পর্ব ১: ফর্মিকায় বিড়াল
বৈদুর্য্যমণি নয়, চুনী বা ম্যালাকাইটও নয়, ক্যাট'স আই। অর্গানিক বিড়ালের চোখ। সেই চোখ গ্ল্যাডিওলাস ফুলের ডগাকে ঢেঁড়স কাটার ছুরি দিয়ে ৪৫ ডিগ্রিতে কেটে ফেলার মতো আকৃতি। জোয়ারে বাড়ে ভাটায় কমে ঢেঁড়স সই। আর বিড়ালটা ফুল, ফ্যাক্টরী, ফালুদা নয় পড়ে থাকে ফর্মিকার তক্তায়। ঘুমায়।
পুব দেয়ালের প্লাস্টারে বল্টুতে ঝোলানো ফর্মিকা তার স্বর্গ। স্বর্গের নাম জিলেট স্বর্গ। জিলেট রেজরের এডের অজাতশ্মশ্রু ছেলেটার গালও একই কোম্পানীর ফর্মিকায় তৈরী। ফর্মিকাকে অধিবাস্তব রেশমকোমল বলে সে মৈচৈ করে, আর দাবী করে ও চরিত্রবান(মতান্তরে বতী), কিন্তু আমি তাকে দরজার চাবির ছিদ্রে লুকিয়ে দেখেছি - নিয়নের আলোয় জুয়াড়ীদের মদের গ্লাস এগিয়ে দেয়, ক্যাশবতী ব্যাঙ্কক সুন্দরীর মতো ঢং করে - আর এখন অদাহ্য অক্সিজেনের মতো গা বাঁচাচ্ছে। বাঁচাক, কিন্তু ২ সেন্টের প্রশ্ন, সে মসৃণত্বকে বোঝে কী করে।
পর্ব ২:সোনামুখী সুঁচ
বিড়ালটা কী সোনামুখী সুঁই যে চুলের মতো ছিদ্রেও ঢুকে যেতে পারে, অথবা ডায়ানা দোদীর টানেল যে ফটোগ্রাফারেরা তাতে রেকুনের মতো মটর বাইকে পিছু নেয়। আমি তো মসৃণ বলতে বুঝতাম ইউক্যালিপটাসের চামড়া অথবা লোমছাড়ানো মাছ। এক সময় সেফটিপিনের মাথার মতো জেদী ছিলাম। প্রমাণ দেখালেএ তর্ক থামে না। তারচেয়ে ১০,০০০ টাকা দামের ডিনার সেট কিনি। দামী প্লেটে সাজিয়ে প্রমাণটা দেখালে বিড়াল বলবে ঝামাপাথরের বইও মসৃণ।
অবশ্য যারা বই পড়ে তারাতো বিড়ালের মতোই। সিরিঞ্জকে গ্লাস করে পানি খায় কিন্তু নদী দেখলে মুখে বেলুন পুরে দেয়। কিন্তু হিলিয়াম পাম্প করলেই তো আর আফ্রিকান উড়ুক্কু মাছ হওয়া যায় না।
পর্ব ৩: নিজে কর ইউক্যালিপটাস
ঘুমের ঘোরে বিড়ালটার লেজ অফবীটে নড়ছে। এটা দেখেও এতগুলো লোকের মাথা বাকাট্টা হয়নি! কী আশ্চর্য মুল্যবোধের অবক্ষয়, না অবিড়ালীয় ভব্যতা।
আমার সেই ডুবসাতারের প্র্যাকটিস থাকলে বিড়ালকে ঘুষি মেরে বিলাই বানাতাম। যেহেতু আমি মণিব, তোমাকে( বা আপনাকে) দিয়ে কাজ সারাতে হবে। কাজ না হলে প্রশিক্ষিত কুকুর লেলাতে আবার খরচ। ইলিশের ডিমের প্যাকেটে প্রমাণটা তেলে ভেজে পরিবেশন করা দরকার।
গবেষণায় দেখা গেছে অভিজাত বিড়ালেরা থালায় খায়। সানকি বা কলার পাতায় খায় বিলাইরা। বনসাই ক্যাটদের সবখানেই এলার্জি । এলার্জি এরও আছে। সোনামুখী পর্ব পার হয়েও আদেকলা বিড়ালটা জিলেটের তাকে ঘুমাচ্ছে। গরগর শব্দে হিস্টিসিন হিস্টাসিন ভাব।
