়ে উঠেন।

দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বিপুল প্রশংসাও পায়। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সময়ক্ষেপন, দুর্নীতিবাজদের ধরার ক্ষেত্রে দৈ্বতনীতি, রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ, বিশেষ দলের নেতাদের প্রতি ছাড়, নানা রকম ষড়যন্ত্রের গুজব ইত্যাদি কারণে নতুন সরকারের প্রতি জনগণের উচ্ছাসে ভাটা পড়তে শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন আগামী ২০০৮-এর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। কিন্তু যা নিয়ে এত গন্ডগোল, সেই নির্ভুল ভোটার তালিকার বিষয়ে তাদের অগ্রগতি খুব ধীর। চারদলীয় জোট সরকারের নিয়োগ দেয়া বিতর্কিত নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও দেখা যাচ্ছে অহেতুক বিলম্ব। তাছাড়া পত্র-পত্রিকার ভাষ্যের অর্ধেকও যদি সত্য হয় তবে এরকম একটা ধারণা জনমনে আছে যে ২০০৮-এর পরেও যাতে মূল দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না আসতে পারে সেরকম একটা হিসাবের ছক কাটছে বর্তমান সরকার। কোনো সন্দেহ নাই এ অত্যন্ত গুরুতর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ।

নব্বই পরবর্তী সময়ে সৈ্বরশাসক ও সৈ্বরশাসনের সুবিধাভোগীরা যেমন ছিল ব্যাকফুটে এখন দেশে গণতন্ত্র আনা দলগুলোর নেতা-নেত্রীদেরও একই অবস্থা। দুর্নীতিতে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশে এখন রাজনীতিই দুর্নীতির সমার্থক। দেশে জরুরি অবস্থা অনেক আগেই অতিক্রম করেছে সংবিধানের সময়সীমা। অস্বাভাবিক এই পরিস্থিতি আর অপ্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকারের হাতে শাসনভার থাকায় অনুমান করা দুরুহ নয় যে সবচে বিপদের মুখে আছে গণতন্ত্র । দেশ ও জাতির জন্য এ এক ঘোর সংকটের সময়।

এই ক্রান্তিকালে যখন মৌলিক অধিকার স্থগিত তখন প্রথমেই যে প্রশ্নটি তুলতে হয় তা হলো, কেমন আছে দেশ ও দেশের জনগণ? এই নবতর সংকটে কী ভাবছেন জনগণ, কীভাবে তারা দেখছেন এই পটপরিবর্তনকে, কীভাবে মূল্যায়ন করছেন তারা অতীত-বর্তমান আর কেমন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বা আতংক দেখছেন তারা। নি:সন্দেহে জটিল ও দুরুহ প্রশ্ন এগুলো। কিন্তু যত জটিল শোনাক এসব প্রশ্ন, যত কঠিন হোক এসবের উত্তর সন্ধান, যত ভুলের আশংকা থাকুক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে; যথার্থ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ ছাড়া জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অন্য কোনো উপায় নেই।

(আসুন এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিজেরাই বের হই। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নয়া প্রেসক্রিপশন আসার আগে আমাদের কিছুটা প্রস্তুতি তৈরি হোক।)

গবেষণার রূপরেখা:
তিনটি বিশেষ অবস্থা ও ধারণাকে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার পর ধাপে ধাপে আমরা সিদ্ধান্ত নেয়ার মত জায়গায় পৌঁছাতে পারি। দেশ পরিচালনা নিয়ে এখন যে ধারণা, ভাবনা-চিন্তার কথা বলা হচ্ছে এবং এসব ধারণার বিপরীত যেসব ধারণা বিরুদ্ধ যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এই দুই ধারার ভাবনারই একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা যায়। করে দেখা যেতে পারে এই দুইপক্ষের ভাবনা থেকে বিভিন্ন সূত্র নিয়ে আমরা নতুন একটা সম্মিলিত ভাবনধারা তৈরি করতে পারি কিনা। তবে এই দুই ভাবনাধারা বিশ্লেষণের আগে আমাদেরকে শাসনকার্যের সংকটের রূপটাকে চিহ্নিত করতে হবে। অর্থাত্ সংকট সম্পর্কে জনগণের মনোভাবটাও বুঝা দরকার।

মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ কী ছিলো তা নিয়ে আমরা এখনও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করি। সুতরাং এগারো জানুয়ারির আগে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের সংঘাতের মূলে কী সংকট ছিল তা স্পষ্ট করা দরকার। দেশ হিসেবে তখন আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং কোনদিকে যেতে চাইছিলাম।

ক্ষমতাসীন দল অবশ্যই ছিল স্ট্যাটাস-ক্যুর পক্ষে, যেরকম চলছে সেরকম চলুক। অন্যদিকে বিরোধীপক্ষের দাবীতে ছিল নানারকম পরিবর্তন,যেসব পরিবর্তন তাদের ভাষায় নির্বাচনের জন্য লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে।

বিরোধীপক্ষের দাবীর মধ্যে মূল তিনটি বিষয় ছিলোঃ
১. নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে ঢেলে সাজানো।
২. জাল ভোটার বাদ দিয়ে একটি সংশোধিত ভোটার তালিকা তৈরি করা।
৩. সরকার ও সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা ব্যক্তিবর্গের দুর্নীতির বিচার শুরু করা।

(কিন্তু এই দাবীগুলোই তো আর সংকট নয়। কি কারনে ক্ষমতা হস্তান্তরে একটা গভীর সংকট ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল বলে আপনি মনে করেন? আপনার মনের কথা বা ধারণাটাই মন্তব্যে দিন। সেগুলো যোগ করলে হয়তো প্রথম পর্বের কাজটা শেষ হয়ে যাবে।)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28723906 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28723906 2007-08-02 16:41:36
সামহোয়ার ইন ব্লগ বা বাংলাদেশঃ কী হবে উজ্জ্বল উদ্ধার? লেখালেখির ক্ষেত্রেও তা সমান সত্য।

যদিও ভার্চুয়াল তবুও সামহোয়ার ইনে আমাদের সমাজের পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছায়া পড়েছে। সামহোয়ার ইন ডুবে আছে ক্লেদ ও আবর্জনায়।

যারা কান্ডারি তাদেরই দায়িত্ব ছিল সুন্দর শুরুটাকে অব্যাহত রাখা। আরিল, হাসিনকে আমি অফিসে গিয়ে একমাত্র যে অনুরোধটি করেছি তা হলো, দয়া করে একজন ফুলটাইম প্রোগ্রামার দিন যে শুধু সামহোয়ার ইন ব্লগের দায়িত্বে থাকবে, দরকার হলে তার বেতনের অর্থটুকু আমরা ব্লগাররা কন্ট্রিবিউট করবো। আরিল এর আগের দফায় যে পোস্ট দিয়েছিলন তাতেও আমি একই কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলাম।

আমাদের প্রিয় ব্লগটির অবস্থা এখন আমাদের প্রিয় দেশটির মতো। এখন সমস্যায় পড়ে রাজনীতিবিদরা সংস্কার সংস্কার করে বাতাস ভারী করছেন। সামহোয়ার ইনে সে আওয়াজটাও এখনও উঠেনি। সুতরাং আমাদের আশা পূর্ণ হওয়ার এখনও অনেক বাকী।

সামহোয়ার ইন নিয়ে আমার অনেক ভালবাসা ও আশার মূলে কর্তৃপক্ষ কুঠারাঘাত করেছেন অনেক অনেক আগেই। তখনই অনুমান করতে পেরেছি তারা সৃজনশীল লেখকদের টানতে পারবেন না এবং এখানে যারা আছেন তাদেরকেও আস্থায় নিতে পারবেন না। অনেকের হয়তো মনে আছে আমি আমার বন্ধু মাসুদা ভাট্টিকে এখানে এনেছিলাম। তার লেখা উপন্যাস কর্তৃপক্ষ মুছে দিয়েছিলেন বিনা দ্বিধায়। সেই উপন্যাস 'আগামী প্রকাশনী' গত বইমেলায় বের করেছে। সেই বই নিয়ে বাংলাদেশে কোনোরকম শোরগোল হয়নি। সুতরাং আগামী প্রকাশনীর ওসমান গণি যে আরিল এন্ড গং-এর চেয়ে লেখালেখি, লেখকের স্বাধীনতা ও পাঠকের মনন বেশি বুঝেন তাতে চক্ষুস্মান কারো সন্দেহ থাকার কথা না। (একথা বলে আমি একটা পোস্টও দিয়েছিলাম।)

সুতরাং যারা সিরিয়াসলি লেখালেখি করেন, অন্তত: প্রবাসেও তারাও যে এই সাইটটিকে আস্থার সাথে গ্রহণ করতে পারছেন না এই সমস্যাটি কর্তৃপক্ষ তাদের যোগ্যতা দিয়ে দূর করতে পারেন নি। কর্তৃপক্ষ টেকনিক্যালি অনেক ভালো একটা লেখালেখি বা ব্লগিং-এর জায়গা করে দিয়েছিলেন কিন্তু সৃজনশীলতা সম্পর্কে তাদের ধারণার ঘাটতিটুকু তারা বিশেষজ্ঞ লোক দিয়ে পূরণ করেননি। তাদের এই চেষ্টার অভাব আমাদের জন্যই কাল হয়েছে।

এখানে মিলিত হওয়ার পর অনেকে ইয়াহুতে গ্রুপ খুলেছেন, নেটওয়ার্কও তৈরি হয়েছে নানা রকম, বইমেলাতে অনেকের লেখা নিয়ে বই প্রকাশও হয়েছে সম্মিলিতভাবে, প্যাঁচালি নামে একটা সাইট তৈরি হয়েছে কিন্তু নানা কারণে সচলায়তনের তৈরি হওয়াটা সবচে বেশি সাড়া জাগিয়েছে।

এই সাড়া জাগানোর কারণ সম্ভবত: সচলায়তনের ব্লগারদের তালিকা, যারা সামহোয়ার ইন ব্লগে লিখতেন এবং তূলনামূলকভাবে ভালোই লিখতেন। একটা কথা বোধসম্পন্নরা মানবেন এসব ব্লগাররা এতটা বিবেকবোধ বর্জিত নন যে এই সাইটের ক্ষতি করতে তারা ষড়যন্ত্র করবেন। বরং এ ধারণাটারই সত্যতা বেশি যে তারা নিভৃতে লেখালেখির জন্য আরো ঘনিষ্ঠ একটা আড্ডায় বসতে চেয়েছেন। সেখানে তারা যে লেখাগুলো লেখেন তা তাদের অনেকেই সামহোয়ারেও রেখে যান। কারণ সামহোয়ারের প্রতি তাদের ভালবাসার কোনো কমতি নেই। ঝরাপাতার সাম্প্রতিক পোস্টটার কথাও এ প্রেক্ষাপটে স্মরণ করা যায়।

