somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাতৃহন্তক সন্তান! মাতৃহন্তক জাতি!

০২ রা জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সাতার কাটতে জানি। নদীমাতৃক দেশ নামে বিশ্বে পরিচিত একটি দেশের বাসিন্দা হিসেবে এটা আলাদাভাবে উল্লেখ করার বা গর্বের কোন বিষয় নয়। তবে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের অনেককেই যখন এই কর্মটিতে অযোগ্য দেখি তখন নিজেকে নিয়ে অন্তত নিজের কাছে গর্ব করি। আর এই গর্বের ভিত্তিমূল অর্থাৎ সাতার শেখাটা সম্ভব হয়েছে ছেলেবেলায় নানাবাড়িতে থাকার কারণে। প্রায় একযুগ পরে গেল সপ্তাহে সেদিন নানাবাড়িতে গেলাম। ভেবেছিলাম ছেলেবেলায় যে পুকুরটিতে সমবয়সী মামাদের সাথে দলবেধে গোসল করতে যেয়ে সাতার শিখেছিলাম তার শীতল জলে নিজেকে আবার সিক্ত করব। কিন্তু পুকুরের অস্তিত্ব কোথায়ও পেলাম না। জেলা শহরে অবস্থিত হওয়ার কারণে বাণিজ্যিক বিবেচনায় পুকুরটি টিকিয়ে রাখা মামাদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়নি। ভরাট করে ওখানে মার্কেট করা হয়েছে।

ঠিক দেড়যুগ আগে যখন এই শহরে (শহরতলী বলাই শ্রেয়) এসেছিলাম তখন এখানেও প্রচুর খাল দেখেছি, কিছু পুকুরও দেখেছি। দলবেধে বন্ধুরা সেখানে গোসল করেছি। স্কুলছুটির দিনে একটাকা বাসভাড়া দিয়ে বন্ধুরা সবাই শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যেতাম। খাল আর পুকুরগুলো কখন যে চোখের পলকে রাস্তা আর মার্কেট হয়ে তা বুঝে উঠতে পারিনি। আর শীতলক্ষ্যা নদী! সেটাতো দখল আর গার্মেন্টস্ এর বর্জ্য নিক্ষেপের ফলশ্রুতিতে ময়লা বাহক ড্রেনের রূপ নিয়েছে। তাকালে গোসল করার সাহসতো দূরে থাক, নাক বন্ধ করে দৌড়ে পালাতে হয়।

রাজধানীর উত্তরে জুরাইনে গীত আর সংগীত নামে দুটি সিনেমা হল ছিল। এখনও হয়তো আছে, তবে আমি নিশ্চিত না। বহুকাল ওদিকটাতে যাওয়া হয়না। ছেলেবেলায় আমি আর আমার সিনেমাপাগল এক খালাত ভাই এই হল দুটিতে প্রায় প্রতি মাসেই সিনেমা দেখতে যেতাম। সিনেমা দেখার আগে বা পরে এক টাকা ভাড়া দিয়ে নৌকা করে বুড়িগঙ্গার ওপারে যেতাম আবার ফিরে আসতাম। বুড়িগঙ্গা দিয়ে এখন নৌকা চলে কিনা আমি জানিনা। তবে পত্রিকা পড়ে যা বুঝতে পারি শীতলক্ষ্যা নদীর মতো এটাও হয়তো ময়লা বাহক ড্রেনের রূপ নিয়েছে অথবা এখন না নিলেও ভবিষ্যতে নিবে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা অন্য আরেকটি নদী তুরাগেরও একই অবস্থা। দখল, ভরাট আর কারখানার ময়লাকে ধারণ করতে গিয়ে সেও ড্রেনে রূপ নিয়েছে। অথচ ভাবতে অবাক লাগে এর পাশেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একটি সমাবেশ। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিচিত খোদ রাজধানীর নদীগুলোরই যখন এই অবস্থা তখন সারাদেশের অন্য নদীগুলোর কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।

ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনকে নানা কর্মসূচি নিতে দেখা যায়। তবে সেগুলো বিচ্ছিন্ন এবং পরিকল্পিত নয়। এসব কর্মসূচির ফলশ্রুতিতে সাময়িকভাবে কিছু উচ্ছেদ অভিযান হলেও অল্পদিন পরেই আবার নীরবতা, আবার আগের মতো সেই দখলবাজি। বেচারাদের দোষ দিয়ে কি লাভ? নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সমাজসেবা আর ক'দিন চালানো সম্ভব।

প্রাণীজগতে তেলাপোকা সর্বভূক বলে পরিচিত। খাবারের ব্যাপারে তার কোন বিচার নেই। যা পায় তাই খায়। হজমেও কোন সমস্যা নেই। অবশ্য এই সর্বভূক তেলাপোকা তার মাকে খায় কিনা তা আমার জানার পরিধির আওতায় নেই। কিন্তু মনুষ্যজাতির মধ্যে সর্বভূক বলে পরিচিত আমরা বাঙ্গালীরা যে আমাদের গ্রাসের তালিকা থেকে নিজের মাকেও বাদ দেইনি সে বিষয়টি আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাকে অবহিত করতে পারি।

আমরা নিজেদের নদীমাতৃক দেশের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেই। নদীকে নিজের মা বলে দাবি করি। অথচ নিজেদের স্বার্থে, দেশের ভবিষ্যৎ ও পরিবেশের কথা না ভেবে আমরা এই মাকে হত্যা করতেও কুন্ঠিত হইনা। এই আচরণের পরও কি বলা উচিত যে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ? নদী আমাদের মা? না, কোন অবস্থায়ই নয়। বরং এই দেশের পরিচয় হওয়া উচিত নদীহন্তক বাংলাদেশ। আর আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত মাতৃহন্তক সন্তান হিসেবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৯
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×