পাষাণী বংশীয়াল নারীর বেদনা জানিলি না
বুকেতে ডাকিলি অধীর করিয়া
পরান হরিলি চোরা, নিলি না আমারে সিঁদ কাটিয়া
পিরিতির খুদ দিয়া অভুক্ত পঙ্খীরে ডাকিলি রে
নিশি রাইতে বাড়াইলি যন্ত্রণা,
রঙিলা স্বপন দিলি নয়ন কাজলে, কালিয়ারে
নিলি না পিঞ্জর কাটিয়া
শরিলে দহন দিলি, বুকে দিলি গোক্ষুর যাতনা
যমুনার জল বাড়ে দিন রাতি চক্ষের বারিতে
ডুবাইলাম কলসি কুল নারী
ডুবিল নারীর কুল
নিজে রহিলি তীরে ও আমার কালিয়া
উতলা বেণু বাজাইলি রে কালিয়া
কেওয়ারও চাবি আঁটা কুটিলা নাগিনী দুয়ারে
বুকের পাষাণ ফাটে, বন্ধু রে সহিতে পারি না
পীরিতি খেলনা তোর নিঠুর কালিয়া
কলঙ্কের দাগ লাগে না পুরুষের গাত্রে
বুঝিবি না বিরহিণী ঘরে থাকে বন্দি
পারিনা সহিতে এ যাতনা একেলা একেলা
অন্তর হরিলি চোরা, নিলি না আমারে সিঁদ কাটিয়া
ঝুলনায় দুলিয়া দুষিলি রাধিকারে
বংশীতে বাজাইলি রে দুষ্কের রাগিণী
শিয়র ভিজিছে নারীর, তুই বুঝিলি না
বুকেতে ডাকিলি অধীর করিয়া
পরান হরিলি চোরা, নিলি না আমারে সিঁদ কাটিয়া
--
ড্রাফট ১.০ / নিরীক্ষামূলক পোস্ট
--
পাদটীকা:
কখনো বুঝি না রাধার বিরহ, কি তীব্র কামনা তার দেহে
কি আবেগে ঘর থেকে বের হয়ে আসে নারী
শ্যামের বিরহ, এত রূপ ছেড়ে
ব্যাকুল কুলনারীর জন্য সে
অধীর নির্জনে শীত রাত্রিতে,
বাঁশি ছাড়া কিছু নেই তার হাতে, যা দিয়ে সংকেত পাঠায়
যদি না আসে গোপিনী সমস্ত আয়োজন তার চুলোয় যাবে
কখনো বুঝি নি কোথায় সে সুখ রাধার
কোন অধৈর্য গৃহের সুখ বলী দেয়
অন্ধকারে শ্বাপদশঙ্কুলে যমুনা একান্ত হয়
কখনো এমন বুঝি নি কি এমন সুর
যে সুর বাঁশিতে অভিনয় মাত্র
যে সুর আজন্ম পরানের ডাক
নতুন শহরের মানুষেও পাই তার প্রতিরূপ, শূন্য বুক
ছটফট করতে থাকা ডানা ঝাপটে কারাগারের দেয়ালে
বসে আছে প্রেম অস্থির অপেক্ষায়, পরানের ডাকে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

