আপনি যদি কখনও জামাত-শিবিরের বর্তমান রাজনীতি, অতীত কর্মকান্ড বা জামাতের নেতৃত্বে থাকা রাজাকার/আলবদর/দালালদের সম্পর্কে কোন সত্য প্রকাশ করেন তাহলে আপনি যে যে ভাবে আক্রান্ত হবেন - সেগুলো ক্ষেত্রবিশেষ এড়িয়ে যাওয়া কঠিন এবং তার জবাব দিলে কি হবে - সেই বিষয়ে একটা মোটামুটি ধারনা পাবেন নীচের বর্ণনা থেকে। এই টেকনিগুলো কিভাবে ট্যাকেল করবেন - সেই দিকেও কিছুটা আলোকপাতের চেষ্টা করবো।
মনে করুন আপনি জামাতের এক নেতার বিগত সরকারে থাকার সুবাদে লুটপাটের বিবরন দিয়ে একটা লেখা পোস্ট করলেন। অথবা উচ্চপদে আসীন কোন ব্যাংক কর্তার ‘৭১এর ভুমিকা নিয়ে একটা পোস্ট দিলেন। সেই পোস্টে জামাত/শিবির সরাসরি বিষয়ে কথা না বলে মূল বক্তব্যকে আড়াল করার জন্যে যে যে টেকনিক ব্যবহার করতে পারে তা আমার আভিজ্ঞতার আলোকে এক এক করে বর্ননা করা হলো।
টেকনিক ১:
আপনাকে আওয়ামী লিগের সমর্থক হিসাবে প্রমান করার চেষ্টা করা হবে। জামাত সমর্থকরা মূল বক্তব্য যাহাই হোক না কেন, এমন একটা কমেন্ট করবে যাতে আওয়ামীলীগ বা শেখ হাসিনা জড়িত থাকে। আপনি যদি আওয়ামীলিগের সমর্থক হন -তাহলে সেই ফাঁদে পা দেবার সম্ভাবনা অনেক বেশী থেকে যায়। শুরু করলেন ডিফেন্ড করা এবং যদি আক্রমন করেন তাহলে সেটা চলে যাবে বিএনপির বিরুদ্ধে - সুতরাং কমেন্টকারী জামাতী তখন দুরে দাড়িয়ে হাসবে -কারন লেখার মুল বক্তব্য আড়াল করে এখন রাজনৈতিক বিতর্ক প্রাধান্য পেয়েছে - যাতে জামাত দুধ-ভাত হিসাবে নিজেকে ফুলে মতো পবিত্র হিসাবে সরিয়ে নেবে।
প্রতিকার: পোস্টের মুল বক্তব্যে স্থির থাকুন এবং কমেন্টকারীকে স্মরন করিয়ে দিন পোস্টের মুল বক্তব্যটা আসলে কি ছিল।
টেকনিক ২:
বহুল ব্যবহূত এই টেকনিকটা চালু হয় মুলত ৪৭ সালে পাকিস্থান জন্ম নেবার পর। কোন কারনে রাজনৈতিক মতভেদ হলেই আপনাকে ভারতে দালাল হিসাবে লেবেল করা হবে। বিশেষ করে আইউব খানের সামরিক শাসনের বিরোধীদের জেরে পাঠানোর জন্যে এই অভিযোগটি বহুল ব্যবহূত হয়। দেখা গেল যাকে ভারতের দালাল বলা হয়েছে - সে জীবনে কোনদিন ভারতের পক্ষে একটা শব্দও উচ্চারন করেনি - বরঞ্চ ভারতের বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিন্দা করেছে এবং বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অমিমাংসিত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার। আপনি যদি সেনসেটিভ হন - তাহলে এই ট্রাপে পড়ে যেতে পারেন। তাহলে জামাতীদের মুখোশ উন্মোচনের মুল উদ্দেশ্য থেকে সরে যাবেন এবং জামাতীদের উদ্দেশ্য স্বার্থক হবে।
প্রতিকার: পোস্টের মুল বক্তব্যে স্থির থাকুন এবং কমেন্টকারীকে স্মরন করিয়ে দিন পোস্টের মুল বক্তব্যটা আসলে কি ছিল।
টেকনিক ৩:
এটা ভয়াবহ টেকনিক। আপনি একটা পোস্ট দিয়ে হয়তো রোজা শেষ করে তারাবী পড়ে এসে রিল্যাক্স মুডে কম্পিউটার খুলে সামহোয়ারে গিয়ে দেখলেন একজন আপনার পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় একটা পোস্ট দিয়ে তাতে আকডুম-বাকডুম বলে উপসংহারে আপনাকে “ইসলামে বিদ্ধেষী” হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এটা হজম করা সত্যই কঠিন। একজন মানুষ নিজেকে মুসলমান দাবী করে কিভাবে অন্য