somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এটা ছবির গল্প:বিড়ালের ইদুর মারা চেয়ে তার রংটাই কি বেশী গুরুত্বপূর্ন?

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৮ শে অক্টোবর নিয়ে কৌতুহল বসত "প্রসঙ্গ ২৮শে অক্টোবর: ছবির এই লোকটিকে কি চিহ্নিত করা হয়েছে?"
শিরোনামে একটা পোস্ট দিয়ে জানত চেয়েছিলাম - ছবিতে যে লোকটাকে দেখা যাচ্ছে - পুলিশ তাকে ধরেছে কিনা? ছবিটা প্রমান হিসাবে বেশ ভাল। এক বছর হয়ে গেল এই ঘটনার - কিন্তু কোন অভিযুক্তকে ধরা হলো না, এটা কেমন কথা।

যাই হোক, গতকাল দেখলাম এই বিষয়ে "ডেইলি স্টারের ধরা খাওয়া সেই ছবি...... " শিরোনামে আরেকটা পোস্ট। পড়ে বুঝার চেষ্টা করলাম বিষয়টা কি?

দেখলাম - সেখানে চলছে ব্লেইমিং গেইম। নোংরা রাজনীতির খেলা। একজন ছবিটা উল্টা করে দিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেছেন যে - সেথানে একটা দেওয়াল লিখন উল্টা। আর যায় কই?

শুরু হলো কনসপিরেসী থিয়োরী। ডেইলি স্টার ইচ্ছাকৃত ভাবে ছবিটা উল্টা করেছে - যাতে দেখা যায় ছবিতে গুলিবর্ষন কারী জামাতের লোক না। (একটা ম্যাপ দিয়ে যদি বলা হতো কোন দিকে জামাত আর কোন দিকে ১৪ দল দাড়িয়ে রণে ব্যস্ত ছিলো - তাহলে হয়তো অধমের কিছুটা বোধগম্য হতো)

একজন সাধারন মানুষ হিসাবে কি প্রথমত মনে একটা প্রশ্ন আসার কথা উচিত নয় যে, এই লোকটার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে তার কৃতকর্মটাই গুরুত্বপূর্ন। লোকটাকে খুঁজে বের করাটাই গুরুত্বপূর্ন নয় - তার রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজার চাইতে?

কিন্তু সংকীর্ন দলীয় আনুগত্যের কারনে এরা পুরো বিষয়টাকে নিয়ে নোংরা রাজনীতির খেলায় নেমেছে। সেখানে "ধর্ম" নামক একটা সংবেদনশীল উপাদান যোগ করতেও ভুলেনি একজন জামাতি ব্লগার।

এখানে দেখুন জামাতির মন্তব্য:
ফজলে এলাহি বলেছেন :
২০০৭-১০-২৮ ০৬:৩৭:২২
"জাযাকাল্লাহু খাইর মাহমুদ রহমান।

এভাবেই ইসলামের দুশমনরা ইসলাম ও ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশবাসীর বোধোদয় হওয়া উচিত, আর কতদিন ঘুমিয়ে থাকবেন কিংবা দু'চোখে নিন্দুকের নিন্দার পর্দা ঝুলিয়ের সত্যকে চিনতে ভুল করবেন???"

প্রশ্ন হলো, এখানে ইসলাম আসলো কিভাবে? কে এই প্রশ্নের জবাব দেবে? জামাতিদের রাজাকারী চরিত্রের একটা অংশই হলো যে কোন বিষয়ে ধর্মকে টেনে এনে মুল বিষয় থেকে সরে যাওয়া। তাহলে কি আমরা ধরে নেব, ছবির লোকটা জামাতের সমর্থকই ছিল - যাকে বাঁচানোর জন্যে স্টারের বিরুদ্ধে "ষড়যন্ত্রের থিয়োরী" এবং ধর্মীয় ফ্লেভার আনা জরুরী হয়ে পড়েছে?


অন্য একজন একজন ব্লগার অবশ্য একটা জবাব দিয়েছে এইভাবে:

েকএসআমীন বলেছেন :
২০০৭-১০-২৮ ১৩:১৫:২০

"ফটোগ্রাফী ও মুদ্রণ প্রযুক্তি সম্পর্কে যাদের নূনতম ধারণা আছে তারা এটাকে ডেইলীস্টারের ধরা খাওয়া ছবি বলতে পারে না।

এই ছবি দুটো একই ছবি যা যুগান্তর ও ডেইলীস্টার ছেপেছে। স্ক্যানিং করে বসানোর সময় কোন একটি পত্রিকা উল্টো করে বসিয়েছে, এই যা...
অনেক সময় আমরা ছাপানো ছবিতে লক্ষ করি যে, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডের লেখাগুলি উল্টো। এটার কারণও একই। না বুঝে যা ইচ্ছে মন্তব্য করার শাস্তি কী হতে পারে আপনার দয়া করে ভাবুন....."

কিন্তু এরা ভাববে কেন? এতে তাদের লাশের রাজনীতির ক্ষতি হবে।

-------

আমি ছবিটাকে ফটোশপে নিয়ে "ফ্লিপ" করে আরেকটা কপি বানিয়ে আসলটার নীচে পেস্ট করলাম। তাতে কি ছবিটার গুনগত পরিবর্তন হলো বুঝলাম না? এখন কি গুলিবর্ষনকারীকে দেখা যাচ্ছে যে সে গুলির শিকার হচ্ছে? হাস্যকর একটা থিয়োরী!


ছবিতে দৃশ্যমান গুলি বর্ষনকারী ও তার হাতের অস্ত্রটাই কি তাকে কোর্টে হাজির করানোর পক্ষে গুরুত্বপূর্ন নয়?

বিড়ালটা ইদুর মারে কিনা - সেই আলোচনা থেকে যারা বিড়ালের রং নিয়ে বিতর্ক করে নিজেদের বুদ্ধিমান হিসাবে প্রমান করতে চায় - তারা কি ভেবে দেখবে - ইদুর মারাটা কতটা গুরুত্বপূর্ন। রাজনীতির ভিতর থেকে সন্ত্রাসবাদকে দুর করার চাইতে কি কোন দলে সন্ত্রাসী তা প্রমান করা জরুরী। সমস্যা হলো জামাতিদের সন্ত্রাসের কথা যদি আমরা না জানতাম তা হলে হয়তো কিছুটা করুনা আসতো। যে দলে আহামইদ্দ্যা, গিট্টি নাসির আর সালেহীনদের অবস্থান - তারা কেন ব্যস্ত হয়ে আঙ্গুল অন্যের দিকে উঠায় - তা বুঝদারের বুঝার জন্যে যথেষ্ঠ নয়কি?

সকল হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারী এবং উষ্কানীদাতাদের বিচার চাইতে গিয়ে যদি রাজনৈতিক পরিচয় মনে করে ঢোক গিলতে হয় - তাহলে তাদের জন্যে করুনা ছাড়া কিইবা করার থাকে।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৫:৫৭
২৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×