বিনার্মল্যে সার্কাস দেখুন - বিনোদন নিন!
ছোটকালে দেখতাম মফস্বল শহরে শীতকালে সার্কাসের ধুম পড়ে যেত। বিভিন্ন ধরনের প্রানী - হয়তো একটা শীর্নাকৃতি বাঘ, কিছু বানর, ঘোড়া বা গাধা নিয়ে দলগুলো নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে সার্কাস দেখাতো। ঢাকায়ও মনে হয় সার্কাস হতো - যতটুকু মনে পড়ে কমলাপুরে রেলের মাঠে সার্কাস দেখে মজা পেত।
সার্কাসের আসল বিষয়টা হলো - নিয়ণ্ত্রিত ঝুঁকির মধ্যে মানুষকে চমক দেওয়া। মানুষ পকেটের টাকা দিয়ে সার্কাস দেখতে যেত - কারন তেমন কোন বিপদ হবে না তারপরও মজা পেত। সার্কাস দলে যারা কসরত দেখায় তাদের বলা হয় খেলায়ার। কেউ ছুরি-চাকু - কেউবা আগুন দিয়ে খেলা দেখায়। অন্যরা নানান রকম শাররীক কসরত দেখায়। এ ছাড়া সার্কাসে থাকে একজন "জোকার" বা ক্লাউন - যে কিনা সব সময় ব্যস্ত ষাকে মানুষকে কিভাবে হাস্যরত দেওয়া যায় তা নিয়ে।
(২)
কিছুদিন যাব খবরের শীর্ষে থাকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ। এক পর্যায়ে দ্রুত জামিন দিয়ে যে চমক দিয়েছে - তাতে যে কোন সার্কাসের চেয়ে বেশী চমক দিতে সমর্থ হয়েছে বিচারকগন - সন্দেহ নেই।
এই সরকার আসার পর বিচার বিভাগ স্বাধীন হলো - এই স্বাধীন বিচার বিভাগের চমক দেবার ক্ষমতা আরো বেড়ে গেল বলে মনে হলো।
প্রথম চমকটা এলো আলবদর নেতা নিজামীকে নিয়ে। ঢাকার সদরঘাট এলাকার কোর্ট থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা শাহবাগ আসতে তিনদিন লাগলো - মনে হয়ে একটা কচ্ছপের পিঠে বেঁধে দিলেও হয়তো তার চেয়ে আগে পৌছত। কিভাব এইটুকু পথ তিনদিনে অতিক্রম করা যায় - তা নিশ্চয় সার্কাস কোম্পানীরও বোধগম্য নয়।
তারপর নিজামীর জামিন - সরকারের উকিল এটির্নী জেনারেল অফিস মুখে স্কচটেপ এটে কোর্টে গেল - টু শব্দও করলো না - বিচারগন দ্রুত জামিন দিলো। ওকালতনামার অভাবে আপীলও করতে পারলেন না সরকারী উকিলগন। সার্কাসের মজাও মনে হয় ওতে হবে না।
দেখলাম একই আদালত একদিনে শত শত জামিন দিচ্ছেন - মনে হয় স্বয়ংক্রিয় একটা মেশিন লাগানো হয়েছে কোর্টে - যেখানে নাম লিখে কাগজ ঢুকালেই জামিনের আদেম বেড়িয়ে আসে।
জামিনে সার্কাস এতো জমলো যে - কোর্ট শাস্তি স্থগিত করে জামিন দিতে লাগলো। মনে হচ্ছিলো - হাইকোর্টে জামিনের মেলা বসেছে - দ্রুত আর বিনা কারনেই জামিন পেতে হলে সেখানে যান।
আজকের খবরে দেখলাম - ৫১৫ জনের জামিনের সময় বাড়ানো হয়েছে - শুধু যে জামিন দিয়েই শেষ তা না - জামিনের স্থায়ীত্ব বৃদ্ধিরও নিশ্চয়তা দিচ্ছে কোর্ট।
সেখানে পক্ষের বা বিপক্ষের উকিল মোক্তাদের ভুমিকা কি? কি বিষয়ে যুক্তিতর্ক হয় তা নিয়ে তেমন একটা আলোচনার সুযোগ নেই।
অবেশেষে জামিন পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী - যার নেতৃত্বে অরাজকতা সৃষ্টির কারনেই এই সরকার এসেছে। একজন বিজ্ঞ ও প্রবীন আইনজীবি ব্যরিস্টার রফিকুল হক উনার আইনজীবি। সবাই দেখলো - রিমোট কন্ট্রোলে সরকার জামিনের ব্যবস্থা করছে - কিন্তু উনি বললেন - আইনী লড়াই করে খালেদা মুক্ত হয়েছে। বুঝা গেল উনি একজন বিজয়ী খেলোয়ার।
ঘটনাচক্রে উনি আরেক সাবে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আইনজীবিও। কি একটা বিশেস কারনে বাংলাদেশের হাইকোর্টের বিচারপতিগন মাঝে মধ্যে বিব্রত হন। বিব্রত ভাবটা সাধারত আসে দেশের প্রতিষ্টাতা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম এলেই। কিন্তু আল বদরের বিষয় এরা বিব্রত না। শেখ হাসিনারো ক্ষেত্রেও বিব্রত ভাব এলো।
ইতোমধ্যে সরকারী উকিলরাও বেশ চাঙ্গা অবস্থানে - উনারা শেখ হাসিনার ভ্রমন বিত্তান্তও মুখস্থ করে ফেলেছেন - সুতরাং উনারা লড়াই দিলেন। হলো না জামিন।
সবচেয়ে মজার কথাটা বললেন - ব্যরিষ্টার রফিকুল হক। উনি বিরক্ত হয়ে বললেন - সরকারের পলিসিটা যে কি?
খালেদার সময় আইনী লড়াইয়ে বিজয়ী একজন বিজ্ঞ আইনজ্ঞ হঠাৎ সরকারের পলিসি নিয়ে মন্তব্য করতে গেলেন কেন? উনি কি তাইলে আশা করছিলেন সরকারের কোন ধরনের পলিসির সুবাদে শেখ হাসিনা জামিন পাবে? খালেদার ক্ষেত্রেও কি সরকারের কোন পলিসি ছিলো? তাইলে উনিও জানেন কোর্ট কাচারী এখনও সরকারের কারসাজিতে চলে।
বিনামূল্যে উপভোগ করার মতো সার্কাস কোম্পানী বাংলাদেশের পুরো আইনী ব্যবস্থা'র খোলায়ারদের মধ্যে সরকারী উকিল, বিচারকগন না ব্যরিস্টার রফিক সবাই বেশ ভাল কসরত দেখাচ্ছেন। কে কত ভাল তা বলা কঠিন - তবে সমস্যা আরেকটা রয়েই গেছে - এই তিনদলের মধ্যে ক্লাউনের পার্ট কে করবে এইটাও একটা বিবেচনার বিষয় বটে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



