নেতার জ্বালায় অস্থির বাংলাদেশের মানুষ। তারপর্ও কিছু মানুষ খালি মন্ত্রী আর এমপি হতে চায়।
দেখুন না এই সব অধ্যাপক বাবুদের কান্ড। তারা রাজনীতি করে ভিসি হয়েছেন। এখন নাকি আবার মন্ত্রী-এমপি হতে চান। মনে রাখা প্রয়োজন যে মোট মন্ত্রী সংখ্যার ১০% ( জানি না ঠিক কি না) টেকনোক্র্যাট কোটার মন্ত্রী হতে পারেন। সব ভিসি মন্ত্রী হলে সরকার পড়বে বিপদে। এমনিতেই সরকার নিজে আছে বিপদে- মানুষ আছে মহাবিপদে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান পূর্ণমন্ত্রী ও ভিসিরা চান এমপির মর্যাদা
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান চান পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা; আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা চান এমপির সমমর্যাদা। এ মর্যাদার দাবি আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিসিদের একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলি ভবনের ওই বৈঠকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যোগদান করবেন। এতে নেতৃত্ব দেবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী। আর এই বৈঠককে সামনে রেখেই সোমবার বিকালে ইউজিসিতে ভিসিরা এজেন্ডা নির্ধারণে বসেন। এতেই মর্যাদার দাবিসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিসিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও ২০টি বিষয় তালিকাভুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, ওইসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে।
বিকাল ৪টার দিকে আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে ভিসির এজেন্ডা নির্ধারণী ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী। দীর্ঘ আলোচনা শেষে এতে আরও যেসব দাবি উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত হয়, সেগুলো হচ্ছেÑ ভিসিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীত করা, ভিসিদের সম্মানী ৪০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা, ভিসিদের ঢাকায় অবস্থানের জন্য ইউজিসির পাশের পুকুর ভরাট করে ‘টাওয়ার’ নির্মাণ, ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর এবং এর চেয়ারম্যানকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে ভিসিদের সংসদ সদস্যদের সমমর্যাদা প্রদান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দূর করা ইত্যাদি। তবে এতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ভর্তি পরীক্ষা কিংবা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে ভিসিরা কোন আলোচনাই করেননি।
জানা গেছে, বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে দাবি পেশ করা হবে তার মধ্যে রয়েছেÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল, ইউজিসি চেয়ারম্যানের মর্যাদা পূর্ণমন্ত্রী, ভিসিদের মর্যাদা এমপির সমমান, ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশন কিংবা উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর ইত্যাদি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ঢাকার বাইরে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোর ভিসিরা ঢাকায় এলে যাতে নিখরচায় থাকতে পারেন, সে জন্য একটি ‘টাওয়ার’ নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ইউজিসির পাশের পুরকুরটি ভরাট করে এ টাওয়ার নির্মাণ করা যেতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোজাফফর হোসেন বলেন, ভিসিদের সম্মানীভাতা মাত্র ৪০ হাজার টাকা। এ টাকা অতি সামান্য। এজন্য সম্মানীভাতা আরও ৪০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলা উচিত।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস ছাত্তার বলেন, পদমর্যাদার বিষয়ে ভিসিদের অবস্থান কী হওয়া উচিত তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচরে আনা দরকার। উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আরআইএম আমিনুর রশীদ বলেন, এভাবে আলাদা আলাদাভাবে না বলে ভিসিদের জন্য বেতন স্কেল নেইÑ এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলা দরকার।
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান আকন্দ বলেন, সচিবদের কাছে টাকা চাইতে গেলেই তারা বলেন, আপনারা তো স্বায়ত্তশাসিত। কাজেই টাকার দরকার কেন? সচিবরা যাতে এসব বলতে না পারেন সে জন্য ইউজিসিকে শক্তিশালী করা দরকার। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একই আইনে চলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করা দরকার। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট নেই। পর্যাপ্ত বাজেট পাওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি দরকার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বেতন না বাড়ালে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়াতে পারবে না। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংকট শিক্ষক। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনসেনটিভ দিয়ে প্রেষণে শিক্ষক পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাজি করাতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



