কবিতা এখন আর আমার কাছে আসেনা, তাই আমি
তার স্তন্যাগ্রে দু'আঙুলে চিমটি কেটে কাগজের বুকে দাগ কেটে যাই;
আর তার নাম দেই কবিতা, ব্যস এভাবেই কোনরকম লেখা হয়।
কিন্তু সত্যি বলছি, কবিতা এখন আর আমার শয্যায় পেতে দেয় না তার ঊরু,
কবিতা আর আসে না আমার কাছে।
আগে আমার অভ্যাস ছিল ছড়িয়ে ছিটেয়ে বাতাসে উড়তে থাকা
শিমূলতুলোর মত কষ্টগুলোকে হাত বাড়িয়ে ধরার।
ধরে ধরে সেগুলোকে বুকের ভেতর ভরে আমি একটা বালিশ বানাতাম,
নরম তুলতুলে বালিশ।
সেই বালিশটা কেন জানি কবিতার খুব প্রিয় ছিল।
সেটার লোভেই কবিতা যখন-তখন মেনে নিতো আমার সাথে যন্ত্রনাক্লিষ্ট সঙ্গম;
ছেনালের মত কাতর শব্দে আমাকে গ্রহন করে
সে আঁকড়ে ধরত সেই বালিশটা,
ওটার লোভেই এক গোলাপী রাইটিং-প্যাডে সে এঁকেছিল ২৯টি সঙ্গমের
কালচে রক্তাক্ত চিহ্ন।
ক্ষোভের তীব্র জিঘাংসায় একদিন আমি ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলেছি
আমার প্রতিপক্ষ সেই কষ্টের বালিশকে।
তারপর খালি বিছানায় টেনে এনে ছুঁড়ে ফেলেছি কবিতাকে;
"এবার আয় নটী, দেখি কত খেলতে পারিস!"
এরপর বড়জোর দু'বার কি তিনবার।
আর আসেনি কবিতা।
আত্নসন্মানের দম্ভে আমিও আর ডাকিনি তাকে, জাহান্নামে যাক...
ইংলিশ রোডে দাঁড়িয়ে গালে সস্তা রুজ মেখে খদ্দের ডাকুক গে খানকী,
তাতে আমার কী?
নীলচে খাঁকি পোষাকের বাতাস লেগে মরুক সেই মাগী,
আমার তাতে কী?
অথচ আমার শিয়রেই বসেছিল সে তখন থেকে।
চিতাকাষ্ঠে পড়ে রয়েছে যেন অনন্তকাল ধরে এক আশ্চর্যরকম সতেজ
টাটকা শবদেহ।
গায়ে তার জমছে ধুলো, তেলাপোকা কামড়ে খাচ্ছে তার নরম গোলাপী ঠোঁট।
তারপরও আসেনি আমার কাছে সে।
এতোটা অভিমান কোথায় পেলে? শুধালাম তাকে;
আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে থেকে থেকে
যা ছিল তার সবটুকু নিয়ে নিলে? কবে কোন ফাঁকে!
আমি ডাকি নি বলেই অভিমানি কবিতা আর আসেনা আমার বিক্ষত বুকে।
কবিতা আর আসে না
কবিতা আর আসে না
.... আর আসে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



