আজকের প্রথম আলো(Click This Link) তে এই সাক্ষাতকার টি ছাপা হয়েছে...
অধিনায়কত্ব হারানোর পর অনেক কিছুই বদলে ফেলবেন বলে ঠিক করেছেন। ভাবসাবে মনে হলো, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মাখো-মাখো সম্পর্কও তার মধ্যে একটি। শুরুতে না-না করেও শেষপর্যন্ত অবশ্য মোহাম্মদ আশরাফুল ঠিকই সাক্ষাৎকার দিলেন উৎপল শুভ্রকে। গত পরশু বারবাডোজের আক্রা বিচ রিসোর্টের সুইমিং পুলের পাশে বসে অধিনায়কত্ব হারানোর পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগের রাতে
"" কেমন আছেন?
মোহাম্মদ আশরাফুল: আমি ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ।
"" দেশে একটা ধারণা যে আপনি ক্যাপ্টেনসি হারানোটা সহজভাবে নিতে পারেননি...
আশরাফুল: কাদের ধারণা?
"" প্রায় সবারই। ধারণার উৎস হলো, অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন দাবি করে আপনি তো চালিয়েই যেতে চেয়েছিলেন। এরপর অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আশরাফুল: সব কিছুর আগে আমি একজন ক্রিকেটার। বাংলাদেশ দলে আট বছর ধরে খেলছি, অধিনায়ক ছিলাম লাস্ট দুই বছর। ক্যাপ্টেনসি হারানোটা আমি নরমাল ভাবেই নিয়েছি। কারণ আমি বাংলাদেশের সব টেস্ট ক্যাপ্টেনের আন্ডারেই খেলেছি। তাঁদের সবার যাওয়াটাও দেখেছি। আমার তাই জানাই ছিল, এ রকমই হবে।
"" তাহলে বোর্ড সরিয়ে দেওয়ার আগে নিজেই ছেড়ে দেননি কেন?
আশরাফুল: ছাড়িনি, কারণ আমার মনে হয়েছে আমাকে নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে আমার ব্যাটিং নিয়ে তুলতে পারে। বলতে পারে, আমার কাছ থেকে আগের মতো ইনিংস দেখেনি এটা-সেটা...তবে টিম হিসেবে আমরা খারাপ খেলছিলাম না। ওয়ানডেতে বড় দুটি জয় পেয়েছি, ড্র করেছি একটা টেস্ট ম্যাচ। এর বাইরে অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ আমরা ভালো খেলেছি। বাংলাদেশ ৫০টার বেশি টেস্ট খেলেছে, জিতেছে একটি আর ভালো খেলে ড্র তো এক ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে, বাকিগুলো বৃষ্টির অবদান। বাংলাদেশ চাচার (খালেদ মাহমুদ) আন্ডারে মুলতানে একটা ভালো টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, সুমন ভাইয়ের (হাবিবুল বাশার) আন্ডারে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে, আর আমার আন্ডারে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটা টেস্ট ম্যাচ আমরা ভালো খেলেছি। শেষপর্যন্ত জিততে পারিনি, কিন্তু খুব ক্লোজ ছিল। আমি তাই মনে করি, আমরা ঠিক পথেই ছিলাম।
"" আপনি যদি তা-ই বিশ্বাস করেন, তাহলে ক্যাপ্টেনসি হারানোয় কষ্ট পাননি, এটা তো বিশ্বাস করা কঠিন!
আশরাফুল: সেটা আপনার ব্যাপার। কষ্ট না পাওয়ার কারণ হলো, আমার সামনে এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। অনেক দেশে আমার বয়সে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুই হয় না। আমাদের দেশে না হয় ২৫-২৬ বছর বয়সেই ক্রিকেটারদের অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে বেশির ভাগ দেশে তো এরও এক-দুই বছর পর অনেকের ক্যারিয়ার শুরু হয়। আমি অনেকবারই এ কথা বলেছি, আমার সামনে অনেক সময় পড়ে আছে, এত দিন যা খেলেছি তা বোনাস। এর মানে এই না যে, আমি এত দিন ভালো খেলার চেষ্টা করিনি। আমি সব সময়ই হার্ড ওয়ার্ক করে এসেছি। আমার চেষ্টা-প্র্যাকটিস এসব নিয়ে কোচিং স্টাফদের কেউও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।
"" তা অবশ্য কেউ তোলেওনি কখনো...
