বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের আগমনের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে নির্দিধায় বলা যায় - এর চেয়ে ভাল কিছু হবার সম্ভাবনা তখন ছিলো না। যদিও এই সরকার জনগনের কাছ থেকে কোন ম্যান্ডেট নেয়নি তথাপি তাদের উপর মানুষের একটা প্রত্যাশা তৈরী হয়েছিল। সরকারের সময় প্রায় শেষ। যদি সরকারের প্রতিশ্রুত মতো নির্বাচন হয় - তবে বাকী সময়টা সরকারকে নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে। কোন ধরনের নতুন কর্মসূচীতে যেতে পারবে না।
এখন দেখা যেতে পারে সরকারের উপর আরোপিত প্রত্যাশার কতটুকু পুরন হয়েছে। অনেকগুলো ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য আশাতীত। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন সংষ্কার, বিচার বিভাগ আলাদা করা আর দূর্নীতির ধাবমান রথের চাকায় "দূদক" নামের একটা ব্রেক লাগানো।
দূর্নীতি আর কালো টাকা নিয়ন্ত্রনের জন্যে প্রশাসনিক সংস্কারের দিকে সরকার যেতে পারেনি। কর বিভাগকে শক্তিশালী করতে গিয়ে হোচট খেয়ে সরকার - কালোটাকার মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বদিউর রহমানকে বিদায় করে গতানুগতিক ধারায় ফিরে গেছে। তারপর সবচেয়ে বড় দূর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের ধরে নিজের হাত কামড়িয়েছে। সেখানে সরকার ব্যর্থ।
সবচেয়ে বড় যেই যায়গাটায় সরকার কোন রকম সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে - তা হলো রাজনৈতিক ব্যবস্থায়। দলের গনতন্ত্র নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় শর্ত হিসাবে মাইনাস টু ফর্মূলা ছিলো মারাত্বক ভুল। বরঞ্চ দলগুলো আর্থিক ও সাংগঠনিক সচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যদি নির্বঅচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলের অভিভাবক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা যেত - তা হলে হয়তো ভাল ফল পাওয়া যেত।
এর আগে বদিউর রহমানের পদত্যাগে বলেছিলাম - হ্যান্ড সেইক উইথ ডেইভেল। Click This Link এখন বলছি "শয়তানসমূহের সাথে করমর্দন"। সরকার রাজনৈতিক দলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বিচার ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলে দিচ্ছে। সাবেক প্রধান মন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনাকে উন্নত চিকিতসার জন্যে আট সপ্তাহের জেল ছুটি দিয়েছে। এইটা কোন ভাবেই ন্যায় বিচার ব্যবস্থার জন্যে ভাল ফল বয়ে আনবে না। জরুরী আইনে কিছুটা নমনীয় করে যদি জামিন দেওয়া হতো - সেইটা ছিলো ভিন্ন কথা। এখন সরকার নিরপেক্ষতা প্রমানের জন্যে খালেদা জিয়া আর তার ছেলেদের মুক্তি দেবে। নিরপেক্ষ হবে তো বিচার বিভাগ - সরকার এখানে কেন নাক গলাবে- সরকার কোর্টের নির্দেশ পালন করবে মাত্র।
এখন দেখছি নিজামীকেও মুক্তি দিতে হবে বলে দাবী উঠছে। কেন? তাহলে আমার গ্রামের কালা চোরা কেন জেলে থাকবে? বিচার শুরু আগেই নির্দোষ দাবী করে মুক্তি চাওয়া প্রকৃতপক্ষে বিচারকে অমান্য করা। বিচার ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করা। এই কাজ একটা দেশকে কোন ভাবেই সভ্যদেশ হিসাবে প্রমান করবে না।
স্পষ্ঠতই সরকার শয়তান সমূহের সাথে করমর্দন করেছে।
তাহলে কি বাংলাদেশ আবারো ফিরে যাবে আগের অবস্থানে? গেলে অবাক হবো না। যদি কোন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দূর্নীতি করাকে অধিকার মনে করে - যদি তারা কর দেওয়াকে বাহুল্য মনে করে - তাইলে যে কোন সরকারই আসুক - তাদের জন্যে "শয়তানের সাথে করমর্দন" করেই বেঁচে থাকতে হবে।
অবাক হচ্ছি দেখে - বিগত সরকারগুলোর দূর্নীতি, অবব্যবস্থা আর লুটপাটের কথা মানুষ ভুলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে মানুষ শুধু আইন-শৃংখলা আর হরতাল ভাংচুর নিয়ে বেশী চিন্তিত। দূর্নীতি ডবল হ্যাট্রিক করার পরও যে যে দেশের মানুষ তাদের ব্যর্থ নেতৃবৃন্দের পিছনে পাগলের মতো ছুটে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত দূর্নীতি বিরোধী আলোচনা থেকে নিজেকে সযতনে দূরে সরিয়ে রেখে - শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার কথা বলে - তখন মনে হয় বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষই দূর্নীতির জন্যে শান্তিপূর্ন পরিবেশ চায়। যদি কোন সরকার তা দিতে পারে - তাহলে তারা হবে শ্রেষ্ঠ সরকার।
শান্তিপূর্ন দূর্নীতির পরিবেশ তৈরী করার মতো কোর সরকার কল্পনা করা যায় না -তাই প্রার্থনা করি "ঈশ্বর বাংলাদেশের মঙ্গল করুন! "
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৮ ভোর ৪:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



