ব্লগের পাতায় অনেকদিন পর আবার প্রাণের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক নতুন নতুন লেখা। কেটে যাচ্ছে গুমোট মেঘ। রোদের আভাস পাওয়া যাচ্ছে পায়ের নিচে গাঁঢ় হয়ে আসা ছায়া দেখে। বেশ কয়েকটা লিখায় কমেন্ট মেরে খুমে বসলাম নিজের ব্লগ। অনেকদিন পড়ে না তাতে কী-বোর্ডের ছোপ। তাই আজকে আবার খুললাম স্মৃতির ডায়রী। বেশি কিছু লেখব না আজ। তবে কি নিয়ে লেখা যায় তা ঠিক করে নিয়েছি। আমার না পাওয়াগুলোকে আমি উড়িয়ে দেব খাঁচা ভেঙে উড়ে যাওয়া পাখির মত। মুক্তি দিব তাদের। আমি জানি হয়তো ফিরে আসবে তাদের অনেকেই আবার এই খাঁচায়। নয়তো জন্ম নিবে আরও নতুন কষ্টের পাখিরা। চলুক না, যতদিন চলে এ খেলা।
কাঠের গাড়ি
শৈশব সবসময়ই মধুর। পাবলিক বাসের সিটের গা ঘিনঘিন করা চটচটে পুরু ময়লার আস্তরে পিঠ ঠেকিয়ে আমি প্রায়ই দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি আমাদের সেই কাঠের গাড়িটাকে। পুঁতি-গন্ধময় মুড়ির টিনের ভিতরে জন্মানো সাদাটে পোকার মত ছটফট করতে করতে শৈশবের মধু চেটে চেটে খাই তখন নষ্টালজিক আমি।
আমার নানীর বাড়ি ছোটবেলা থেকেই ছিল আমার খুব প্রিয় জায়গা। মা'র সাথে যখন সেখানে যেতাম, আর সাথে জুটতো সব খালাতো/মামাতো ভাই বোনদের বিশাল ব্যাটালিয়ন, দুনিয়াটাকে তখন মনে হতো ম্যাগাইভারের গবেষনাগার। (সেইসময়কার সুপারহীট টিভি সিরিজ)। আর আমরা সবাই একেক জন ক্ষুদে ম্যগাইভার। নানার রেখে যাওয়া বিরাট জমির এক কোনায় একতলা একটা বাড়ি। সামনের বিশাল খোলা উঠোন। উঠোনের পাশে দেয়াল ঘেঁষে সারি ধরে দাঁড়নো সব গাছ। খেঁজুর, নারিকেল, কাঠবাদাম থেকে শুরু করে কি ছিলনা সেইখানে? জঙ্গলঘেরা সে এক বিশাল রাজত্ব ছিল আমাদের। দাবড়ে বেড়াতাম আমরা সবাই আমাদের সেই রাজত্বে, ইচ্ছেমত। এমনই এক রাজকার্যরত দিবসে, আমার এক মামাতোভাই তিড়িং-বিড়িং লাফাতে লাফাতে চরম এক বাদশাহি সন্দেশ (খবর) নিয়ে এলো। তার পিতা (আমার মামা) নাকি রাজি হয়েছেন আমাদের এক গাড়ি বানিয়ে দিতে। কাঠ দিয়ে বানানো হবে সেই গাড়ি। আকারে মোটামুটি বিশাল। আমাদের মত (চার/পাঁচ বছর বয়সি) ৩/৪ জন সেই গাড়িতে এঁটে যাবে অনায়াসে। সমস্যা হল আমরা সংখ্যায় ৯/১০ জন। কিভাব সেই গাড়ি চালানো হবে সেই ব্যপারে কোন তথ্য নেই। কিন্তু তা নিয়ে আমরা বিশেষ চিন্ভিত হলাম না। কোন একটা রাস্তা মামুজান রেডি রাখবেন নিশ্চয়ই। আমবা তাই "কি ভাবে চালানো হবে" তার চেয়ে "কে কে গাড়িতে আগে উঠবে" সেই সিরিয়াল নির্ধারনেই বেশি মনোসংযোগ করেছিলাম। তখন কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এই অস্থির বয়সে এসে তা আজ আর মনে নাই। নিউরনে সংরক্ষণের জন্য বড় অপ্রয়োজনীয় ছিল সেই তথ্য।
কড়া এক ঝাঁকুনি খেয়ে বাসের সিটের বাড়িটা হাঁটুতে হজম করে নিতে নিতে মনে পড়ে- মামার সেই কাঠের গাড়িটা কখনো বানানো হয়ে উঠে নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



