ব্লগে মাঝে মধ্যে দেখি - বিভিন্ন পোস্ট। এসো শিবির করি। শিবিরের নানান ফিরিস্তি। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। আরে ভাই, দেশে বড় দুইটা রাজনৈতিক দল আছে। তাদেরও ছাত্র সংগঠন আছে। কখনও দেখিনি ব্লগে এসে কেউ বলছে - এসো ছাত্রদল করি বা ছাত্রলীগ করি। তাইলে শিবির করার ডাক ব্লগে কেন?
ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম। শিবির সম্ভাব্য সকল সুযোগ নিয়ে নিজেদের প্রচার করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে শিবির হলো ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির থেকে উঠে আসা জামায়াতের "ফার্স্ট লাইন অব ডিফেন্স" বা বলতে পারি ১ম রেজিমেন্ট। পারিবারিক বা অর্থের ফাঁদে পড়ে শিবিরে নাম লেখানো ছেলে-মেয়েরা নিজেদের বিবেক বুদ্ধির ধার ধারে না। এরা তাদের জন্যে তৈরী ম্যানুয়ারের ভিত্তিতে কথা বলে।
গত বছর শেষ দিকে শিবিরের এক কর্মী খুবই গর্বের সাথে জানায় যে - চাপাই নবাবগঞ্জে কোরানের সমন্মান রক্ষায় মিছিলে শিবিরের কর্মী জীবন দেয়। তালিকায় দেখি - কয়েকজন ক্লাশ সিক্সের ছাত্রের নাশ একজন ছাত্র ক্লাশ সিক্সে পড়ার সময় তার বয়স কতো হতে পারে - ১২/১৩। এই ছোট্ট বয়সের ছেলেদের পুলিশের গুলির সামনে ঠেলে দিয়ে যারা ইসলাম রক্ষার পক্ষে জেহাদ ঘোষনা করে - আমরা দেখি তাদের ছেলে মেয়ে ফ্রান্স বা অস্ট্রেলিয়া বা লন্ডনে পড়ে। তারা কিন্তু মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরানের উপর পড়তে না গিয়ে ফ্রান্সে আইন পড়ে।
এই বিষয়টা বহু দিন মাথায় ঘুরপাক খেয়েছে - ভাবছিলাম - শিবির কি আসলেই ইসলাম রক্ষার জন্যে কাজ করে। কিন্তু ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে যা পেলাম - তাদের আলোচনার খুব সামান্যই ধর্মের উপর - বেশির ভাগই জামাতের নেতাদের অতীত কর্মকান্ডের বিশেষ করে ৭১ এ গনবিরোধী এবং হত্যাকারীর ভুমিকাকে সাফাইয়ে সীমাবদ্ধ। এই বিষয়গুলো যখন দেখছিলাম - একদিন ইন্টারনেটে একটা খবর চোখে পড়লো - রীতিমত চমকে উঠলাম। খবরটা শিবিরে ক্যাডার। এরা ভাড়ায় খুন করে - চাঁদাবাজী করে - মাদক ব্যবসা করে। তাইলে ধর্ম কই গেল।
এই বিষয়ে দুইটা পোস্ট দিয়েছিলাম: মেধাবী ছাত্রদের সংগঠন (!): আটটি বুলেট শরীরে নিয়ে শেষ হলো মেধাবী ছাত্র “আহমইদ্দ্যা” (শিবির রহস্য) Click This Link
আজ খবরে দেখলাম - সেই হত্যা মামলার রায় হয়েছে। সেই রায়ে চার শিবির ক্যাডারকে ফাঁসি, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারক রায়ের আদেশে উল্লেখ করেন, দ-বিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাজ্জাদ, আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর, মোঃ আজম ও মোঃ সোলায়মানকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। সাজ্জাদ ও সোলায়মান পলাতক।
দ-বিধির ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আসামি এনামুল হক, আবদুল কাইয়ুম, হাবিব খানকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে হাবিব খান ও এনামুল হক পলাতক।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামি এটিএম মেজবাহুল কবির, আজিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মিয়া মোঃ তৌফিক, নেছার আহমদ, মোঃ ইলিয়াছ, আবদুল হাকিম, আবদুল হামিদ, বজল আহমেদ, বায়েজীদুর রহমান, বিডিআর সেলিম, রেজাউর রহমান মুক্তি ও ইকবাল হোসেনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
মামলার অপর দুই আসামি আজরাইল দেলোয়ার ও গিট্টু নাছির র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ জুলাই বেলা ১১টায় নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগ নগর শাখার সমাবেশে যোগদানের জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি মাইক্রোবাসে যাওয়ার পথে শিবির ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৬ জন আর হাসপাতালে ২ জন মারা যায়।
এই রায় ঘোষনার সময় বাদী পক্ষের কেউই উপস্থিত ছিলো না। খবরের আরো দেখা যায় - মামলার দূর্বলতা, সাক্ষীদের ভয় ভীতির কারন যথাসময়ে স্বাক্ষী না দেওয়া অনেককে খালাশ পেয়ে যায়।
এই ঘটনা ছাড়াও দেখা গেছে শিবির চট্রগ্রাম, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস করেছে এবং করছে। মুক্তিবুদ্ধি শিক্ষকদের খুন করেছে আর খুনের হুমকী দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশে এরা আস্তানা তৈরী করে সন্ত্রাসের সুযোগ খুজছে।
যুদ্ধাপরাধীদের দল যে কোন ভাবেই বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার আর মুক্তিযুদ্ধের সকল অর্জনকে নষ্ট করার লক্ষ্যে দরিদ্র আর ধর্মপরায়ন কোমলমতি বাচ্চাদের নিয়ে শিবির নামক সংগঠন তৈরী মাধ্যমে সেই নিরাপরাধ ছেলেদের হয় পুলিশ বা র্যাব বা প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিনত করছে। দেখা গেছে আত্নঘাতী বোমা হামলা আর দেশ ব্যাপী বিচারকদের উপর হামলার জন্যে দায়ী জেএমবি ও হরকতুল জেহাদের কর্মীদের হাতে খড়ি শিবিরের মাধ্যমে। সংগত কারনেই বিগত সরকারের আমলে জামাতের ক্ষমতার যোগসূত্রের সুবাদে দেশে ধর্মের নামে সন্ত্রাস বেড়েছে - আর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা সংসদ ও বাইরে প্রকাশ্যে তাদের রক্ষার জন্যে প্রচারনা চালিয়েছে।
দেশে গনতান্ত্রিক রাজনীতির সুযোগে গড়িয়ে উঠান এই আগাছা গুলো সময়মতো পরিষ্কার করার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেই কারনে জেএমবি আর হুজি নিষিদ্ধ হয়েছে - সেই একই কারনে (১৯৭১ এর ভুমিকা) জামাত আর দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, খুন আর বোমাবাজীর অভিযোগে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা জরুরী।
নতুবা আগাছায় ছেয়ে যাবে স্বাধীনতার ফসল বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ আরেকটা পাকিস্তান হবার সম্ভাবনা তৈরী হবে - যারা হয়তো বাইতুল মোকাররম মসজিদ দখল করে সালেহীনদের মুক্তি চাইবে।
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ দৈনিক ইত্তেফাক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