একথা বললে খুব একটা আশ্চর্যজনক শোনাবে না যে, আমরা সবাই চাই, সামহোয়ার সচল হোক। অথবা একে আরো বেশি সত্যের কাছাকাছি এনে বলতে হলে বলতে হবে, আমরা চাই সামহোয়ার ফিরে পাক তার শুরুর সময়কার ছন্দ।

এ অনেকটা বাংলাদেশের ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার মত আকাঙ্খা। স্বপ্নের শুরুতে ফিরে যাওয়ার প্রার্থনা।
ভুলগুলো উপড়ানোর দায় এড়িয়ে অন্যের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দোষ খুঁজলে নিজে আমরা যে তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরেই থেকে যাবো। এ থেকে আমাদের উদ্ধার হবে না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718723 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718723 2007-07-01 06:58:27
সচলায়তনঃ কারো কষ্ট কারো নতুন লড়াই
কৌশিকের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে চাই যে সচলায়তনের উদ্যোক্তারা এখনও সবার লেখার জন্য সাইটটি উন্মুক্ত করেননি। তবে পড়তে পারবেন সবাই। ভালো লেখা দিয়ে যাতে সাইটটির মূল চারিত্র তৈরি হয় ও তা বজায় থাকে সেজন্য উদ্যোক্তারা খুব সাবধানী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সুতরাং তারা ধীরে ধীরে এগুচ্ছেন। এজন্য হয়তো মনে হচ্ছে রেস্ট্রিকটেড, তবে তা সাময়িক ব্যবস্থা। ফালতু, দৃষ্টি আকর্ষণকারী পোস্ট বন্ধ করতে সচলায়তনে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা ভালো লেখালেখির জন্য দরকারি বলেই মনে করি।

সন্ধ্যাবাতি, সচলায়তনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট তাদেরকে আপনি ষড়যন্ত্রের যে দোষারোপ করলেন তা কিছুটা আমার ঘাড়ে পড়ে বলেও জবাব দিচ্ছি। মানবেন নিশ্চয়ই সামহোয়ারে আমি প্রচুর লিখি এবং এখনও তালিকার উপরের দিকেই আমার নাম। সুতরাং সামহোয়ারের প্রতি আমার ভালবাসা আপনার মতই। অরূপ, মাহবুব মুর্শেদ, ভাস্কর, রাগইমন তাদের ভালবাসাও কম এমন মনে হয়নি কখনও। কীভাবে সামহোয়ার ইনকে আরো ভালো একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা যায় সে নিয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে অনেক মিটিং-সিটিংও করেছি। এ সবকিছুর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল লেখালেখির একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যেখানে ভালো লেখা পড়া যাবে ও লেখা যাবে। কী কারণে আজ সামহোয়ারের পরিবেশ ঠিক তার বিপরীত তার কারণ-অনুসন্ধান করতে গেলে গবেষণার প্রয়োজন।

আড্ডাবাজ, শুভ, রাসেল, অমি রহমান পিয়াল, সুমন চৌধুরী, হিমু, তীরন্দাজ, কনফুসিয়াস, উৎস, ধুসর গোধূলি, হাসান, রাগিব, হাসিব, মুখফোড়, হাসান মোরশেদ, অপ বাক, দীক্ষক দ্রাবিড়, শমিত, আরিফ জেবতিক, হযবরল, হাসিব, মাশীদ, নজমুল আলবাব, প্রজাপতি, অমিত আহমেদ, মুহাম্মদ জুবায়ের, ঝরাপাতা, আনোয়ার সাদাত শিমুল, মাসকাওয়াথ আহসান, যূথচারী, সৌরভ, সুমেরু, দ্রোহী, অলৌকিক হাসান বা আরো অন্যান্য যেসব ব্লগাররা (দু:খিত চট করে যাদের নাম মনে পড়ছে না) সচলায়তনের মত লেখার প্ল্যাটফর্ম পেয়ে বা তৈরি করে উৎফুল্ল তারা যত বেশি লেখার জায়গা থাকবে ততো খুশিই হবেন। অখুশি হবেন না। এদের অনেকেরই আগে থেকেই লেখার অভ্যাস ছিল বা অন্য ব্লগসাইটে লিখতেন। সচলায়তন মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রাজনৈতিক প্রচারণাকে অপছন্দ করে। এই মূলনীতিতে আপত্তি না থাকলে সন্ধ্যাবাতিও আবেদন করতে পারেন সদস্য হওয়ার জন্য। কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিবেচনা করবেন। তবে আস্তমেয়ের বিষয়ে তারা আগ্রহ দেখাবেন না বলেই মনে করি।

সচলায়তন যে সামহোয়ারের বিকল্প ফোরাম ভেবে তৈরি করা হয়নি তা সচলায়তনের ওয়েবসাইটের জন্মতারিখ দেখলেই বুঝবেন। এই উদ্যোগ অনেক আগের।

সামহোয়ার ছেড়ে চলে আমরা সচলায়তনে গেছি এমন আমরা অনেকেই মনে করি না। (যারা ঘোষণা দিয়ে সামহোয়ার ছেড়েছেন তাদের কারণ হয়তো ভিন্ন)। বরং মনে করি যেরকম পরিবেশ লেখালেখি বা ব্লগিং-এর জন্য দরকার তা যাতে পাই সেজন্য আমরা সচলায়তন তৈরি করেছি। সামহোয়ারে যথাযথ লেখার পরিবেশ আমরাই গড়েছিলাম। বিচিত্র বিষয়ে আমরাই লিখছিলাম, মন্তব্য করছিলাম, লেখার অনুপ্রেরণা দিচ্ছিলাম ও পেয়েছিলাম নিজেদের কাছ থেকেই। এখন সামহোয়ারে পরিবেশ সৃজনশীল লেখার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। কিন্তু সচলের অনেকেই তাদের লেখা সামহোয়ারে রেখে আসেন পাঠকের জন্য। আমিও রাখি। (বলা ভালো, দীর্ঘদিন ব্লগিং করার উৎসাহ পাইনি সামহোয়ারের পরিবেশের কারণে। আবার এখন সচলায়তনের পরিবেশের জন্য নতুন করে প্রেরণা পাচ্ছি।)
কিন্তু সচলায়তনের পরিবেশের কারণে তৈরি লেখা সামহোয়ারে রাখলেও তেমন এদকি-ওদিক হয় বলে মনে হচ্ছে না। আমার এসব লেখা এখন আর সামহোয়ারের মূলধারায় পড়ে না, কষ্টটা ব্লগার হিসেবে আমারই বেশি। আমাদেরই বেশি।

মন খুলে ফুল বা হুল ফোটান সামহোয়ারে আপত্তি করি না, তবে ভালো লেখার জন্য আসুন সচলায়তনে। সাদর আমন্ত্রণ।

ঠিকানা: সচলায়তন. কম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718307 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718307 2007-06-28 18:14:49
না-এর নানাত্ব নিয়ে নানার্থক নাড়া
আ- বা হ্যা, এসবের চেয়ে ‘না’ কম জরুরি এমন ভাবনাটা মাথা থেকে নামিয়ে দিন। বিশ্বভ্রমণে বেরুচ্ছে এরকম এক কুমারী মেয়েকে বিদায় জানাতে এসে না-হক নারাজ হয়ে পড়লেন পাড়ার বয়স্কা মহিলারা। নিজের নাক কেটে অন্যের নাচ ভঙ্গের মত ঘটনা। নিকা না হওয়া নাবালিকা নাম-না-জানা দেশে যাবে নাগর ছাড়া? মেয়ের মাকে তারা নানা কায়দায় নাস্তানাবুদ করলেন। কিন্তু নানা নালিশেও নাকাল হন না মেয়ের মা। নিশ্চিন্ত করতে তিনি জানালেন, মেয়েকে নানান ভাষায় 'না' বলা শিখিয়ে দিয়েছেন তার নানা। 'না'-এর বর্ণনা শুনে বয়স্কারা নাকি কান্না থামালেন। ভাবলেন, না, 'না' বলতে পারলে কোনো মুশকিলই নাগাল পাবে না। বিনা ঝঞ্চাটে দুনিয়া ঘুরতে ঝামেলা হবে না।

নারীজাতিরই 'না' শব্দের ওপর আস্থা বেশি, কোনো নাদান এই তত্ত্ব দিলে আমি নাকচ করতে পারবো না। তবে নারীর ‘না’-এর নেপথ্যে হ্যাঁ লুকিয়ে আছে এমন না-হক কথা আমি মানতে নারাজ। আইনি মানা আছে। না-কে হ্যা মনে হয়েছিল বলে আদালতে বেঁচে যেতে চায় অনেক নাছোড়বান্দা, যারা নিজেকে নায়ক ভেবে নির্জনে চেপে ধরে নাজুক নারীকে। পশ্চিমা বিশ্বে তাই নারীর 'না' যে আসলেই 'না' তা বুঝাতে চলে নানা রকম প্রচারণা।“রিড মাই লিপ্স, নো মিন্স নো”। অর্থাৎ ঠোঁটে যদি '‌‌না' বলে নারী তবে সেটা না-ই, মনে মনে 'না' এর নেপথ্যে 'হ্যাঁ' নুকানো ভেবে নারীকে নাজেহাল করবেন না। নতুবা হাজতের হাঙামায় হান্দায়া যাবেন।

নারীর না বলাটা পুরুষকে বুঝাতে গিয়েই লাখটাকার ব্যবসা চালু। যদিও এসব চালায় না-নাফা* বা নন-জিও প্রতিষ্ঠানরা। এখন বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো নাটিকা করে নানা বিষয়ে 'না' বলতে শেখায়। এইডসকে 'না' বলুন, মাদককে 'না' বলুন, ধূমপানকে 'না' বলুন, সন্ত্রাসকে 'না' বলুন। নাগরিককে 'না' শেখাতেই নানা প্রতিষ্ঠান এই বিপুল টাকা নামিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনে নাকি এখন যোগ দিচ্ছে 'না' ভোট (এ অবশ্য সামরিক শাসকদের হ্যা-না ভোট না। সেক্ষেত্রে না-এর বাক্সে ভোট দেয়াই মানা)। না-ভোটে সিল মেরে এক ভোটেই সব প্রার্থীকে 'না' বলে দেবে ভোটাররা। ভোট দিলে জিতবে একজন। আর 'না' দিলে নামবে সবাই। বুঝেন, 'না' এর নাশকতাময় শক্তি। 'না'-এর ভূমিকা তাই মোটেই নামমাত্র না।

