আমরা যদি বৈশিক উষ্ঞায়নকে আমরা উপেক্ষা করি - যদি আমরা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করি - যদি আমরা সুপেয় পানির নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করি - যদি অতিরিক্ত জনসংখ্যা আর দারিদ্রকে উপেক্ষা করি।
প্রতিক্রিয়া কি হবে?
"Worldwatch Institute" এবং "The Earth Policy Institute" , প্রতিষ্ঠাতা লিস্টার ব্রাউন মনে করেন - তাহলে শুধু ৭ ট্রিলিয়ন ডলারই নয় - পুরো মানব সভ্যতা ধংস হয়ে যাবে।
লিস্টার ব্রাউনের সর্বশেষ প্রকাশিত বই - "প্লান 'বি' ৩.০" মানব সভ্যতা ধংস হয়ে যাওয়ার কিছু লক্ষন দেখিয়েছেন। যেমন হিমালয় পর্বতমালায় জমে থাকা বরফ বিশ্বের বড় বড় তিনটা নদীকে নাব্য রাখে। তার মধ্যে গঙ্গা নদী অন্যতম। যখন এই বরফ গলে যাবে - নদীগুলো শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ হারাবে - তখন কয়েকশত মিলিয়ন মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্থ হবে। পরিবেশ পাল্টে যাবে - খাদ্য উতপাদন হ্রাস পাবে। খাদ্য ঘাটতির ফলে জনজীবনে নিরাপত্তা থাকবে না। তাতে এতোদিনে গড়ে উঠা সভ্যতা বিপর্যস্থ হবে।
একই ভাবে মেরুঅঞ্চলের তুষারমালা গলে সমুদ্রের পানির লবনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রাকৃতি দুর্যোগের প্রকোব বাড়বে - তাতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তা ছাড়া সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার ফলে চাষযোগ্য ভুমির উপর চাপ পড়বে। বিগত দুই যুগ ধরে গবেষনার ফলাফল প্রকাশ করেছে এই দুইটি প্রতিষ্টান। আগের বইটি প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে "প্লান বি" নামে। সেই বইটি থেকে সবসময় রেফারেন্স দিতে বিল ক্লিন্টন। আর টেড টার্নার সেই বই এর ৩৬০০ কপি কিনে বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে পাঠান। পরে ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় প্লান বি ২.০।
সবর্শেষ প্রকাশিত বই প্লান বি ৩.০ কে মি. ব্র্রাউন আগের প্লানগুলো ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় রেসিউ প্লান হিসাবে বর্ননা করেছেন। তাতে বছরে মাত্র ১৯০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে সভ্যতাকে ধংসের হাত থেকে রক্ষার পরিকল্পনা বর্ননা করেছেন।
যেখানে প্রতিবছর বিশ্বের মানুষ মারার জন্যে অস্ত্র ক্রয়ে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় - সেখানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কি মানবসভ্যতাকে বাঁচানোর জন্যে এই সামান্য অর্থ ব্যয় করবেন না?
সূত্রঃ
ওয়াল্ড ওয়াট - http://www.worldwatch.org/
আর্থ পলিসি - http://www.earth-policy.org/
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