ইউক্যালিপটাস অথবা মাছের লেজের বিশ্বমসৃণত্ব জানানোর জন্য কাজের বিনিময়ে কর্মসুচী লাগার কথা নয়। চৌদ্দগুষ্ঠিকে পাকুন্দিয়া থেকে মনোরেলে ঢাকায় আনারও দরকার নাই। কেউ বলেছে লন্ডনের চোখের মতো চরকীতে একটু বেড়িয়ে আনলে বিড়াল কেন, তিমি অথবা হাঙ্গরও নাথা নাড়বে।
আমার কাছে ও মেনে নিলো কি নিল না তাতে কিছু আসে যায় না। ভিডিওতে দেখবো ও কী মাথা নাড়ে কি না। না নাড়লে, ১-২-৩. লাস্ট - মাথার সাইডে তবলার হাতুড়ি দিয়ে টিউন করতে হবে।
আপাতত: হাতে আছে তিনটি পরিবেশ বান্ধব উপায়।
এক, গাছের বহিত্বককে হলুদ ইলাস্টিকের গুলতির মতো বিবর্ধিত করো। ইলাস্টিক বড় না হলে বেবীফুড খেতে দাও।
দুই, যথেষ্ট টলার স্টঙ্গার আর শার্পার হলে গুলিস্তানে যাও। (আচ্ছা কামানের কান ঘেষে পথকলিদের যে পার্ক ছিল সেটা কি উঠে গেছে? পার্কে না পেলে খোলা রাস্তায় কাৎ করে দাঁড় করিয়ে দিলে কী আর হবে।)
শেষে, ঐ যে থাকে না এ বাঁশের সিরাতুল মুসতাকীম সাঁকো, সেরকম সোজা একজোড়া বাঁশ বাকলের স্লাইডের দুপাশে হাতল হিসাবে লাগিয়ে নাও।
পর্ব ৩.১: অ.পৃ.দ্র.
বিস্তারিত অপর পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য। সময় বাঁচাতে এটুকু বলি বাকলটা এমন মসৃণ হবে যে নন্দন পার্কও সুইসাইড খেতে পারে। দেখে নিও, বাচ্চারা টিকেট কেটে ভীড় করবে। একটু পরে মুখে এসপিএফ-৩০, আর লিপস্টিক পরে আমি হ্যান্ডমাইকে এক্সট্রা পয়সা চাইবো। তোমার শুকনা সেমাইয়ের মতো চুল দেখে পয়সা দেবেনা কেউ। তুমি বরং পুলিশ রেডি রেখে। বাচ্চারা ভীড়ই করলেও ওদের বাবা অথবা বাবাসমূহ চড়বে। বাবার নিলয়ে ৮টা পকেট অলিন্দে ৯টা ক্রেডিটকার্ড। সুতরাং ৩০% সম্ভাবনা, বাবাকে সেই অর্গানিক স্লাইডে চড়তে দেখে বাচ্চারা হাত তালি দিতে থাকবে।
পর্ব ৩: ঠাটারী বাজারে মাসলো
একটু আগে নীলক্ষেতে ফটোস্ট্যাট করা আব্রাহাম মাসলোর টেক্স্ট পড়েছি। এর জন্য একটা আইডিয়া পেলাম বিড়াল কেন গাছে আরাম পায় না। উপজাতীয়রা বিড়াল খায়। কারণ তারা গাছে বাসা বানায়। আচ্ছা, তোমার গাড়িটা তো এখনো ভক্স ওয়াগন, নাকি মার্সিজিস? রিক্সা হলে আর দুটো চাকা আর ড্রাইভারকে হ্যাট কিনে দিলেই ভাল ব্র্যান্ড হয়ে যাবে।
স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে কি বিড়ালটাকে ঠাটারী বাজার নিয়ে যেতে পারবে? ঘড়ির কাঁটায় ৫ মিনিট ম্যাক্সিমাম। আমি যাব না কারণ ঘড়ি নেই। এলার্ম বন্ধ করার ম্যানুয়ালটা হারিয়ে ফেলার পর ঘড়িটা মামাতো ভাইকে গিফট করে বিড়ালটা কিনেছি। ওর সখ ছিল প্রজাপতির। দেয়ালে মরা প্রজাপতির ফ্রেম দেখে ফারাঁও রাজা তুতেমখানেমের ভয় পেতো দেখে ঘড়িটা দিতে হলো। এখন মরা ঘড়ি সাজিয়ে বেশ সুখে আছে।
পর্ব ৪: একনেকে রপ্তানী