নাড়িটেপে ডাক্তার না বলে দিলে কিন্তু জীবনটাই নাকচ হয়ে যাবে। সুতরাং না-য়ের নাকানাচুবানিতে নাকাল হবার আগে মেনে নেয়া ভালো 'না' খুব খারাপ না। না-এর পরে 'না' যোগ করলে তা সংখ্যায় বাড়ে, 'নানা' হয় 'নানান' হয়। ('না' না বলে লোকের কথায় হু হা চালিয়ে গেলে লোকে ভাববে আপনি আদতে রাজি না। নাটক করছেন।) নানাত্ব মানে ডাইভার্সিটি। আর নানার্থক সমবায় সমিতি বলতে কিন্তু মালটি-পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি বুঝায়।

যাক নানাপ্রকারে না-এর নামগান করে যে ন্যায্য কথাটা বলতে চাইলাম, তা হলো না শুনলেই নাদা মনে করবেন না। না-এর স্থান যত বলেছি তারও উদ্র্ধে। ‘না’ পাবেন ধর্মশ্লোকে। যে শ্লোক পাঠ করে মানুষ ধর্ম গ্রহণ করে। যে শ্লোক পাঠ করায়ে না-নামাজিরে নাদান-মাসুম করে নামানো হয় কবরে। সব এই না-এর ঘোষণা দিয়েই। আল্লাহ স্বয়ং মানুষকে শেখান এই না-এর ঘোষণা। প্রথমেই বলো 'না'। অস্বীকার করো। বলো কোনো ঈশ্বর নাই। শুধু সে ছাড়া। লা ইলাহা...মানে আল্লাহ নাই (আরবের লোকজন নাদান বাচ্চার মত আদুরে গলায় না বলে। শক্ত করে না বলতে পারে না, বলে লা। তাই কি বুঝতে এত ঝামেলা? লা এর জায়গায় না বললে কত সহজ হতো!)

এই যে 'না' বা লা-ইলাহা এইখানেই রয়েছে না-এর আসল নাড়া*।
অন্য নায়কদেরকে না বলতে না পারলে নিজেই (খত)না (খলনায়ক) হয়ে যাবেন।

*(এখানে নাড়া মানে হচ্ছে পাঠ। শাস্ত্র নাড়া মানে শাস্ত্র পাঠ।)
*নাফা মানে লাভ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718290 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28718290 2007-06-28 16:27:33
একদিনের লন্ডন
প্রবাস হলেও, যে জায়গায় আমরা দীর্ঘদিন থাকি, সেখানকার সবকিছু খুঁটিয়ে দেখা হয় না।যেমন করে পর্যটকরা দেখে। ইং, সুরভির চাইনিজ বন্ধু, ইউএসএ থেকে বেড়াতে এসেছিলো বলে লন্ডনের বিশেষ কিছু জায়গায় আবার ঘুরলাম। খেয়াল করলাম লন্ডন শহরটায় ঘুরতে একঘেঁয়ে লাগে না।বৈচিত্র এর অলি-গলি আর দালানে দালানে। তবে ওরা যখন থিয়েটার দেখতে ঢুকলো, আমি গেলাম না। মন হাতড়ে হাউন্ড অব দ্যা বাস্কারভিলস্ দেখার কোনো যুক্তি খুঁজে পেলাম না।

ঘন্টা দুই বরং আমি সমারসেট হাউসের পানির ধারার সামনে বসে কাটিয়ে দিলাম। হাতে একটা বই ছিলো। কিন্তু তিন চার পাতার বেশি পড়িনি।ডাচেস থিয়েটার থেকে সমারসেট হাউসে আসার পথে পড়ে ইন্ডিয়া হাউস। নেহরুর মূর্তি আছে ওখানে। তার পাশে অনেক আগে এক রাতে জিম মরিসনের নামে একটা ফলক দেখেছিলাম। আজকে আবার খুঁজতে গিয়ে ভুল ভাঙলো। সেই ফলক নেই, বরং সমাধির মতো করে এপিটাফ দাঁড় করানো। মেট্রোপলিটান পুলিশের ডি.সি. জিম মরিসনের জন্য। পপ শিল্পী জিম মরিসন ভেবেছিলাম আমি প্রথমবার। দেখাকেও আবার দেখতে হয়, প্রথম বারের দেখায় ভুল থাকতে পারে।

সমারসেট হাউসের সামনেটায় বিরাট জায়গা জুড়ে আঙ্গিনা ফুঁড়ে পানির ধারা বের হয়। বিশেষ ওয়াটার ফাউন্টেন, সময়ের সাথে পানির ধারাগুলো নাচানাচিও করে মাঝে মধ্যে।অনেকগুলো বাচ্চা পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি করছিলো। বই পড়া বাদ দিয়ে তাই দেখলাম অনেকক্ষণ। সব চেতনাকে সমূলে নাড়া দিতে পারে ক্ষুধা। কলা, সমাজবিজ্ঞানের উপরেই আমি রাখি জীববিজ্ঞানকে। সমারসেট হাউসের চায়ের দোকানের মাখনভাজা ফ্ল্যাপ-জ্যাক দিয়ে আপাত: চাপা দিলাম।কিন্তু তারপর আবিষ্কার করলাম একটা চমত্কার সিঁড়ি।কিংস কলেজের লাগোয়া সমারসেট হাউস। কতো এসেছি। কিন্তু কখনও দেখা হয়নি।আমাদের আশ-পাশের কতকিছু আমাদের দৃষ্টি কাড়তে পারে না। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ক্যামেরার চেয়েও দামি চোখটাকেও আমরা কত কম কাজে লাগাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28717682 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28717682 2007-06-25 16:57:15
ফুটবলের সেরা গোলটা আবার





গোলটা যে ফ্লুক ছিলো না তার প্রমাণ ইন্টারভিউতে আন্দ্রে আবার একই ভঙ্গিতে গোল করে দেখালো



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711161 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711161 2007-05-18 00:03:19
বোর্নমাউথের কাছিমটা যার যার পছন্দের ভিডিও তুলে দেয়।
ইউটিউবে একাউন্ট খুলছিলাম, সেই কবে। অরূপ কামাল যখন একটা পাখির ভিডিও ব্লগে দিছিলো সেইটা দেইখা।
ভিডিও একটা আপলোডও করছিলাম।
বোর্নমাউথ বেড়াইতে গিয়া যে ওশেনারিয়াম দেখছিলাম তার একটা ভিডিও। এখন সুযোগ পাইয়া সেইটা আপলোড কইরা দেখি। কেমন দেখা যায়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711152 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711152 2007-05-17 23:39:11
হাসিনকে ধন্যবাদ দিয়ে লম্বা করতে চাই না তা অনেককিছুই হচ্ছে সামহোয়ারে। কিন্তু মূল কাজগুলোই ঠিকঠাক মত করা যাচ্ছে না।
মূল কাজ মানে নির্বিঘ্নে লেখা পোস্ট করা।

এই ইউনিজয় না কি যেন সিস্টেমে খন্ড-ত বা ত এর যুক্তাক্ষরগুলো আসে না।

ওয়ার্ডের মত সহজ করে আমরা বোল্ড, ইটালিক ইত্যাদি ফরম্যাটিং করতে পারি না।

লিংকটা সহজে দেয়া যায় না। হাসিব ও অন্যান্যরা আমাকে ঘন্টাখানেক ধরে জটিল একটা পদ্ধতি শিখাতে চেয়েছে, তাদের ধন্যবাদ। আমি শিখতে পারিনি।

এখন দেখা যাচ্ছে হাসিন ইউটিউব বা ভিডিও যোগ করছে, কিন্তু ফিচারটা কোথায়, কীভাবে যোগ হবে?

এইসব সাধারণ বিষয়গুলো সমাধান না হওয়ায় আগের মত করে ব্লগিং করতে পারছি না। সমাধানগুলো বাতলে দিলে ভালো হয় না?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711099 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28711099 2007-05-17 21:17:52
ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল? পায়ের অদ্ভুত কারুকাজে আন্দ্রে যে গোল করেছেন তা মনে হতেই পারে ফ্লুক। কিন্তু ভিডিওটি পুরো দেখলে বুঝবেন যে এটা তার অনেক চর্চার ফসল। এরকম করে আর কেউ গোল করতে পারবেন কিনা সন্দেহ। তবে এই গোলটি না দেখলে ফুটবলের এই যাদুকরের যাদু সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাবেন আপনি।
দেখুন আর আমাকে ধন্যবাদ দিন।
এই যে ভিডিওটির লিংক, অথবা ইউটিউবে বেস্ট গোল এভার লিখে সার্চ দিন।

[wjsK=http://www.metro.co.uk/sport/oddballs/article.html?in_article_id=48635&in_page_id=46]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710487 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710487 2007-05-14 05:44:21
ডিসকোর্স শব্দটির কি কোনো বাংলা পরিভাষা আছে?
পরিভাষার বিষয়ে আমরা, মানে বাঙাল সমাজ, খুবই মৌলবাদী। পুরনো শব্দ নতুন অর্থে ব্যবহার করতে গেলে অনেকে তেড়ে আসেন। তাই এই সাবধানতামূলক পোস্ট।

ডিসকোর্স এবং ডিসকোর্স এ্যানালাইসিস ভাষাতাত্ত্বিকরাই ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন টেক্সট এ্যানালাইসিসের কৌশল হিসেবে। এখন সমাজবিজ্ঞানীরা হরদম ব্যবহার করছেন। আমি একে টেনেটুনে নীতি বিশ্লেষণে ব্যবহারের চেষ্টা করেছি। আমি বলছি না, আমিই প্রথম, তবে আমার মত বেপথু কমই আছেন।

এখন সেই কথাগুলোই বাংলায় বলতে চাই, কিন্তু বাংলা শব্দ ব্যবহারের পক্ষে আমি। বারবার ডিসকোর্স লেখতে নারাজ। এর অর্থ হিসেবে চিন্তাধারা শব্দটা ব্যবহার করতে চাই। ধ্যানধারণাও হতে পারে। আর শব্দ যদি বানাতে হয় তবে ভাবনাধারাও বলা যায়।
আপনাদের কোনো আপত্তি? অথবা মতামত? ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710031 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710031 2007-05-10 20:52:01
"হ্যান্ড অন মাই হার্ট, আই ডিড হোয়াট আই থট ওয়াজ রাইট"
সবচে' আবেগঘন যে বাক্যটা ছিল, যার পর সবচে' তালি পড়েছে এবং টনি ব্লেয়ার থেমে ছিলেন অনেকক্ষণ তালি থামার জন্য সেটি হলো, Hand on my heart, I did what I thought was right.

