আল্লাহর কাছে দোয়া করুন আল্লাহরই শেখানো ভাষায়
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১২:০৪
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,
(হে নবী,) আমার কোনো বান্দা যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তাকে তুমি বলে দিয়ো), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; আমি আহবানকরারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে, তাই তাদেরও উচিত আমার আহবানে সাড়া দেয়া এবং (সম্পূর্ণভাবে) আমার ওপরই ঈমান আনা, আশা করা যায় এতে করে তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে । (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৬)
সুতরাং আসুন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহর শেখানো ভাষায় । জেনে নিন কিভাবে দোয়া করবেন---
১) .... হে আমাদের প্রতিপালক, এ দুনিয়ায়ও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো, পরকালেও তুমি আমাদের কল্যাণ দাও; (সর্বোপরি) তুমি আমাদের আগুনের আযাব থেকে নিস্কৃতি দাও । (সূরা বাকারা : আয়াত ২০১)
২) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের সবরের তাওফীক দান করো, দুশমনের মোকাবেলায় আমাদের কদম অটল রাখো এবং অবিশ্বাসী কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো; (সূরা বাকারা : আয়াত ২৫০)
৩) .... হে আমাদের মালিক, যদি আমরা কিছু ভুলে যাই, (কোথাও) যদি আমরা কোনো ভুল করে বসি, তার জন্যে তুমি আমাদের পাকড়াও করো না, হে আমাদের মালিক, আমাদের পূর্ববর্তী (জাতিদের) ওপর যে ধরনের বোঝা তুমি চাপিয়েছিলে তা আমাদের ওপর চাপিয়ো না, হে আমাদের মালিক, যে বোঝা বইবার সামর্থ আমাদের নেই তা তুমি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ো না, তুমি আমাদের ওপর মেহেরবানী করো । তুমি আমাদের মাফ করে দাও । আমাদের ওপর তুমি দয়া করো । তুমিই আমাদের (একমাত্র আশ্রয়দাতা) বন্ধু, অতএব কাফেরদের মোকাবেলায় তুমি আমাদের সাহায্য করো । (সূরা বাকারা : আয়াত ২৮৬)
৪) .... হে আমাদের মালিক, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর যুলুম করেছি, তুমি যদি আমাদের মাফ না করো তাহলে অবশ্যই আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্তদের দলে শামিল হয়ে যাবো । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ২৩)
৫) .... হে আমাদের মালিক, (তুমি) আমাদের এ যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ৪৭)
৬) .... হে আমাদের মালিক, আমাদের এবং আমাদের জাতির মাঝে তুমি (সঠিক একটা) ফয়সালা করো দাও, কারণ তুমিই হচ্ছো সর্বোত্তম ফয়সালাকারী । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ৮৯)
৭) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও এবং (তোমার) অনুগত বান্দা হিসেবে তুমি আমাদের মৃত্যু দিয়ো । (সূরা আল আ’রাফ : আয়াত ১২৬)
৮) ... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের যালেম সম্প্রদায়ের অত্যাচারের শিকারে পরিণত করো না । এবং তোমার একান্ত রহমত দ্বারা তুমি আমাদের (ফেরাউন ও তার) কাফের সম্প্রদায়ের হাত থেকে মুক্তি দাও । ( সূরা ইউনুস : আয়াত ৮৫-৮৬)
৯) হে আমাদের মালিক, আমরা যা কিছু গোপন করি এবং যা কিছু প্রকাশ করি, নিশ্চয়ই তুমি তা সব জানো; আসমানসমূহে কিংবা যমীনের (যেখানে যা কিছু ঘটে এর) কোনোটাই আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না । (সূরা ইবরাহীম : আয়াত ৩৮)
১০) হে আমার মালিক, তুমি আমাকে নামায প্রতিষ্ঠাকারী বানাও, আমার সন্তানদের মাঝ থেকেও (নামাযী বান্দা বানাও), হে আমাদের মালিক, আমার দোয়া তুমি কবুল করো । হে আমাদের মালিক, যেদিন (চূড়ান্ত) হিসাব কিতাব হবে, সেদিন তুমি আমাকে, আমার পিতা মাতাকে এবং সকল ঈমানদার মানুষদের (তোমার অনুগ্রহ দ্বারা) ক্ষমা করে দিয়ো । (সূরা ইবরাহীম : আয়াত ৪০-৪১)
১১) .... হে আমাদের মালিক, একান্ত তোমার কাছ থেকে আমাদের ওপর অনুগ্রহ দান করো, আমাদের এই কাজকর্ম (আঞ্জাম দেয়ার জন্যে) তুমি আমাদের সঠিক পথ দেখাও । (সূরা আল কাহফ : আয়াত ১০)
১২) .... হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের মাফ করে দাও, আমাদের আগে আমাদের যে ভাইয়েরা ঈমান এনেছে তুমি তাদেরও মাফ করে দাও এবং আমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের মনে কোনো রকম হিংসা বিদ্বেষ রেখো না, হে আমাদের মালিক, তুমি অনেক মেহেরবান ও পরম দয়ালু । ( সূরা আল হাশর : আয়াত ১০)