আগে জানলে পলওয়েল থেকে একজোড়া বুটজুতা কিনতাম। বিড়ালের সেলস এজেন্টটা টাউট। বললেই হতো যে এ অনেক হাঁটায়। এজন্য বিড়ালদের কাছ থেকে বিড়াল কিনতে নেই। কে জানে সেই বিড়ালটাই তার জন্ম দাতা পিতা কিনা।
বিড়ালের জনকের মতো নিজের বাচ্চা রপ্তানী অন্যরা যে কেন শেখেনা? দাঁড়াও একটু টুকে নেই। বুদ্ধিটা পরে মনে থাকবে না। রেহমান সোবহানদের সঙ্গে দেখা হলে নেম কার্ড দিয়ে, চান্সে বিড়ালের তত্ত্বটা বোঝাবো। একনেকে পাশ হওয়ার জন্য দাতাদের চাপ। প্লেটের মধ্যে আর্কিমিডিসের সুত্র আর বাচ্চা তত্ত্বের একটা ডিভিডি সাজিয়ে দিলে বিশ্বব্যাঙ্ক বাপ বাপ করে পয়সা দেবে।
পর্ব ৫: জিহ্বায় ককফাইট
যা হোক কথা কমানো দরকার। জিহ্বাটা আমঝুকি বেগুন থেকে এখন পোড়া কফির মতো হয়ে গেছে। বসে বসে খেলে জিহ্বা তো কেরানী হবেই। পান খাবে, দাঁত খিলাবে আর, অন্য কিউবিকলে রসের আলাপ করবে। আগে যখন বক্তৃতা দিতাম জিহ্বা চর্চলাইটের মতো ছিটকে পড়তো! তখন তো আর জানতাম না যে বেগুনী জিহ্বা বেশি দিন টিকে না। আমারও মুদ্রাদোষ, দ্রুতপঠনের সময় মোড়গ লড়াইয়ের মতো হাঁটু ধরে থাকি।
অবশ্য কথা যা বলি বেশ চালু, তাতে আমেরিকার ভিসাটা পাওয়া উচিৎ ছিল! এম্বেসীর ৫ নম্বর কাউন্টারে কুচে মাছের মতো মুখ বসে থাকে কম্পিউটার নিয়ে। সে মেয়েটার প্লাস্টিকের জিহ্বা বোধ হয়। না হলে এভাবে সে "সরি, ইউডোন্ট হ্যাভ এনি সোশ্যাল টাই" বলতে পারতো না। আর সেখানে রেক্সিনের জিহ্বাও হতে পারে। রিক্সায় যেতে যেতে বসে ছিলাম এমনটার ওপর। হতে পারে সেটা সেকেন্ড হ্যান্ড। বুটপিন থাকায় ভিসার সাইকেলের পাম হুশ করে পাংচার হয়ে গিয়েছিল।
পর্ব ৬: ডাক্তার মফিজউদ্দিনের কলিজা
হা হা, এবার যাবে কই এজেন্ট? প্যান্টের নিচের জরুরী কাপড়ের পয়সা বাঁচিয়ে বিড়ালকে দামী চুইংগাম আর চিকলেট খেতে দেই কি সাধে। বিড়ালের সঙ্গে সোশ্যাল টাই দিলে ভিসা দিতে বাধ্য। আমেরিকায় মরে যাওয়া ছাড়া তেমন ইচ্ছে নেই। একটা আছে। খুব সখ, ওয়াল-মার্টে কৃত্রিম অঙ্গ বেচা শুরু হয়েছে।
শুনেছি সেখানে মজবুত হাড্ডির কৃত্রিম হাঁটু পাওয়া যায়। আমি যা হাঁটতে পারি তা তপসে ফড়িংও পারবেনা। আমার দরকার অন্য জিনিস। একটা প্লাস্টিকের একসাইজ বড় জিহ্বা। ডাক্তার মফিজুদ্দিন চেম্বারে বুকে স্টেথো চেপে বলেছে, জিহ্বা আর কলিজাটা পাল্টাতে হবে। কন্টাক্ট জিহ্বা না পেলে, স্যু করবো এম্বেসীর ৫ নম্বর এজেন্টটাকে। স্যু করাই মার্কিনীদের বড় বিজনেস।
পর্ব ৭: রেক্সিনের জিহ্বা
আচ্ছা, এমন কি হতে পারে সেই মেয়ের জিহ্বাটা রিক্সার গ্যারেজ থেকে চুরি করা? পেপারে উঠেছে। তার মানে সেই চোরাই রিক্সার রেক্সিন কিনে নেয় ৫ নম্বর কাউন্টার। আর রিক্সার যাত্রীকে সেই রেক্সিনের কাঁটা ফেরত দেয়?