নেতৃত্বের গুণাবলী টনি'র ছিল অসাধারণ। দশ বছর পর যখন তিনি আজ যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন তখনও অনেক মানুষ চাচ্ছে না টনি এখনই বিদায় নেন।

টনি বললেন, দেশের স্বার্থ ছিল আমার কাছে সবচে' বড়। সুতরাং আমি তাই করেছি যা আমাদের দেশের জন্য করা উচিত ছিল। এবং এখানে টনি কসোভো, আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপের দায়-দায়িত্ব স্বীকার করলেন স্পষ্ট করে।

বললেন, আমি হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারি, কিন্তু দেশের দিকে চেয়ে ঐটাই আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে।

নেতাদের কাজ হচ্ছে জাতির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত দেয়া। টনি উল্লেখ করেন যে, সন্দেহ, ইতস্তত: করা, বিবেচনা, পুনর্বিবেচনা এগুলো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কাজে দেয়, কিন্তু নেতা হিসেবে যে কাজটি করতে হয়, তা হলো সিদ্ধান্ত দেয়া।

টনি ব্লেয়ার আগামী ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন, কিন্তু তার নেতৃত্ব অনেকদিন মনে রাখবে ব্রিটেন, অন্তত: লেবার দল। টনিই একমাত্র লেবার নেতা যার নেতৃত্বে তিনটি সাধারণ নির্বাচন জিতেছে লেবার দল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710004 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28710004 2007-05-10 18:17:31
স্খলিত আপেলের জন্য আশংকা-২
ঘরে পৌঁছে বিয়ারের ক্যান খুলে রকিং চেয়ারে আধশোয়া ঝুলে পড়ে আজাদের আবার মনে পড়ে আজ শনিবার, একমাস আগেও এই দিনটির ভিন্ন এক মানে ছিল তার জীবনে। দু‘জনের সপ্তাহের ইঁদুর দৌড়ের পাঁচটি দিনের পর শনিবার তাদের একান্ত গোপন রুটিনে তারাচিহ্ন দেয়া বার ছিলো শারীরিক উত্সবে মাতবার যখন দুজনের মোবাইল বন্ধ থাকতো আর ল্যান্ড লাইনের ফোনের শব্দটাকে তারা ধরে নিতো পাশের বাসার নষ্ট হয়ে যাওয়া কলিংবেল। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই কিনা আজ আজাদের মনে হয় শরীরের মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের তাদের এই চিরচেনা সাপ্তাহিক খেলাটি আসলে ততোটা শরীর-উদ্র্ধ হয়ে উঠেনি কখনও বরং সপ্তাহ ভরে জমে ওঠা শরীর-মনের ক্লেদেরই এক যজ্ঞ ছিলো। নতুবা চার বছরতো একাত্ম হওয়ার জন্য স্বল্প সময় নয় তবু কেন অকস্মাত্ এই তাবত্ রোমকূপের শিহরণ ওঠা ভালবাসা তাজা থাকতেও নুপুর কর্পোরেট আলোচনার সহজ ভঙ্গিমায় বলে ফেলতে পারলো, আসি। যেন খোলস খুলে চলে যাচ্ছে সাপ নতুন ঋতুর ডাকে তেমনি অতীতটা অতি বিশিষ্ট আবর্জনার মত করে গোলাপী রিসাইক্লিং-এর ব্যাগে ভরে বাসার গেটের বাইরে মিউনিসিপ্যালিটির গাড়ির জন্য জমা রেখে ভিন্ন রাস্তার দিকে বাঁক নিয়ে চলে গেছে নুপুর। এই শনিবার সকালবেলা আজাদের মত দেহজ উত্সবের অতীত স্মৃতি তারও মনে পড়ছে কিনা সেকথা আজাদের জানবার কোনো উপায় নেই তবে গত সপ্তাহেই আজাদ স্বপ্নঘোরে ওহি পাওয়ার মত এই অদ্ভুত পদ্ধতিটি পেয়ে যায়, শনিবার সকালবেলা-নুপুর ও তার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে একটা পরাবাস্তব রূপ দেয়ার।

গতসপ্তাহের মতই ছুটির দিনের পত্রিকাটির পাতাগুলো উল্টাতে থাকে আজাদ আজ আবার যদি অন্য কোনো ক্লিনিকের ঠিকানা মেলে এবং সেইসাথে আরো একটি শনিবার সকালে নতুন এক সম্প্রদানের সুযোগ তৈরি হয় আজাদের এই আশায়। পৃথিবীর স্বাভাবিক প্রকৃতিতে কোথাও একটা বড় গন্ডগোল ঘটেছে এমন ভাবনাকে খুব বেশি ধর্মচিন্তা থেকে উদ্ভূত পাপী-মনের মানুষের আত্ম-বিশ্বসের অভাববোধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভাবলেও আজাদের মনেও এখন সন্দেহ দোলা দিতে থাকে যে সেরকমই দিকেই বোধহয় এগুচ্ছে ভূ-গোলক। প্রায় বিনাচেষ্টাতেই ক্লাসিফায়েড সেকশনের শুরুতেই পেয়ে যায় এরকম আরো কয়েকটি ক্লিনিকের ঠিকানা এবং বেছে বেছে শহরের অন্যপ্রান্তের একটি ক্লিনিক ঠিক করে বিজ্ঞাপনটা পড়তে শুরু করে সে:

Bright, healthy, active men needed for a serious purpose of helping infertile couples. Generous expenses paid per sample of sperm donated.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28709540 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28709540 2007-05-07 23:57:10
স্খলিত আপেলের জন্য আশংকা
জানালার কাছ থেকে টেস্টটিউবটা দ্রুত সরিয়ে কোথাও আঁচড় পড়লো কিনা পরীক্ষা করতে করতে আজাদ নিজের সাথে কথা বলে, যতই সময় হাতে থাকুক, এখন প্রকৃতি দেখার সময় নয়, আজাদ। নারী কি প্রকৃতি এবং প্রিয় নারীর কথা মনে ভাবাও কি প্রকৃতি দেখার মত কাজ এরকম একটা এঁড়ে তর্কের বিষয় আজাদের মনে গুঞ্জন তোলে কিন্তু রেস্টরুমের দরজা খুলতেই বিস্ময় ও অজানা এক ভয়ের মিশ্রিত অনুভূতিতে সামনের মূর্ত বাস্তবই তার সব মনোযোগ কেড়ে নেয়। খুব বেশি বড় না হলেও সোফা, কার্পেট, রকিং চেয়ার, বইয়ের শেলফ, টবে বুনো গাছ সব দিয়ে এমন সাজানো একটা রুম হানিমুন স্যুট হতে পারে, রেস্টরুম হতে যাবে কেন? আজ এইসময় বোধহয় আজাদ ছাড়া কারো এখানে থাকার কথা না তাই একরকম একান্ত নীরবতার ঢেউ টের পায় আজাদ চারপাশে আর তখন তার চোখ পড়ে আরো দুটি দরজার দিকে। ভুল জায়গায় আসেনি এই সন্তুষ্টিতে সে একটা দরজা খুলে পা রাখে ভেতরে।

আধঘন্টা ধরে বসে আছে আজাদ ছোট্ট ঘরটিতে কিন্তু নুপুরের কোনও স্মৃতি এই সময়টায় তার কাজে আসে না। অনেক জান্তব উদ্দাম সময় কেটেছে তাদের এবং নুপুরও জীবন-যৌবন নিংড়ে সবটুকু সুখ চুমুক দিয়ে পান করা নারী তবু এই জরুরি মুহুর্তে নুপুরের চলে যাওয়ার দু:খমাখা আলো-আঁধারি সন্ধ্যায় একা বসে থাকা শূন্য বেডরুমটার দৃশ্য মন থেকে তাড়াতে পারে না আজাদ। প্লে-বয় ম্যাগাজিনটা নিয়ে আসার সুযোগটা নিলে কতটা সুবিধা হতো তার একটা যাচাই মনে মনে আজাদ করে তখন এও তার মনে হয় নার্সটাকে ভালো করে খেয়াল করা হলো না নতুবা তাও হয়তো কাজে লাগতো। সময়ের মাপটা কখনই আজাদ ভালো বুঝে না সেকারণে হতে পারে অথবা অনেক দীর্ঘ সময় সে নিচ্ছে এ কারণে তার রেস্টরুমের দরোজায় টোকা দেয় কেউ এবং আজাদ কিছু বুঝার আগে নার্সের কণ্ঠ শুনতে পায় সে, `আর ইউ ওকে, মি: হাসান`?“ প্রশ্নের উত্তরটা খুব সহজ এরকমই মনে হয় আজাদের কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তার হাতের শূন্য টেস্টটিউবের দিকে তাকিয়ে উত্তরটা ঠিক করতে পারে না আজাদ ফলে নার্সের পরবর্তী টোকায় অধৈর্য ভাব ধরা পড়ে। নার্সটার গলা অবশ্য আরেকটু নরোম ও আন্তরিক মনে হয়, `ইজ এভরিথিং অলরাইট ডিয়ার`। সবকিছু কি করে ঠিকঠাক থাকে এমন মন্ত্র আজাদ জানে না এবং জানা থাকলে আজ এখানে তাকে বসে থাকতে হয় না কিন্তু এই মুহুর্তে প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা জরুরি মনে হয় তার কাছে নতুবা তার সন্দেহ হতে থাকে নার্সটা চেঁচামেচি করে লোক ডেকে একটা কান্ড ঘটাবে অথবা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। সে সম্ভাবনার কথা কল্পনা করে বিব্রতই হয় আজাদ তবে তা যতটা তার স্বল্পবসন অবস্থার জন্য তার চেয়ে বেশি তার এখনও শূন্য টেস্টটিউবটার বাস্তবতায়। দরোজায় এবারে নার্সটা আর টোকা দেয় না বরং ধাক্কাই বলা যায় তার প্রতিক্রিয়াকে এবং এই পাশে ভাষাহীন মানুষের মত মনের ভেতর উত্তর গোছাতে গোছাতে দরোজার কাছাকাছি এসে দাঁড়ায় আজাদ ।

