somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে এই কাজল?

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুলিশের পোশাক পরে গতকাল শাহবাগ কন্ট্রোলরুমে ঢুকে পড়া কাজল আসলে কে? রহস্যের জট খুলেনি। নির্বিকারভাবেই কাজল বলেছে, সে ময়লা কুড়ানি। কিন্তু পুলিশের বিশ্বাস হচ্ছে না। আর তাই রহস্যের জট খুলতে কাজলকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে তারা। শাহবাগ পুলিশ বলছে, একজন ময়লা কুড়ানি পুলিশের পোশাক কিনে সেটি পরে কন্ট্রোলরুমে ঢুকে পড়লÑ না। এটি বিশ্বাস হবার নয়। অবশ্য কাজল নিজেও একেকবার একেক কথা বলছে। একবার বলছে সে ময়লা কুড়ানি। আবার বলছে সে সিকিউরিটি কোম্পনি চাকারি করে। ২৫ বছর বয়সী কাজল গতকাল শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ভিতরে পুলিশের পোশাক পরে অন্য পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গল্প করতে থাকে। গল্পের সময় অন্য পুলিশ সদস্যরা তার কাছে জানতে চান কাজল সদ্য বদলী হয়ে আসা পুলিশ কিনা । এসময় কাজল পুলিশ সদস্যদের জানায়, সে বরিশাল বিভাগে কর্মরত ছিলো। কয়েক দিন হলো তাকে বদলি করা হয়েছে। তার বর্তমান কর্মস্থল শাহবাগ পুলিশ কন্ট্রোল রুম। এসময় কন্ট্রোল রুমের পুলিশ সদস্যরা বরিশালে কর্মরত থাকা তার সহকর্মীদের নাম বলতে থাকেন। কিন্তু কাজল কাউকে চিনতে পারে না। এতে পুলিশ কনস্টেবলদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের জানায়। কাজলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাদের পর তাকে গ্রেফতার করে প্রতারনা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাজল পুলিশকে জানিয়েছে, তার সখ একদিনের জন্য হলেও পুলিশের পোশাক পরে তাদের সঙ্গে উিউটি করবে। কাজল জানায়, এ বাসনা পূরণ করতেই সে পলওয়েল মার্কেট থেকে চকলেট বিক্রি করা টাকা দিয়ে পুলিশের পোশাক কিনে। ব্যাজ, টুপিসহ খরচ পড়ে ৪শ’ টাকা। এর আগে সে এলিফ্যান্ট রোড মোড়ে দায়িত্বরত এক সার্জেন্টের কাছ থেকে জেনে নেয় কোথায় পুলিশের পোশাক পাওয়া যায়। সার্জেন্টই তাকে পল্টনের পলওয়েল মার্কেটের খোঁজ দেন। কাজল জানায়, পলওয়েল মার্কেটের ৩ তলার ডিএমপি স্টোর নামের পুলিশের পোশাক বিক্রয়কারী একটি দোকান থেকে পোশাক কিনেছে। পরে রমনা পার্কের ক্যান্টিনের বাথরুমে ঢুকে ময়লা কুড়ানির পোশাক বদলে পুলিশের পোশাক পরে বেরিয়ে আসে। রিকশা নিয়ে সোজা চলে যায় শাহবাগ কন্ট্রোল রুমের সামনে। কাজল জানায়, সে থাকে কেরানিগঞ্জ মার্কেটের পেছনে কাঙ্গালি ক্লাবে। ময়লা কুড়িয়ে আর চকলেট বিক্রি চলে তার সংসার। অবশ্য কাঙ্গালি ক্লাবে সবাই জানে কাজল পুলিশে চাকরি করে।
পুলিশের বক্তব্য
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল হক বললেন, আমরা ধারণা করছি সে হয়তো পুলিশের কোন তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ছদ্মবেশে ঢুকেছিল। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন বলেন, কাজলের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। ময়লা কুড়ানি পুলিশের পোশাক পরে কন্ট্রোল রুমে ঢুকে পড়বে বিষয়টি হয়তো এতো সহজ নয়। কেননা এমনিতেই মানুষ পুলিশ থেকে দুরে থাকতে চায়।
পলওয়েল মার্কেটে ৪৯ পুলিশ পোশাকের দোকান
পল্টন পলওয়েল মার্কেটে মোট ৪৯ টি দোকান রয়েছে যারা পুলিশের পোশাক তৈরি করছে এবং বাজারে বিক্রি করে। যে কেউ এসব দোকান থেকে পুলিশের যে কোন পদমর্যাদার কর্মকর্তা পোশাক, ব্যাজ, টুপি, জুতা কিনতে পারেন। পুলিশ সদরদফতরের এআইজি (সরবরাহ) সোয়েব আহমেদ বলছেন, এসব দোকানকে যখন পোশাক বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয় তখন শর্ত দেয়া হয়েছিল ইন্সপেক্টর থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তার পোশাক প্রমাণ সাপেক্ষে তারা বিক্রি করবে। কিন্তু এ শর্ত তারা পালন করছে না। এসব দোকানকে শর্তাবলী পালনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে মনিটরিং করা হবে। তিনি বলেন, পোশাক বিক্রির সময় শর্ত পালিত হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য ডিএমপি’র সব ইউনিটকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পোশাক নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ডের পোশাক বিষয়ে একটি নির্দেশনা শিগগিরই জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×