১.
প্রথমেই খিচুড়ি বিষয়ক কাহিনী। আমার এক খালা আছে সে খাওয়া নিয়া খালি বাছাবাছি করে, কোন কিছু্ই সে শখ করে খায়না। যাই হোক একদিন আমাদের বাসায় সে দাওয়াতে এসেছে, আমার আম্মা আবার ঐদিন পোলাও, খিচুড়ি, ভাত সবই রান্না করেছে। খালাজান আমার খেতে বসে বলল, "আমি আজকে হলুদ ভাত খাব

"। আমি ছোট ছিলাম তো, হাসি চাপতে পারিনাই, ফিক করে হেসে দিসিলাম, আম্মার কটমট দেখে আবার শান্ত বাচ্চা!!
২.
আমার একটা আপু আছে, মোটামুটি অসাধারণ টাইপ সুন্দরী। একদা একা বর্ষাকালে তার প্রেমিক (বর্তমানে স্বামী) তার বাসায় এসেছে। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। আপু তখন সবে রবীন্দ্র সংগীত শিখা শুরু করেছে। তো আপু অনেক আবেগ নিয়ে ভাইয়াকে "আজই ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে" গানটা শোনানো শুরু করেছে

। দুই লাইন গাইতে না গাইতেই বৃষ্টি শেষ!!

আপু সেই দু:খ এখনো ভুলতে পারেনাই
৩.
আমাদের স্কুলে এক আজব স্যার ছিল, তার ভ্রু ছিল দেখার মত জিনিস, আধাখাওয়া

। বন্ধু প্রতীক বলত আধাটা নাকি তেলাপোকা খেয়ে ফেলেছে

। একবার এই স্যারের মাথায়
মাল উঠল, সে প্রতিদিন ক্লাসে একজন একজন করে বোর্ডে নিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকায়। পোলাপান যে জিনিস খাতায় আঁকতে পারেনা, চক দিয়ে বোর্ডে কি আঁকবে!! যারা আইডিয়ালের ছাত্র ছিলেন তারা জানেন ডায়রির মহিমা; তো স্যার মনের সুখে একেকজনকে ডায়রিতে ০,১,২ দিয়ে যাচ্ছেন...আমি ইয়া নফসি ইয়া নফসি করছি কবে আমার পালা আসবে

পালা আসল, আমি পাকিজা গার্ডেন প্রিন্ট শাড়ির কোলাজ (আমার তখনকার প্রিয় গান

)গাইতে গাইতে আঁকলাম, পরে দেখি মাশাল্লাহ বেশ স্মার্ট একটা মানচিত্র এঁকে ফেলেছি

স্যারও প্রশংসা করল, ভাবলাম পাঁচের মধ্য চার তো দিবেই

। দিল তিন


!! ৩ নিয়ে চলে যাচ্ছি, স্যার ডাকল,"এ্যাই, ক্লাসের বাকি ৫৯ জনরে ৫টা কইরা কানমলা দিয়া দাও তো! " আমি...

দেখলাম প্রথম পাঁচ রোল নম্বর ওয়ালারা হা করে আছে, যা শুনেছে মাত্র তা বিশ্বাস না হওয়াটা স্বাভাবিক। কি আর করা কোনমতে ৫৯ জনকে কানমলা দিলাম, দুই হাত ব্যথা হয়ে গেছে। কাজ শেষে ডায়রি নিয়ে বেঞ্চের দিকে আগাচ্ছি, আবার ডাক: "দাঁড়াও দাঁড়াও এখনোতো শেষ হয়নাই। এই যে এত মজা কইরা সব বন্ধুরে কানমলা দিলা, এইবার বোর্ড কানমলার একটা ছবি আঁক দেখি!" আমার গেল মেজাজ খারাপ হয়ে

আধাখাওয়া ভ্রু ওয়ালা এক ছেলের ছবি আঁকলাম, যে কানমলা খাচ্ছে আর গাল বেয়ে চোখের পানির ফোঁটা পড়ছে
ঐদিন স্যার ঐ বছরের একমাত্র ৫ আমাকেই দিয়েছিলেন

!
৪.
কালকে সকালের দিকে হুড়াহুড়ি করে অফিসে যাচ্ছিলাম, ইমার্জেন্সি। এক মেয়ে আমাকে ফোন করল, প্রথমে এমন ভাব নিল যে অন্য কাউকে ফোন করতে গিয়ে আমাকে ফোন করে ফেলেছে। এই এ্যাপ্রোচের সাথে আমার বহুল পরিচিতি

