আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখান - যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দানে বিরত থাকুন।

অভিবাসীদের দেশ কানাডা - পর্ব ২.১ (অভিবাসনের সিদ্ধান্ত)

২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৫:৪৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

সূচনা: এটা শুরু হয়েছিল - যখন আমি প্রথম কানাডায় আসি। তখন বাংলাদেশীদের সরাসরি বাংলাদেশ থেকে কানাডা আসার প্রবনতা কম ছিল। যেহেতু আমেরিকা বা নিউজিল্যান্ড না গিয়ে কানাডা এসে যখন পড়েছি, তখন প্রায় প্রতি সপ্তাহে টেলিফোন বা চিঠি বা ই-মেইলে কিছু প্রশ্ন আসতো। পরিচিত, স্বপ্ল পরিচিত বা অন্যান্যদের কাছ থেকে। কেমন আছি, কি করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। বুঝলাম, আসলে সবাই জানতে চান - উনারা কানাডায় আসবেন কিনা? সহজ প্রশ্ন কিন্তু কঠিন উত্তর - কারন এটা আসলে একটা নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয় - যার পিছনে এমন সব ফ্যাক্টর কাজ করে - যা সবার জন্যে ইউনিক। কেহ ঢাকা বা আশেপাশে একটা বাড়ী বানাতে পারলে বা কেহ একটা এপার্টমেন্ট কিনতে পারলে বা কেহ একটা প্রমোশন পেলে জীবনকে স্বার্থ মনে করবে - তাদের জন্যে কানাডা বা অন্যকোন দেশে পরবাসী হওয়া কঠিন। অন্য একদল মানুষ আছেন - যারা জীবনে স্থির হওয়াটাকে মরনের সমমর্যাদা দেন - তাদের জন্যে দেশে থাকা কঠিন। আবার কেহ আছে - চোখ কান বুজে - বিবেকটাকে প্যান্টের পকেটে বা টুপীর ভিতরে রেখে -ধরি মাছ না ছুই পানি ধরনের (ঘুষ খাই বুঝে সুজে) জীবন যাপন করেন তাদের বিষয় আবার আলাদা। সুতরাং আমি পড়লাম বিপদে। কারন একই ধরনের বিধান সবার জন্যে কাজ করছিলো না। তখন একটা ওয়ার্ড ফাইল তৈরী করি - কেন কানাডা আসবেন - কেনই বা আসবেন না। সেটার পরিবর্ধিত এবং পরিমার্জিত রূপ হলো এই লেখাটা। এটা দুভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটা হলো “কেন কানাডা আসবেন” এবং পরেরটা হলো “কেন কানাডা আসবেন না”। যদি কারো কাজে লাগে - নিজেকে ধন্যমনে করবো। তারপরও অনেক কথা বলা যাবে - যদি কারো সুনির্দিষ্ট কোন প্রশ্ন থাকে।

কেন কানাডার অভিবাসী হবেন?

১) কানাডা জি৮ দেশের একটা। এটা আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ - কিন্তু জনসংখ্যা মাত্র চার কোটি। একটা উন্নত দেশ - যার কর্মষ্থল চমতকার। জীবনযাত্রার মান অনেক উচু। ক্যানাডার একটা হেলথ কেয়ার সিস্টেম আছে যা বিশ্বের অন্যতম।

২) জাতিসংঘের বিবেচনায় কানাডা বসবাসের জন্যে শ্রেষ্ঠ দেশ হিসাবে পর পর পাচঁবার নির্বঅচিত হয়েছে। এই নির্বাচনের ভিত্তি হলো - জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা, জীবনকাল বা আয়ু।

৩)ক্যানাডা এমন একটা দেশ যেখানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মানুষ বাস করে। মূলত কানাডার আজেক এই অবস্থার পিছনে কাজ করছে ইমিগ্রান্টরা। প্রতিবছর কানাডা ২ লক্ষ ইমিগ্রান্টকে স্বাগত জানায়। নানান বর্ণ আর সংস্কৃতিই কানাডাকে একটা বিশ্বের “মেলটিং পট” হিসাবে বিবেচার দাবী রাখে।

৪) বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকেই আপনি আসুন না কেন - আপনি কানাডাতে প্রবেশ করা মাত্রই আপনি একজন নাগরিকের সকল সুবিধা ভোগ করতে শুরু করবেন। আপনার অধিকার সংরক্ষিত হবে - ক্যানাডার “চার্টার অব রাইটস” এর অধীনে। যদি আপনি বৈধ নাগরিক হতে চান - তিন বছর বসবাসের পর আপনি আবেদরন করতে পারেন। কানাডিয়ান হিসাবে তখন আপনি পাসপোর্ট এবং ভোট দানের অধিকার পাবেন।

