somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিনামূল্যে সার্কাস দেখুন - বিনোদন নিন!

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিনার্মল্যে সার্কাস দেখুন - বিনোদন নিন!

ছোটকালে দেখতাম মফস্বল শহরে শীতকালে সার্কাসের ধুম পড়ে যেত। বিভিন্ন ধরনের প্রানী - হয়তো একটা শীর্নাকৃতি বাঘ, কিছু বানর, ঘোড়া বা গাধা নিয়ে দলগুলো নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে সার্কাস দেখাতো। ঢাকায়ও মনে হয় সার্কাস হতো - যতটুকু মনে পড়ে কমলাপুরে রেলের মাঠে সার্কাস দেখে মজা পেত।

সার্কাসের আসল বিষয়টা হলো - নিয়ণ্ত্রিত ঝুঁকির মধ্যে মানুষকে চমক দেওয়া। মানুষ পকেটের টাকা দিয়ে সার্কাস দেখতে যেত - কারন তেমন কোন বিপদ হবে না তারপরও মজা পেত। সার্কাস দলে যারা কসরত দেখায় তাদের বলা হয় খেলায়ার। কেউ ছুরি-চাকু - কেউবা আগুন দিয়ে খেলা দেখায়। অন্যরা নানান রকম শাররীক কসরত দেখায়। এ ছাড়া সার্কাসে থাকে একজন "জোকার" বা ক্লাউন - যে কিনা সব সময় ব্যস্ত ষাকে মানুষকে কিভাবে হাস্যরত দেওয়া যায় তা নিয়ে।

(২)

কিছুদিন যাব খবরের শীর্ষে থাকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ। এক পর্যায়ে দ্রুত জামিন দিয়ে যে চমক দিয়েছে - তাতে যে কোন সার্কাসের চেয়ে বেশী চমক দিতে সমর্থ হয়েছে বিচারকগন - সন্দেহ নেই।

এই সরকার আসার পর বিচার বিভাগ স্বাধীন হলো - এই স্বাধীন বিচার বিভাগের চমক দেবার ক্ষমতা আরো বেড়ে গেল বলে মনে হলো।

প্রথম চমকটা এলো আলবদর নেতা নিজামীকে নিয়ে। ঢাকার সদরঘাট এলাকার কোর্ট থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা শাহবাগ আসতে তিনদিন লাগলো - মনে হয়ে একটা কচ্ছপের পিঠে বেঁধে দিলেও হয়তো তার চেয়ে আগে পৌছত। কিভাব এইটুকু পথ তিনদিনে অতিক্রম করা যায় - তা নিশ্চয় সার্কাস কোম্পানীরও বোধগম্য নয়।

তারপর নিজামীর জামিন - সরকারের উকিল এটির্নী জেনারেল অফিস মুখে স্কচটেপ এটে কোর্টে গেল - টু শব্দও করলো না - বিচারগন দ্রুত জামিন দিলো। ওকালতনামার অভাবে আপীলও করতে পারলেন না সরকারী উকিলগন। সার্কাসের মজাও মনে হয় ওতে হবে না।

দেখলাম একই আদালত একদিনে শত শত জামিন দিচ্ছেন - মনে হয় স্বয়ংক্রিয় একটা মেশিন লাগানো হয়েছে কোর্টে - যেখানে নাম লিখে কাগজ ঢুকালেই জামিনের আদেম বেড়িয়ে আসে।

জামিনে সার্কাস এতো জমলো যে - কোর্ট শাস্তি স্থগিত করে জামিন দিতে লাগলো। মনে হচ্ছিলো - হাইকোর্টে জামিনের মেলা বসেছে - দ্রুত আর বিনা কারনেই জামিন পেতে হলে সেখানে যান।

আজকের খবরে দেখলাম - ৫১৫ জনের জামিনের সময় বাড়ানো হয়েছে - শুধু যে জামিন দিয়েই শেষ তা না - জামিনের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিরও নিশ্চয়তা দিচ্ছে কোর্ট।

সেখানে পক্ষের বা বিপক্ষের উকিল মোক্তাদের ভুমিকা কি? কি বিষয়ে যুক্তিতর্ক হয় তা নিয়ে তেমন একটা আলোচনার সুযোগ নেই।

অবেশেষে জামিন পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী - যার নেতৃত্বে অরাজকতা সৃষ্টির কারনেই এই সরকার এসেছে। একজন বিজ্ঞ ও প্রবীন আইনজীবি ব্যরিস্টার রফিকুল হক উনার আইনজীবি। সবাই দেখলো - রিমোট কন্ট্রোলে সরকার জামিনের ব্যবস্থা করছে - কিন্তু উনি বললেন - আইনী লড়াই করে খালেদা মুক্ত হয়েছে। বুঝা গেল উনি একজন বিজয়ী খেলোয়ার।

ঘটনাচক্রে উনি আরেক সাবে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আইনজীবিও। কি একটা বিশেস কারনে বাংলাদেশের হাইকোর্টের বিচারপতিগন মাঝে মধ্যে বিব্রত হন। বিব্রত ভাবটা সাধারত আসে দেশের প্রতিষ্টাতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম এলেই। কিন্তু আল বদরের বিষয় এরা বিব্রত না। শেখ হাসিনারো ক্ষেত্রেও বিব্রত ভাব এলো।

ইতোমধ্যে সরকারী উকিলরাও বেশ চাঙ্গা অবস্থানে - উনারা শেখ হাসিনার ভ্রমন বিত্তান্তও মুখস্থ করে ফেলেছেন - সুতরাং উনারা লড়াই দিলেন। হলো না জামিন।

সবচেয়ে মজার কথাটা বললেন - ব্যরিষ্টার রফিকুল হক। উনি বিরক্ত হয়ে বললেন - সরকারের পলিসিটা যে কি?

খালেদার সময় আইনী লড়াইয়ে বিজয়ী একজন বিজ্ঞ আইনজ্ঞ হঠাৎ সরকারের পলিসি নিয়ে মন্তব্য করতে গেলেন কেন? উনি কি তাইলে আশা করছিলেন সরকারের কোন ধরনের পলিসির সুবাদে শেখ হাসিনা জামিন পাবে? খালেদার ক্ষেত্রেও কি সরকারের কোন পলিসি ছিলো? তাইলে উনিও জানেন কোর্ট কাচারী এখনও সরকারের কারসাজিতে চলে।

বিনামূল্যে উপভোগ করার মতো সার্কাস কোম্পানী বাংলাদেশের পুরো আইনী ব্যবস্থা'র খোলায়ারদের মধ্যে সরকারী উকিল, বিচারকগন না ব্যরিস্টার রফিক সবাই বেশ ভাল কসরত দেখাচ্ছেন। কে কত ভাল তা বলা কঠিন - তবে সমস্যা আরেকটা রয়েই গেছে - এই তিনদলের মধ্যে ক্লাউনের পার্ট কে করবে এইটাও একটা বিবেচনার বিষয় বটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৬
৯টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×