, কিছু মনে করিনি বলে ফোন রেখে অবধারিত ২য় ফোনের জন্য অপেক্ষা করছি। সাথে সাথেই ফোন আসল, বললাম "হ্যাঁ আপু বলেন..."। মেয়েটা বলল, "আপনি কি আমাকে একটু সময় দিতে পারেন? আপনার সাথে একটু কথা বলতাম..."
-"আমি একটু জরুরী কাজে বাইরে তো, ঠিকমত কথা বলতে পারবনা। পরে ফোন করেন, সময় নিয়ে কথা বলব

", সত্যি কথাটাই বললাম। মেয়েটা খুশি হল, বাই বলে রেখে দিলাম। মেয়েটা পরে আর ফোন করেনাই

[ভয়েসটা না জটিল ছিল!

]
৫.
একবার এরশাদ, বুশ আর সাদ্দাম একসাথে কোথাও যাচ্ছিল প্লেনে করে। প্লেন ক্র্যাশ করে সুন্দরমত এক জংগলে গিয়ে পড়ল। ৩ মহারথি প্লেন থেকে বের হয়ে দেখলেন, জংলিরা তাদের ঘিরে ফেলেছে। ৩জনকে বেঁধে ছেদে নিয়ে গেল রাজার কাছে। রাজা প্রথমে বিচারের জন্য ডাকল সাদ্দামকে।
-"হে ভিনদেশি... আমার রাজ্যে যান্ত্রিক পাখি নিয়ে আক্রমনের চেষ্টার জন্য তোমাকে শাস্তি পেতেই হবে। আমি দয়ালু রাজা তাই বল কি চাও তুমি, মৃত্যুদন্ড না
বুংগা?" [আশে পাশে আরো কয়েকজন অপরাধীকে বুংগা দেয়া হচ্ছিল সেদিকে দেখাল রাজা। পিছন দিয়ে ক্রমাগত বাঁশের চিকন মাথা ব্যবহার করে বাঁশ দেয়াকে বলে বুংগা

] সাদ্দাম ভাবল মরলে তো সবই শেষ! এর চেয়ে বুংগা খাই

। সে তার সিদ্ধান্ত জানাল। রাজা ঘোষণা করল "গিভ হিম ৫০ বুংগা।"
বুংগা খেয়ে কোনমতে চ্যাগাতে চ্যাগাতে সাদ্দাম ভাই বের হয়ে আসল, দেখে তো বুশের মুখ শুকায় গেল, কারণ এবার লাইনে সে। রাজার সামনে যাবার পর তাকেও একই জিনিস জিজ্ঞেস করা হল। বুশও শুকনা মুখে বুংগা চাইল। রাজা বলল "গিভ হিম ১০০ বুংগা"। (বুশের বেশি কারন তাকে দেখে রাজার পাকনা বান্দর মনে হয়েছে!!) শাস্তি শেষে বুশ ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে বের হচ্ছে, হাঁটার অবস্হা নাই

। এরশাদ ভাবল, নাহ কিছু একটা বুদ্ধি করতেই হবে, বুংগা খাওয়া যাবেনা। এবার এরশাদের ডাক পড়ল। তাকেও রাজা একই কথা জিজ্ঞেশ করল। এরশাদ ভাবল "অনেক হয়েছে, আর তো ছেলে পুলে জন্ম দেয়ার অবস্হা নাই

, বুংগা খেয়ে শেষ বয়সে বিছানায় পড়ে থাকতে হবে।" এরশাদ স্মার্টলি উত্তর দিল "আমি মৃত্যুদন্ড চাই"। রাজা হাসল, তারপর আদেশ করল,
"বুংগা হিম আনটিল ডেথ !!"
৬.
একবার ঈদে আমরা অনেকগুলা ছেলে একসাথে মাইক্রো নিয়ে বের হয়েছি। এদিক সেদিক ঘুরছি। রাতের দিকে হঠাৎ দেখি পাশের এক সি.এন.জি তে এক ছেলে (লোকও হতে পারে) আর এক মেয়ে চরম ইয়ে করছে। আমরা ভদ্র ছেলে, কিভাবে এই অসভ্যতা মেনে নেই?