১৩) .... হে আমাদের মালিক, আমরা তো কেবল তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং আমরা তোমার দিকেই ফিরে এসেছি এবং (আমাদের) তো তোমার দিকেই ফিরে যেতে হবে । হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের (জীবনকে) কাফেরদের নিপীড়নের নিশানা বানিয়ো না, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দাও, অবশ্যই তুমি পরাক্রমশালী ও পরম কুশলী । (সূরা আল মোমতাহানা : আয়াত ৪-৫)
১৪) .... হে আমাদের মালিক, আমাদের জন্যে আমাদের (ঈমানের) জ্যোতিকে (জান্নাতের জ্যোতি দিয়ে তুমি) পূর্ণ করে দাও, তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, অবশ্যই তুমি সব কিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান । (সূরা আত তাহরীম : আয়াত ৮)
হে আল্লাহ, তুমি আমাদের দোয়া কবুল করে নাও । আমীন
নেই মানুষ বলেছেন:
চমতকার। ৫
নুর3ডিইডি বলেছেন:
আমীন
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:
ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।আল্লাহর বাণীকে সর্বত্রই ছড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।যেমন:ব্লগ
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক।৫
ঠোটকাটা ব্লগার বলেছেন:
আমি একটা দোয়া করি আমার নিজের মতো করে।সেটা হচ্ছে :হে আমার প্রভু আল্লাহ।আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যান কামনা করছি।আমি তোমার কাছে আলাদা করে কিছু চাই না,কারন আমি জানি আমার চাওয়ার চাইতেও অনেক বেশি তুমি তোমার বান্দাদেরকে দিতে পারো,তাহলে আমি কেন নির্দিষ্ঠ করে কিছু চাইব।
তুমিই একমাত্র দাতা,একমাত্র দয়ালু ,আর তোমার ভান্ডার কখনোই অপূর্ন নয়।
আপনাকেও ধন্যবাদ । আপনার এ বোন সে চেষ্টাই করছে । আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন ।
সাবাত বলেছেন:
লেখাটির জন্য ধন্যবাদ । আর সাথে ৫ ।
ঠোটকাটা ব্লগার বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ।
সজীব বলেছেন:
সময় কম বলে এখন পুরাটা পড়তে পারলাম না। তবে এই ধরনের লেখা রমজান মাসে আরো চাই।
"আল্লাহ আপনার কাছ থেকে আরও ভাল কিছু পাওয়ার তৌফিক দিক আমাদের সকলকে।"
আল্লাহ আমাকে সে শক্তি দিন ।
ধন্যবাদ বোন চতুরভূজ ।
ভাই সজীব, সময় করে পড়ে নিয়েন । ধন্যবাদ আপনাকে ।
আমি আল্লাহকে ভয় করি,তার একত্ববাদে বিশ্বাস করি কিন্তু নামাজ পরিনা...মানে ভয়টা ততটা কার্যকরি না। আমি জানি আমার মতো অনেকেই এখানে আছেন। কি করলে নামাজী হব জানিনা। তবে মনে মনে আল্লাহকে স্মরন করি। জানি এটা জথেষ্ট না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ডেস্টিনেশন ফিক্সড!
আপনি তো দেখছি যথেষ্ট ভাবেন এবং জানেন
। আমার কাছে আপনাকে একজন ঈমানদারই মনে হচ্ছে । এখন শুধু দরকার আল্লাহ আপনার জন্য যে নীতিমালা তৈরি করে পাঠিয়েছেন ওটা আপনি কতটা জানেন এবং অনুসরণ করেন । তাই আমি বলি কি, আপনি কুরআনের বাংলা অনুবাদ পড়ুন । দেখবেন, আপনার ঈমান আরো পাকাপোক্ত হবে ইনশাআল্লাহ ।
আসলে আমি মনে করি, কুরআন না বোঝার জন্য আমাদের এই অবস্থা । একটু ভেবে দেখুন, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাফেরদের কাছে গিয়ে শুধু 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বললেন তখন তাদের মধ্যে কতটা চাঞ্ঝল্য সৃষ্টি করেছিল । এই একটা বাক্যের কতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল, ফলস্বরূপ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে অনেকে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন । সাহাবীরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন কিন্তু তাদের মুখ থেকে এর বিপরীত কিছু বের করতে পারে নি কাফেরদের দলেরা । কখনো মনে হয় না, কেন? এই একটা বাক্য সাহাবীরা শুধু বলেন নি, গ্রহণ করেছেন । আল্লাহ এক হিসাবে গ্রহণ করেছেন । সকল ভাল-মন্দের মালিক হিসাবে গ্রহণ করেছেন । এক আল্লাহর দেয়া আইন-কানুনও মেনে নিয়েছেন । নয়তো এটা শুধুমাত্র একটা বাক্য হলে কাফেররা কেন নির্যাতন করবে? পৌত্তলিকতার দিন যে শেষ হতে চলেছে এটা কাফেররা বুঝেছিল ।
এখন একবার আমাদের দিকে তাকান, আমরা অনেকেই দিনে হয়তো ১০০ বার করে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে যিকর করি । কিন্তু আমাদের মনে কি সেই প্রভাবটা বিস্তার করে? আমরা কি জানি 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' বললে কতটুকু তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হবে ? আমরা কি কখনো ভাবি, আল্লাহ কে এক মেনে নিলে তাঁর দেয়া জীবন বিধানও মেনে নিতে হবে? কখনো কি ভেবে দেখি এগুলো?
