পরাজিত শক্তি ধীরে ধীরে সামরিক শাসনের আড়ালে বিচারের প্রক্রিয়া আপাত রেহাই নিয়ে নিজেদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এরা টেবিলের ফয়সালায় মন্ত্রীও হয়েছে। লাখ শহীদের বিদেহী আত্না হয়তো ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে রেখেছে - আমরা কতই না অকৃজ্ঞ - ভাবলেও নিজেকে খুবই ছোট মনে হয়।
পরাজিত যুদ্ধাপরাধিদের আষ্পর্ধা এতোটা বেড়েছে যে - মহান মুক্তিযুদ্ধকে কুলশিত করার জন্যে আমড়া গাছে আমের মতো মুক্তিযুদ্ধাদের সংগঠনের নামে একদল টাউটের সমাবেশ করে সেখানে সরল প্রান মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতারিত করার ফাদঁ পেতেছে।
সেই প্রতারনার মুখোশ খুলে দেবার মতো সাহস দেখানোর কারনে আলি আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছে রাজাকার গোষ্ঠী।
পৃথিবীতে এমন কি কোন দেশ আছে যেখানে বিজয়ী মুক্তিযুদ্ধকে পরাজিতরা অপমান করতে পারে? আমার জানা নেই। বাংলাদেশেই মনে হয় সব সম্ভব - সরকার মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়কদের বাইরে রেখে স্বাধীনতা দিবস পালন করে ঘাতক রাজাকারদের নিয়ে - এর চেয়ে চরম কৌতুকের অনুষ্ঠান কি বিশ্বের কেউ কি দেখেছে?
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী দাবী করে এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে - কিন্তু ৭১ এর একজন সেনানী যখন পরাজিত রাজাকারদের লাথি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে - তখন ভাবতেই হয় - মুক্তিযুদ্ধের ফসল এই দেশের সেনাবাহিনীর ভন্ডামীর সীমা কতদূর বিস্মৃত।
প্রায় মাস খানেক হয়ে গেল এই ঘটনার - সারা দেশের মানুষ লজ্জিত - মর্মাহত - একখন মুক্তিযুদ্ধার গায়ে রাজাকারের লাথি যেন আমাদের জাতীয় পতাকার উপর শকুনের থাবা। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে নানান ভাবে - মানববন্ধন হচ্ছে - মশাল মিছিল হচ্ছে - পত্রিকাতে লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিবাদ হচ্ছে।
ইতোমধ্যে মানুষ জেনেছে কে এই দুষ্কর্ম করেছে - এবং মুক্তিযুদ্ধাদের নামে চালু অবৈধ সংগঠনটি আসলে কে বা কারা চালায়। এখনই কি সরকারে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধাকে অপমানকারী সেই দৃবৃত্তকে প্রেফতার করে বিচারের সন্মুথিন করতে আর সেই অবৈধ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকার - যারা একজন রাজাকারের গ্রেফতারী পরোয়ানা কোর্ট থেকে শাহবাগে আসতে তিনদিন সময় লাগায় - কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একই দালানে আপিল করতে ৭ দিন লাগায়। এরা মুক্তিযুদ্ধা লাঞ্ছিত হওয়ায় বিন্দুমাত্র বিচলিত হয় না।
মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্বে বসে থাকা এই নির্বিকার মানুষ গুলোর জন্যে করুনা করছি - যারা তাদের পূর্বপুরুষের রক্তের ঋনের কথা ভুলে যায় - অথবা বিশেষ কোন মহলের চাপে ভুলে থাকার চেষ্টা করছে।
সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে - মানুষের ধৈর্য্যর একটা সীমা থাকে - সেই সীমা অতিক্রম করার ফলেই আমরা দেখেছি অক্টোবরের মতো ঘটনা। আরেকটা অক্টোবরের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা জন্যে সরকারের দ্রুত দুইটা কাজ করা উচিত - জামাতের ভন্ডামির সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা আর মুক্তিযুদ্ধাকে অপমানকারী কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে বিচারে সন্মুখিন করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