আশরাফুল: বললাম তো, আমার চেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু আমি সেটির ফল দেখাতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই পারব। সময় শেষ হয়ে যায়নি। আবার ক্যাপ্টেনসিও করব। আমি ক্যাপ্টেনসি ছাড়তে চেয়েও এই একটা কারণেই ছাড়িনি। কারণ নিজে থেকে ছাড়লে পরে আবার ক্যাপ্টেন করলে আপনারাই হয়তো প্রশ্ন তুলতেন। ছাড়তে ইচ্ছে হয়েছে, কারণ দল হারলে সব দায়ই আমার কাঁধে এসে পড়ত। দলে তো আরও দশ জন আছে, ওদেরও তো ভালো খেলতে হবে। সুমন ভাই ভালো ক্যাপ্টেন হয়েছে কীভাবে, দলের অন্যরাও ভালো খেলেছে বলে। উনার আন্ডারে বাংলাদেশ বড় বড় যত জয় পেয়েছে, প্রায় সব কটিতেই আমার ভালো পারফরম্যান্স ছিল। আশা করি, মাশরাফির আন্ডারেও আমি ভালো খেলব। ও-ও ভালো ক্যাপ্টেন হবে। ভবিষ্যতে আমি যখন আবার অধিনায়ক হবো, তখন হয়তোবা আমিও ভালো খেলব, টিমও ভালো খেলবে।
"" আপনাকে তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত অধিনায়ক করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটাও তো অভুতপূর্ব যে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাউকে অধিনায়ক করার পর আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এটা নিশ্চয়ই ভাবেননি।
আশরাফুল: ভাবিনি, আবার এটাও জানতাম বাংলাদেশে সব কিছুই সম্ভব। ছোটবেলা থেকেই দেখছি, কোনো কিছুরই গ্যারান্টি নেই। নইলে এক আয়ারল্যান্ড ম্যাচ হারাতেই সব শেষ হয়ে গেল।
"" ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত কি তাহলে যতটা ক্রিকেটীয় বিচার-বিবেচনা, তার চেয়ে বেশি জনগণের আবেগের সঙ্গে তাল মেলানো?
আশরাফুল: এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। আমার কোড অব কন্ডাক্ট আছে।
"" দল খারাপ করলেই যে আপনার ওপর দায় আসে, সেটি তো শুধু আপনি অধিনায়ক বলে নয়। আপনার পারফরম্যান্সটা সব সময়ই আতশি কাচের নিচে বেশি থাকে। এটাকে কি কখনো অন্যায় বলে মনে হয়?
আশরাফুল: না, অন্যায় হবে কেন? অন্যদের জায়গায় থাকলে আমিও একই কাজ করতাম। ডেব্যু টেস্টে মুরালির বিপক্ষে যে সেঞ্চুরি করেছে, সে সব সময়ই ভালো খেলবে−এই আশাই করতাম। অন্যায় বলব না, তবে আমি শুধু বলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা মোটেই সহজ নয়, অনেক কঠিন খেলা।
"" আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আট বছর হয়ে যাওয়ার পরও এই কথা!
আশরাফুল: সেদিন রিকি পন্টিংয়ের একটা ইন্টারভিউ পড়ছিলাম। ও বলেছে, এখনো নাকি প্রতিদিন শিখছে। টেস্টে ৩৪টা সেঞ্চুরি করার পর ও যদি এ কথা বলে, আমাদের কথা আর কী বলব! নয় বছর আগে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরও আমাদের সুযোগ-সুবিধা তেমন তৈরি হয়নি। এটা বললে অনেকে হয়তো মিরপুরের কথা বলবে...
"" মিরপুরেই বা কি এমন হাতি-ঘোড়া করা হয়েছে? এমন ফ্যাসিলিটিজ তো অন্য সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের পাড়ায় পাড়ায় আছে।
আশরাফুল: এটাই আসল কথা। আমাদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে। দেশের ক্রিকেটের সব কিছু ভালো হলে না ন্যাশনাল টিমটা ভালো হবে। ডোমেস্টিক ক্রিকেটটা আরও ভালো করতে হবে, একাডেমির খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।
"" অধিনায়কত্বের দু বছর কীভাবে মনে রাখবেন?
আশরাফুল: ভালো-মন্দ দুই-ই আছে। আপনার মনে রাখতে হবে, আমি খুব কম বয়সে ক্যাপ্টেনসি পেয়েছিলাম। আমার সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে আমিই ছিলাম সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক। ছোটবেলা থেকেই বাংলাদেশের অধিনায়ক হওয়াটা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু স্বপ্নটা যেভাবে শেষ করতে চেয়েছিলাম, তা হয়নি। তবে অনেক কিছু শিখেছি। ভবিষ্যতে তা কাজে লাগবে।
"" অধিনায়ক হওয়ার সবচেয়ে ভালো দিক আর মন্দ দিক?
