আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের মূল নীতি বদলাতে না পারলেও বিশ্বব্যাপী অব্যাহত রয়েছে মি. প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা। পারিবারিক জীবনেও ওবামা তার প্রিয়তম স্ত্রী মিশেল এবং দুই কন্যার কাছে অসম্ভব প্রিয় মানুষ তিনি। ওবামার সঙ্গে মিশেলের পরিচয় অনেকটা আকষ্মিকভাবেই। ১৯৮৯ সালের দিকে গ্রীষ্মকালীন সহযোগী হিসেবে শিকাগোর ল' ফার্ম সিডলে অস্টিনে কাজ করতেন ওবামা। তখনই-১৯৮৯ সালে মিশেল রবিনসনের সঙ্গে তার আলাপ হয়। ওই ফার্মে মিশেল তিন মাসের জন্য ওবামার অ্যাডভাইজর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দু'জনের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক দাঁড়িয়ে গেল। ওবামার সঙ্গে মিশেল রবিনসন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান যোগ দিতেন। এর মধ্যে তার সঙ্গে প্রথমে ডেটিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন মিশেল। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তারা গ্রীষ্মে ডেটিং শুরু করেন এবং ১৯৯১ সালে এনগেজড হন। ১৯৯২ সালের ৩ অক্টোবর তারা বিয়ে করেন। এই জুটির প্রথম সন্তান মারিয়া আনের জন্ম হয় ১৯৯৮ সালে। ২০০১ সালে হয় দ্বিতীয় সন্তান নাতাশা (সাশা)। এই ৪৪ বছরের মিশেল ওবামা এখন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ফার্স্ট লেডি।
এই ঘটনা আরও একটি কারণে ঐতিহাসিক, কেননা এই মিশেলই হলেন আবার এক আফ্রিকান দাসবংশের উত্তরাধিকারী। এ প্রসঙ্গে যতটুকু জানা গেছে তা হলো ১৮৫০ সালে জিম রবিনসনের জন্ম। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত ক্রীতদাস হিসেবেই জীবন কাটিয়েছিলেন। হাইওয়ের পাশে জর্জটাউনে ছিল জিম রবিনসনের ডেরা ফ্রেন্ডফিল্ড। এরপর আর বেশি তথ্য জানা যায় না।
মিশেলের বাবা ফ্রেজার রবিনসন থ্রি বা মা মারিয়ানও তাকে এ বিষয়ে কিছু কখনো বলতেন না। তবে দাদু ফ্রেজার রবিনসন বা দিদিমা লা ভন কখনো কখনো অতীতের কথা বলতেন। তখনই মাঝে মাঝে বংশের কথা উঠে আসত। মিশেল সব শুনতেন। এ ব্যাপারে খুব একটা কৌতূহল অবশ্য তার ছিল না। আর পাবলিক স্কুল, প্রিন্সটন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়ার পর সেই আগ্রহ একেবারেই হারিয়ে যায়। এরপর তো কর্পোরেট আইনজীবী হয়ে তিনি চরম ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্মজীবনে।
কিন্তু ওবামা প্রেসিডেন্ট পদের দাবিদার হয়ে উঠলে মিশেলের বংশের খোঁজ শুরু হয়। মিশেলও ফের নিজের সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অবশ্য খুব বেশি তথ্য তিনি বা কেউ জানতে পারেননি। এটুকু জানা যায় যে, মিশেলের পূর্বপুরুষরা দাস হিসেবে কাজ করে আমেরিকার চালের প্রয়োজন মেটাতেন। তাই হয়তো আমেরিকার উদারতাকে একটু ঠেস দিয়ে মিশেল বলেছেন, 'আমাদের বংশ এই পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার জন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবতী বলে মনে করছি।' একই সঙ্গে একথাও বলেছেন, 'রাজনীতি নিয়ে আমার কোনোও আগ্রহ নেই। আমি বারাকের স্ত্রী এবং দুই মেয়ের মা হিসেবেই থাকতে চাই। আর এ বিষয়েই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বলা বাহুল্য, মার্কিন রক্ষণশীল সমাজের কাছে মিশেলের এই বক্তব্য বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। তবে ওবামা ও মিশেলের মধ্যে বোঝাপড়া যথেষ্ট মজবুত। তাদের মধ্যে ভালোবাসাও যথেষ্ট রয়েছে। যৌথ পরিবারের ধারণায় তাদের অবস্থা অপরিসীম। ওবামা ২০০৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ক্রিসমাস বা পরস্পরকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য আমরা যখন একসঙ্গে মিলিত হই, তখন আমাদের পরিবারকে একটা ছোটখাটো আমেরিকার মতোই মনে হয়। উল্লেখ্য, ব্যস্ততার কারণে ছুটিছাটা ছাড়া আমেরিকায় সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ খুব একটা পান না। সেদিক থেকে ওবামা দম্পতির বক্তব্য মার্কিনিদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। এখন ভবিষ্যৎই বলতে পারবে এই দম্পতির দাম্পত্য মার্কিনিদের কাছে কতখানি গ্রহণযোগ্য হতে পারবে। তবে বিশ্বজুড়েই কিন্তু ওবামা দম্পতি অসম্ভব রকমের জনপ্রিয় এবং সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



