somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফরমালিন--------!! অনাহত হয়ে বেঁচে থাকা নাকি মৃতূর আয়োজন !!

১৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে মানবের তরে বাচিবার চাই” ।
কবির এই আকুতি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে বাজে আমাদের কানে । হা, বাঁচিবার স্বাদ আমাদের জন্ম জন্মান্তরের । আমরা এই সুন্দর পৃথিবীতে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই । এই পৃথিবীর মুক্ত স্বাধীন বাতাসে স্বস্থির নিঃশ্বাস নিতে চাই । প্রাণভরে গ্রহণ করতে চাই পৃথিবীর টাটকা ফল-মূল আর নির্ভেজাল সব খাবার । রেখে যেতে চাই সুস্থ সুন্দর ও জ্ঞানী প্রজন্ম । যারা তাঁদের মেধা আর মনন দিয়ে পৃথিবীটাকে স্বর্গময় করে তুলবে ।
আগে প্রায়ই শুনা যেত বিষ পান করে আত্মঘাতী হওয়ার কথা । কিন্তু আজকাল নাকি বিষ পান করে কেউ আর সফল আত্মঘাতী হতে পারছে না । তাহলে বিষের বিষক্রিয়া গেল কোথায় ? ছোটবেলা দাদা-দাদির কাছে শুনতাম আগের দিনে নাকি ভূত-প্রেত আর দৈত্য-দানবেরাও থাকতো এই পৃথিবীতে । তারা যখন এই পৃথিবীতে বিচরণ করত তখন মানুষজন ভয়ে ঘরের কোনে লুকিয়ে থাকত । আমি একবার জিজ্ঞ্যেস করেছিলাম, দাদু ভূতপ্রেতরা এখন কোথায় ? সঙ্গে সঙ্গে দাদুর মুখটা কাল হয়ে গেল । ঘৃণা আর ক্ষোভ মিশ্রিত গলায় বললেন, ওরা এখন মানুষের ভেতরে । ততোটা বুঝতাম না তখন । এখন বুঝি । বিষ যে মানুষের মনে ।
সারাদিন অফিস করে বাসার উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলেন । চোখ পড়ল রাস্থার পাশেই ছোট্ট একটি দোকানে । চমৎকার সুন্দর করে সাজানো লিচুগুলি দেখতে ভীষণ লোভনীয় মনে হচ্ছে । সাথে সাথে মনে পড়ল, ছোট মেয়েটা গতকাল লিচু খেতে চেয়েছিল । দাম-দর করে দেখলেন হাতের নাগালেই আছে । নিয়ে নিলেন ভাল দেখে দুই আঁঠি লিচু । নিশঃসন্দেহে সন্তানের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ পেয়েছে আপনার । কিন্তু এটাও তো হতে পারে নিজের অজান্তেই প্রিয় সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিষাক্ত ফরমালিন ।
কিবা করার আছে আমাদের । আমাদের দেশে এত এত সমস্যা যে আমরা মাথা তুলে দাড়াতেই পারি না । প্রতিবাদ করব কি দিয়ে । আমাদের গড়ে তুলা হয়েছে এই ভাবে । বুকে সাহস নেই শরীরে আছে বল ।
বাংলা চলচিত্রের সর্বকালের সেরা চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায় । তার “হীরক রাজার দেশে” নিশ্চয় সবার দেখা আছে । হীরকের অত্যাচারী রাজা সবসময় চাইতেন প্রজারা যাতে জ্ঞানী হতে না পারে । সে বলত, “তারা যত বেশী পড়ে, তত বেশী জানে । আর যত বেশী জানে, তত কম মানে” । এই জন্য রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছিল । তাহলে এই ফরমালিন থেকে রক্ষা করতে সরকার কেন বড় কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন ? নাকি পুরো জাতী ততা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রুগ্ন ও মেধাশূন্য করে রাখতে চান এই ফরমালিনের বিষক্রিয়ায় ?
আমরাও হয়ত কোন হীরক রাজার দেশে বাস করছি । নয়ত ফরমালিন ব্যাবহার আইন করার নামে সরকার এত গড়িমসি করছে কেন ? ঐ সব দুষ্ট অধিক মুনাফা লোভীরা যদি আমাদের মৃতূর মুখে ফেলে দিতে এতটুকু দ্বিধাবোধ না করে, তবে কেন তাঁদের মৃতূদণ্ড দেওয়া হবে না ?
