somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নিস্পৃহতার নিন্দা জানাই।

২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশটা জন্ম হয়েছে। সেই নয় মাসের অসম যুদ্ধে পাকিস্তানের পেশাধারী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ৩০৩ রাইফেল আর গ্রেনেড নিয়ে জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করছে আলী আমানেরর মতো মুক্তিযোদ্ধারা - অকাতরে প্রান দিয়েছে - পঙ্গুত্ব বরন করেছে - অবশেষে আমরা পেয়েছি একটা স্বাধীন ভুখন্ড।

পরাজিত শক্তি ধীরে ধীরে সামরিক শাসনের আড়ালে বিচারের প্রক্রিয়া আপাত রেহাই নিয়ে নিজেদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এরা টেবিলের ফয়সালায় মন্ত্রীও হয়েছে। লাখ শহীদের বিদেহী আত্না হয়তো ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে রেখেছে - আমরা কতই না অকৃজ্ঞ - ভাবলেও নিজেকে খুবই ছোট মনে হয়।

পরাজিত যুদ্ধাপরাধিদের আষ্পর্ধা এতোটা বেড়েছে যে - মহান মুক্তিযুদ্ধকে কুলশিত করার জন্যে আমড়া গাছে আমের মতো মুক্তিযুদ্ধাদের সংগঠনের নামে একদল টাউটের সমাবেশ করে সেখানে সরল প্রান মুক্তিযুদ্ধাদের প্রতারিত করার ফাদঁ পেতেছে।

সেই প্রতারনার মুখোশ খুলে দেবার মতো সাহস দেখানোর কারনে আলি আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছে রাজাকার গোষ্ঠী।

পৃথিবীতে এমন কি কোন দেশ আছে যেখানে বিজয়ী মুক্তিযুদ্ধকে পরাজিতরা অপমান করতে পারে? আমার জানা নেই। বাংলাদেশেই মনে হয় সব সম্ভব - সরকার মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়কদের বাইরে রেখে স্বাধীনতা দিবস পালন করে ঘাতক রাজাকারদের নিয়ে - এর চেয়ে চরম কৌতুকের অনুষ্ঠান কি বিশ্বের কেউ কি দেখেছে?

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী দাবী করে এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে - কিন্তু ৭১ এর একজন সেনানী যখন পরাজিত রাজাকারদের লাথি খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে - তখন ভাবতেই হয় - মুক্তিযুদ্ধের ফসল এই দেশের সেনাবাহিনীর ভন্ডামীর সীমা কতদূর বিস্মৃত।

প্রায় মাস খানেক হয়ে গেল এই ঘটনার - সারা দেশের মানুষ লজ্জিত - মর্মাহত - একখন মুক্তিযুদ্ধার গায়ে রাজাকারের লাথি যেন আমাদের জাতীয় পতাকার উপর শকুনের থাবা। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে নানান ভাবে - মানববন্ধন হচ্ছে - মশাল মিছিল হচ্ছে - পত্রিকাতে লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিবাদ হচ্ছে।

ইতোমধ্যে মানুষ জেনেছে কে এই দুষ্কর্ম করেছে - এবং মুক্তিযুদ্ধাদের নামে চালু অবৈধ সংগঠনটি আসলে কে বা কারা চালায়। এখনই কি সরকারে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধাকে অপমানকারী সেই দৃবৃত্তকে প্রেফতার করে বিচারের সন্মুথিন করতে আর সেই অবৈধ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করতে।

কিন্তু বাংলাদেশ সরকার - যারা একজন রাজাকারের গ্রেফতারী পরোয়ানা কোর্ট থেকে শাহবাগে আসতে তিনদিন সময় লাগায় - কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে একই দালানে আপিল করতে ৭ দিন লাগায়। এরা মুক্তিযুদ্ধা লাঞ্ছিত হওয়ায় বিন্দুমাত্র বিচলিত হয় না।

মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্বে বসে থাকা এই নির্বিকার মানুষ গুলোর জন্যে করুনা করছি - যারা তাদের পূর্বপুরুষের রক্তের ঋনের কথা ভুলে যায় - অথবা বিশেষ কোন মহলের চাপে ভুলে থাকার চেষ্টা করছে।

সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে - মানুষের ধৈর্য্যর একটা সীমা থাকে - সেই সীমা অতিক্রম করার ফলেই আমরা দেখেছি অক্টোবরের মতো ঘটনা। আরেকটা অক্টোবরের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করা জন্যে সরকারের দ্রুত দুইটা কাজ করা উচিত - জামাতের ভন্ডামির সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা আর মুক্তিযুদ্ধাকে অপমানকারী কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে বিচারে সন্মুখিন করা।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৮ সকাল ১১:৩৫
১৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×