বৎসরের প্রথম দিন উপলক্ষ্যে অদ্য আপিসে নিজস্ব টেবিল ও অন্যান্য ব্যবহার্য আসবাবের অন্তর ও বাহিরে সাফ সুতরা করিতে বসিয়াছিলাম। আপনারা ইহা ভাবিবেন না যে ময়লা পরিস্কারের কথা বলিতেছি, বলিতেছি বিগত বৎসরের অপ্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি, ম্যাগাজিন ইত্যাদির কথা। ইংরেজি নয়া বর্ষ আসিয়াছে সেই সুখে সবাই গাল গল্পে মাতিয়াছিল, কাজ-কর্ম তেমন নাই। আমি ভাবিতেছিলাম নতুন বৎসরে নিজের কাজ করিবার ডেস্কে এমন কি করিতে পারি যা একটু ভিন্ন কিন্তু মনোরম হইবে। ভাবিতে ভাবিতে প্যাডে আঁকিবুকি করিতেছিলাম। হঠাৎ কি মনে হওয়াতে পারমানেন্ট মার্কারখানা লইয়া আঁকিতে বসিয়া গেলাম। একটা করিয়া কাগজ লই আর একটা করিয়া মুখভঙ্গি আঁকি। তো ২০/২২ টি কাগজ ধ্বংস করিবার পর নিজের পছন্দসই কয়েকখানা ছবি বাহির হইল। তো এগুলা লইয়া কি করিব? টেপ লইয়া ডেস্কের গায়ে লাগাইতে শুরু করিলাম। দুই একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করিল কি করিতেছি, কেউবা আমার অঙ্কণের কিঞ্চিৎ প্রশংসা করিবার প্রয়াস পাইল, একজন স্মিত হাসিয়া আমার বালসুলভ আচরণের প্রকাশকে হেয় করিবার চেষ্টা করিয়াছিল। আমি সকলের উত্তরে কিছুই না বলিয়া এক ধরনের বিশেষ হাসি দিয়াছি যাহার মানে যে কোনকিছুই হইতে পারে। বহু সাধনা করিয়া এই হাসি আমি রপ্ত করিয়াছি। থাক সে গল্প নাহয় আরেকদিন বলিব। তখনও জানিতাম না যে শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়াইবে। ছবিগুলি লাগানোর পরে মাথায় একটা আইডিয়া লম্ফ ঝম্ফ করিয়া খেলিতে লাগিল। যাহা চিন্তা করিতেছিলাম তাহা বানাইতে বেশ কষ্টই হইবে বুঝিতে পারিলাম, যদিও জিনিসখানি অনেক ছোট; কারণ সম্পূর্ণ জিনিসটি বানাইতে হইবে নিজের হাতে এবং আপিসে হাতের কাছে যাহা পাওয়া যায় তাহা দিয়াই। খুঁজিতে শুরু করিলাম, প্রথম কিছুই বুঝিতেছিলাম না কি দিয়া কি করিব, পরে মাথা ঠান্ডা করিয়া একটু মাথা খাটাইয়াই অনেক কিছু পাইয়া গেলাম কাজে লাগাইবার মতন। তারপর ঘন্টা খানেক খরচ করিয়া, হাত লাল করিয়া ছোট্ট জিনিসখানি বানাইয়া ফেলিলাম। কাজ শেষ করিবার পর বড়ই তৃপ্ত বোধ করিতেছিলাম। নিজেকে কিছুটা ম্যাকগাইভার ম্যাকগাইভার লাগিতেছিল। পুরা জিনিসখানি আমার ডেস্কে এমনরূপে স্হাপন করিয়াছিলাম যাহাতে আমার ম্যানেজার খুব সহজেই তাহা দেখিতে পায়। অত:পর ম্যানেজার দেখিল, অন্যরাও দেখিল। তাহাদের আমার হাতের কাজ পছন্দ হইয়াছিল, কিন্তু কেহ বেশি অবাক হইল না। বিচিত্র কাজ কর্মের কারণে আমি পূর্বেই পরিচিতি লাভ করিয়াছি। পার্শ্ববর্তী গ্রুপের ম্যানেজারকে আমার ম্যানেজার ডাকিয়া দেখাইলেন, তিনিও দেখিয়া হাসিলেন। কি বলিয়াছেন পরে বলিতেছি। তাহারা সবাই মিলিয়া আমার সৃষ্টিখানির নামকরণ করিলেন
"Mood-O-Meter"। ছবিখানা দেখিয়া লন:
তবে যারপরনাই বিস্মিত হইলাম বৈকালে। ম্যানেজার ভ্রাতা তৃতীয়বারের মতন আমাকে শুধাইলেন, কি হে তোমার মুডের এই মুহূর্তে কি অবস্হা? কাঁটা কি নির্দেশ করিতেছে? দেখাইয়া দিলাম, তিনি বলিলেন "বাহ্!! এখনও মুখে হাসি দেখা যাইতেছে!! তো বল দেখি এই কাঁটা ক্রন্দনের ঘরে কবে দেখিব?" বলিলাম "Performance Appraisal এর দিন দেখিতে পারেন বোধ হইতেছে।" তখন পার্শ্ববর্তী গ্রুপের ম্যানেজার বলিলেন "এত বড় ছেলে সবার সামনে তো আর কাঁদিতে পারিবেনা, কাঁটা ক্রন্দনের ঘরে ঘুরাইয়া দিয়া বাহির হইয়া যাইবে।"


বি:দ্র: কাঁটাখানি তাহার ভিত্তি গোল চাকতি সহ ৩৬০ ডিগ্রি কোণে নিজস্ব অক্ষের উপর মুক্তভাবে ঘুরিতে পারে।
কৃতজ্ঞতা: ব্লগার
মেঘলা মানুষ ছবিখানা তুলিয়া দিয়াছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৩