ডানাভাঙ্গা বিদ্ধস্ত শরীরে আর লড়তে পারিনা। মরা চাঁদের আলোয় শুন্য এই প্রান্তর। কোথাও নেই কেউ, কেবল রাতজাগা পাখির বিষন্ন চিৎকার আর রাত শেষের জ্যেতিহীন আলো তোমায় ধরে রাখতে পারেনি। সময় কী বুঝতে পারে এইসব? পারেনা। পুরনো ঘাসে শুকনো রক্ত জমে আছে, বিবর্ণ পাথুরে মাটিতে এলোমেলো আমার মৃত শরীর। আমি আর কখনও উড়ব না, আমাকে উড়তে দেবেনা লুকানো সেই আজন্ম প্রতিশোধ। ভাঙ্গা ডানার ছেঁড়া পালক বাতাসে উড়ছে, একদিন উড়তাম আমিও।
আমাকে এখন উঠে দাঁড়াতে হবে। হতে হবে হন্তারক। ঠান্ডা মাথায় কথার শরে বিদ্ধ করতে হবে তরতাজা দেহ। ধ্বসে পরুক তোমাদের ঐ অহংকার। আলোর নিচে আঁধার, মুখোশধারী রোমশ দানব সবাই। ক্ষয়া চাদের আলোয় ঝিকিয়ে ওঠে শাণিত মারণাস্ত্র। আমি, তুমি কিংবা সে, ক্রমশ হত্যা করি অন্য কাউকে। রাত শেষ হবার আগেই ঘাসে ছড়িয়ে পড়ে শত শত পালক, ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা। অতঃপর তোমাদের মতই হন্তারক হয়ে ওঠে ঐ তরুণ প্রাণ। তাকে কেড়ে নিতে হবে অন্য কোন জীবন, শরবিদ্ধ করতে হবে অন্য কোন ডানা।
ভোরে শত শত পালক ছড়িয়ে থাকে সারা মাঠ জুড়ে, মাঝে মাঝে জমে থাকা লাল। সকালের সূর্য্য এনে দেয়না নতুন কোন প্রত্যয়। এখানে আমরা সবাই হন্তারক, আততায়ী। প্রতি রাতে জেগে উঠি শোণিত পিপাসায়, পৈশাচিক উল্লাসে। ঝিকিয়ে অঠে শাণিত অস্ত্র। শরবিদ্ধ আরো ডানা ভাঙ্গে, পালক ছড়িয়ে পড়ে রাতের ঠান্ডা ঘাসে।
তারপর শুধু চলা, শুধু প্রতিশোধ।
© দি ফ্লাইং ডাচম্যান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