৫) এখানে বাচ্চাদের শিক্ষার জন্যে একটা চমতকার ব্যবস্থা আছে। একটা বাচ্চা যেহেতু বিশ্বের অনেক দেশের বাচ্চাদের সাথে একই ভাবে মিশতে পারে - তারা হয়ে উঠে উদার এবং সংস্কারহীন মানুষ। উল্লেখ্য ১২ লেভেল পর্যন্ত একটা ফ্রী এবং ইউনিক শিক্ষা ব্যবস্থা কানাডার বৈশিষ্ট্য।

৬) উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষনার জন্যে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে পারে আপনার পছন্দের তালিকা একটি। এখানে কানাডিয়ানদের পড়ার খরচ অনেক কম - যার জন্যে সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করা হয় সরকারী ভাবে।

৭) কানাডিয়ান গ্রাজুয়েটদের জন্যে বিশাল চাকুরী বাজার আছে আমেরিকায়।

(পরের অংশ " কেন কানাডায় আসবেন না?")

 

 

  • ১৮ টি মন্তব্য
  • ৪৮৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:১৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: ধন্যবাদ, এস্কিমো ভাই, কাজে লাগতে পারে খবরগুলা।

কানাডা কি ডুয়েল ন্যাশনালিটি সাপোর্ট করে?
২. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:৩১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: হ্যাঁ, এটাই কানাডার মজা। একই সাথে দুই দেশের নাগরিক। @রাশেদ
৩. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ ভোর ৬:৪৪
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কানাডা গেলে কইলাম এস্কিমোর ঈগলুতে এককাপ কফি খাইতে যামু
ভাল টপিক ... কানাডায় পড়াশোনা নিয়েও লিখুন ... ব্লগে প্রচুর ছাত্র আসেন, তারা আগ্রহী হবেন
৪. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৭:১৬
comment by: এস্কিমো বলেছেন: কফির সাথে আইসক্রীম ফ্রী...@জ্বীনের বাদশা
৫. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৭:৩৪
comment by: কোপা সামচু বলেছেন: এস্কিমো ভাই, জ্বীনের বাদশা কে টিম হরটনস্ এর Iced Capp খাওয়ালেই চলবে।
৬. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:০২
comment by: ঢালী! বলেছেন: মহান ঢালী! "কেহ" শব্দে আপত্তি জানাচ্ছেন ।

বিড়ালের লেজের পাড়া দিলে যে শব্দ নির্গত (কেঁউ!) হয় তা থেকে চন্দ্র বিন্দু বিয়োগ করলেগই সঠিক শব্দটি পাওয়া যাবে--কেউ ।
৭. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ৯:৫৫
comment by: অচেনা বাঙালি বলেছেন: চমৎকার! তথ্যবহুল পোস্ট।

আগ্রহী ব্লগারদের কাজে লাগবে আশাকরছি।
পোস্টের জন্য এস্কিমোকে শুকরাণ!
৮. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সকাল ১১:০২
comment by: নকাশু বলেছেন: এস্কিমো ভাই, বাস্তবমুখী কথা বলার জন্য ধন্যবাদ। যেহেতু আপনি কানাডায় আছেন অবশ্যই বাস্তব কথাগুলোই বলবেন আশা করি। পরের অংশ পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম.....
৯. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৪
comment by: এস্কিমো বলেছেন: জ্বীনের বাদশার জন্য আইস ক্যাপ..@কোপা

মহান ঢালী! - আপনার আপত্তি গৃহিত হইল।

সবাইকে ধন্যবাদ।
১০. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৩৫
comment by: মনিটর বলেছেন: অফলাইনে পরতেছিলাম। ভালো হইতেছে।
"প্রতিবছর কানাডা ২ লক্ষ ইমিগ্রান্টকে স্বাগত জানায়।" কান্ট্রি কোটা আছে নাকি? বাংলাদেশের লোক কেমন?
১১. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫
comment by: এস্কিমো বলেছেন: না- কোন কোটা নেই।
পুরো কানাডাতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশী আছেন (তথ্যসূত্র - স্থানীয় বাংলা পত্রিকা সমূহ)
@মনিটর
১২. ২৯ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ৮:০৩
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: অনেক উন্নত দেশের মতই ক্যান্যাড্যা সরকারও গ্যারান্টেড নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেয়, যদি আপনি একটা লাম্পসাম ওখানকার ব্যাংকে কয়েক বছরের জন্যে ফ্রিজ করে রেখে দেন, মানে ফিক্সড ডেপ্জেট আর কি।

