দেশের এই কঠিন অবস্থায় সকল সরকারী, বেসরকারী সংস্থা, সংবাদ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মানুষ যা পেতে পারে - তা হলো দায়িত্বশীল আচরন - যা জনমনে স্বাভাবিক নিরাপত্তার ভাব ফিরিয়ে আনে আর দায়ী ব্যক্তি বা সংগঠনকে বিচারের সন্মুখিন করা যায়।
দেশের সবাই যখন এই ভয়াবহ হামলার কারন এবং দায়ীদের বিষয়ে প্রশ্ন উত্তর খুঁজছিলো - তখন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নিয়োজিত প্রতি মন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর (১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০৫) ঘোষনা দেন যে, এই বোমা হামলার পিছনে জেএমবি’র সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য গোয়েন্দা বিভাগের কাছে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বিবৃতির পরই সরকারের আরেক পার্টনার জামাতের এম পি রা এর বিরোধীতা করে - তাদের ভাষ্য ছিল এই সব তথ্য ভিত্তিহীন।
তারা শুধু মৌখিকভাবে বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি। জামাতের দুই এমপি ( রিয়াসত আলী বিশ্বাস এবং দেলোয়ার হোসেন সাঈদী) দুইটি দৃষ্টি আকর্ষনী প্রস্তাব জমা দেয়। স্পীকারের উদারতায় সেই প্রস্তাগুলো গৃহিত ও আলোচিত হয়।
রিয়াসত আলী বিশ্বাস তা প্রস্তাবে বলে - “জামিয়াতুল মুজাহিদীন এবং হরকতুল জেহাদের ইসলামিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে পরিনত করার লক্ষ্যে জেহাদের জন্যে সামরিক প্রশিক্ষনের বিষযক রিপোর্টটি একটি প্রপাগান্ডা ছাড়া কিছুই নয়”।
রিয়াসত আলী তার লিখিত নোটিশে উল্লেখ করেন - এটা ভারত সমর্থিত একদল রাজনৈতিক দলের অপপ্রচার মাত্র। তার দৃঢ় উচ্চারন ছিল - “এটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন - এমনকি বিদেশীরও এই প্রপাগান্ডার ভিত্তি খুঁজে পায় নি”।
অন্যদিকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী তার প্রস্তাবে বোমা হামলার কারনে মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর নির্বিচারে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন - “দেশে একটা পুতুল সরকার স্থাপনের নীল নকশার অংশ হিসাবে এই বোমা হামলা ঘটানো হয়েছে - যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অবিভক্ত ভারতের অংশ বানানো যায়”।
সাঈদী আরো বলেন - “বাংলাদেশকে আফগানিস্থান এবং ইরাকের মতো বিদেশী শক্তির আক্রমনের লক্ষ্যস্থল বানানো নীলনক্সা অংশ হিসাবেই এই বোমা হামলা হয়েছে”।
(২)
এই ঘটনা পর বুড়িগঙ্গা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে। সবার কাছে এখন পরিষ্কার কারা এবং কেন সেই বোমা হামলা করেছিল। সেইদিনগুলোতে গনতন্ত্রের ভেকধারী জামাতে ভুমিকা নিয়ে যদি আজ কেহ প্রশ্ন করে - সরকারে থেকে কেন এবং কাদের রক্ষা করার জন্যে প্রজাতন্ত্রের সেবার শপথ গ্রহনকারী জামাতের এমপিরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছিলো?
একজন এমপি যখন নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহন করে সংসদের আসনে বসে - তার একমাত্র কর্তব্য হবে দেশের মানুষের কল্যান চিন্তা করা এবং সেই অনুসারে কাজ করা।
কিন্তু দেশব্যাপী বোমা হামলার পর দেশের মানুষ যখন নিরাপত্তার জন্যে সরকারের দিকে তাকিয়ে ছিলো - তখন সরকারের একটা অংশ বোমা হামলাকারীদের আড়াল করার জন্যে সংসদের মতো স্থানে মিথ্যাচার করে - তারা কি আসলে বাংলাদেশের মানুষের কল্যানের রাজনীতি করে? বোমা হামলায় তাদের ভুমিকা কি ছিল? এরা কি বাংলাদেশে একটা গনবিরোধী শক্তি নয়?
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


