এভাবেই শুরু করলেন টরন্টো সফররত শফিক আহমদ ডেনফোর্তের ট্রিলিয়াম স্কুলের এক সান্ধ্যকালীন আড্ডায়। গত ২৯ শে জুন বিকালে বসা এই আড্ডায় শ্রোতারা অবাক হয়ে শুনছিলেন তখনকার স্রোতের বিরুদ্ধের লেখা ঘাতকদের মুখোশ উন্মোচনকারী এই বইটির লেখকের স্মৃতি কথা।
শফিক আহমদ বলেন - একসময় একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা গেল তার মেরুদন্ডে আটকে থাকা বোমার টুকরা অপসারনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে সরকারী উদ্যেগে তাকে পূর্ব ইউরোপের এক দেশে পাঠানো হয়। আগস্টের শেষের দিকে ছিল তার অপারেশনের তারিখ। কিন্তু ১৫ আগস্টের পর তাকে মোসতাক সরকারের নির্দেশে অপারেশনের একদিন আগে দেশে ফেরত আনা হয়। আরেকজন বুকে বুলেট নিয়ে বসবাস করছিলেন - কিন্তু ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর সরকারী সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ায় তার আর কোন পথ খোলা থাকেনি।
এই সব দেখে তরুন শফিক আহমেদ অবাক হয়ে যান। উনি ভাবেন কারা দেশের বীর সন্তানদের এভাবে শাস্তি দিচ্ছে। তিনি ধীরে ধীরে তখনকার ক্ষমতাশীনদের অতীতের খোঁজ নিতে গিয়ে হতভম্ভ হয়ে যান।
এরপর শুরু হয় তার তথ্যানুসন্ধানের কঠিন কাজ। ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সাথে যখন ১০৮ পৃষ্টার এক প্রতিবেদন তৈরী করে ছাপানোর জন্যে সাপ্তাহিক বিচিত্রাতে নিয়ে যান - তখন শুনতে পান তখনকার তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদ এই প্রতিবেদন ছাপাতে নিষেধ করেছেন। এই সময় মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব
জনাব শফিক আহমেদ তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্থানী সেনাবাহিনী কর্তৃক যে ধর্ষন করা হয়েছে তার সাথে একমাত্র তুলনা চলে নানজিং এ জাপানীদের ধর্ষনের ঘটনার সাথে। এই বিষয়ে তিনি সুজান ব্রাইনমিলারের “Against Our Will” বইএর থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন - ইতিহাসের এই বর্বর এবং কুতসিত ঘটনার বিচার যদিও এখনও হয়নি - কিন্তু হবে। এই বিষয়ের উপর অনেক কাজ হচ্ছে। তবে উনি আমাদের সবাইকে ইতিহাস সচেতন হবার অধিক ইতিহাস চর্চা কতা বলেন।
একটা বিশেষ বিষয়ে শফিক আহমদে স্রোতাদের সতর্ক করে বলেন - মুক্তিযুদ্ধে ঘাতক দালালদের ভয়াবহ নির্মমতার সাথে যেন আর কোন বিষয়ে তুলনা না করা হয়। কারন এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
জনযুদ্ধের সৌজন্যে পূর্ন তালিকা এখানে দেখুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