আসলে ইমিগ্র্যান্ট মিন্স বিস্নেস - এই বাজারটা বিভিন্ন সরকার ট্যাপ করে। কিছুদিন আগে আমাদের এখানে মালয়শিয়্যান সরকার রেটায়ার্ড মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে একটা লাভজনক স্কিম ফ্লোট করেছিল, যার স্লোগ্যান ছিল, মায় সেকন্ড ঔম ইন মালয়শিয়্যা - মাত্র তেরো লাখ টাকার ( আয়েনার ) বিনিময়ে সে দেশের নিশ্চিত নিরাপদ আশ্রয়।
১৩. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৩৭
comment by: মৈথুনানন্দ বলেছেন: সরি, ওটা তেরো না, চল্লিশ লাখ হবে।
১৪. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৫৬
comment by: তানভীর বলেছেন: গত বছর জুনে টরন্টো গিয়েছিলাম। খুবই ভাল লেগেছিল। বিশেষ করে ডাউনটাউনে এত লোকের সমাগম-মনে হচ্ছিল ঢাকায় আছি। আমার বন্ধু যে কানাডায় থাকে, তার অবশ্য আবার এত লোক পছন্দ না। যে যেটা পায় না আর কি! একটা জিনিষ অবশ্য ভালো লাগে নি। একটা জায়গায় দেখলাম ইমিগ্রান্ট-দের কলোনি। শুনলাম ভদ্রলোকরা এলাকাটা এড়িয়ে চলেন। কারণ, সব অপরাধীদের আস্তানা এইখানে। এর মধ্যে আমাদের কিছু বাঙ্গালী ভাই-ও নাকি আছেন। বেকার দাবী করে একেক জন নাকি একেকটা বাড়ী দখল করে থাকেন, অন্যদিকে চুটিয়ে গ্রোসারীর বা অন্য ব্যবসা (দেশী) করেন। শুনে দুঃখ পেলাম যে এইখানেও আমাদের দুই নাম্বারী। আশা করি, এটা নিয়ে কিছু লিখবেন। 'কেন কানাডায় আসবেন না'- আপনার এই পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। কারণ, আমি ঠান্ডার ভয়ে কানাডায় যেতে চাই না। এর সাথে অন্য আরো কারণ যোগ হলে একটা মানসিক শান্তি পাব। হেঃ হেঃ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
১৫. ৩০ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১১:০০
comment by: তানভীর বলেছেন: আগের মন্তব্যে ওটা বেকার ভাতা খাওয়া ইমিগ্রান্ট-দের কলোনি হবে। ৫ দিলাম সেই সাথে। ধন্যবাদ।
১৬. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৮
comment by: এস্কিমো বলেছেন: "সব অপরাধীদের আস্তানা এইখানে। এর মধ্যে আমাদের কিছু বাঙ্গালী ভাই-ও নাকি আছেন।"

- এটা হলো অতিমাত্রায় সেনসিটিভিটি থেকে আসে। যে এলাকাটার কথা বলছেন - সেটা একসময় অপরাধ প্রবন ছিল, এখন আর তেমনটা নেই। বাঙ্গালীদের বসবাসের কারনেই অপরাধের মাত্রা কমেছে।

বেকার ভাতা / সোসাল এসিসটেন্স একটা বিরাট বিষয় - সেটা নিয়ে একসময় লিখার ইচ্ছা রইল।

ধন্যবাদ @তানভীর

১৭. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৫৬
comment by: রাগ ইমন বলেছেন: ইমিগ্রেশনের জন্য কোন প্রভিন্স আর পড়ালেখার জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভালো ( টাকা কম মাথায় রেখে) ?
১৮. ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১৬
comment by: এস্কিমো বলেছেন: ইমিগ্রেশনের জন্যে ওন্টারিও ভাল...কাজ পেতে সুবিধা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টা আমি ভাল জানি না।

@রাগ ইমন।

 



 


এস্কিমো এখনও প্রথম আলো ব্লগে যায় নাই।

[এস্কিমো ব্লগের সতর্কীকরন: রাজাকার, আল বদর, আল শামস্, শান্তি কমিটি, ও '৭১ এর...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০৪০১৭