স্থান,কাল,জাত,ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের ভাব প্রকাশেই রয়েছে অদ্ভুত মিল। এই জিনিসটাই আবিস্কার করেছিলেন ভারতবর্ষের দার্শনিকরা হাজার হাজার বছর আগে। আমাদের এই ভারতবর্ষের দর্শনের সাথে তুলনা হয়না আর কারও।
নবরস হচ্ছে মানুষের মনের যেকোনো সময়ের অনুভুতি। নয়টা রসের সমস্টি ই হচ্ছে নবরস। এই নয়টা রসের বাইরে কোনো মানুষ নাই। রসগুলি হচ্ছে বীর,রৌদ্র, শৃঙ্গার, হাস্য, করুনা, ভয়ানক, বিভৎস্য, অদ্ভুত, ও শান্ত। নয়টা রসের প্রকাশ আলাদা, ভাবও আলাদা এবং ইউনিক। পৃথিবীর সব জায়গায়, সব ধরনের মানুষের জন্য ই তা এক রকম। তাইতো পৃথিবীর সকল মানুষের ভাব প্রকাশে এতো মিল! প্রত্যেক রসের ই আছে নির্দিস্ট এক্সপ্রেশন এবং রং।
১। শৃঙ্গার রস: যৌন আকর্ষন, ভালোবাসা, ইরোটিক ভাব প্রকাশিত হয় এই রসের মাধ্যমে।
পুলক, উৎফুল্লতা প্রকাশিত হয়। হালকা সবুজ রং এই রসের প্রতীক।
২। হাস্য রস: রসাত্নক,সরস, আমোদ, আনন্দোচ্ছাস ,হাস্যরসাত্তক ঘটনা প্রকাশিত হয়।
সাদা রং এই রসের প্রতীক।
৩। করুনা রস: পেথেটিক ভাব বা দু্ঃখ ভাব প্রকাশ পায়। ধুসর বা ছাই রং এই রসের প্রতীক।
৪। রৌদ্র রস: মানব মনের ভয়ানক, ভয়ন্কর, ভীষন ভাব প্রকাশ পায়। লাল রং এই রসের প্রতীক।
৫। বীর রস: নায়কোচিত, হিরোইজিম প্রকাশের জন্য এই রস। হালকা কমলা রং দিয়ে এই রস প্রকাশিত হয়।
৬। ভয়ানক রস: একটা মানুষ যখন ভয়ে, আতঙ্কে থাকে তখন তার মুখমন্ডলে যে ভাব ফুটে উঠে সেটাই হচ্ছে ভয়ানক রস। কালো রং এই রসের প্রতীক।
৭। বিভত্স রস: ঘৃন্য, কদর্য ভাব, তীব্র বিরক্তি উদ্রেককারী। দুর্গন্ধ, বিস্বাদ বা ভীতিকর দৃশ্যের ফলে যে ভাবের উদ্রেক হয়। নীল রং এই রসের প্রতীক।
৮। অদ্ভুত রস: বিস্ময়, অলৌকিক কিছুর দেখার পরে যে ভাবের উদ্রেক হয় সেটাই হচ্ছে অদ্ভুত রস। হলুদ রং এই রসের প্রতীক।
৯। শান্ত রস: দেহ ও আত্নার প্রশান্তি ভাবের জন্য এই রস। সাদা রং এই রসের প্রতীক।
নৃত্যশিল্পী, অভিনয়শিল্পী,সংগীতশিল্পী সবাইকেই এই নয়টা রস সম্পর্কে শিখতে হয়, জানতে হয়। কারন এই রস গুলা যথাযথ প্রয়োগ করতে পারলেই কেবল তারা দর্শকদের আনন্দ দিতে সক্ষম হন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