ছবিঃ আর্ল জোনস্। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28708785 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28708785 2007-05-02 23:43:44
টইটুম্বুরঃ ৭টি রসরচনার রেট্রোসপেক্টিভ
তা কার্নিভাল হোক, শো-কেসিং হোক, আর রেট্রোস্পেকটিভ-ই হোক, যখন নতুন কোনো লেখা লিখছি না তখন পুরনো লেখাগুলো নতুন করে বিশেষভাবে নতুন ব্লগারদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ হারাই কেন।

সাদিক আলম এসব বলার অনেক আগেই একটা ই-বুক করার জন্য বেশ কিছু লেখা বাছাই করে রেখেছিলাম। তার একটা ভাগ টইটুম্বুর নামে পিডিএফ করে এখানে দিতে চাই, অফ লাইনে পড়ার সুবিধার জন্য। সেখানে মূল লেখাসহ মন্তব্যগুলোও সম্পাদনা করা হয়েছে। তবে যারা পিডিএফ ডাউনলোডের ঝামেলায় যেতে চান না, তারা যাতে অনলাইনে পড়তে চান তাদের জন্য লিংক তুলে দিচ্ছি।

কপিরাইটের কথাটা আশা করি সবাই মাথায় রাখবেন। আর যদি কোনো প্রকাশক আগ্রহী হোন, তবে জায়গায় বসে আওয়াজ দেবেন।

টইটুম্বুর : (পিডিএফ)
[wjsK=]http://www.box.net/shared/4j7dn0bbmz

অনলাইনে পড়ার জন্য লিংকঃ

১. গোসলখানা গায়ক বনাম প্রকৃতিবাদ [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/12470]

২. সুধা কেনা ও পানি বেচা [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/13090]

৩. ভাই-বোনের সম্পর্ক [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/17910]

৪. নামা শালাকে টেনে নামা [wjsK= Click This Link

৫. ভালবাসার সুযোগে ব্যবসা [wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/16908]

৬. একই অঙ্গে দুই জীবন
[wjsK=http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/15822]

৭.আল্লাহর কসম গেইটলক [wjsK= Click This Link


লিংকগুলো ঠিকঠাকমত হলো কিনা কে জানে। লিংক দিলে পৃষ্ঠার নীচে এসে যুক্ত হয়। পরে কাট-পেস্ট করে দিলাম।

লিংক না পিডিএফ কোনটা সুবিধার জানালে খুশি হবো। ব্লগের প্রথম দিককার লেখা ও মন্তব্য সম্পর্কেও আপনাদের মতামত অবশ্যই জানাবেন।

[wjsK=http://www.box.net/shared/4j7dn0bbmz]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28708614 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28708614 2007-05-01 18:21:47
প্রেসনোট প্রত্যাহার ও সরকারের পিছু হটা
সেনাবাহিনীর মার্চ-পাস্টের বুদ্ধিতে আর পাকিস্তান ফর্মুলা অনুসরণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কাজ করবে না এটা বুঝা উচিত। অন্য দেশের পদ্ধতি কপি করলে কিছু হয় না, এ কথা ফখরুদ্দিনেরই তো ভালো জানা থাকার কথা।
যারা নতুন পরিস্থিতিতে নতুন সমাধান দিতে পারে না, কপি করা ছাড়া, তারা কিসের উপদেষ্টা। বই দেখে, ধর্মগ্রন্থ দেখে উত্তর দিতে স্কুল-মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরাও পারে।

কিন্তু বিষয়টায় ঘাপলা লেগে যাওয়ায় সরকার এখন হাসিনা ও খালেদার বিরুদ্ধে মামলাও দিতে পারবে না। সাজানো মনে হবে।

পুরো বিষয়টায় হাসিনা ও খালেদার নৈতিক জয় হয়েছে।
আর ষড়যন্ত্রমূলক নতুন দল তৈরি করে ক্ষমতাদখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

(যেকোনো অশুভ উদ্যোগ পরাজিত হোক।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707937 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707937 2007-04-25 21:51:04
মন্তব্য-পোস্টঃ নারী ব্লগারদের প্রতি নেতিবাচক আচরণ নারী-পুরুষের সমানাধিকারের চেষ্টা ও নারীর প্রতি পুরুষের অবহেলা কমানোর বিশ্বব্যাপী উদ্যোগে এখন বেশ কিছু জটিলতা দেখা যাচ্ছে।
১. রাগইমন যেমন পরিষ্কার করেই বলেছে নারীত্ব লুকানোর বিষয় নয়। আমরা এটা স্বীকার করি, মানিও এটা অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। কিন্তু পৌরুষ বলে যে বিষয়গুলো আমরা চিনি সেগুলোকে লুকাতেই বলা হয় বর্তমান বিশ্বে। এমন ধারণাই বিশ্বে চালু আছে যে পৌরুষত্বের প্রকাশটা অভব্য, অশ্লীল। বিষয়টা ভারসম নয়।
২. নারীত্ব বা পুরুষত্বের প্রকাশ হয়তো প্রাকৃতিক। সেটা গ্রহণযোগ্য সবার কাছে। কিন্তু নারীত্ব বা পুরুষত্ব ফলানোটা অভব্য। সমস্যা এই ফলানোয়। অনেক নারী এই লিঙ্গ-পরিচয়কে বড় করে দেখাতে গিয়ে গুবলেট পাকান। নিজেকে মানুষ ভাবতে হবে আগে। পরে লিঙ্গ পরিচয়।
৩. কোনটা ফলানো আর কোনটা স্বাভাবিক প্রকাশ এটা বুঝতে পারাটা খুব কঠিন নয়। একটু সুক্ষ্ম চেষ্টা থাকতে হবে।
৪. বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন নর্ম তৈরি হয়; সেটাও একটা জটিলতা। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন মেয়েদের একরকম বলা যেতে পারে ছাড় দিতাম। সামাজিক বাস্তবতার কারণে। সেটি হলো, আমাদের মেয়ে-বন্ধুরা কথা বলার সময় ছেলেদেরকে গায়ে ধাক্কা দিত, বা হাত দিয়ে ছুঁয়ে কথা বলতো, কখনো কিল-ঘুষি দিত, কিন্তু আমরা ছেলেরা মেয়েদের সাথে সেটা করতাম না। অঘোষিত একটা প্রথা ছিল। সমাজে এমন ধারণা ছিল যে ছেলেদের হাত দেয়ার অন্য অর্থ হতে পারে। এসব হচ্ছে সুক্ষ্ম বিষয়। চোখ-কান খুলে দেখতে হবে।
৫. এই ব্লগে মেয়ে ব্লগারদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ধারণা আরিল সম্ভবত: রাগইমনের কাছ থেকে পেয়েছে। কিন্ত এই ব্লগে রাগইমন যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে তা মোটেও তার্ ব্লগিং বা নারী পরিচয়ের জন্য নয়।
অন্যান্য পুরুষ ব্লগারদের সাথে রাগইমনের ব্লগ বহির্ভূত সম্পর্কের জের এসেছে এই ব্লগে। দুই তার রাগইমন নিকের চরিত্র আর ব্যক্তি অনামিকার চরিত্রের ফারাক পাঠকরা অনেকসময় বুঝতে পারেননি আবার রাগইমন বুঝাতেও পারেননি। রাগইমন পরিষ্কার করে বলেছেন এটা একটা নিক আবার তিনি নিজেই অনামিকা হকের ফটোগ্রাফ দিয়েছেন পরিচিতি হিসেবে। সুতরাং রাগইমন তার নন-ভার্চুয়াল অস্তিত্ব ও তার সম্পর্কের জটিলতাকে ব্লগে পেয়ে গেছেন নেতিবাচক আক্রমণের শিকার হিসেবে। তার প্রতি আমার সমস্ত সমবেদনা। অন্যরা যথেষ্ঠ সমবেদনার সাথে তাকে দেখেননি, একধরণের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পেয়েছে তাদের আচরণে।
৬. একই সাথে সম্ভবত: এটা সত্য মেঘ, মাশীদ, প্রজাপতি, মৌসুম, আস্তমেয়ে (এই নিকের আড়ালে মেয়ে-পুরুষ বা একাধিক ব্যক্তি আছেন এই গুজব মেনে নিয়েও) এরা অন্যান্য ব্লগারদের মতই এখানে বিচরণ করতে পেরেছেন।
৭. শ্যাজাকে কেউ সম্ভবত: একবার নেট-পরকীয়ায় ডেকেছিলো। তা ছাড়া, মাসুদা ভাট্টি, আকিমুন রহমান, লুনা রুশদি নারী হিসেবে সমস্যায় পড়েছিলেন মনে হয়নি। নাসিমা নামে একজন নারী বিষয়ক লেখা লিখতেন, তাকেও কেউ লিঙ্গ-বৈষম্যমূলক কোনো আচরণ করেনি।
৮. তবে হ্যা মিথিলাকে তার মারা যাওয়ার জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছিলো। একে অবশ্য আমরা নারীর বিরুদ্ধে আচরণ হিসেবে দেখবো না কেউ। যদিও এরসাথে সারিয়া, মাশীদ ও রাগইমন রা জড়িয়ে গিয়েছিলো।

নাহ, নারীর বিরুদ্ধে এই সাইটের ব্লগারদের নেতিবাচক আচরণের কোনো উদাহরণ খুঁজে পেলাম না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707907 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707907 2007-04-25 16:36:44
বাংলাদেশের রাশি যেন কী?
তবে রাশিফল পড়াটা বিনোদন বটে। এখন ভিডিওতেও দেখা/শোনা যাচ্ছে। অনেকদিন পর রাশিফল শোনার আগ্রহ দেখা দিল বাংলাদেশের কথা ভেবে। মার্চ না ডিসেম্বর? বাংলাদেশের জন্মমাস কোনটা? রাশিটাই বা কী? দেশটার ভাগ্যফল একটু দেখার ইচ্ছা ছিল।

