যে প্রধান ৭ টি কারনে আওয়ামী লীগ বি,এন,পি, এবং জিয়াউর রহমান-কে এতো অপছন্দ এবং ভয় করে, সেগুলো হলোঃ
১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অগনতান্ত্রিক একদলীয় সৈরাচারী ত্রাস-এর শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে বি,এন,পি, এই দেশে বহুদলীয় গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে এবং শেখ মুজিবের দানবীয় দুঃশাসনের দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্ত করে দেশের মানুষ-কে খোলা বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলো।
২. দেশের সংবাদ মাধ্যম এবং মানুষের বাক স্বাধীনতা শেখ মুজিব গলা টিপে রেখেছিলেন এবং প্রচার মাধ্যমে সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন কথা বলার সুযোগ কারো ছিলো না। অন্য কোন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো। বি,এন,পি, এসে দেশের সংবাদ মাধ্যম এবং সাধারন মানুষের বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলো।
৩. ভারতের কাছে আমাদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ-কে ভারতের একটা নতজানু অঙ্গরাজ্যে পরিনত করার যে প্রক্রিয়া শেখ মুজিব শুরু করেছিলেন (যেমন, ফারাক্কা বাঁধ চালু করার অনুমতি দেওয়া, আমাদের দেশের ভুমি, বেরুবাড়ি ভারত-কে দিয়ে দেওয়া, ইত্যাদি), বি,এন,পি, এসে তা বন্ধ করে দিয়েছে (বর্তমান আওয়ামী সরকার তা আবার চালু করেছে।) এবং বাংলাদেশের মানুষ-কে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে একটা স্বাধীন, সার্বভৌম এবং সন্মানিত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে বেঁচে থাকার সংগ্রামের সূচনা করেছিলো।
৪. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই দক্ষীন এশিয়ার ৭ টি প্রতিবেশী দেশ মিলে পারষ্পরিক আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য সার্ক গঠন হয়েছিলো এবং স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানই আঞ্চলিক মহা শক্তি চীনের সাথে আমাদের কুটনৈতিক এবং পারষ্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন যা আমাদের-কে ভারতের অপরিহার্য ক্রিতদাস হওয়া থেকে তখন রক্ষা করেছিলো। (বর্তমান আওয়ামী সরকার সেই কৃতদাস হওয়ার প্রক্রিয়া আরো জোরে-সোরে চালু করেছে।)
৫. বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বি,এন,পি, এদেশের সব রাজনৈতিক দল-কে সমান অধিকারে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। এমন কি শেখ মুজিবের ক্ষমা করা স্বাধীনতা-বিরোধীরাও এদেশে গণতান্ত্রিক অধিকারে স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে। (এতেই আওয়ামী লীগ ক্ষিপ্ত কিন্তু তাদের চৌদ্দ গুষ্ঠীর আব্বাজান যে স্বাধীনতা-বিরোধী-দের ক্ষমা করে দিয়ে এই ব্যপারে প্রথমেই সবচেয়ে বড় অপরাধ-টি করেছে, আওয়ামী লীগ তা কখনোই বলে না।)
৬. শেখ মুজিব যেখানে একটা নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী (রক্ষী বাহিনী) তৈরি করে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী-কে একেবারে দূর্বল করে বিলুপ্ত করে দেওয়ার প্রকৃয়া শুরু করেছিলেন, জিয়াউর রহমান এসে তা বন্ধ করে দেন এবং আমাদের সামরিক বাহিনী-কে আরো সুশিক্ষিত, সুগঠিত এবং সুসজ্জিত করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেন।
৭. জিয়াউর রহমানই প্রথম বি,এন,পি, এর রাজনীতি-তে শিক্ষিত, দক্ষ এবং সুচিন্তিত লোক-দের নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি প্রগতিশীল সুদূর প্রসারী রোড ম্যাপ তৈরি করেন। বি,এন,পি, এর আগে আমাদের দেশে শুধু বড় বড় বক্তৃতা, উপাধি প্রদান আর আবেগী ভাসন ছাড়া দেশের ভবিষ্যতের জন্য কোন রোড ম্যাপই ছিলো না; অবশ্য শেখ মুজিব নিজেকে বাংলাদেশের আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইন পাশ করিয়ে এবং বাকশাল-কে বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে সুনির্দিষ্ট করে (সেখানেও শেখ মুজিবই আজীবন দলের প্রধান) বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নিজের ভবিষ্যতের পাকা-পোক্ত রোড ম্যাপটি ঠিকই তৈরি করে নিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বাকশাল এবং আওয়ামী লীগ-এর দেশ এবং জনগনের স্বার্থ-বিরোধী কু-কর্ম গুলোর প্রতিকার এবং প্রতিরোধ করার জন্যই জিয়াউর রহমান এবং বি,এন,পি, প্রথম থেকে কাজ করে আসছে। কাজেই, জিয়াউর রহমান বা বি,এন,পি, কে আওয়ামী লীগ তাদের প্রধান শত্রু বলে হিসেব করবে- এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ ভালো ভাবেই জানে যে, সু-কর্মের চেয়ে কু-কর্মে তাদের দক্ষতা অনেক বেশী এবং বাংলাদেশের যে কোন রাজনৈতক দলের চেয়ে কয়েক শত গুন বেশী। কাজেই, ক্ষমতা পাওয়া বা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ-কে তাদের কু-কর্মের অপ্রতিরোধ্য ’স্ট্রেংথ’ এর উপরই নির্ভর করতে হয়।
তাই কু-কর্ম করেই আওয়ামী লীগ-কে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করতে হয় এবং তাদের কু-কর্মের বিরুদ্ধে যে দল সবচেয়ে বেশী সোচ্চার এবং যে ব্যক্তি তাদের-কে তাদের কু-কর্মের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি দিয়েছিলো- তারাই হলো আওয়ামী লীগ-এর কাছে এখন সবচেয়ে বেশী খারাপ। অর্থাৎ, বি,এন,পি, এবং মৃত জিয়াউর রহমানই হলো এখন তাদের চোখের বিষ। আসলে জিয়াউর রহমানের ভুত এবং বি,এন,পি, এর স্বাধীনতা, জাতিয়তাবাদ এবং প্রগতিশীলতার নীতি আওয়ামী লীগ-কে প্রতিনিয়ত দুঃপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে; সেজন্যই বি,এন,পি, এবং মৃত জিয়াউর রহমান-কে আওয়ামী লীগ-এর এতো ভয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



