কিন্তু - একজন মানুষ এই সিন্ধান্তের পক্ষে ঠায় দাড়িয়ে থাকে। উনি হলে কানাডার প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা - মার্ক ম্যারান্ড। উনি বললেন - আমি আইন বানাই না, আইন মান্য করি।
কানাডার বর্তমান নির্বাচনী আইনে নির্বাচনে ভোটাররা তাদের মুখমন্ডল প্রদর্শন বা কোন ছবিওয়ালা আইডি ছাড়াই ভোট দিতে পারে। উনি বলেছেন - এই বিষয়টি আগেও সরকারকে অবহিত করা হয়েছে - কিন্তু পার্লামেন্টএ আইন পরিবর্তন ছাড়া এই বিষয়ে তার কোন প্রকার চাপ দিয়ে কাজ হবে না।
সরকার নিজেও বিপাকে পড়েছে। কারন প্রতি নির্বাচনে গড়ে ৮০,০০০ ভোটার ডাকে ভোট দেয় - যাদের নিজেরা কোন আইডি প্রদর্শন করতে হয় না। যদি ফটো-আইডি প্রদর্শন করা বা মুখমন্ডল প্রদর্শন করা বাধ্যতামূল করা হয় তবে নির্বাচনে এই বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিতে পারবে না।
এই অবস্থায় প্রধান নির্বাচনী কর্তাকে হাজির হতে হয় একটা সংসদীয় কমিটির কাছে। সেখানে মার্ক ম্যারান্ড প্রবল চাপের মুখে বলেন - সংসদীয় কমিটির কোন সিন্ধান্ত মানতে উনি বাধ্য নয়। কারন - কমিটি সংসদ না। আর তার উপরে আছে সংবিধান। উনি সংবিধানকেই অনুসরন করতে বাধ্য - আর কোন কিছু নয়।
এরপর কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার সংসদে আইন পাশ করে মুখমন্ডল প্রদর্শন করা বাধ্যতামুলক ঘোষনা দেন। এটা মিডিয়াতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝড় তোলে। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতাকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা করে।
অবশেষে - অন্টারিও প্রদেশের সাধারন নির্বাচনের আগে বিষয়টা ধামাচাপা পড়ে যায়। না প্রধানমন্ত্রী - না বিরোধীদল - কেউই এই নিয়ে টু শব্দও করেনি। নেকাব বিতর্ক পরিসমাপ্তি ঘটে।
এই বিতর্কের ঘোলা জলে মাছ শিকারীরা সবাই হতাশ হয়েছে। কিন্তু বিজয়ী হলো কে?
কানাডার নির্বাচনী আইন?
কানাডার প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা?
কানাডার সংবিধান?
গনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা?
ধর্মনিরপেক্ষতার আলোকে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থা?
পাঠক, আপনিই বলুন।
(ছবি- মার্ক ম্যারান্ড)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