যা হোক, বিড়ালটাকে ঠাটারী বাজারে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছ? কন্টাক্ট লেন্সটা দিয়েছি। ছত্রাক পরে গেছে। থুতু দিয়ে সুন্দর করে মুছে দেয়ায় এখন আয়নার মতো। আমি আর কিছু দেখতে পাই না। তবুও বিড়ালটা দেখুক মাছেরা লোম ছড়ালে কত মসৃণ হয়।
বেশী তর্ক করে বলে পোষা প্রাণী ভাল লাগে না। একে আছাড় মেরেছি। গুন গুণে আটবার হয়েছে। হয়তো শায়েস্তা করার জন্য আরেকবার মারতে হবে। অভিযোগ এই কারণে যে বেড়ালটাই আমাকে মাছ খাওয়া শিখিয়েছে। (ও ভেবেছে মাছ খাওয়া শেখালে বেড়ালটাকে আর খাবোনা)। মাছের কাঁটাটা খাওয়ার পর, মার্জারটার উচিৎ ছিল বাকি কথা শোনা।
পর্ব ৮: উলসুতার লেজ
সে আমাকে হাঁটতে বলে ফর্মিকার পাটাতনে ঘুমাতে যাবে। উহু। মাছের লেজটা কামলা দিয়ে দেয়ালে লাগিয়ে দেব। মাছের লেজে শুয়ে থাকলে বুঝবে পৃথিবীর সবচেয়ে আরাম সেখানে।
আমি গতবছরই বিদ্যালয়ের মতো শপথ করেছি একদিন বেড়ালছানাটাকে মাছের লেজে ঘুম পাড়াবো। কেন জিলেটের ওপর ও ঘুমায়? জানেন? সেটা একমাত্র ডাক্তার মফিজুদ্দিন জানে। সেই ডাক্তারেরও বিড়ালের মতো উলসুতোর লেজ আছে। আমার মনে হয় সেই ডাক্তার এবং এই বিড়াল দুজনের একজনের ডিভিতে আমেরিকা যাওয়া দরকার।
ভিসার এজেন্টের পাশে কুকুরের ছবি ছিল। এজেন্টরা কুকুরকে চুমু খাবে সেটা ভয় দেখানোর জন্য। কুকুরটার লেজটা কাকাতুয়ার মতো। গলাটা বকলেস ওয়ালা উল্লুকের মতো। বকলেসটায় কী লেখা। অ্যাপোলো ১১, না ৯/১১? না বারাক ওবামা?
যেটাই হোক কুকুরের পাখনার লেজ বদলানো গেলে বিড়ালের উলের লেজও বদলানো যাবে। আমি নিজেই তো বৈশ্বিক উষ্ণতায় লেজের ভুমিক্ষয় ঠেকাতে, শাড়ীর ফলসের মতো একটা একস্ট্রা লেজ উপহার দিয়েছিলাম। সেটা বঙ্গ বাজারের ফুটপাথে কেনা। লেজ না থাকলে বিড়াল আর লাউয়ের পার্থক্য কি?