ভিডিওতে রাশিফল শোনা ও দেখার চেষ্টা এখানে করতে পারেন। ব্যর্থ হলে একেও ভাগ্যের পরিহাস বলে মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নাই। সেবাটি এওএলের। [wjsK=http://aol.astrocentre.co.uk/aoluk/ThemaVideo.aspx]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707527 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28707527 2007-04-23 17:02:16
বেটার যত অসুবিধা...
পয়েন্ট আকারে অসুবিধাগুলো এই পোস্টে সাজিয়ে রাখতে চাই। যাতে কর্তৃপক্ষের সুবিধা হয়।

সহজ কথায় আপনাদের অসুবিধাগুলোও লিখে রাখুন

1. বাংলা সংখ্যা উধাও।
2. কি-বোর্ডের নাম বিজয় দেখালেও কাজে বিজয় না।
3. খন্ড-ত উধাও। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28706280 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28706280 2007-04-15 16:50:58
মেসার্স বাংলাদেশ ইনকর্পোরেটেড ঃ ছোট হয়ে যাচ্ছে দেশ?
বিদেশি অহেতুক সাহায্যের প্রকল্প বাতিল করে দিলে পরিবেশ সচিব, বিদু্যৎ সচিব ওএসডি হয়ে যান, এটা দেশের নির্ভরশীল অর্থনৈতিক অবস্থার কারণেই ঘটতে পারে বলে মেনে নিয়েছি। দেশের উন্নয়ন বাজেট বিদেশি প্রকল্পের বিদেশি পরামর্শকরাই তৈরি করেন এটা জানার পর আঁতকে উঠলেও সে আতংকের পারদ নামতে সময় নেয়নি। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝে ভিনদেশি কূটনীতিকরা ঘুঁটি চেলে সরকার সাজাবে, এটা বোধের গভীরে গিয়ে আঘাত করে। নিজেকে, নিজের দেশ ও জাতিকে বড় বেশি অথর্ব করে তোলে নিজের কাছে। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্ষমতা নিয়ে রাজনীতিকরা সরব সংঘর্ষ করছেন এই দ্বন্দ্বকে আমি অগ্রগতির স্বাভাবিক স্তর মনে করি। কিন্তু ঘুঁটিবাজির সরকার যতই সোনার ডিমের আশ্বাস দেক, আত্মসম্মানবোধটুকুকে চৌচির করে দেয়।

নেপালের রাজা জ্ঞানেন্দ্র ষড়যন্ত্র করে পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আমি ভাবি, বাংলাদেশ অতো বর্বর নয়। বিন লাদেন সৌদি থেকে উড়ে এসে আফগানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। আমি ভাবি বাংলাদেশ অতো সহজ ভূমি নয়। মাহাথির ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের সূচক দেখিয়ে সহকর্মী আনোয়ারকে জেলে পুরে ফেলে। আমি ভাবি বাংলাদেশ অতো বোকাদের দেশ নয়। উর্দি চাপিয়েই পারভেজ মোশাররফ একটি দেশের সিইও হয়ে যায়। আমি ভাবি, গন্ডমুর্খরা আরো কতো সার্কাস দেখাবে। অথচ 2006 সালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে হলো এমন এক সরকার যাদেরকে সরকার না বলে ব্রোকার বলাই ভালো।

সাম্রাজ্যবাদের পুরাতন রূপে হয়তো চলছে না পুঁজিবাদের। যুক্তরাষ্ট্র সরকার হয়তো শিক্ষা নিচ্ছে প্রাইভেট সেক্টর থেকে। মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি থেকে। সে কারণেই হয়তো তারা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার বানাচ্ছে বিজনেস এন্টারপ্রাইজের আদলে। কর্পোরেট কালচারের যুগ এখন। বিশ্বব্যবস্থায়ও বোধ হয় ঢুকে গেল কর্পোরেট সিস্টেম। দেশগুলো এখন বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠান। দেশগুলো চালাচ্ছে এখন কর্পোরেট হেড অফিসের ঠিক করে দেয়া ম্যানেজমেন্ট বোর্ড। সরকার প্রধানরা এখন থেকে চিহ্নিত হবে চিফ এঙ্িিকউটিভ বা টপ বস হিসেবে।

ঘাস খোঁজা ভেড়ার পাল অনেকেরই হয়তো এতে কিছু যায় আসে না। এসব সার্কাসে তারা ঘাস থেকে মুখই তোলে না। আমি কিন্তু নিজের কাছে নিজে আরো ছোট হয়ে যাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28705176 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28705176 2007-04-06 21:47:56
আগামী 18 মাস দেশ শাসন করবেন কারা?
জরম্নরি অবস্থা চলছে দেশে। সাংবিধানিক রীতি মেনেই ঘোষিত হয়েছে জরুরি অবস্থা। বিগত সরকারের দু:শাসনের বিরম্নদ্ধে শেষ সময়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলো বিরোধী শক্তি। ক্ষমতা দখলের নানা ষড়যন্ত্রের আভাসে ও সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলের কান্ডকারখানায় হত-বিহ্বল হয়ে পড়েছিল জাতি। সে কারণেই রাষ্ট্রপতির তত্ত্বাবধায়ক শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার সেনাবাহিনী-সুশীল সমাজ- আমলাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার নিন্দা হয়েছে খুব কম। সংবিধানের বিধি-বিধানকে আরেকটু উদারভাবে টেনে-টুনে তাদেরকে বৈধ ঘোষণাও করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তাদেরকে মেনে নেয়া হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবেই। যদিও সংবিধানের সংজ্ঞা কড়াকড়ি অনুসরণ করলে তা হয় না।

এখন তারাই জানাচ্ছেন নির্বাচন করে দেশে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ও জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আরো 18 মাস সময় লাগবে। কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া এরকম অনত্দবর্তীকালীন সরকার অবশ্যই কি সাংবিধানিক বলে গৃহীত হবে? এই সাংবিধানিক জটিলতার সমাধান কি করবেন বর্তমান সরকার?

কীভাবে দেশ চলবে সে বিষয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে সংবিধান। বাংলাদেশের সংবিধানের 141ক ধারা মতে জরম্নরি অবস্থা 120 দিনের পর কার্যকর নয়। 120 দিনে 4 মাস পার হয়। জরম্নরি অবস্থার মেয়াদ বাড়াতে সংসদের অনুমোদন লাগে। যুক্তি বলে, যেহেতু সংসদ নেই সেহেতু এই বাড়ানোর অনুমোদনের জন্য সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

সংসদ নির্বাচনের বিধান দেয়া আছে সংবিধানের 123 ধারায়। সেখানে বলা আছে সংসদ নির্বাচনে 90 দিনের বেশি সময় নেয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুযের্াগ (এ্যাক্ট অব গড) এর ক্ষেত্রে দুর্যোগ অতিক্রানত্দের আরো 90 দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। দেশে খোদার কোনো গজব নামেনি যে 90 দিনের পর বেশি সময় নেয়াটা সংবিধানসম্মত বলে চালিয়ে নেয়া যাবে। (আমাদের মনে রাখতে হবে এদেশের আদালতেই সব সামরিক শাসনকাল অবৈধ ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। যদিও তা নানা হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছে।) সংসদের প্রথম বৈঠকের পর জরুরি অবস্থা বজায় রাখা যায় আরো 30 দিন। কিন্তু তার আগে তো সংসদ নির্বাচন করতে হবে।

সুতরাং সংবিধানকে যতভাবেই টানাটানি করা হোক না কেন বর্তমান সরকার এই দীর্ঘ 18 মাস ক্ষমতায় থাকাটা জায়েজ করতে পারবেন না। শেখ হাসিনা বলেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে এই সরকারের কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয়া হবে। কিন্তু একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।

আমরা সুষ্ঠ, অবাধ ও কালোটাকার প্রভাব মুক্ত নির্বাচন চাই। আর তা করতে সরকার চাচ্ছেন আরো 18 মাস সময়। সংবিধানে সে সুযোগ নেই। অনেকের মনে হতে পারে গণভোট নিয়ে এই সরকারের বিষয়ে জনমত যাচাই করা চায় বা জনসমর্থন নেয়া যায়। কিন্তু আমাদের সংবিধানের গণভোটের যে ধারাটি সংবিধান সংশোধনের জন্য আছে তাতে সেরকম সুযোগও নেই। তাহলে কি এই 18 মাস দেশ একটি অসাংবিধানিক সরকারের শাসনে থাকবে? জাতির ভবিষ্যত সংকুল সময়ের জন্য এটা কি একটা ভালো দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে নাকি ক্ষমতালোভীদের জন্য একটি মোক্ষম সুযোগ তৈরি করে রাখবে? নির্বাচিত সরকার আসার পর এই 18 মাসকে বৈধতা দেয়াটাই বা কতটা যৌক্তিক হবে? 18 মাস ক্ষমতাবাসের আগেই বর্তমান সরকারকে এর একটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে। দায়দায়িত্বটা তাদেরই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28705091 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28705091 2007-04-05 19:48:26
ধুসর গোধূলি আমার কম্পিউটার হ্যাক করেছে
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন কম্পিউটারে কাজ করতে যাবো তখন চোখ একেবারে হাতারুটি। দেখি আমার রিসেন্ট ডকুমেন্টস-এর লিস্টে শুধু একটি ডকুমেন্ট। পিডিএফ। আকাঙ্খার শহরের পিডিএফ। আমার গতকালকের কাজের ফাইলগুলো সেখানে থাকার কথা। কিচ্ছু নাই।

তার মানে আমার কম্পিউটার হ্যাকড। মাসকাওয়াথ এসব কাজকর্ম জানার কথা না। নিশ্চয়ই কাজটা ধুসরের।

