somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২৮শে অক্টোবর - ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি।

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানের জন্মের বিরোধীতাকারী জামাত শুরুতে আয়ুব খানের সামরিক শাসনকে সমর্থন দিলেও পরবর্তী জনসমর্থনের কথা বিবেচনা করে আযুব বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। কিন্তু ইতোমধ্যে জামায়াতের চরিত্র জনসাধারনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আন্দোলনরত আয়ুব বিরোধী দলগুলোর কাছে জামায়ত কোনভাবেই গ্রহনযোগ্যতা পায়নি।

যখন আয়ুবের শাসনের বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার রাস্তা উত্তপ্ত - সেই সময়ে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমান ছাত্র শিবির) প্রাদেশিক সন্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় আসে। মওদুদীর আগমন উপলক্ষে জামায়াত ও ছাত্র শিবির (সংঘ) ১৮ই জানুয়ারী ১৯৭০ সালে পল্টন ময়দানে একটা সমাবেশের আয়োজন করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে মওদুদী সেই সভায় উপস্থিত হয়নি।

তার অনুপস্থিতিতে জামায়াতের চট্রগ্রাম জেলার আমীর আন্দোলনরত দুই দল - ন্যাপ ও আওয়ামীলীগের ১১ ও ৬ দফা নিয়ে সমালোচনা শুরু করলে সমাবেশে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে জনতার সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে - " জামাত তার সভামঞ্চের পাশে চাঁদোয়া ও পর্দা দিয়ে ঘেরা একটা বিরাট কক্ষ তৈরী করে রেখেছিলো। তাতে লেখা ছিলো 'রিসেপশান'। এইপর্দার ভেতরে রক্ষিত ছিলো কাঁচা বাঁশের লাঠি এবং 'ফাস্ট এইডের' দ্রব্যাদি। এখান থেকেই জামাতকর্মীরা দলে দলে লাঠি নিয়ে জনতার উপর মারমুখী আক্রমন চালায়।"

তিনি আরো জানান - "এক পর্যায়ে পল্টনের জনতা ভেঙ্গে পড়ে জামাত কর্মীদের উপর এবং তাদের লাঠি উপস্থিত জনতা কেড়ে নেয় এবং পাল্টা হামলা চালায়। এক পর্যায়ে পল্টন ময়দান পরিনত হয় রণক্ষেত্রে।"

এই দিনের সরকারী দৈনিক পাকিস্তান জানায় - বেলা যখন ৫টা তখন স্টেডিয়ামের প্রধান গেটের কাছে পুলিশ অবস্থান নেয় - এসময় একজন জামায়াত নেতা কর্মীদের মাইকে নির্দেশ দিতে থাকে - "উত্তর দিকে পুলিশ আছে, আপনারা দক্ষিন দিকে আক্রমন চালান"।

কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা জামায়াত কর্মীদের হঠিয়ে দেয় এবং প‌্যান্ডেল, মাইক এবং অন্যান্য আয়োজনে আগুন লাগিয়ে দেয়। একটি ক্ষুদ্র দল মিছিল নিয়ে মতিঝিলে অবস্থিত হোটেল ইডেনেও যায় এবং সেখানকার ইসলামী ছাত্র সংঘের মঞ্চে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এই সংঘর্ষের ব্যাপ্তি ছিলো দুই ঘন্টা আর এতে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর পর একজন আহত মারা যায়।

জামাতায়াত কর্মীদের মারমুখী ভুমিকার ছবি তুলতে গেলে দৈনিক আজাদের ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ আলম, ইত্তেফাকের বড়ুয়া এবং এপিপির মোকাদ্দেমকে পেটানো হয় এবং জামায়াত কর্মীরা তাদের ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে।

ঘটনার পরদিন হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু হয়। ইসলামী ছাত্র সংঘ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ নিয়ে নিহতের সংখ্যঅ দুই এ দাড়ালো। তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয় - এই দুইজনই ছাত্র সংঘের কর্মী - প্রথমজনের বাড়ী মোড়েলগঞ্জে আর দ্বিতীয় জনের বাড়ী নোয়াখালীর চর লক্ষীগঞ্জে - এরা দুইজনই ছাত্র সংঘের কর্মী।

এই দুইজনের জানাজার পর জামায়াতের নেতা গোলাম আজম "রক্তের বিনিময়ে জেহাদ করার অং।গীকার" ঘোষনা করে।

এই ঘটআর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৮০ জনকে গ্রেফতার করেছে - তার মধ্যে ঢাকা শহরে ছাত্র সংঘের নেতা রুহুল কুদ্দুস ও ছাত্র সংঘের ফরিদপুর শাখার সভাপতি মুহম্মদ মুজাহিদ অন্যতম।

সুত্রঃ

১) দৈনিক পাকিস্তান, আজাদ ও ইত্তেফাক, ১৯ জানুয়ারী, ১৯৭০।
২) দৈনিক পাকিস্তান, ২০ জানুয়ারী, ১৯৭০ ।
৩) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ড. মোহাম্মদ হাননান।

^- ছবি - আফতাব আহমেদ
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮
৪৬টি মন্তব্য ৩২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×