পর্ব ৯: চুরিশিক্ষণ
সাদা উলের লোমের আরেক কাহিনী আছে । যদি আত্মজীবনী লিখি তখন পৃষ্টা ভরাতে অনেক কিছু লাগে। আপাতত বলবো না। সব বলে ফেললে ছাপানেওয়ালারা বইয়ের রিস্ক নেয় না। জানেন তো, উলের লেজ কিন্তু গ্রিসের ডায়াজিনাসের আত্মীয়।
না না না না, ভুল বললাম।আমি যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, লেজটাকে তত্ত্বের মতো প্যাচিয়ে দিলে তার লেজটা বলের মতো গোল হবে। সত্যি কথাটা বলা উচিৎ - আমার হারিয়ে যাওয়া লেজটা পেলে আরেক মুশকিল, বিড়ালটা আমাকে আর মানবে না। ইদানিং হাঁটি কিন্তু ঠিক মানুষের মতো নয়। বিড়ালটা আমাকে মটিভেট করছে। চুরি শিখিয়েছে। এই যে মসৃণত্বের ভাবনা এটাও ওরই দেয়া। প্রথম পর্ব থেকে আমি কি বদলাইনি? নখের দিকে চেয়ে ভাবছি, পা আসলেই এপেন্ডিক্সের মতো অতিরিক্ত অঙ্গ । ফর্মিকাতে কি তবে কী অন্যকিছু বসে আছে? খেঁকশিয়াল?
পর্ব ১০: সনি রিমোট
তাকে বসে বেড়ালটা আমার দিকে সনি রিমোট তাক করছে। বিড়ালটা জানেনা ওটা রিমোটাই না, আমার আগের হাত। ও তো ঘুমায়, জানবে কি করে রিমোট বিক্রি করে গুড়ের কটকটি কিনেছিলাম। সেই মসৃণ কটকটি ও খেয়েছেও আর গন্ধে আমাকে ভাবছে সাংবাদিক।
কিন্তু আবারও প্রশ্ন, সাংবাদিক হলে যে রিমোট দিয়ে নাড়ানো যায় ও জানে কি করে? আমি আসলে তার পেটকে চোখ মনে চশমা পরিয়েছিলাম। সেজন্য ও মাছটাকে দেখতে পায়নি। তুমি এত কষ্ট করেছ! কি দেই বলতো? তুমি ঠাটারি বাজার যাওয়ার আগে আমিও বিড়াল চিনতাম না। সত্যিকারের বিড়াল তো ম্যাক্সিমাম লোকই দেখেনি। জেনুইন বিড়াল দিনে দেখতে পেলে সে হোক্স। ভাল বিড়ালেরা মুখ মুছে অন্ধকারে থাকে।
পর্ব ১০: কষ্ট-ক্যারিয়ার
রাগ না কমলে, ইশপের সেই গল্পটা পড়লেই তা পরিষ্কার হবে। কুকুর কেন বিড়াল কে তাড়া করে তার কারণ ছিল - বিড়ালের অনেক দিনের ইচ্ছে বায়োস্কোপের মতো অনেক গুলো চোখ বসানো। (কি মুশকিল আবারও ভিসা না পাওয়ার কষ্ট।
বিদেশে বিড়াল ফেলার জন্য ক্যাট ক্যারিয়ার আবিষ্কার হয়েছে। নোবেল প্রাইজধারী মাথায় লেজে স্ক্রু দিয়ে হ্যাঙ্গারের মতো বিড়াল ঝুলিয়ে রাখে। বস জানে আমার বিড়ালের ছিটকিনি নাই। সে অবশ্য দরজার ব্যাঙওয়ালা ক্যাট ক্যারিয়ার বোনাস দিয়েছে।
এবার সে সিঙ্গাপুর গেলে বলে দিয়েছি কষ্ট-ক্যারিয়ার আনতে তাহলে অপমানের কষ্টটাকে শক্ত করে আঁকড়ে কামরাঙ্গীর চরে ফেলে আসা যায়। পানি খাওয়ার পর ডাবের ছিদ্র দিয়ে ঠেসে ছুড়ে দিলে ওরা কি উঠে আসতে পারবে?) যা হোক বিড়ালের সেই অনেকগুলো চোখের ঢাকনা গুলো ঘড়ির ডায়াল না হয়ে গোল হয়। গোল মানে বৃত্ত। আবার বৃত্তের তুলনা? আমি কি ইউক্লিড হয়ে যাচ্ছি? হলে কী লাভ অঙ্কের টিচার হয়ে আর কত পয়সা পাব? মানসাঙ্কের বালুটা যদিও বিড়ালটা খুব ভাল পায়।