একজন সম্পর্ক না জেনেই তাকে ইসলাম বিদ্বেষী হিসাবে ঘোষনা দেয়! এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো কঠিন। এটা হলো ধর্মে আড়াল করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের একটা টিপিক্যাল টেকনিক। জিয়া করেছে, এরশাদ করেছে, পাকিস্থানের সামরিক সরকার করছে, ভারতে বিজেপি করেছে এখন বাংলাদেশের জামাত করছে। একদল যুদ্ধাপরাধীর কুটকৌশল হলো ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের কৃতকর্মকে আড়ালে পাঠানো।
প্রতিকার: পোস্টের মুল বক্তব্যে স্থির থাকুন এবং মনে রাখবেন জামাত কোন ধর্মীয় সংগঠন না। এটা একটা রাজনৈতিক সংগঠন। সুতরাং ধর্মীয় বিষয়ে যখন ওরা কোন মতামত দেয় সেটা অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শকে অনুসরন করেই দেয়। সুতরাং ধর্ম বিষয়ক ওদের বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।
টেকনিক ৪:
এটা নরমাল টেকনিক। আপনি দেখবেন আপনার পোস্টের মন্তব্যর জায়গায় নতুন এবং অপরিচিত নিকে গালাগালি করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে গালাগালিগুলো চরম অপমানজনক। আবার কিছু কিছু নিক আছে যারা ভদ্র ভাষায় (যেমন ব্লগের মুক্তিযুদ্ধা, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধা, রামবামপন্থী ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে আপনাকে গালাগালি করবে।
প্রতিকার: সেখানেও মাথা ঠান্ডা রেখে গালিবাজদের চিহ্নিত করুন এবং গালি মুছে নিকগুলো ব্লক করে দিন।
মুল বিষয় হলো - ধর্মের আবরনে ঢেকে ৭১ এর দালালদের রক্ষার চেষ্ঠাকে ব্যর্থ করার একটাই পথ - তা হলো সত্য এবং সঠিক ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌছে দেওয়া এবং সবাইকে সেই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার থেকে নিবৃত্ত করা।
একদিন বাংলাদেশের সবাই এই মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ীদের আসল চেহারা চিনতে পারবে। মানুষ জানবে - এরা মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে জীবনপাত করার কথা বললেও নিজেদের ছেলে মেয়েদেরকে পাঠায় পশ্চিমী শিক্ষা গ্রহনের জন্যে - যাতে মাদ্রাসা পাশ মানুষের উপর খবরদারী করতে পারে। মানুষ জানবে - ধর্মীয় লেবাসধারী এই যুদ্ধাপরাধীরা দৃশ্যত কোন বৈধ আয়ের সংস্থান না থাকা স্বত্তেও বিলাস বহুল জীবনযাপন করে - এরা ধর্মের নামে মধ্যপ্রাচ্যে থেকে অর্থ এনে নিজেদের জীবন যাপনে জৌলুশ বাড়ায়। এরা সরকারী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ভোগের জন্যে গাড়ী-বাড়ীর মালিক হয়। এরা ক্ষমতার জন্যে পারে না এমন কোন কাজ নেই - নীতি আদর্শের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরেও এরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে চায়।
একটা সুন্দর এবং আধুনিক বাংলাদেশ তৈরী লক্ষ্যে আমাদের দৃঢ়তার সাথে সকল মুখোশধারী ধর্মব্যবসায়ী যুদ্ধাপরাদী আর তাদের সমর্থকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
সত্য আড়াল করতে জামাতি টেকনিক এবং আমাদের করনীয়
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।