somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“একাত্তরে ঘাতক দালালরা কে কোথায়” গ্রন্থের প্রনেতা শফিক আহমদের সাথে এক সন্ধ্যা

৩০ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যদিও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায় - কিন্তু পরাজিতরা ধীরে ধীরে সংগঠিত হতে থাকে। কিছুটা তখনকার শাসকদলের অর্বাচীনতা কিছুটা উদারতার কারনে ওদের নির্মূল করার পদক্ষেপগুলো তেমন কাজে লাগেনি। তারপর ১৯৭৫ সালের ভয়াবহ হত্যাকান্ড দেশের গতিপথকে বদলে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিভক্ত হয়ে পড়ে - সেই সুযোগে চলে আসে ঘাতক দালালরা সামনের সারিতে। সামরিক শাসকের পদলেহী হয়ে এরা সমাজে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। অন্যদিকে পরিকল্পিত ভাবে ইতিহাস বিকৃতি এবং ইতিহাসের সত্যতাকে আড়ালে করে এরা হয়ে উঠে সমাজের এবং রাষ্ট্রের কর্নধার। যেমন একজন দালাল বিচারপতি নুরুল ইসলাম ভাইস প্রেসিডেন্ট, আব্দুর রহমান বিশ্বাস ষ্পীকার এবং পরে প্রেসিডেন্ট, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হয়ে যান মন্ত্রী - যিনি নিজ হাতে মানুষ খুন করে কুখ্যাতি লাভ করেছিলে ১৯৭১ এ, আনোয়ার জাহিদ - যিনি ৭১ এ সামরিক বাহিনীর সাথে ব্যবসায়িক সহায়তা করেছিলেন, মাওলানা মান্নান ধর্ম মন্ত্রী। এরই রকমের আরো অনেক ঘাতক দালাল সমাজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও যথাযথ প্রচারের অভাবে তাদের ১৯৭১ এর ভুমিকা যখন মানুষ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের থেকে আড়াল হয়ে যাচ্ছিল - তখন সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক শাহরিয়ার কবিরে উদ্যেগে শফিক আহমদ একটা এসাইনমেন্ট নেন। সেই এসাইনমেন্টের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধাদের অবস্থা নিয়ে একটা প্রতিবেদন তৈরী করা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় এই বইএর শুরু।

এভাবেই শুরু করলেন টরন্টো সফররত শফিক আহমদ ডেনফোর্তের ট্রিলিয়াম স্কুলের এক সান্ধ্যকালীন আড্ডায়। গত ২৯ শে জুন বিকালে বসা এই আড্ডায় শ্রোতারা অবাক হয়ে শুনছিলেন তখনকার স্রোতের বিরুদ্ধের লেখা ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনকারী এই বইটির লেখকের স্মৃতি কথা।

শফিক আহমদ বলেন - একসময় একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল তার মেরুদন্ডে আটকে থাকা বোমার টুকরা অপসারনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে সরকারী উদ্যেগে তাকে পূর্ব ইউরোপের এক দেশে পাঠানো হয়। আগস্টের শেষের দিকে ছিল তার অপারেশনের তারিখ। কিন্তু ১৫ আগস্টের পর তাকে মোসতাক সরকারের নির্দেশে অপারেশনের একদিন আগে দেশে ফেরত আনা হয়। আরেকজন বুকে বুলেট নিয়ে বসবাস করছিলেন - কিন্তু ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর সরকারী সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ায় তার আর কোন পথ খোলা থাকেনি।

এই সব দেখে তরুন শফিক আহমেদ অবাক হয়ে যান। উনি ভাবেন কারা দেশের বীর সন্তানদের এভাবে শাস্তি দিচ্ছে। তিনি ধীরে ধীরে তখনকার ক্ষমতাশীনদের অতীতের খোঁজ নিতে গিয়ে হতভম্ভ হয়ে যান।

এরপর শুরু হয় তার তথ্যানুসন্ধানের কঠিন কাজ। ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সাথে যখন ১০৮ পৃষ্টার এক প্রতিবেদন তৈরী করে ছাপানোর জন্যে সাপ্তাহিক বিচিত্রাতে নিয়ে যান - তখন শুনতে পান তখনকার তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ এই প্রতিবেদন ছাপাতে নিষেধ করেছেন। এই সময় মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব:) কাজী নুরুজ্জামানানের পরামর্শে এবং সহায়তায় এটাকে হেন্ডবিল হিসাবে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে পটুয়া কামরুল হাসানের প্রচ্ছদ নিয়ে এটাকে বই আকারে প্রকাশিত হয় বই মেলায়। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুনতাসির মামুনের সম্পাদনায় মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র পরবর্তী সংকলন গুলো প্রকাশ করেন।

জনাব শফিক আহমেদ তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী কর্তৃক যে ধর্ষন করা হয়েছে তার সাথে একমাত্র তুলনা চলে নানজিং এ জাপানীদের ধর্ষনের ঘটনার সাথে। এই বিষয়ে তিনি সুজান ব্রাইনমিলারের “Against Our Will” বইএর থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন - ইতিহাসের এই বর্বর এবং কুতসিত ঘটনার বিচার যদিও এখনও হয়নি - কিন্তু হবে। এই বিষয়ের উপর অনেক কাজ হচ্ছে। তবে উনি আমাদের সবাইকে ইতিহাস সচেতন হবার অধিক ইতিহাস চর্চা কতা বলেন।

একটা বিশেষ বিষয়ে শফিক আহমদে স্রোতাদের সতর্ক করে বলেন - মুক্তিযুদ্ধে ঘাতক দালালদের ভয়াবহ নির্মমতার সাথে যেন আর কোন বিষয়ে তুলনা না করা হয়। কারন এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।


জনযুদ্ধের সৌজন্যে পূর্ন তালিকা এখানে দেখুন
২৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×