রমজান শুরু হলো। বিশ্বের মুসলিম সমাজের জন্যে এক মহান মাস। মহান আল্লার নির্দেশে মুসলামানরা কঠিন সিয়াম সাধনা করে। আল্লাহ নির্দেশ আছে - বিশ্বের সকল মুসলামনরা এক রজ্জুতে ধরে রাখবে।কিন্তু রমজানের শুরুতেই যথারীতি ধাক্কা খেলাম। কাল রাত ১২টা পর্যণ্ত নানান ফোন কল আর ইন্টারনেটে দৌড়াদৌড়ি করে সিদ্ধান্ত হলো - আজ রাতে তারাবিহ হবে। অর্থাৎ রোজা শুরু ২রা সেপ্টেম্বর। কিন্তু ইসনা গ্রুপ ১লা সেপ্টেম্বর থেকে রোজা রাখা শুরু করেছে। আমাদের বাসার কাছে দুইটা মসজিদ - বাইতুল মোকাররম আর বাইতুল আমান। বাইতুল আমানে কাল তারাবীহ শুরু হয়েছে আর বাইতুল মোকাররমে শুরু হবে আজ - এদের দুরত্ব মাত্র এক কিলো মিটার। বিশ্বের সকল মুসলমান ভাই ভাই - কিন্তু বাঙালীদের দ্বারা পরিচালিত ১ কিলোমিটারের ব্যবধানে এরা কেন একমত হতে পারলো না - আমাদের মতো আমজনতার তা বোধগম্য নয়।
এদিকে গিন্নী মহা বিরক্ত - এক পর্যায়ে আমার উপর উত্তেজিত হয়ে উঠলো। ওর আক্ষেপ - কেন মুসলমানরা এই ভাবে বিভক্ত হয়ে যায়। আমি নিরিহের মতো বললাম - দেখ আমিতো একজন সাধারন জনগন। জ্ঞানীরা যেখানে চাঁদ দেখা আর না দেখা নিয়ে বিতর্কে অবতীর্ন - আমি কি করতে পারি।
সমস্যঅটা হয়েছে এখানে আরব আর অনারবদের মধ্যে। সোমালিয়া, মিসর, ইথিওপিয়াসহ সকল আর দেশের মানুষ রোজা রাখে সৌদী সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে পাকিস্থানীদের নেতৃত্বে অনারবরা চাঁদ দেখা বিষয়ক হাদিসকে প্রাধান্য দিয়ে একটা চাঁদ দেখা কমিটি করেছে। এরা সৌদী আরবকে তেমন পাত্তা দেয় না।
শুনে গিন্নী বললো - যদি ঘড়ি দেখে নামাজ পড়া যায় তাহলে কেলেন্ডার দেখে কেন রোজা রাখা যাবে না। তাই গিন্নী আজ থেকে রোজা শুরু করেছে আর আমি কাল থেকে শুরু করবো।
কি আর করা - আল্লাহ নিশ্চয় সব জানেন এবং দেখেন। কারা আল্লাহ নির্দেশ সঠিক ভাবে পালন করছে আর কারা ফেতনা তৈরী করছে - সবাই আল্লাহ কাছে পরিষ্কার।
একই ঘটনা হবে ঈদ নিয়ে - একদল আগের দিন ঈদ করবে আর আরেকদল পরের দিন - তবে আমি চেষ্টা করবো একই সাথে - কারন রান্নাবান্নাটাতো করবে গিন্নীই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

