লোকে বলে, চোরের মা’র বড়ো গলা। সাবেক বিএনপি-জামাত জোট সরকারের মন্ত্রী, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দালাল, বিজয়ের প্রাক্কালে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের ঘাতক, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামাতে ইসলামীর বর্তমান সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ স¤প্রতি দাবী করেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। যারা ছিল তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।’ সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুজাহিদ বলেছেন, ‘পারলে আপনারা খুঁজে বের কর"ন (যুদ্ধাপরাধীদের), মূল্যায়ন কর"ন’। অথচ ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর বির"দ্ধে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিহত করতে জামাতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র
সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি আলী আহসান মুজাহিদ কুখ্যাত আলবদর বাহিনী গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তার দলের নেতাকর্মীদের। মুজাহিদের স্বাধীনতা-বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের জলন্ত প্রমাণ রয়েছে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন দলিলে।
জানা যায়, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিভাগ ১৯৭১ সালে এখানকার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ) পরিস্থিতি নিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়ার সরকারকে মাসে দুবার গোপন প্রতিবেদন পাঠাতো। প্রতিবেদনের অফিসিয়াল শিরোনাম ছিল ‘ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান’ (পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পাক্ষিক গোপন রিপোর্ট)।
জামাতের নেতারা একাত্তরে হত্যা, নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নন বলে যতোই বলুন না কেন, এই গোপন প্রতিবেদনে এবং বিভিন্ন সময় এদেশের নানা পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামাতের শীর্ষ নেতা ও কর্মীদের ন্যক্কারজনক ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে। মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর মতো এভাবে এই তালিকায় নাম এসেছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মওলানা আব্দুস সোবহান ও মোহাম্মদ কামার"জ্জামানেরও। আর এদের শীর্ষে আছেন যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদা, জামাতের সাবেক আমির গোলাম আযম।
তৎকালীন সরকারের গোপন প্রতিবেদনে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ কীভাবে তখন পাকিস্তানকে রক্ষার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করতে তৎপর ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। অক্টোবর দ্বিতীয় ভাগের সরকারি এক গোপন প্রতিবেদনে (১৩ নভেম্বর, ১৯৭১ তারিখে স্বরাষ্ট্র সচিব স্বাক্ষরিত) বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর রংপুরে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র সংঘের এক সভায় আলী আহসান মুজাহিদ আলবদর বাহিনী গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেছিলেন, ইসলামবিরোধী শক্তি প্রতিহত করতে হবে। এ জন্য যুবকদের সংগঠিত করে আলবদর বাহিনীতে যোগ দেওয়ার ওপর তিনি গুর"ত্ব দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেছিরেন এটিএম আজহার"ল ইসলাম, যিনি বর্তমানে জামাতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
গোপন রিপোর্টে বলা হয়, ৭ নভেম্বর জামাতে ইসলামী ‘আলবদর দিবস’ পালন করে। দলের নেতারা দিবসটি পালনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলবদর বাহিনীতে জনগণকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা পাকিস্তান চায় না তারা আমাদের শত্র"। পাকিস্তানের অখণ্ডতা র"খতে হবে ও শত্র"দের প্রতিহত করতে হবে।
৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ছাত্র সংঘ ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসায় ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা দিবস’ পালন করে। সভায় পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বাত্মক কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ স্বরাষ্ট্র সচিব স্বাক্ষরিত সেপ্টেম্বর প্রথম ভাগের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ আছে।
(তথ্যসূত্র : মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