। ড্রাইভারকে সি.এন.জির পাশে গাড়ি নিতে বললাম, তারপর জানালা দিয়ে কয়েকজন গলা বের করে ঐ কাপলের উদ্দেশ্যে "হইইইই........." বলে বিশাল চিৎকার তাও ভায়োলেন্ট স্টাইলে। ২জন ইয়ে করার মাঝে এমন চমকান চমকাইল!!!!
৭.
আমরা ময়মনসিংহ থেকে ৪ বন্ধু ঢাকা আসব। তো আসার পথে শুনলাম আহসানউল্লা মাস্টার খুন হয়েছেন তাই রাস্তায় ভাংচুর হয়েছে। বাস গাজীপুর হয়ে ভিতর দিয়ে ভিতর দিয়ে কিভাবে যেন যাবে

।একজায়গায় বাস থামল, বিরতির জন্য। আমাদের চারজনের একজন আবার হুজুর, সে নেমেছে নামাজ পরার জন্য, আমাদেরকে আবার কিছু বলে নাই। আমরাও খেয়াল করিনাই, বাস দিয়েছে ছেড়ে। যখন বুঝলাম, মানুষ আমরা ৩জন, ব্যাগ ৪টা। ঘন্টা দুয়েক পর আরেকজনের খুব পেট ব্যাথা, সমানে মোচড়ামুচড়ি করছে। বলল পেট নাকি খারাপ করেছে। বাস তখন এক চিপা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, আশে পাশে তেমন লোকালয়ও নাই। অনেক জ্যাম তাই একটু একটু করে আগাচ্ছে। ও বলল, আমি নেমে যাই দেখি সামনে পিছনে কোন ঘর বা মসজিদ পাই কিনা, তাহলে ওখানেই সারতে হবে। বাস তো অনেক আস্তে করে আগাচ্ছে,পরে দৌড়ে ধরে ফেলব বা অন্য লোকাল বাসে চলে আসব, ব্যাগটা দেখিস। রইলাম আমরা ২জন, ব্যাগ ৪টা। ঘন্টাখানেক পরের ঘটনা, বাস সব মোটামুটি এক জায়গায় থেমে আছে, নড়েও না চড়েও না

। ঐ জায়গায় তখনও মোবাইলের নেটওয়ার্ক নাই। ঐ ২ জনের কোন খবরও নেয়া যাচ্ছেনা

"। তো বসে থাকতে থাকতে আমাদের বাকি ২জনের হিসু পেয়ে গেল। নামলাম। রাস্তার ২ পাশে নিচু জায়গা। আমার বন্ধু একপাশে দাঁড়িয়ে গেল, পরমুহূর্তেই ছিটকে পিছিয়ে এল। আমি জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার... বলল,
"হঠাৎ খেয়াল করলাম পিছনের বাসের জানালায় মহিলা বসা

, কেমনে কি করি??"
বলল, "এক কাজ করি, সাইডের নিচু জায়গায় নেমে যাই। বলে নামা শুরু করেছে। আমি হঠাৎ খেয়াল করে দেখি, অল্প আলোয় নিচে কি জানি টলটল করে, বুঝলাম পানি

। শার্ট খামচে ধরলাম, "আরে নামিস না, নিচে পানি..."
এর মধ্যে দেখি বাস সাঁই করে চলে যাচ্ছে!! সামনে রাস্তা বেশ খানিকটা ক্লিয়ার। বন্ধুর আবার পায়ে ব্যাথা, দৌড়াতেও পারেনা। আমি চিৎকার করে দিলাম দৌড়। ভাগ্য ভাল, কন্ডাকটর খেয়াল করল। বাস থামল, উঠলাম। আমাদের সাথের এক যাত্রী বলল, "আপনাদের সমস্যা কি??"কতক্ষণ পরপর একজন কইরা নাই হইয়া যান!!

"
৮.
একবার এক দোস্তকে ফোন দিয়েছি। বললাম "তুই কই এখন?" বলল,
-"শারমিনের সাথে বাইরে।"
-"কি করিস?"
বলল "দোস্, লিপস্টিক খাই..."


-------------------------------------------------------------------------------
অনেকদিন আগে অশ্রুসজল চোখে একজন আমাকে বলেছিল "আমাকে তুমি কখনো ছেড়ে যাবে না তো??"
মেয়েটাকে অনেক অনেক দিন দেখিনা, খুব কথা বলতে ইচ্ছা করছিল কাল।
[হয়তো চলবে আরো]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:২১