পর্ব ১১: পলিথিনের নোঙড়
গোল লেজের বর্ণনা শেষ করার আগে পলিথিনের নোঙর ছুড়ে দেয়ার কথাটা বলি। ওই পলিথিনটা কার ইচ্ছেতে বানানো আর কেন ফেলে দিতে হবে সেটা সবার সামনে বলা যাবে না। বিড়ালকে এতক্ষণ দোষ দিচ্ছি। বাকি দোষ বিড়ালের গলায় যাক। বিড়ালটার ঘাড় থাকলে ঘাড়ে দোষ চাপাতাম। সেলসম্যানকে ঘাড়টা দিতে বলেছিলাম। সে বলে মর্টগেজের বিড়ালের আবার ঘাড়। আপাতত বিড়ালকে কে দোষ দিলে কম খরচ। সেই পলিথিনের নোঙরটা কালো নিষিদ্ধ পলিথিনে তৈরী।
পাতলা সুতোয় বেঁধে পলিথিনের বাচ্চাটাকে প্রথম বার যখন নদীরপানিতে ডুবিয়ে দেই সে ঠিক বিড়ালের মতো মসৃণ পানির গন্ধ পায়। আমি সন্দেহ করেছিলাম সে অসুস্থ বধুর দাঁত মাজা কয়লা দেখে মুখ ডুবাবে। পলিথিনদের সখ থাকে, কিন্তু এমন কেন? নোঙ্গরের যা ওজন ডুবে যাওয়ার কথা। এজন্য ঐ ঘাটের দিকে ভেসে যেতে অনুমতি দিয়েছিলাম।
পর্ব ১২: বিশ্বাসঘাতক
বিড়ালটা বলেছে সে গোসলরত এক রমনীর দিকে নজর দেয়। পলিথিনকেও আর বিশ্বাস করার উপায় নেই। একে ডায়েট করাতে হবে। অফসেট কাগজের মত সেই পেট। সেখানে সে ভেসে গিয়ে বিড়াল হয়ে গেলে দুই বিড়ালের ঝামেলা মাথায় নেয়া যাবে না।
পর্ব ১৩: বিড়ালের পিসের নিদ্রা
ফেরার পথে ঠাটারী বাজারে গেলাম, বেড়ালটা অনেক দেরীতে হলেও মাছকে রেশমের মতো মসৃণ স্বীকার করেছে। কিন্তু অনিবার্য কারণ বশত: মত বদলাইনি। বেড়ালটার বদলে একটা কেতলী কিনেছি। কেতলী না কিনে রেফ্রিজারেটর কিনলেও চলতো। অথবা ভুড়ি কমানোর স্কাইশপের যন্ত্র। কিন্তু লেজের স্মৃতির বদলে কেতলীর নলটা না থাকলে রাতে ঘুম আসবেনা।
আর জাফরানী কেতলী, বাণিজ্যমেলায় ইরানী স্টলে পাওয়া যায়। খুচরা পয়সা না থাকায় কেতলীবেপারী কয়েকপিস বিড়ালও ভাংতি হিসাবে ফেরত দিয়েছিল। পিসগুলো ঝক ঝক শব্দ করতে করতে কেতলীর ভিতলে চাকভুম গাইছিল। বৃষ্টির শব্দ চাড়া এতো আনন্দ কেউ দিতে পারে না।
বাইরে ঠান্ডা ৩ ডিগ্রীতে নেমে গেলে, একটা বিড়ালের পিস গরগর চাদরে ঢুকে যায়। নাক ঘষে। তারপর কুন্ডলী হয়ে ঘুম দিলে পলিথিনের অবশিষ্টটা দিয়ে একটা নকশীকাঁথা বানিয়ে তাকে ঢেকে দেই।
-----
উপরের পাঠ শব্দের খেলা ছাড়া আলাদা কোন অর্থ নিয়ে লেখা না। চমস্কী বটের মতো অসংলগ্ন তার বিস্তার। এলোমেলে লেখাকে যে মুক্তগদ্য বলে তা আন্দাজ করেছি নৈশচারী এবং অন্ধ আগন্তুকের মন্তব্য থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



