ব্লগে কেউ কেউ কুরবানী নিয়ে তাদের দৃস্টিভঙ্গী প্রকাশ করেছে। আশা করি ইসলামের পক্ষে কথা বলা ব্লগারদের কেউ হয়তো এগিয়ে এসে এই বিষয়টি নিয়ে একটা যুক্তিপূর্ন আলোচনা করবেন। কিন্তু এটা সত্যই পরিতাপের বিষয় -ব্লগে একজনও কে পাওয়া গেল না যারা কুরবানীর মতো একটা বিরাট ঘটনাকে নিয়ে যুক্তিপূর্ন একটা পোস্ট দিতে পারেন।
কিন্তু থেমে থাকবেন কেন ওরা। উত্তেজিত হয়ে ইরাকযুদ্ধের সবচেয়ে নোংরা বিষয়টাকে নিয়ে পুঁজি করে একটা ব্যবসা করার মানসে পোস্ট দিয়েছেন মাহিরাহি নামের একজন ব্লগার।
যারা মাহিরাহির লাইন অব একশন জানেন না -তাদের জানার জন্যে বলি। উনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করাটাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায় মনে করেন। তবে কুরবানী নিয়ে আলোচনায় ইরাকের আবু গারিবের ছবি প্রকাশ করতে অসুবিধা মনে করেন না।
একটা কথা পরিষ্কার বলা দরকার। যে কোন নির্যাতনই ঘৃনার যোগ্য- সেটা আমেরিকা ইরাকেই করুন আর রাশিয়া চেচনিয়াতেই করুক। কোন তথাত নেই।
তবে আমেরিকার সৈন্যদের আবু গারিবের নির্যাতনের বিষয়ে কয়েকটা বিশেষ বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে -
১)যে ছবিগুলো বিশ্ব বাসী দেখেছে -তা একজন আমেরিকানই তুলেছে এবং আমেরিকাতে পাঠিয়েছে।
২) আমেরিকান সরকার এই ঘটনার জন্যে ইরাকী জনগনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে।
৩) সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তা এবং সৈন্যরা বিচারের সন্মুখিন হয়েছে।
৪) এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকান সরকার বা আর্মী কোন ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়নি।
৫) আমেরিকান মিডিয়া এবং জনগন বিষয়টাকে ঘৃনার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এবার আসি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক একটা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখন্ডের ভিতরে যা হয়েছে -তার বৈশিষ্ট্য হলো -
১) পুরো দেশটাকে পাকিস্থানী সেনা আর দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা মিলে একটা নির্যাতন কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছিলো।
২)আবু গারিবে জেলের ভিতর লুকিয়ে কয়েকশত মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে আর বাংলাদেশে সাড়েসাতকোটি মানুষকে সমগ্রদেশেই অত্যাচার করা হয়েছে। যার ফলে নিহত৩০ লক্ষ আর এককোটি মানুষের দেশ ত্যাগ আর ২ লক্ষ নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে। সৃস্টি হয়েছে ৩০০০ হাজার গনকবর।
৩) এই গনহত্যার আর নির্যাতনের জন্যে কোন দল বা রাষ্ট্র এখনও পর্যণ্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি। ক্ষমা চাওয়া তো দুরের কথা।
৪) একজন হত্যাকারী বা নির্যাতনকারীও বিচারে সাজাপ্রাপ্ত হয়নি।
৫) হত্যাকারী ও নারী নির্যাতনের সহযোগীসহ বুদ্ধিজীবি নিধনকারীরা সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
৬) ইতিহাস বিকৃতি আর মিথ্যাচারের নীচে চাপা দেবার চেষ্টা চলছে নিহতের দীর্ঘশ্বাস।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া কোন মানুষ যদি "মানুষ এবং গরু" তুলনামুলক আলোচনা করতে চান -তাদের জন্যে আবু গরিবের ছবিগুলো চাইতে কি মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে রাজাকার আলবদরের সৃস্টি গনকবরের কথা আগে মনে করা উচিত নয়?
আসুন সকল ভন্ডামী ত্যাগ করে - নিজের ঘরের ভিতরের পশুগুলোকে আগে বিতারিত করি - পরে আমেরিকান সৈন্যদের পশুত্ব নিয়ে কথা বলবো।
আসুন -স্পষ্ট উচ্চারনের বলি - যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মাধ্যমে একটা মানবিক সমাজ তৈরী করার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে সবাই সোচ্চার হই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



