somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পারিবারিক জীবন বারাক ওবামারB-):P

০১ লা আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের মূল নীতি বদলাতে না পারলেও বিশ্বব্যাপী অব্যাহত রয়েছে মি. প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। পারিবারিক জীবনেও ওবামা তার প্রিয়তম স্ত্রী মিশেল এবং দুই কন্যার কাছে অসম্ভব প্রিয় মানুষ তিনি। ওবামার সঙ্গে মিশেলের পরিচয় অনেকটা আকষ্মিকভাবেই। ১৯৮৯ সালের দিকে গ্রীষ্মকালীন সহযোগী হিসেবে শিকাগোর ল' ফার্ম সিডলে অস্টিনে কাজ করতেন ওবামা। তখনই-১৯৮৯ সালে মিশেল রবিনসনের সঙ্গে তার আলাপ হয়। ওই ফার্মে মিশেল তিন মাসের জন্য ওবামার অ্যাডভাইজর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দু'জনের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক দাঁড়িয়ে গেল। ওবামার সঙ্গে মিশেল রবিনসন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান যোগ দিতেন। এর মধ্যে তার সঙ্গে প্রথমে ডেটিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মিশেল। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তারা গ্রীষ্মে ডেটিং শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে এনগেজড হন। ১৯৯২ সালের ৩ অক্টোবর তারা বিয়ে করেন। এই জুটির প্রথম সন্তান মারিয়া আনের জন্ম হয় ১৯৯৮ সালে। ২০০১ সালে হয় দ্বিতীয় সন্তান নাতাশা (সাশা)। এই ৪৪ বছরের মিশেল ওবামা এখন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ফার্স্ট লেডি।

এই ঘটনা আরও একটি কারণে ঐতিহাসিক, কেননা এই মিশেলই হলেন আবার এক আফ্রিকান দাসবংশের উত্তরাধিকারী। এ প্রসঙ্গে যতটুকু জানা গেছে তা হলো ১৮৫০ সালে জিম রবিনসনের জন্ম। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত ক্রীতদাস হিসেবেই জীবন কাটিয়েছিলেন। হাইওয়ের পাশে জর্জটাউনে ছিল জিম রবিনসনের ডেরা ফ্রেন্ডফিল্ড। এরপর আর বেশি তথ্য জানা যায় না।

মিশেলের বাবা ফ্রেজার রবিনসন থ্রি বা মা মারিয়ানও তাকে এ বিষয়ে কিছু কখনো বলতেন না। তবে দাদু ফ্রেজার রবিনসন বা দিদিমা লা ভন কখনো কখনো অতীতের কথা বলতেন। তখনই মাঝে মাঝে বংশের কথা উঠে আসত। মিশেল সব শুনতেন। এ ব্যাপারে খুব একটা কৌতূহল অবশ্য তার ছিল না। আর পাবলিক স্কুল, প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়ার পর সেই আগ্রহ একেবারেই হারিয়ে যায়। এরপর তো কর্পোরেট আইনজীবী হয়ে তিনি চরম ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মজীবনে।

কিন্তু ওবামা প্রেসিডেন্ট পদের দাবিদার হয়ে উঠলে মিশেলের বংশের খোঁজ শুরু হয়। মিশেলও ফের নিজের সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অবশ্য খুব বেশি তথ্য তিনি বা কেউ জানতে পারেননি। এটুকু জানা যায় যে, মিশেলের পূর্বপুরুষরা দাস হিসেবে কাজ করে আমেরিকার চালের প্রয়োজন মেটাতেন। তাই হয়তো আমেরিকার উদারতাকে একটু ঠেস দিয়ে মিশেল বলেছেন, 'আমাদের বংশ এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার জন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী বলে মনে করছি।' একই সঙ্গে একথাও বলেছেন, 'রাজনীতি নিয়ে আমার কোনোও আগ্রহ নেই। আমি বারাকের স্ত্রী এবং দুই মেয়ের মা হিসেবেই থাকতে চাই। আর এ বিষয়েই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বলা বাহুল্য, মার্কিন রক্ষণশীল সমাজের কাছে মিশেলের এই বক্তব্য বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। তবে ওবামা ও মিশেলের মধ্যে বোঝাপড়া যথেষ্ট মজবুত। তাদের মধ্যে ভালোবাসাও যথেষ্ট রয়েছে। যৌথ পরিবারের ধারণায় তাদের অবস্থা অপরিসীম। ওবামা ২০০৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ক্রিসমাস বা পরস্পরকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য আমরা যখন একসঙ্গে মিলিত হই, তখন আমাদের পরিবারকে একটা ছোটখাটো আমেরিকার মতোই মনে হয়। উল্লেখ্য, ব্যস্ততার কারণে ছুটিছাটা ছাড়া আমেরিকায় সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ খুব একটা পান না। সেদিক থেকে ওবামা দম্পতির বক্তব্য মার্কিনিদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। এখন ভবিষ্যৎই বলতে পারবে এই দম্পতির দাম্পত্য মার্কিনিদের কাছে কতখানি গ্রহণযোগ্য হতে পারবে। তবে বিশ্বজুড়েই কিন্তু ওবামা দম্পতি অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় এবং সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×