দৈনন্দিন জিবনে আমাদেরকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল হতে হয় । কৃষক কামারের উপর নির্ভরশীল, কামার দর্জির উপর নির্ভরশীল, দর্জি মুচির উপর নির্ভরশীল । ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের উপর নির্ভরশীল আবার ইঞ্জিনিয়ার ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল । ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারকে ঠকালে যেমন সাথে সাথে বোঝতে পারেন না ডাক্তার মশাই, ঠিক তেমনটি হয় ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষেত্রেও । তার পরও আমরা বিশ্বাস করি । মানুষ বলেই বিশ্বাস করি । সৃষ্টির সেরা জীব বলেই বিশ্বাস করি । ঠিক তেমনি ভাবে আমরা একেকজন ফল বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতার উপর নির্ভরশীল এবং তাঁদের বিশ্বাস করে বা করতে হয় । আর এই নির্ভরশীলতাকে ও বিশ্বাসকে দুর্বলতা ভেবে কিছু দুষ্ট লোক ফল-মুল সহ ভোজ্য পন্য টাটকা রাখার নামে মিশিয়ে দেয় মরন ঘাতী বিষ, ফরমালিন । তাহলে নির্ভরতার জায়গাটা রইল কোথায় । তাহলে মানুষের মনুষত্য মানবিক মূল্যবোধ আজ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে । ভাবাই যায় না ।
কি সেই ফরমালিন ? চলুন একটু জেনে নেয়া যাক ।
ফরমালডিহাইড বা মিথান্যাল এক প্রকার জৈব যৌগ । বর্ণহীন ও দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস হিসেবে পরিচিত । রাসায়নিক সংকেত CH20 । বাণিজ্যিক উদ্যেশ্যে ফরমালডিহাইড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় সচরাচর ফরমালিন নামেই পরিচিত । এটি মূলত রং তৈরি, বস্ত্রখাতে কাপড় কুঞ্চিত হতে না দেয়া, সংরক্ষণ, বিস্ফোরণ এবং পলিমার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
কিন্তু আজকাল এটি তার নিজস্ব ক্ষেত্র ছড়িয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পন্যে পচন নিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে । অতচ ২০১১ সালের ১০ই জুন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল টক্সিকোলজি প্রোগ্রাম কর্তৃক গবেষণায় ফরমালিনকে মানুষের ক্যান্সার রোগ সৃষ্টিতে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে জানায় । এছাড়াও এটি পাকস্থলীতে প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের কারন । ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয় । লিভার ও কিডনি অকেজো করে দিতে পারে । হার্টকে দুর্বল করে দেয় । স্মৃতিশক্তি কমে যায় । অস্থিমজ্জা আক্রান্ত হওয়ার ফলে রক্তশূন্যতাসহ অন্যান্য রক্তের রোগ, এমনকি ব্লাড ক্যান্সারও হতে পারে । এতে মৃত্যু অনিবার্য । তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে । ফরমালিনযুক্ত দুধ, মাছ, ফলমূল এবং বিষাক্ত খাবার খেয়ে দিন দিন শিশুদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে । কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা । শিশুদের বুদ্ধিমত্তা দিন দিন কমছে ।
এই ফরমালিন তিলে তিলে নিশ্বেস করে দিচ্ছে আমাদের । মাছ সবজি মাংস থেকে শুরু করে তাজা ফলমূল পর্যন্ত সব কিছুই আজ বিষাক্ত ফরমালিনের স্পর্শে প্রাণঘাতী রূপ ধারন করছে । এই বেজাল রোধে সরকারের অভিযান একমাত্র ঢাকা শহরে ছাড়া দেশের অন্যত্র তেমন একটা পরিচালিত হয় না । এ অবস্থায় মরণব্যাধির জীবাণুবাহী ফরমালিনের ব্যবহার অপ্রতিরোধ্যভাবেই বেড়েই চলেছে ।
পোল্ট্রি ও হ্যাচারিতে বছরে ফরমালিন প্রয়োজন হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার লিটার । অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৫ লাখ লিটার ফরমালিন আমদানির অনুমতি দিয়েছে । চামড়া খাতে প্রয়োজন ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার । সেখানে অনুমতি দেয়া দুই লাখ লিটার । একই ভাবে অন্যান্য সেক্টরে প্রয়োজনের অনেক বেশি পরিমাণ ফরমালিন বৈধপথেই আমদানি করা হয় । বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কার্যালয়ের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই বিপুল পরিমাণে ফরমালিন আমদানি সম্ভব হচ্ছে। আমদানি করা ফরমালিন কোথায় কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তা কখনও খতিয়ে দেখে না । ফলস্বরূপ আমদানিকারকরা নির্বিঘ্নে আমদানি করা ফরমালিনের অবৈধ ব্যবহার করতে পারছে ।

জীবন মৃতূর দ্বার প্রান্তে দাড়িয়ে আজ এই বিষাক্ত ফরমালিনের বিষক্রিয়া হতে পরিত্রাণের পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছি সর্বক্ষণ । আমরা নিতান্তই অসহায়, ঐ সব লোভী মুনাফাদ্বারী অমানুষ দের কাছে । যারা অধিক মুনাফা লাভের আশায় আমাদের জীবনকে এক এক করে মৃতুর দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে । সরকারেরও বিশেষ কোন হস্তক্ষেপ লক্ষ করছি না । এ অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েও তা মাঝপথে থামিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ফরমালিন আমদানির অনুমতি দেয়ার জন্য কোন অথরিটি নেই। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমাদের প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বড় একটি অংশ আলসার ক্যান্সার সহ প্রান-ঘাতী রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে । কিংবা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি শিশুর সংখ্যা ।
কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে করজোড়ে আবেদন করছি । আমাদের ততা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন এভাবে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিবেন না । আপনারা হয়ত বাসায় ল্যাবরেটরি বানিয়ে রেখেছেন । পরীক্ষা ছাড়া এক গ্লাস পানি ও খান না । কিন্তু আমাদের সেই সামরথ নেই । তার পরও বলি । আমরাও কিন্তু মানুষ । আমাদের জীবনেরও মুল্য আছে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×