যাহ, অনেক কিছু বলে ফেললাম । যদিও আমি গুছিয়ে বলতে পারি না ।
শেষে বলি, আপনি আরো ভাবুন, কুরআন পড়ুন এবং প্রশ্ন করুন নিজেকে ।
আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন । আমীন
ধন্যবাদ ।
আগের মন্তব্যটি সেহরীর জন্য তাড়াহুড়ো করে লিখতে গিয়ে কিছু শব্দগত ভুল রয়ে গেছে ।
যাই হোক, আপনি হতাশ হবেন না । ঈমানদার ব্যক্তিরা কখনো হতাশ হয় না ।
আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন ।
অজানা অচেনা বলেছেন:
সালাম এক পশলা বৃষ্টি। অনেকের ব্লগে এই পোস্টটি প্রিয় পোস্টের তালিকায় দেখে ঢুকে পড়লাম। ভাল লাগল দোয়াগুলো। কিন্তু প্রিয় পোস্টে কিভাবে যোগ করে জানিনা। তাই যোগ করতে পারলাম না।নতুন ব্লগার হিসেবে ব্লগের কিছু বিষয় চোখে পড়েছে-জানিনা কতটুকু সঠিক- দেখলাম প্রায় পোস্টেই বিভিন্ন মতের লোকদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ, পাল্টাপাল্টি মন্তব্য লেগেই থাকে। কিন্তু সেদিক দিয়ে এই পোস্ট টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারনটা আপনারাই ভালো জানেন, আপনারা পুরনো ব্লগার।
আরেকটা মজার বিষয় শেয়ার না করে পারলাম না- এই দোয়া গুলোর আরবী দেয়া থাকলে আমরা বুঝতাম, অনেক দোয়াই আছে, ছোটবেলা থেকেই নামাজের পরে, কিংবা যেকোনো মুনাজাতে, পড়তে কিংবা শুনতে আমরা অনেকেই অভ্যস্ত। কিন্তু এর মানে যে এতো সুন্দর হতে পারে, আমাদের অনেকেরই জানা হয়ে উঠেনি।
যে কোন পোস্ট প্রিয় পোস্টে এ্যাড করবেন কিভাবে---
যেখানে রেটিং দেয়া হয়, সেখানে দেখবেন একটা envelop এর আইকন আছে, তার ডান পাশে নীল রঙের একটা আইকন আছে । মাউস ওটার ওপর ধরলে Add to Your Showcase লেখাটি দেখতে পাবেন । ওই নীল আইকনটি ক্লিক করলেই আপনার প্রিয় পোস্ট এ্যাড হয়ে যাবে ।
আমরা আসলে অনেকেই অর্থ না বুঝেই দোয়া করি । তাই আমাদের দোয়াগুলি হৃদয় থেকে হয় না ।
দেখা গেল, যার বিয়েই হয়নি সে দোয়া করছে--- "......আমার সন্তানদের মাঝ থেকেও (নামাযী বান্দা বানাও)......"
এটা খুব ছোট্ট উদাহরণ । অনেকে সালাতে বড় সূরাগুলি যখন পাঠ করে তখন দেখা যায়, ঘটনার পূর্ণতা না দিয়েই সালাত শেষ করে দেয় । যেমন ধরুন, ইউসুফ (আ) এর ঘটনা । অনেকে দেখা যায়, ইউসুফ (আ)-কে কুয়োতে ফেলা পর্যন্ত পড়েই সালাত শেষ করে । কুয়ো থেকে উঠানোর কোন প্রয়োজনই মনে করে না ।
অর্থ না বোঝার কারণে এগুলো হয় ।
তাই যা পড়বেন, যতোটুকু পড়বেন জেনে পড়ুন, বুঝে পড়ুন । নিজেরও ভাল লাগবে, সালাতেও মনযোগ আসবে ।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ


