অন্যদের সাবধান করছি।

(এ বর্ণনার একটুও মিথ্যা বা কল্পনা নেই। কেউ আবার মনে করবেন না আমি কৌশলে মাসকাওয়াথের বইয়ের প্রচারণা করছি। ওর বই এমনিতে পাঠক-নন্দিত।) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28702869 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28702869 2007-03-20 07:32:14
বন্ধু দোষে বিপদ
এক বন্ধু দেখে অন্য বন্ধু চেনার এই বিষয়টাকে নিশ্চয়ই আমল দেননি আমাদের যুবরাজ (এক পত্রিকায় দেখলাম তাকে দুর্নীতির যুবরাজ বলে শিরোনাম করেছে)। আমল দেননি অনুমান করছি একারণে যে অনেকেই নাকি তাকে সাবধান করেছিল যে, তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন একটি দুষ্টু লোক। এর সাথে জাবড়াজাবড়ি করাটা তার জন্য ভালো না। তিনি শোনেননি। তিনি বলেছেন মামুন তার পরীক্ষিত বন্ধু। ঈশপের নীতিবাক্য দিয়েই হয়তো তিনি বন্ধুর পরীক্ষা নিয়েছেন। বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। সে বন্ধু দুর্নীতিবাজ হলেও বন্ধুত্বে নিখাদ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো বন্ধুত্ব নিয়ে এত কালি খরচ হয় নাই। তারেক-মামুনের বন্ধুত্ব তাই প্রবাদের স্থান নিয়েছে। সেই বন্ধু মামুন দীর্ঘদিন চোখের আড়ালে। সে কোথায় আছে কেমন আছে তারেক কিছুই জানেন না। ঘরের বন্দীদশায় থাকাটাও তার মত যুবরাজের জন্য মানায় না। বন্ধুর খোঁজে তাই তারেক তার পিছু পিছু হাজির হলেন দু:শাসনের বন্দীশালায়। তাতে হয়তো তার কলংক হবে, লোকে তার নিন্দা করবে, সিংহাসনের উত্তরাধিকার হিসেবে তাকে লোকে আর মানতে চাইবে না।

কিন্তু লোক-নিন্দাই কি সবকিছু, সিংহাসনের লোভটা সবচে বড়ো? বন্ধুত্বের কোনো মূল্য নেই। দুর্জন শুধু অর্থের দুর্নীতিটাই বড় করে দেখে নিখাদ বন্ধুত্বের নীতিকে তারা মূল্য দিতে শিখলো না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28701356 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28701356 2007-03-07 21:43:12
কমাযুক্ত শিরোনামের কবিতার বই নিয়ে আফসানা কিশোয়ার
তারপর স্টুডেন্ট ওয়েজ। সৈয়দ মুজতবা আলীর আট খন্ড কিনলাম। আগামী থেকে কিনলাম, মাসুদা ভাট্টির তরবারির ছায়াতলে আর বাংলাস্তান। রেহনুমা কিনলো পাঠক সমাবেশ থেকে আরজ আলী মাতুব্বরের তিন খন্ড। এত ভারী ভারী খন্ড লন্ডন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আঁটছি আমরা। তখন আবার পাওয়া গেলো বর্ধমান হাউজের নীচে নাসরীন জাহান ও আফসানা কিশোয়ারকে। রেহনুমা কথা শুরু করলো। তারপর কবির সাথে স্বল্পক্ষণের আলাপ। ফোন নাম্বার বিনিময়। যদিও বাংলাদেশে থাকতে ফোন করা হয়নি বা আর দেখাও হয়নি। তবে অন্যপ্রকাশ থেকে আফসানা কিশোয়ারের কমাযুক্ত শিরোনামের কবিতার বই 'পাল্টায় নারী, বাহারি' কিনেছি। সেখান থেকে আপনাদের জন্য একটি কবিতা:

মেয়েলি আড্ডার আড়ালে

বালিকারা (ভূতপূর্ব) কল্লোলে রোমন্থন করে মেয়েবেলা,
আছে হাসি, বোধের আদান-প্রদান, থাকে রূপের বিশ্লেষণ,
বরের স্বভাবচরিত বিষয়ক টুকরো শব্দের ফুলঝুরি,
সন্তানের প্রতি ভালোবাসার ফল্গুধারার অপার প্রকাশ;
বালিকারা সব বলে, বলে না কেবল আপন মনের
অতল খবর, তাদের সম্মিলিত আড্ডায় স-ও-ব থাকে,
থাকে না শুধু একে অন্যের অনুভব ছোঁবার
সেই কৈশোরিক সবুজ শপথ। তাই আড্ডার শুরু
থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত তারা রয়ে যায় সেই একা,
তাদের কপালে নারী কিংবা মহিলা হবার পথে
পা বাড়ানোর চিরন্তন বলিরেখা, শেষ পর্যন্ত
বালিকারা 'নারীত্বে' বড় বেশি- বেশি একা।
(আফসানা কিশোয়ার)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700425 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700425 2007-02-28 08:11:42
তথ্যপ্রযুক্তির গরুরগাড়ি এবং মাসুদা ভাট্টির তরবারির ছায়াতলে কোন সাইফুর?
ঐ যে বায়তুল মোকাররমের সামনে দাঁড়িয়ে আঙুর ছিঁড়ে ছিঁড়ে মুখে পুরছিলো আর ভাবছিলো চাঁদপুরের রফিক হুজুরের কথা। যিনি বলেছেন বেহেশতের আঙুরের স্বাদ হবে যুবতী মেয়ের স্তনের বোঁটার মতো।

হুমম এটুকুতে যাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠলো, তারা মনে করতে পারবেন সাইফুর হচ্ছে মাসুদা ভাট্টির একটি উপন্যাসের চরিত্র। উপন্যাসটির নাম তরবারির ছায়াতলে। এই ব্লগসাইটটির শুরুর দিকে উপন্যাসটির দুই অধ্যায় মাসুদা তুলে দিয়েছিলেন এখানে তার ব্লগে।

ব্লগের কর্ণধাররা সেই উপন্যাসের অধ্যায়গুলো 'ডিলিট' করে দিলেন অশ্লীলতার অভিযোগে। কিছু ব্লগাররা অবশ্য আপত্তি তুলেছিলেন লেখাটি নিয়ে। অন্যপক্ষে মুছে দেয়ার পর এর প্রতিবাদে দুইদিন এই ব্লগে লেখা বন্ধ রেখে প্রতীকি প্রতিবাদ করেওছিলেন বেশ কিছু ব্লগার।

এই প্রসঙ্গে এই প্রশ্নটি উঠতে পারে, ব্লগে লেখকরা কতটা স্বাধীন? এই প্রশ্ন আমাদেরকে আরো বিব্রত করে যখন আমরা জানতে পাই যে, ব্লগ কতর্ৃপক্ষ অপ্রকাশযোগ্য মনে করলেও খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা আগামী প্রকাশনী উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে নিদ্্বর্িধায়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে, তথ্যপ্রযুক্তির এই উদার আকাশ আর আন্তর্জাল আমাদের কতটা মুক্তচিন্তা চর্চার সুযোগ দিলো? সরাসরি বললে দাঁড়ায় সামহোয়ারইনের আরলিড ক্লকারহেডের চেয়ে আমাদের আগামীর ওসমান গণিই তো নমস্য!
বিদেশি বাণিজ্যিক গা-বাঁচানো প্রযুক্তি-আলাদের চেয়ে দেশি সাহিত্যসেবীদের পেশি অনেক টান টান!

প্রযুক্তির সুবিধা তৃতীয় বিশ্ব পর্যন্ত পেঁৗছায় ঠিকই কিন্তু ব্যবহার হয় সেই মান্ধাতা চিন্তার মোড়লদে হাতেই গিয়ে পড়ে। তাতে গরুরগাড়িতে হেডলাইট লাগানোর অগ্রগতি অর্জিত হয়। ওয়েবসাইটে 'আল্লার আইন' প্রতিষ্ঠার বোমা বানানোর রেসিপি পাওয়া যায়।

'তরবারির ছায়াতলে' উপন্যাসটি কতটা অশ্লীল তা নিয়ে কেউ কেউ এই ব্লগে পোস্ট আর মন্তব্য দিয়েছেন। আর ব্লগ কতর্ৃপক্ষের কাঁচির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। কিন্তু আগামী প্রকাশনী বইটি প্রকাশের অযোগ্য মনে করেনি। বইটি প্রকাশের পর কেউ লেখকের কূশপুত্তলিকা দাহ করেনি। প্রকাশকের চালায় আগুন দেয়নি। তাতে শেষ পর্যন্ত ব্লগ কর্তৃপক্ষের সাহিত্য বিচারের অনভিজ্ঞতাই ধরা পড়ে। বাণিজ্য বাঁচাতে তাদের আপোষকামিতা ও মেরুদন্ডহীনতা স্পষ্ট হয়।

সেই সাথে লেখক মাসুদা ভাট্টির কাছে ব্লগ কতর্ৃপক্ষের একটা ভুলস্বীকারও পাওনা হয়।

পুরনো সেই তর্কের ছোঁয়া পাবেন এই লিংকে:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700291 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700291 2007-02-27 07:30:30
ফের বিসমিল্লা্ল
বউয়ের মত বইয়ের ক্ষেত্রেও নাকি একই কথা খাটে। অর্থাৎ দুই বউয়ের মধ্যকালীন যেমন বেশি বিরতি নিতে নাই, এক বই থেকে আরেক বই লেখার মধ্যেও নাকি বেশি দিরং করা ভালো না। 401 নাম্বার পোস্টে এসে আটকে যাওয়ার পর 402 নাম্বার পোস্ট আর কিছুতেই নামানো যাচ্ছে না। কি-বোর্ডে জং আর আঙুলে খিল ধরে গেছে। কয়েকদিন ধরে ইচ্ছাটাকে নাড়া দেই, হাসান মোরশেদের ভাষায় ব্লগে ফুচকি দেই আর মনে মনে বন্ধু হাবিবের অভিজ্ঞান নাড়াচাড়া করি। কিন্তু উপায় পাই না, ফের বিসমিল্লা করি কী রকমে?