আশরাফুল: বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেনসি করাই বলুন বা কোচিং, কাজটা খুব কঠিন। আমাদের দলে তো আর কোনো ম্যাকগ্রা বা ওয়ার্ন নেই, যে বল ছুড়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে। হেইডেন-গিলক্রিস্টও নেই। যা করার সবাই মিলে করতে হবে। মাত্র নয় বছর ধরে আমরা টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, ‘মাত্র’ বলছি কারণ এখনো তো আমাদের সেরা দলটাই খুঁজে পাইনি। সেই বুলবুল ভাইদের সময় থেকে বাংলাদেশ ইয়াং সাইড শুনে আসছি। এখনো সেই ইয়াংই। আমাদের তাই উৎসাহ দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো সময়ে সবাইকেই পাশে পাওয়া যায়, কিন্তু খারাপ সময়ে আর কেউ থাকে না। জিতলে সবাই জেতে, অনেকেই ‘আমি এই করেছি, ওই করেছি’ বলে, কিন্তু হারলে শুধু আমরাই হারি।
"" ক্রিকেট বোর্ডও তো ইদানীং খারাপ সময়ে আমজনতার সুরে সুর মিলিয়ে সমালোচনা শুরু করে দেয়।
আশরাফুল: হ্যাঁ, ওটা খুব খারাপ লাগে। আমি শুধু বলব, আমরা খেলোয়াড়েরা আছি বলেই কিন্তু বোর্ড আছে, আবার আমাদেরও বোর্ডকে দরকার। এটা একটা পার্টনারশিপ। দল খারাপ করলে বোর্ডকেও তাই সেই দায় নিতে হবে।
"" প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাতে ভালো করার একটা বাড়তি জেদ নিশ্চয়ই কাজ করছে?
আশরাফুল: না, সে রকম কিছু নয়। সব সময়ই ভালো খেলার চেষ্টা করি। এবারও করব।
"" কিন্তু অন্য সময়ের সঙ্গে কি এবার পার্থক্য নেই? এত রকম কথা হয়েছে, আশরাফুল কী জিনিস সবাইকে তা দেখিয়ে দেওয়ার একটা জেদ তো থাকাই উচিত।
আশরাফুল: মানুষ জানে, আশরাফুল আসলে কী। সবাই জানে, আশরাফুল ভালো খেললে বাংলাদেশ জিতবে। বাংলাদেশ এখনো বড় কোনো টেস্ট ম্যাচ জেতেনি, কারণ আমি একটাতেও ভালো খেলিনি। আমি হিসাব করে দেখেছি, বাংলাদেশ যতগুলো ক্লোজ টেস্ট ম্যাচ হেরেছে, তার কোনোটাতেই আমার ভালো রান নেই।
"" এটা কি তাহলে আশরাফুল ভালো না খেললে বাংলাদেশ জেতে না প্রমাণ করতেই?
আশরাফুল:
এটা তো আর আমি জানি না। তবে আপনি বলার পর মনে হচ্ছে, এ কারণেই মনে হয় হয়নি (আবার হাসি)।
"" অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ দলে সবচেয়ে এগিয়ে আপনি, ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাও শুধু আপনারই আছে। তার ওপর সদ্য অধিনায়কত্ব হারানো...আপনার ওপরই কিন্তু সবার চোখ...
আশরাফুল: এসব নিয়ে ভাবি না। কথা একটাই, পারফর্ম করতে হবে। অধিনায়ক থাকার একটা সুবিধা হলো, অন্তত বাদ পড়ার ভয় থাকে না। এখন তো খারাপ খেললে বাদ দিয়ে দেবে।
"" এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের মানুষ কোন আশরাফুলকে দেখবে?
আশরাফুল:
অবশ্যই ব্যাটসম্যান আশরাফুলকে। এই সিরিজে আমি তো আর টস করতে নামছি না।
---------------------------------
(বোল্ড করা অংশ উৎপল শুভ্রের।)
বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিস এ দলের খেলার সর্বশেষ স্কোর---(এইখান থেকে নেয়া যায়-এইটা বিসিবির নিজস্ব সাইট http://tigercricket.com/ )
বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিস এর ফিক্সচার দেখুন -(Click This Link)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

