শেষ পর্যন্ত আমাকেও ভিকটিম বানাইল! গতকাল বেলা ১১ টার দিকে একটা ফোন কল এসেছে।
--আপনার নাম কি আবদুল্লাহ আল মামুন!
--হ্যাঁ! মামুন বলছি।
--আপনার ফোন সিমটা তো ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা আছে!
--হুম আছে!
--স্যার! আমি বাংলাদেশ মোবাইল ফোন অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে কামরুল হাসান বলছিলাম। স্যার, যারা বৈধ কাগজ দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের মধ্য থেকে র্যাসন্ডমলি ২০ জনকে ২লক্ষ ১৬ হাজার টাকা করে পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে। স্যার, আপনি তাদের মধ্যে একজন সৌভাগ্যবান!
কথা শোনার সাথে সাথে চান্দি পুরাই গরম হয়ে গেল। এখনো এই ধরনের ভাওতাবাজী সম্ভব? চিন্তা করলাম, ব্যাটারে একটু বাজাই। অফিসে বসে বোর হচ্ছি, একটু বিনোদিত হওয়া দোষের কিছু না!
--কি বলেন ভাই! এতো টাকা! এই টাকা কেমনে পামু?
--স্যার! এই টাকা আপনি চাইলে বিকাশ কিম্বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিতে পারেন।
--বিকাশই ভালো। আমার আশে পাশেই কয়েকটা বিকাশ এজেন্ট আছে।
--স্যার, এই টাকা নিতে হলে......
--বলেন বলেন! আমাকে কি করতে হবে?
--সেইটাই বলছি স্যার!
--বলেন বলেন!
--স্যার এই টাকা নিতে হলে আপনাকে একটা সরকারী ভ্যাট দিতে হবে?
--এইটা কোন সমস্যা না! কত টাকা দিতে হবে?
--স্যার, ২ লক্ষ ১৬হাজার টাকার ৭.৫% ভ্যাট হিসেবে আসে ১৬২০০ টাকা।
--এইটা কোন সমস্যা না! কখন দিতে হবে?
--স্যার, আপনাকে একটা নাম্বার দিচ্ছি, এই নাম্বারে ১৬২০০ টাকা দেয়ার সাথে সাথে আপনাকে বাকি টাকা দিয়ে দেয়া হবে। কনফার্মেশনের জন্য টাকাটা আগে নিতে হচ্ছে।
--না না! সেইটা তো বুঝছি। আপনি তো নিয়মের বাইরে যেতে পারেন না!
--থাংকুউ স্যার!
--আমি দেখি যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করতেছি।
--থাংকুউ স্যার! স্যার এই ব্যাপারটা আপাতত কাওরে বলবেন না প্লিজ। এইটা আমাদের একটা রুল!
--আপনার মাথা খারাপ! কাও কে বলবো না! আমি মিনিট দশেকের মধ্যে আপনাকে ফোন দিচ্ছি।
হেলতে দুলতে আমার বেজায় রসিক বসের কাছে গেলাম। বস তখন মিটিঙয়ে যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন। গাড়িতে বসে ওনাকে সব খুলে বল্লাম। উনি আমার হাত থেকে ফোন টা নিয়ে সেই লক্ষ টাকাদাতা কে ফোন দিয়ে বল্লেন, কিরে ব্যাটা এই ব্যবসায় কত দিন ধরে?
তারপরের কথোপকথন সেন্সর করা হল।
টু
টু
টুথ
তারপর থেকে ঐ ফোন নাম্বারটা এখনো বন্ধ আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