ফের বিসমিল্লার সাথে আবার আমাদের পাশের বাসার কোরবানির গরু জড়িত। সবাই মিলে জাবড়াজাবড়ি (এই শব্দের কপিরাইট মাশীদের) করে গরুটাকে শুইয়ে গলাটা টান টান করে ধরেছে। হুজুরের হাতে চকচকে ছুরি, তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন বিসমিল্লাহির....। সে এক ধর্মপ্রাণ মানুষের কর্তব্যজ্ঞানের নিষ্ঠা দেখে নিজের পা মাথায় ঠেকাবার মত দৃশ্য। কিন্তু গরুটাতো আসত্দগরু। ঘটে মগজ কিছু নেই, অথবা অনেকে যেমন সন্দেহ করেছিল হিন্দুদেশের বেদ্বীন গরু হবে হয়তো, আলস্না-খোদার কোনো ভয়-ডর নেই, হঠাৎ এক ঝাড়ায় সবাইকে ছিটকে ফেলে দিলো সপ্রিন্ট দৌড়। পায়ের ঘন্টা সমান কুর্তা পরলে কি হবে মাদ্রাসার ফাজিল-আলিমগুলোও গরুর সাথে তাল মিলিয়ে দিলো ছুট এবং দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় গরুটাকে না পারলেও গরুর দড়িটা ধরে ফেললো। বিধর্মী গরুটাকে আবার এনে শোয়ানো হলো। হুজুরের হাতে আবার ছুরি উঠলো। কিন্তু শুনলাম, দুয়েকজনকে তিনি নিম্নস্বরে জিজ্ঞেস করলেন একবার বিসমিল্লা বলেছি, আবার বলবো নাকি। আমি ঠিক দেখলাম না কে সে তবে, কেউ একজন সাহস দিলো হুজুরকে, "আগের বিসমিল্লায় তো আসল কাজ আদায় হয় নাই, আবার বলেন, ফের বিসমিল্লা"। হুজুর তখন হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে ছুরি নিয়ে বোকা গরুটার গলার উপর ঝাঁপায়ে পড়লেন। ফের বিসমিল্লা।

শুনতে যতই খারাপ লাগুক জীবনের বাসত্দবতা এরকম। এটা অনেকটা, 'সোনা বন্ধু তুই আমারে ভোঁতা দা দিয়া কাইটা লা'র মত অবস্থা। ব্যতিক্রমী হয়ে লাভ কি। আমিও বলি, ফের বিসমিল্লা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700194 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28700194 2007-02-26 12:56:52
মনে পড়ে বাকের ভাই..মিথিলার মৃতু্য নাই
কেউ কোথাও নেই নামে বিটিভিতে হুমায়ুন আহমেদের লেখা একটি নাটক প্রচারিত হচ্ছে। তার আজ শেষ পর্ব। সেই নাটকের চরিত্র বাকের ভাই'র ফাঁিস হওয়ার কথা নাটকে। সেটি দেখার জন্য লোকজন রাস্তাঘাট থেকে সটকে পড়েছে। এর মধ্যে নাকি রাস্তায় রাস্তায় দেশজুড়ে দর্শকরা বাকের ভাই'র ফাঁসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। বাকের ভাইয়ের কিছু হলে হুমায়ূন আহমেদের চামড়া থাকবে না এমন স্লোগানও দিয়েছে। হুমায়ুন আহমেদ তখন হাতিরপুল বাজারের কাছে একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। সরকার লেখকের জান বাঁচাতে তার ফ্ল্যাটের সামনে পুলিশ মওজুদ করেছেন। তারপরও লেখক তার ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে লুকিয়ে আছেন। ক'জন পুলিশ কি আর বাকের ভাইয়ের সমর্থকদের ঠেকাতে পারবে? তারা ঠিকই লেখকের ফ্ল্যাটে ঢুকে যাবে লাঠি-সোটা নিয়ে।

এ সবকিছুই লেখকের কল্পিত চরিত্র বাকের ভাইকে বাঁচানোর জন্য। সবাই জানে এ চরিত্র নাটকের। তবু তারা তাকে মরতে দেবে না। বিটিভি নাকি নাটকটির দুরকম শেষদৃশ্য তৈরি করেছিলো। বাকের ভাইকে বাঁচিয়ে ও হত্যা করে। লেখক হত্যারই পক্ষে ছিলেন। দর্শকেরা বিপক্ষে ছিলো। তারা বাকের ভাইকে অসম্ভব ভালোবেসেছিলো। লেখক যে চরিত্র তৈরি করেছিলেন সেই চরিত্রের কর্মকান্ডকে তারা পছন্দ করেছিলো।তাকে বাস্তবের রক্ত-মাংসের মানুষের মত কেউ একজন বলে বিশ্বাস করেছিলো।

বাকের ভাইর একটি ছোট্ট ব্লগীয় সংস্করণ হয়ে রইলো এই ব্লগের মিথিলা। সবার মন বিশ্বাসী নয়। মিথিলার ব্লগে গিয়ে দেখলাম অনেক পরিচিত বুদ্ধিমান ব্লগারদের মন্তব্য নেই। অথবা যারা মন্তব্য করেছেন তারা মিথিলার নারী পরিচয় বা তার নানা তথ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেই মন্তব্য করেছেন। তবে অনেকেই বিশ্বাস করেছেন ভাচর্ুয়াল মিথিলার সত্য সত্য একটি বাস্তব রূপ আছে। তারা এখন ভিন্ন বাস্তবতা আবিষ্কার করে ভাবছেন তারা প্রতারিত হয়েছেন। এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্কও হয়েছে ব্লগে। সেদিকে যাবো না। আগের একটি পোস্টের শেষ বাক্যের প্রতিধ্বনি তুলি:

মেনে নেয়ার আগে প্রশ্ন করো...
বিশ্বাস করার আগে, ভাবো.....

কাদম্বরী মরিয়া প্রমাণ করিয়াছিল যে সে মরে নাই।
আর মিথিলার মৃতু্য সংবাদ মিথ্যা হইয়া প্রমাণিত করিল যে সে জন্মলাভ করে নাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28694233 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28694233 2007-01-16 15:37:45
ব্লগের কিছু উজ্জ্বল চরিত্রের মুখোমুখি: চতুর্থ শতকের বয়ান
এরপরই ঘটলো আরো বড় ঘটনা। অরূপের আয়োজনে রওয়ানা দিলাম সামহোয়ার ইনের অফিসের দিকেই। হাসিন, রেজওয়ানসহ আরলিডকে আমরা আবিষ্কার করলাম গেটেই। একটু হেঁটে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ বু্যফে। এর মাঝে পরিচয়পর্ব, বস্নগ নিয়ে মত বিনিময়। সেখানে এসে যোগ দিলেন রাগইমন ও জামাল ভাস্কর। প্রতিজন বস্নগারের সাথে প্রথম সাক্ষাতের সময় তীব্র একধরনের আবেগ অনুভব করেছি। যেন কতদিনের চেনা আপনজন। এতদিন যাদের লেখা পড়েছি, যাদের সাথে মত-বিনিময় করেছি, যাদের চিনত্দা_ধারার ঝর্ণাধারায় স্নাত হয়েছি তাদেরকে চোখের সামনে ধরা-ছোঁয়ার নাগালে পেয়ে যাওয়ার আনন্দটা ছিলো খুবই হৃদয় তোলপাড় করা। বস্নগে হাসিনের সাথে সাথে খুব একটা মত-বিনিময় হয়নি আমার, কিন্তু দুপুরের খাবার খেতে খেতে আমি আবিষ্কার করি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, মননশীল, কর্মপ্রিয় ও রসিক এক ব্লগারকে। আমাদের বস্নগসাইটের অন্যতম ডিজাইনার রেজওয়ানের উজ্জ্বল চোখদুটো সারাক্ষণ হাসছিলো, মুখে কথা বলছিলেন তিনি কমই। তবে কথা বলছিলেন আরলিড। সামহোয়ারইন ব্লগ নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাবার্তা রেস্টুরেন্ট থেকে অফিস পর্যন্ত চললো। অফিসের রুমগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানোর পর আরলিড হোয়াইট বোর্ডের সামনে রীতিমতো দাঁড়িয়ে গেলেন ছবির সাহায্যে পরিকল্পনার বয়ান দিতে। কোনো অগ্রগতির প্রস্তাবেই আমাদের কারো আপত্তি ছিল না। আমরা শুধু ভাবছিলাম কতটা সম্ভব হবে এসবের বাসত্দবায়ন আর কবে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠবে বাঁধ ভাঙার আওয়াজ। আমাদেরকে পেয়ে কতর্ৃপক্ষকে মনে হলো আহ্লাদিত আর এরকম একটা মত-বিনিময়ের সুযোগ পেয়ে খুশি হয়ে উঠলাম আমরাও।

আড্ডাটা সেখান থেকে আবার স্থানানত্দরিত হলো আজিজ মার্কেটে। সেখানে বস্নগার শুভ তার দূরপাল্লার বাস মিস দেয়ার পর অপেক্ষা করছিলেন অরূপের জন্য। পিয়ালের কোঁচড়ে রাখা মার্লবোরো লাইটসের কার্টনটা অরূপ তুলে দিলেন শুভের হাতে। কয়েকদিন পাহারা দেয়ার অজুহাতে পিয়াল অবশ্য ভাগ বসালেন শুভ'র সিগারেটে। দ্রম্নতই চলে গেলেন শুভ। যাওয়ার সময় তার কায়দায় আলিঙ্গন করলেন সবার সাথে। তাকে বিদায় দিয়ে আমরা এসে ঢুকলাম অনত্দরে রেসত্দোরাতে। সেখানে এসে যোগ দিলেন ভাস্কর ও মৌসুম জুটি। আসলেন লাল সোয়েটার পরা বালিকামোহন হিমু, তারপর আপাদমসত্দক শীতের পোষাকে মোড়া অন্য চেহারার রাগইমন। পিয়ালের সৌজন্যে অসংখ্য কাপ চা পান করে তুমুল আড্ডার পর ফিরলাম বাসায়। বাকী কয়েকজন অবশ্য সিগারেট ধ্বংসেও ছিলেন। আমি তাতে যোগ দেইনি বলেই কিনা বাসায় ফিরে শিকার হলাম ঠান্ডার। পরের দিন অরূপের যাওয়ার দিনের আড্ডায় আর যেতে পারিনি। ঘুমের ঘোরে অবশ্য বুঝতেও পারিনি ফোনটা কে করেছিলেন, পিয়াল না ভাস্কর।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28693466 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28693466 2007-01-10 14:46:11
অনেকদিন পর বাংলাদেশ
ঢাকায় যারা আছেন তাদের অনেকের সাথেই হয়তো দেখা হয়ে যাবে। তবে প্রবাসী কয়েকজনের সাথে দেখা হলো ডিসেম্বরের লম্বা বন্ধের সুবিধায়। আর অনেকদিন পর ব্লগসাইটে ঢুকে দেখলাম আরো অনেক নতুন ব্লগার যোগ দিয়েছেন। অনেক অনেক নতুন লেখা পড়া হয়নি।

আরেকটা কাজ হয়তো করতে হবে। সেটা হলো সামহোয়ার ইনের অফিসে যাওয়া।

অনেকগুলো বিশেষ বিশেষ দিন মাঝে চলে গেছে। সবাইকে সেইসব বিশেষ দিনগুলোর শুভেচ্ছা। শুভ বড়দিন, শুভ 2007, ও ঈদ মোবারক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28692817 http://www.somewhereinblog.net/blog/durerjanala/28692817 2007-01-04 18:38:50